বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৪

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃতির আপন দেশ কেরালা’-৪ মাজহারুল মোর্শেদ আমরা কোলকাতার শালিমার স্টেশন থেকে এরনাকুলাম পর্যন্ত দু’রাত ও দু’দিন দ্রæত গতির ট্রেনে কাটিয়ে প্রায় ৪২ ঘন্টা জার্নি শেষে বিকাল বেলা ৩.৩০ মিনিটে পৌছে গেলাম কেরালার এরনাকুলাম জংশন স্টেশনে। এটি অনেক বড় ও সুসজ্জিত একটি জংশন স্টেশন। কেরালার এরনাকুলাম এবং কোচি বা কোচিন মূলত একই শহরের অংশ, অনেকে এদের জমজ শহরও বলে থাকে, তাই এদের মধ্যে দূরত্ব খুব কম। এরনাকুলাম থেকে কোচিকে আলাদা করেছে ‘ভীমানাদ লেক’। এরনাকুলাম হলো শহরের মূল প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র, আর কোচি তার ঐতিহাসিক ও পর্যটন এলাকা। যেহেতু সুদীর্ঘ ভ্রমণ দু’রাত ও দু’দিন দ্রæত গতির ট্রেনে কাটিয়ে প্রায় ৪২ ঘন্টার একটা ক্লান্তি ও অবসাদের ধাক্কা শরীর-মনে বাসা বেঁধে আসে তাই আর দেরি না করে এরনাকুলাম জংশন স্টেশন থেকে আমরা সোজা সোজা চলে গেলাম হাইকোর্ট প্রান্তে। এখাান থেকেই ছাড়ে ওয়াটার মেট্রো। এই সেই ওয়াটার মেট্রো করেই আমরা যাব কচির দিকে। সেখানে আমাদের হোটেল বুককরা আছে। কিছুটা পথ হেঁটে পৌঁছে গেলাম ওয়াটার মেট্রো টিকিট কাউন্টার। জনপ্রতি ৪০ রুপি টিকিট কেটে নিলাম। আর টিকিট কাটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটা কার্ড দিয়ে দিলো। এখানে আপনি একজন যান, আর ১০ জন যান, একটা কার্ড পাঞ্চ করে যেতে হবে। ওয়াটার মেট্রোটা দেখতে বেশ চমৎকার লাগছে। প্রত্যেকটা সিট এর পাশে ইউএসবি পোর্ট ও চার্জিং পোর্ট দেওয়া আছে, যাতে যাত্রীরা ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল চার্জ দিতে পারে। সিটের রাখা আছে লাইভ জ্যাকেট। মেট্রো কতৃপক্ষ লাইভ জ্যাকেট কিভাবে পড়তে হয় সেটা দেখিয়ে দিচ্ছেন। পুরো ওয়াটার মেট্রোতে সিসিটিভি লাগানো আছে। তো খুব বেশি সময় লাগলো না আমরা চলে এলাম কোচিতে। মালায়ালাম ভাষায় কোচিকে কোচিন বলে। এটি আরব মহাসাগরের কিনারে একটি পোর্ট সিটি। এই সাগরের ওপাড়ে আফ্রিকার সোমালিয়া অন্যদিকে মধ্যপ্রচ্যের ওমান। মধ্যযুগে আরব ও চীনা ব্যবসায়ীরা এখানে আসতো মসলার ব্যবসায় করতে। এরপরে পর্তুগিজ, ডাচ এবং বৃটিশরাও দলবেধে আসে আসে ব্যবসা করতে। ছিমছাম পরিষ্কার একেবাওে ছবির মতো এ শহরটি। তামিল ও মালায়ালম ভাষাই এখানে প্রধান। হিন্দি খুব কম লোকেই জানে। তবে এখানকার ছিয়ানব্বইভাগ লোকই শিক্ষিত। হিন্দি ও ইংরেজি ভাষা টুকিটাকি বোঝে। ভাষাগত সমস্যার কারণে এখানে খুব ঝামেলায় পড়তে হয়। এখানে এসে আমরা পূর্বে বুক করা ‘হোটেল পার্ক এভিনিউ’ এ উঠে গেলাম। এখন নিজেকে এতোটাই ক্লান্ত মনে হচ্ছে যে, কোন রকমে একটা বিছানার দেখা পেলেই হয়। যেহেতু পড়ন্ত বিকেল সন্ধ্যা হতে আর বেশিক্ষণ সময় নেই তাই অন্য সব চিন্তা বাদ দিয়ে আগে বিছানায় সটাং হয়ে শুয়ে পড়লাম। সমস্য হলো হোটেলের রুমগুলো তুলনামুলকভাবে একটু ছোট। পাশের রুম থেকে বোউদি এসে প্রথম অভিযোগ দিলো এটা কেমন হোস্টেলে উঠলে মোর্শেদ? রুমেতো নয় যেন পাখির বাসা। লাগেজ রাখারও জায়গা নেই। আর ডাবল রুম হিসেবে বেডগুলো এতোটাই ছোট, যে পাশে ঘুরে শোবে হয়তো সে পাশেই রাত কাটিয়ে দিতে হবে। এতোটা ক্লান্তির মাঝেও বোউদির কথায় খুব হাসি পাচ্ছিলো। নিজেকে সামলে নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলাম, দেখুন বোউদি মাত্রতো একটি রাত। কোন রকমে ম্যানেজ করে নিন না। আর যা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তাতে আমার মনে হয় না যে পাশ ফেরার মতো সুযোগ থাকবে। চোখ খুলে দেখবেন কখন যেন সকাল হয়ে গেছে সেটা টেরই পাওয়া গেলো না। যাহোক কোন ভাবে বোউদিকে ম্যানেজ করা গেলো। এবার সমস্যা হলো উপেন দা’কে নিয়ে, তিনি নাকি মশার কামড়কে ভাঘের কামড়ের চেয়েও বেশি ভয় পান। আবার মশারির তলেও তার