বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কালো গোলাপের চাবি
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Queen (০ পয়েন্ট)
X
লেখিকা: Queen
*কালো গোলাপের চাবি – অধ্যায় ৭: রক্তের হিসাব*
*আয়না মহল, রাত ১১:৫৮*
বৃষ্টি নেই, কিন্তু মহলের দেয়াল ভিজে। যেন কাঁদছে। ২০ বছর পর আবার দরজা খুলতে এসেছে চাবি।
আহান, নিশি, রায়হান, তিথি – চারজন দাঁড়িয়ে। আনোয়ারা নেই। পুলিশ ভ্যান থেকে পালিয়েছে। রেখে গেছে একটা চিরকুট: "রিচুয়াল আমার না, মায়ের। আমি শুধু দর্শক।"
মহলের মেঝেতে সেই ফাটল। নিশির হাতে চাবি। হাতের কাটা জায়গা থেকে রক্ত পড়ে চাবি ভিজিয়ে দিচ্ছে। চাবিটা গরম। ধুকপুক করছে।
রায়হান DNA রিপোর্ট বের করে। দুই ঘণ্টা আগে করিয়েছে। "রিপোর্ট এসেছে।"
আহান চোখ বন্ধ করে। "বলো।"
"নেগেটিভ।" রায়হান কাগজটা ছিঁড়ে ফেলে। "তোমরা ভাইবোন না, নিশি। আনোয়ারা মিথ্যা বলেছে। তোমার বাবা আহানের বাবা না। তোমার বাবা... দাদু।"
নিশির মাথা ঘোরে। "মানে?"
"রেহানা প্রেগন্যান্ট ছিল পাগলা গারদে যাওয়ার আগে। বাচ্চার বাবা কে, কেউ জানে না। তোমার দাদু রেহানাকে ভালোবাসত। রফিক সাহেবের বন্ধু, কিন্তু রেহানার প্রেমিক। রেহানা পাগল হওয়ার পর দাদু তোমাকে নিয়ে পালায়। নিজের মেয়ে হিসেবে বড় করে।"
আহান নিশির দিকে তাকায়। স্বস্তি আর কষ্ট একসাথে। "তাহলে আমরা..."
"ভাইবোন না।" তিথি কেঁদে ফেলে। "তোমরা ফ্রি।"
১২:০০। ঘড়ির কাঁটা পড়ে। মহলের সব আয়না একসাথে ফেটে যায়। _ঝনঝন_। ফাটলের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে সেই কাঠের দরজা।
_"যে ফিরে আসে, সে আর মানুষ থাকে না।"_
নিশি চাবি ঢুকায়। _ক্লিক।_
দরজা খুলে যায়। সিঁড়ি নেমে গেছে নিচে। অন্ধকার। কিন্তু এবার কফিন নেই। আছে একটা পুকুর। কালো পানির পুকুর। পানিতে ভাসছে শত শত কালো গোলাপ। আর পুকুরের মাঝখানে একটা দ্বীপ। দ্বীপে বাঁধা এক মহিলা। শিকল দিয়ে।
রেহানা। নিশির মা।
আর তার সামনে দাঁড়িয়ে আনোয়ারা। হাতে ছুরি। "স্বাগতম, আমার সন্তানেরা। রিচুয়ালের সময় হয়েছে।"
রেহানা চিৎকার করে, "নিশি! চাবি ফেলে পালা! এটা ফাঁদ! চাবি রক্ত চায়, কিন্তু কার রক্ত বলেনি। আব্বা মিথ্যা বলেছে টেপে। প্রথম স্ত্রীকে মারেনি। প্রথম স্ত্রীকে এই পুকুরে ডুবিয়েছে। কারণ এই পুকুর... এই পুকুর একটা দরজা।"
আনোয়ারা হাসে। "ঠিক। দরজা। পাতালের দরজা। আমাদের ফ্যামিলির সব পাগলামির উৎস। প্রতি ২০ বছর পর একজনকে ডুবতে হয়। না হলে দরজা খুলে যায়, আর পাতাল থেকে ওরা উঠে আসে।"
রায়হান গান তোলে। "সরে দাঁড়াও, আনোয়ারা।"
"মারো।" আনোয়ারা বুক চিতিয়ে দেয়। "আমাকে মারলে রিচুয়াল থামবে না। চাবি যার হাতে, তাকেই ডুবতে হবে। নিশি, তুই ডুববি? নাকি তোর আহানকে ডুবাবি?"
আহান নিশির সামনে দাঁড়ায়। "আমি ডুবব। আমার ফ্যামিলির পাপ, আমি শেষ করব।"
"না!" নিশি আহানকে টেনে ধরে। "তুই মরলে আমি বাঁচব না।"
তিথি হঠাৎ বলে ওঠে, "আরেকটা রাস্তা আছে।" ওর হাতে দাদুর ডায়েরি। "দাদু লিখেছে, চাবি রক্ত চায়, কিন্তু রক্ত কার সেটা চাবি জানে না। যদি এমন রক্ত দিই যার কোনো ফ্যামিলি নেই, কোনো পাপ নেই..."
