বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা-৫

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা-৫ মাজহারুল মোর্শেদ সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ (St. Francis Church) ড্রাইভার রমেশ প্রথমে আমাদের নিয়ে গেলো সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ (St. Francis Church) দেখার জন্য। আমরা ভেতরে গিয়ে দেখতে পেলাম বিখ্যাত নাবিক ভাস্কোদাগামার সমাধিস্তম্ভ। আমার স্বভাব সুলভ আচরণের অভ্যাস হলো কোন কিছু দেখে সেটা সম্পর্কে একটা নূন্যতম ধারণা না নিয়ে ফিরতে ইচ্ছে করে না। চার্জের সামনে সিঁড়িতে হেলান দিয়ে একজন বেশ ভদ্রগোছের মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। তার পোশাক দেখে মনে হলো তিনি এ চার্জের কতৃপক্ষের একজন হতে পারেন। আমি হিন্দিতে তাকে অনুরোধ করলাম এই চার্জ সম্পর্কে কিছু বলার জন্য। তিনি বেশ গম্ভীরতার সাথে আমাকে জানালেন যে, এই ঐতিহাসিক গির্জাটি পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামার সমাধিস্থল হিসেবে পরিচিত। ১৫০৩ সালে পর্তুগিজ ফ্রান্সিসকান ফ্রায়াররা এটি নির্মাণ করেন। ভাস্কো দা গামা ১৫২৪ সালে কোচিতে মারা যাওয়ার পর তাঁকে এখানে সমাহিত করা হয়েছিল, যদিও পরে তাঁর দেহাবশেষ পর্তুগালের লিসবনে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সমাধিটি এখনও এখানে রয়েছে। এটি তার সুন্দর স্থাপত্য এবং পুরনো ডাচ সমাধিস্তম্ভের জন্য পরিচিত। কাঠ দিয়ে তৈরি হলেও, পরে এটি পাথর দিয়ে পুনর্র্নিমাণ করা হয়। ঐতিহাসিক তাৎপর্যের কেন্দ্র যা স্থাপত্য ও শৈল্পিক জাকজমকপূর্ণ। সান্তা ক্রুজ ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা (Santa Cruz Cathedral Basilica) ড্রাইভার রমেশকে কোন কিছু বলার আগেই সে ধারাবাহিকভাবে একটার পর একটা জায়গায় আমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে। হয়তো এটা তার অভিজ্ঞতা থেকেই সে করছে। এবার সে আমাদেরকে নিয়ে এলো আরও একটি ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন ‘সান্তা ক্রুজ ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা’। এটি ফোর্ট কোচিতে সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চের কাছেই অবস্থিত, ১৬শ শতকে পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত, এটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও গথিক শৈলীর ক্যাথলিক গির্জা। উজ্জ্বল সাদা রঙের এই ব্যাসিলিকাটি এর ভেতরকার কারুকার্য, ইতালীয় চিত্রকলা এবং উঁচু মিনারগুলোর জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এর ভেতরে যিশু খ্রিস্টের জীবনের কাহিনী ফুটিয়ে তোলা চমৎকার ফ্রেসকো, দেয়ালচিত্র (মুর্যাল) এবং ইতালীয় চিত্রশিল্পী এন্টোনিও মোচেনি ও তাঁর শিষ্যদের তৈরি চিত্রকর্ম রয়েছে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘দ্য লাস্ট সাপার’-এর একটি অনুকরণ চিত্র এখানে বিখ্যাত। ‘সান্টা ক্রুজ ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকার’ ইতিহাস একটি সুদৃশ্য প্রস্তরখÐের ফলকে মালায়ালাম ও ইংরেজি ভাষায় লেখা আছে। ১৫শ শতাব্দীতে পর্তুগিজরা যখন কোচিতে আসে, তখন তারা এই গির্জাটি নির্মাণ করে। এটি ছিলো তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাÐের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই গির্জাটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যকলার এক অনন্য সংমিশ্রণ। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এবং ভক্ত এখানে আসেন প্রার্থনা করতে এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এটি কোচির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও পরিচিত। ‘সান্টা ক্রুজ ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় অতীতের সেই সময়ের কথা, যখন বিভিন্ন দেশের মানুষ এখানে এসে নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্মের ছাপ রেখে গিয়েছিল। এটি শুধু একটি গির্জা নয় এটি এক জীবন্ত ইতিহাস, যা যুগ যুগ ধরে মানুষের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে। চাইনিজ ফিশিং (Chinese Fishing Nets) এরপর আমরা দেখতে গেলাম ফোর্ট কোচির চাইনিজ ফিশিং নেট (Chinese Fishing Nets) . এটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ডাঙা-ভিত্তিক মৎস্য শিকারের বিশেষ কাঠামো, যা প্রায় ৫০০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নেটগুলো প্রায় ২০ মিটার চওড়া এবং ১০ মিটার উঁচু। সেগুন কাঠ ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থায় ভারসম্য রাখার জন্য বড়ো পাথর ব্যবহার করেছেন তারা। প্রতিটি নেট পানি থেকে তোলার জন্য চার-পাঁচজনের একটি দল নেটের ফ্রেমে রশি ধরে পিছন থেকে টেনে তুলছে। মাছ ধরার এ অপরূপ ও নান্দনিক দৃশ্য দেখে উর্মী আর স্থির থাকতে পারলো না। আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো জালের কাছে। তারা সবাই মিলে বিশাল জালটা পানি থেকে টেনে তোলার সময় একসঙ্গে সুর মিলিয়ে মালায়ালাম ভাষায় কি যেন একটা বলছে। কথা বোঝা না গেলেও তাদেও বলার ভঙ্গিটা বেশ আকর্ষণীয়। ফোর্ট কোচি সৈকত বা ভাস্কো দা গামা স্কয়ারের পাশেই এই নেটগুলো সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে সাজানো আছে। এখানে তাজা মাছ দেখার পাশাপাশি জেলেরা কীভাবে নেট ফেলছেন ও তুলছেন, সেটা খুব কাছ থেকে দেখার রোমাঞ্চকর একটা দৃশ্য। তবে সূর্য ওঠার আগে এলে নাকি তাদের সাথে মাছও ধরা যায়। যদিও এটা আমাদের জানাছিলোনা কিন্ত শোনার পর সমুদ্রের জলে মাছ ধরার ইচ্ছেটা যেন অপূর্ণই থেকে গেলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now