বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার নাম আব্দুল্লাহ
তখন ১২টা ৩ বাজে। রুমের নীল আলোটা মৃদুভাবে জ্বলছে। জানালা দিয়ে বাইরে হালকা বৃষ্টির শব্দ। হাতে ফোন। স্ক্রিনে তার শেষ মেসেজটা এখনো পিন করা।
"কাল সকালে দেখা করি? অনেক কথা জমানো আছে।"
কথাটা পড়ে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো আমার। কাল সকাল তো আর আসবে না। কারণ কাল রাতেই ও চলে গেছে। না ফেরার দেশে।
ওর নাম ছিল নীলা। আমার ভার্সিটির বেস্ট ফ্রেন্ড। ৩ বছরের পরিচয়। ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চ থেকে শুরু করে ক্যান্টিনের শেষ টেবিল, সব জায়গায় আমরা একসাথে। সবাই বলতো আমরা নাকি ভাই-বোন। কিন্তু আমি জানতাম, আমার বুকের বাম পাশটায় ওর জন্য অন্যরকম একটা জায়গা ছিল।
সাহস করে কখনো বলতে পারিনি। ভাবতাম, বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে যাবে। "থাক, সময় আসলে বলবো" - এই ভেবে ভেবে দিন পার করেছি।
গত মাসে ওর বিয়ে ঠিক হলো। পাত্র সরকারি চাকরি করে। ভালো ফ্যামিলি। নীলা ফোন দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, "আব্বু-আম্মু জোর করতেছে রে। আমি কি করবো বল?"
আমি সেদিনও কিছু বলিনি। শুধু বলেছিলাম, "তুই যেখানে খুশি থাকিস।"
বিয়ের ১৫ দিন আগে থেকে ওর সাথে কথা কমে গেলো। শপিং, মেহেদী, বিয়ের টেনশন। আমিও আর ডিস্টার্ব করিনি।
বিয়ের ৩ দিন আগে রাত ১২টা ৩ এ এই মেসেজটা আসে। আমি তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি মেসেজ। রিপ্লাই দিতে গিয়েও দেইনি। ভাবলাম, সকালে ফোন দিয়ে কথা বলবো। অনেক কথা জমেছে।
কিন্তু সকালটা আর আসেনি আমার জন্য।
সকাল ৮টায় নীলার ছোট বোন ফোন দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো, "ভাইয়া, আপু... আপু আর নেই।"
রাত ৩টায় ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক। ডাক্তার বললো, অতিরিক্ত টেনশন আর ডিপ্রেশনের কারণে।
আমার দুনিয়াটা সেদিন অন্ধকার হয়ে গেলো। ছুটে গেলাম ওদের বাসায়। সাদা কাফনে মোড়ানো নীলাকে শেষবার দেখলাম। ওর হাতে তখনো মেহেদীর রং।
দাফনের পর বাসায় এসে সারাদিন ফোন হাতে নিয়ে বসে ছিলাম। ওর নাম্বারটা ডিলিট করতে পারিনি। রাত ১২টা ৩ বাজলেই ফোনটা হাতে নেই। ওর শেষ মেসেজটা পড়ি।
"কাল সকালে দেখা করি? অনেক কথা জমানো আছে।"
ইশ! যদি সেদিন রিপ্লাই দিতাম। যদি বলতাম, "হ্যাঁ নীলা, আমারও অনেক কথা জমে আছে। ৩ বছরের কথা।"
তাহলে কি ও আজ বেঁচে থাকতো? নাকি মনটা একটু হালকা হতো ওর?
১ মাস হয়ে গেলো। আজও রাত ১২টা ৩ এ এলার্ম দিয়ে রাখি। ফোন হাতে নিয়ে ওর নাম্বারে টাইপ করি, "হ্যাঁ নীলা, চলো দেখা করি।"
কিন্তু সেন্ড বাটন চাপতে পারি না। কারণ ওপাশ থেকে "Seen" লেখাটা আর আসবে না।
মানুষগুলা বেঁচে থাকতে আমরা "পরে বলবো" বলে সময় নষ্ট করি। আর যখন "পরে" আসে, তখন বলার মতো মানুষটাই থাকে না।
আজও ফোনের স্ক্রিনে ওর শেষ মেসেজটা জ্বলজ্বল করছে।
এটাই আমার "শেষ মেসেজ"।
যে মেসেজের রিপ্লাই আমি আর কোনোদিন দিতে পারবো না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now