কবর কবর লাগে, দম বন্ধ হয়ে আসে। কি মুশকিলে পড়লাম বলুন দেখি? হঠাৎ বোউদি একেবারে তুলতুলে নরম কাঁদার মতো হয়ে গেলেন। তার শরীরে কোন ক্লান্তি কিংবা মেজাজের কোন উপাদান নেই। অর্ণব আর আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে শুরু করলেন, এই লোকটা আমার জীবনটাকে গরম তেলের মধ্যে ডুবিয়ে একেবারে পুটিমাছের মতো ভেজে ভেজে খাচ্ছে। আমার এসব আর ভালো লাগেনা, আমার না মাঝে মাঝে খুব মরে যেতে ইচ্ছে করে। বোউদির এ ডায়ালোকটা হরহামেশাই শোনে উর্মী। কিন্তু আমাদের সামনে বলায় সে একটু লজ্জাবোধ করছে। বোউদির কথায় আমরা বেশ বুঝতে পারলাম যে, আর রক্ষে নেই আমাদের এবার বাহিরে যেতেই হবে। ঠিক আছে বোউদি ছাড়–ন না ওসব, এবার বলেন আমাদের কি আনতে হবে। বোউদি ফিক করে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেন-তোমার দাদার জন্য একটা ‘গুডনাইড লিকুইট’ এনে দাও না ভাই। ওনার আবার কয়েলের গন্ধ একেবারে বিষ। অর্ণব আমার পিঠে হাত দিয়ে ইশারা করে বলে চল আর দেরি করিস না। যতো দেরি হবে বিপদ আরো বাড়বে। আমরা হোস্টেল থেকে বেড়িয়ে ‘গুডনাইড লিকুইট’ এনে বোউদির হাতে দিয়ে তারপর মুক্তি পেলাম। রাতের খাওয়া সেরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম কারণ কালকে আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। তান্হালে ফোর্ট কোচির সবগুলো জায়গা ঘুরে দেখা অসম্ভব। প্রায় বেয়াল্লিশ ঘন্টা লম্বা জার্নির পর ঘুম কাকে বলে সেটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। মোবাই ফোনে এ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিলাম বলে সকাল সকাল ঘুমটা ভেঙে গেলো। সবাইকে জাগিয়ে তৈরি হতে বলি। সকালে গোসল সেরে নাস্তা করে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম। কিন্তু ফোর্ট কোচি অনেক বড় জায়গা যানবাহন ছাড়া পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। গোটা এলাকা ঘুরে দেখার জন্য অটো বাইকেই উত্তম। কিন্তু ভাষাগত সমস্যার কারণে এখানে খুব ঝামেলায় পড়তে হলো আমাদেরকে। যদিও এখানকার শতকরা ছিয়ানব্বই ভাগ লোক শিক্ষিত। কিন্তু ইংরেজি খুব কম লোকেই বলতে পারে। তামিল ও মালায়ালম ভাষাই এখানে প্রধান। আমরা যে ভাষাগত দুর্দশায় পড়েছি, সেটা একটু দূর থেকে এক অসমীয়া এক ভদ্রলোকের চোখে পড়ে। তিনি আমাদের কাছে এসে অসমীয়া ভাষায় কথা বললে উপেন দা’র সাথে তার বেশ জমে যায়। ভদ্রলোকের নাকি এখানে ব্যবসায় আছে। যাহোক সে অসমীয়া ভদ্রলোক আমাদেরকে ফোর্ট সিটি ঘুরে দেখার জন্য ৬০০ রূপিতে অসমীয় অটো ওয়ালাকে ঠিক করে দেন। উপেন দা আমার থেকে বড়জোর বছর পাাঁচেক বেশি বয়স হবে কিন্তু নিজেই তার বয়সটা অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়ে আমাকে অনেক নিচে নামিয়ে দিলেন। আমি কথায় কথায় তাকে বলতে শুনেছি ‘আরে ভাই তোমরাতো ইয়াং এণ্ড এনার্জেটিক ছেলে পেলে-তোমরা সবই পারো’। এ কথার অর্থ হলো, তার বড় লাগেজটা আমার আর অর্ণবের ঘারে চাপিয়ে দেওয়ার একটা কৌশল মাএ। অসমীয়া ভাষা অনেকটা বাংলা ভাষার মতো বেশিভাগ কথাই বোঝা যায়। তাই আমি অতি অল্প সময়ের মধ্যে সে অটো ড্রাইভারের সাথে খাতির জমিয়ে ফেললাম। আর এটা আমাকে অনেকটা বাধ্য হয়েই করতেই হলো, কারণ এখানকার প্রতিটি পথ আমাদের অচেনা-অজানা। অটোর ড্রাইভার রমেশ আগারওয়াল এখন আমাদের ভ্রমণ গাইড হিসেবে কাজ করছেন। বয়সে সে একেবারে ইয়ং ২০-২২ বছর হয়তো হবে। আমি তাকে রমেশ দা বলে সম্বোধন করি। দাদা বলে সম্বোধন করায় তার মনে মনে একটা খুশি খুশি ভাব দেখা যায়। ফোর্ট কচিতে প্রবেশ করতে হলে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। ড্রাইভার রমেশ আমাদের নিয়ে গেলেন কোচির টিকিট কাউন্টারে। সেখানে টিকিট করে আমরা প্রবেশ করলাম কোচির পর্যটন এলাকায়। চলমান পাতা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now