বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কালো গোলাপের চাবি
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Queen (০ পয়েন্ট)
X
লেখিকা: Queen
*কালো গোলাপের চাবি – অধ্যায় ৫: R এর ছায়া*
*হাসপাতাল, রাত ৩:০৭*
ফোনের স্ক্রিনের আলোয় নিশির মুখ সাদা। "মা হারলে, বাবা আসে।"
আহান ঘুমের মধ্যে কেঁপে উঠল। "নিশি... ছায়া..."
নিশি জানালার কাঁচে নাক ঠেকায়। গেটে দাঁড়ানো লোকটা নেই। শুধু একটা কালো গোলাপ পড়ে আছে। পাপড়িতে রক্ত। তাজা।
হঠাৎ কেবিনের বাতি নিভে গেল। ইমার্জেন্সি লাইট জ্বলে উঠল লাল। সাইরেন বাজছে না। পুরো হাসপাতাল নিথর।
দরজায় টোকা। তিনটা। থেমে থেমে। _টক... টক... টক..._
নিশির হাতে ফোন, অন্য হাতে স্যালাইনের স্ট্যান্ড। ওটা দিয়ে মেরে মাথা ফাটানো যাবে।
"কে?" আহান উঠে বসেছে। ব্যান্ডেজে রক্ত চুইয়ে পড়ছে, তবু চোখ শিকারীর।
দরজা খুলে গেল। রায়হান। হাঁপাচ্ছে। শার্ট ছেঁড়া। কপাল কাটা। "নিচে নামো। এখনই। আরাভ পালায়নি। ওকে ছাড়া হয়েছে।"
"কে ছেড়েছে?" নিশি ফিসফিস করে।
রায়হান নিশির ফোন কেড়ে নেয়। মেসেজটা পড়ে। তারপর নিজের ফোন বের করে। লক স্ক্রিনে একটা ছবি: রায়হান আর আনোয়ারা, পাঁচ বছর আগে। বিয়ের সাজে।
নিশির দম বন্ধ হয়ে আসে। "তুমি... তুমি আহানের সৎ বাবা?"
"ছিলাম।" রায়হান থুতু ফেলে। "আনোয়ারা আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে আরাভ জেলে যাওয়ার পর। বলেছিল আমি ওর ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। আজ বুঝলাম, ও নিজেই আরাভকে ঢুকিয়েছিল। আর আজ নিজেই বের করেছে। কারণ ওর নতুন খেলা শুরু।"
আহান বিছানা থেকে নামে। টলতে টলতে দাঁড়ায়। "মা কেন এমন করবে?"
"কারণ ও পাগল।" ছাদের দরজা দিয়ে ঢোকে তিথি। হাতে সেই স্ক্যাল্পেল। "আন্টি না, আনোয়ারা ম্যাডাম। আমি ওনার বাসায় ছিলাম। দেওয়ালে তোমাদের ছবি। কিন্তু ছবিগুলোর চোখ কাটা। আর একটা ঘর তালা মারা। ভেতর থেকে বাচ্চার কান্না আসে।"
০৩:১৩। হাসপাতালের পাওয়ার ব্যাক আপও চলে গেল। ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু আহানের ব্যান্ডেজের নিচে লাগানো হার্ট মনিটরের সবুজ আলো জ্বলছে। _টিপ... টিপ... টিপ..._
আর সেই আলোয় দরজার বাইরে দাঁড়ানো ছায়াটা স্পষ্ট হয়। ডাক্তারের অ্যাপ্রন। মুখে মাস্ক। হাতে কালো গোলাপ না, এবার একটা ইনজেকশন। ভেতরে নীল তরল।
"সারপ্রাইজ।" গলাটা আরাভের। কিন্তু কেমন খসখসে। যেন গলা কাটা ছিল, জোড়া লেগেছে। "ছোটভাই, তোর বউকে ধার দিবি একরাত? আমার জেলের হিসাব বাকি আছে।"
