বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালো গোলাপের চাবি

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Queen (০ পয়েন্ট)

X লেখিকা: Queen *কালো গোলাপের চাবি – অধ্যায় ৬: রক্তে ফোটা গোলাপ* *হাসপাতাল, ভোর ৪:০২* আরাভকে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। অজ্ঞান। রায়হান ওর পকেট থেকে আরেকটা চিরকুট বের করে। "ষষ্ঠ ধাঁধা শুরু। চাবির মালিক মরলে চাবি জেগে ওঠে। - R" নিশির ব্যাগ ভারী লাগছে। ভেতরে লোহার চাবি। তিন বছর আগে দাদু মরার রাতে দিয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, "এটা রাখ, নিশি। তোর রক্তে এই চাবি কথা বলবে।" আহান দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। ব্যান্ডেজ নতুন করে বাঁধা, কিন্তু মুখ সাদা। "নিশি, ব্যাগে কী?" নিশি মিথ্যা বলতে পারে না ওর চোখে। চাবিটা বের করে। মর্চে ধরা লোহা, মাথায় কালো গোলাপ খোদাই করা। রায়হান চাবি দেখেই দু’পা পিছিয়ে যায়। "অসম্ভব... এই চাবি তো ২০ বছর আগে কবর দেওয়া হয়েছিল। আনোয়ারার বাবার সাথে।" তিথি ফিসফিস করে, "কিন্তু দাদু... দাদু তো আনোয়ারা আন্টির বাবার বন্ধু ছিল। কবর খুঁড়েছিল?" *ফ্ল্যাশব্যাক: ২০ বছর আগে, আয়না মহল* দাদু আর আনোয়ারার বাবা রফিক সাহেব। দুই বন্ধু, এক চাবি। রফিক সাহেবের দুই মেয়ে – আনোয়ারা আর রেহানা। যমজ। রেহানা জন্ম থেকেই অসুস্থ। কথা বলে দেওয়ালের সাথে। বলে, "দেওয়ালের ভেতর আব্বা ঘুমায়।" একরাতে রফিক সাহেব মারা যান। হার্ট অ্যাটাক। কবর দেওয়ার সময় রেহানা চিৎকার করে, "আব্বা মরে নাই! আব্বা চাবি নিয়ে নিচে গেছে!" কেউ বিশ্বাস করেনি। চাবিটা রফিক সাহেবের হাতেই কবর দেওয়া হয়। কিন্তু ৭ দিন পর কবর ফাঁকা পাওয়া যায়। লাশ নেই, কফিন নেই, চাবি নেই। শুধু কবরের মাটিতে ফুটে ছিল একটা কালো গোলাপ। রেহানাকে পাগলা গারদে পাঠানো হয়। আনোয়ারা বিয়ে করে আহান-আরাভের বাবাকে। দাদু ঢাকা চলে আসে। চাবি নিয়ে। *বর্তমান, ৪:১৫* "দাদু চোর ছিল না।" নিশি চাবি মুঠো করে ধরে। "দাদু বলেছিল, চাবিটা অভিশপ্ত। এটা যার কাছে থাকে, তার ফ্যামিলি শেষ হয়। তাই আমাকে দিয়েছিল। কারণ আমার ফ্যামিলি... আগেই শেষ।" আহান নিশির হাত ধরে। "তার মানে তুমি... তুমি আমাদের ফ্যামিলির অংশ?" "না।" ছাদের দরজা খুলে যায়। হুইলচেয়ারে আনোয়ারা। হাতে হাতকড়া, কিন্তু মুখে হাসি। "ও আমাদের ফ্যামিলির ধ্বংস।" রায়হান গান তাক করে। "চুপ। তোমার খেলা শেষ।" "শেষ? না রায়হান।" আনোয়ারা নিশির দিকে তাকায়। "শুরু। নিশি, তোর মায়ের নাম কী ছিল?" নিশি চমকে ওঠে। "রেহানা... কিন্তু আমার মা তো আমি ৫ বছর বয়সে..." "মরেনি।" আনোয়ারা খিলখিল করে হাসে। "তোর মা আমার যমজ বোন। পাগলা গারদের রেহানা। আর তোর বাবা? আমার স্বামী। আহান-আরাভের বাবা।" হাসপাতালের বাতাস জমে যায়। আহান ফিসফিস করে, "মানে... নিশি আমার..." "সৎ বোন।" আনোয়ারা মাথা নাড়ে। "তোর বাবা আর আমার বোনের