সবাই তিথির দিকে তাকায়।
তিথি হাসে। ভাঙা হাসি। "আমি এতিম। মা-বাবা কেউ নেই। আমার রক্তে কোনো অভিশাপ নেই। আমি ডুবব।"
"তিথি না!" নিশি চিৎকার করে।
আনোয়ারা ছুরি ফেলে দেয়। "এতিমের রক্ত? হতে পারে... রিচুয়ালে এটা লেখা নেই। কিন্তু চাবি মানবে?"
নিশি চাবির দিকে তাকায়। চাবিটা জ্বলছে। লাল। যেন রক্ত চাইছে।
আহান তিথির হাত ধরে। "তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের বেস্ট ফ্রেন্ড। তোকে মরতে দেব না।"
"তাহলে কে মরবে, আহান?" রেহানা কাঁদে। "কেউ তো মরবেই। ২০ বছর পর পর একজন লাগে। না হলে আমরা সবাই পাগল হয়ে যাব। আমি হয়েছি, আনোয়ারা হয়েছে, তোর বাবা হয়েছে। এবার তোদের পালা।"
নিশি চোখ বন্ধ করে। দাদুর কথা মনে পড়ে। "তোর রক্তে এই চাবি কথা বলবে।"
নিশি চাবিটা নিজের বুকে চেপে ধরে। "চাবি, শোন। তুই রক্ত চাস? নে আমার রক্ত। কিন্তু শুধু আমার। কারো ফ্যামিলির না। কারো পাপের না। শুধু আমার। আমি নিশি। দাদুর নাতনি। রেহানার মেয়ে। কারো বোন না, কারো প্রেমিকা না। শুধু আমি।"
চাবিটা আরও গরম হয়ে ওঠে। নিশির বুক পুড়ে যাচ্ছে। আহান টেনে ছাড়াতে চায়, কিন্তু পারে না।
পুকুরের পানি ফুটতে শুরু করে। কালো গোলাপগুলো পচে যাচ্ছে। দ্বীপটা ডুবছে। রেহানা চিৎকার করছে, "নিশি! না!"
আনোয়ারা হঠাৎ দৌড়ে গিয়ে নিশিকে ধাক্কা দেয়। "তুই মরলে আমার খেলা শেষ! আমি মরব!"
আনোয়ারা পুকুরে ঝাঁপ দেয়। কালো পানি ওকে গিলে ফেলে। একটা বুদবুদও ওঠে না।
সাথে সাথে চাবি ঠান্ডা হয়ে যায়। নিশির হাত থেকে পড়ে যায়। মর্চে ধরা লোহা এখন ছাই।
পুকুর শুকিয়ে যায়। দ্বীপ নেই, রেহানা নেই, আনোয়ারা নেই। শুধু ফাঁকা গর্ত। আর গর্তের তলায় একটা কঙ্কাল। গলায় তাবিজ। তাবিজে লেখা: "রফিকের প্রথম স্ত্রী – জাহানারা।"
রায়হান তাবিজটা তুলে নেয়। "রিচুয়াল শেষ। ২০ বছরের জন্য।"
তিথি বসে পড়ে। "আন্টি... আন্টি নিজেকে স্যাক্রিফাইস করল কেন?"
রেহানার গলা ভেসে আসে, এবার অনেক দূর থেকে। হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে। "কারণ ও আমার বোন... আর মা... মায়েরা শেষে বাচ্চাদের বাঁচায়..."
*হাসপাতাল, এক সপ্তাহ পর*
আহান সুস্থ। নিশি ওর পাশে। DNA রিপোর্ট দেওয়ালে টাঙানো। নেগেটিভ।
"এখন কী?" আহান নিশির আঙুলে আঙুল রাখে।
"এখন আমরা বাঁচব।" নিশি হাসে। "অন্ধকার ছাড়া। আলো ছাড়া। শুধু আমরা।"
দরজায় টোকা। রায়হান। হাতে একটা বাক্স। "আয়না মহল ভাঙা হচ্ছে। মাটির নিচে এটা পাওয়া গেছে।"
বাক্স খুলতেই ভেতরে একটা বীজ। কালো গোলাপের বীজ। সাথে চিরকুট।
"২০ বছর পর আবার ফুটব। ততদিন ভালো থেকো। - R"
R = Return।
নিশি বীজটা জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে। "২০ বছর পর দেখা যাবে।"
আহান নিশিকে জড়িয়ে ধরে। এই চুমুতে রক্ত নেই, চাবি নেই, অভিশাপ নেই। শুধু দুটো মানুষ। যারা অন্ধকার পার করে আলোয় এসেছে।
*শেষ।*
---
*লেখকের নোট
কালো গোলাপের চাবি শেষ হলো। নিশি-আহান বাঁচল, কিন্তু বীজটা রয়ে গেল। ২০ বছর পর কী হবে?
তোমরা চাইলে স্পিন-অফ লিখব: "কালো গোলাপের বীজ" – নিশি-আহানের মেয়ে বড় হয়ে চাবি খুঁজে পাবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now