অ্যাফেয়ার ছিল। তুই যখন ২ বছরের, তোর বাবা রেহানাকে নিয়ে পালাতে চেয়েছিল। আমি ধরে ফেলি। রেহানাকে পাগলা গারদে ঢুকাই। তোর বাবাকে... কালো গোলাপের বিষ দিই। আর বাচ্চাটাকে... নিশিকে... তোর দাদুর হাতে তুলে দিই। বলেছিলাম মেরে ফেলতে।" নিশির পায়ের নিচে মাটি নেই। "দাদু... দাদু আমাকে বাঁচিয়েছে?" "হ্যাঁ। আর সাথে চাবিটাও চুরি করেছে কবর থেকে। যাতে আমি আর কোনোদিন রিচুয়াল করতে না পারি।" আনোয়ারা হাতকড়া ঝাঁকায়। "কিন্তু চাবি তার মালিকের কাছে ফিরে আসে, নিশি। রক্ত টানে রক্তকে।" তিথি কাঁদছে। "তার মানে... নিশি আর আহান..." "ভাইবোন।" রায়হান গান নামিয়ে ফেলে। "হে খোদা..." আহান নিশির হাত ছেড়ে দেয়। যেন আগুন। "তুমি... তুমি আমার বোন?" নিশির গলা দিয়ে শব্দ বের হয় না। শুধু চাবিটা হাত থেকে পড়ে যায়। মেঝেতে পড়তেই চাবির গায়ের কালো গোলাপ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় রক্ত পড়তে থাকে। আর তখনই হাসপাতালের সব বাতি আবার নিভে যায়। অন্ধকারে একটা নতুন গলা ভেসে আসে। মেয়েলি, কিন্তু ভাঙা। পাগলের গলা। "চাবি... আমার চাবি... আমার মেয়ে ফিরিয়ে দিল..." করিডোরের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে আছে এক মহিলা। সাদা শাড়ি, চুল জট পাকানো, চোখ লাল। হাতে একগুচ্ছ কালো গোলাপ। রেহানা। নিশির মা। আনোয়ারার যমজ। R। "২০ বছর পর খেলা শেষ হবে, আপা।" রেহানা আনোয়ারার দিকে তাকিয়ে হাসে। "তুই আমার স্বামী মারলি, আমার বাচ্চা কেড়ে নিলি, আমাকে পাগল বানালি। এখন আমি তোর দুই ছেলেকে নেব। রিচুয়াল কমপ্লিট করব।" রায়হান গুলি করে। কিন্তু রেহানা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। শুধু মেঝেতে পড়ে থাকে কালো গোলাপ। আর একটা ক্যাসেট টেপ। রায়হান ক্যাসেট প্লেয়ার অন করে। রফিক সাহেবের গলা: "যদি এই টেপ কেউ শোনো, তাহলে আমি মৃত। চাবিটা দিয়ে আমার কবরের নিচের দরজা খোলে। ওখানে আমি আমার পাপ লুকিয়েছি। আমার প্রথম স্ত্রী, রেহানা-আনোয়ারার মা। আমি তাকে মেরে কবর দিয়েছি দরজার নিচে। কারণ সে চাবি নষ্ট করতে চেয়েছিল। চাবি রক্ত চায়। প্রতি ২০ বছর পর একটা বলি লাগে। না হলে ফ্যামিলির সবাই পাগল হয়ে যায়... আমার মতো... আমার মেয়েদের মতো..." টেপ শেষ। নিশি আহানের দিকে তাকায়। ভাইবোন। প্রেমিক-প্রেমিকা। দুটোই। কোনোটাই না। আহান রক্তমাখা ঠোঁটে হাসে। "আমাদের গল্প এখানেই শেষ, নিশি?" নিশি চাবিটা তুলে নেয়। হাত কেটে রক্ত পড়ছে, কিন্তু ব্যথা নেই। "না। আমাদের গল্প এখন শুরু। আমরা এই অভিশাপ ভাঙব। একসাথে। ভাই হয়ে না, প্রেমিক হয়ে না। দুইটা ভাঙা মানুষ হয়ে।" রেহানার গলা আবার ভেসে আসে, এবার সিলিং থেকে। "ভাঙবি? তাহলে আয় আয়না মহলে। আজ রাত ১২টায়। চাবি নিয়ে। যে স্যাক্রিফাইস করবে, সে বাঁচবে। বাকি সবাই মরবে।" ০৪:২০। ভোরের আজান দিচ্ছে। কিন্তু ওদের রাত এখনো শেষ হয়নি। চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now