আহান নিশিকে পেছনে ঠেলে দেয়। "তোর হিসাব আমার সাথে, ভাই। ওকে ছাড়।"
আরাভ মাস্ক খোলে। গালের ডানপাশে লম্বা কাটা দাগ। সেলাইয়ের। "আমি মারতে আসিনি, আহান। আমি নিতে এসেছি। আব্বা আসছে।"
"আব্বা?" নিশি ফিসফিস করে। "তোমাদের আব্বা তো ১০ বছর আগে মারা গেছে।"
আরাভ খিলখিল করে হাসে। "মরা মানুষ ফিরে আসে, নিশি। কালো গোলাপের চাবি দিয়ে। মা চাবি ঘুরিয়েছে। এবার আব্বা উঠবে। আর উঠে প্রথমে যাকে খাবে, সে হলো তোমার আহান। কারণ আব্বা অন্ধকার পছন্দ করে। আর আহান হলো আমাদের ফ্যামিলির সবচেয়ে অন্ধকার ছেলে।"
রায়হান পকেট থেকে গান বের করে। "আরাভ, হাতের সিরিঞ্জ ফ্যাল।"
"ফেলব।" আরাভ সিরিঞ্জ নিজের গলায় ঢুকিয়ে দেয়। নীল তরল ঢুকে যায়। "কিন্তু এটা বিষ না, আঙ্কেল। এটা স্মৃতি। আব্বা মরার আগে এটা বানিয়েছিল। এটা নিলে আব্বা আমার ভেতর ঢুকে যায়। ১০ মিনিটের জন্য।"
আরাভের চোখ উল্টে যায়। শরীর কেঁপে ওঠে। তারপর যখন চোখ খোলে, চোখ দুটো আর ধূসর না। কালো। কুচকুচে।
গলাটা বদলে যায়। ভারী, বুড়ো, ঘরঘরে। "আহান... বাবা..."
আহান দু’পা পিছিয়ে যায়। "আব্বা?"
"হ্যাঁ বাবা।" আরাভের শরীরে ওদের মৃত বাবা হাসে। "তোর মা আমাকে মেরেছিল, মনে আছে? কালো গোলাপের বিষ দিয়ে। বলেছিল আমি তোদের ভালোবাসি না। আজ প্রমাণ দেব, কাকে বেশি ভালোবাসি। তোকে, নাকি আরাভকে। যে জিতবে, সে বাঁচবে। যে হারবে, আমি তাকে নিয়ে যাব।"
নিশি বুঝে যায়। এটা R এর খেলা। R = Resurrection। পুনর্জন্ম।
আরাভ-আব্বা হাত বাড়ায়। "আয়, আহান। বুকে আয়। দেখি তোর হার্ট কত জোরে চলে আমার জন্য।"
আহান নড়ে না। নিশির দিকে তাকায়। চোখে সেই রিকোয়েস্ট। "আমাকে বাঁচিও না, নিশি।"
নিশি মাথা নাড়ে। "এবার আমি বাঁচাব না। এবার আমি মারব।"
নিশি এক লাফে স্যালাইনের স্ট্যান্ড তুলে বাড়ি মারে আরাভ-আব্বার মাথায়। _ঝনঝন_।
আরাভ পড়ে যায়। কপাল ফেটে রক্ত। কিন্তু উঠে দাঁড়ায়। হাসে। "গুড গার্ল। আব্বা স্ট্রং মেয়ে পছন্দ করে।"
তিথি পেছন থেকে স্ক্যাল্পেল চালায়। আরাভের পিঠে। আরাভ ঘুরে তিথির গলা চেপে ধরে। "তুই তো খেলনা। তোর মা আমার কাছে।"
"মিথ্যা!" রায়হান গুলি করে। পায়ে। আরাভ হাঁটু গেড়ে বসে।
আহান এবার সামনে আসে। ভাইয়ের কলার চেপে ধরে। "আব্বা, শোনো। তুমি মরে গেছো। মা পাগল। আরাভও শেষ। কিন্তু আমি বেঁচে আছি। নিশির জন্য। তাই তুমি ফিরে যাও।"
আরাভ-আব্বা আহানের কপালে চুমু খায়। রক্তমাখা ঠোঁট। "তাহলে প্রমাণ দে। ওকে মার। নিশিকে। তাহলে বুঝব তুই আমার ছেলে। অন্ধকারের ছেলে।"
পুরো কেবিন চুপ। শুধু হার্ট মনিটর: _টিপ... টিপ... টিপ..._
নিশি চোখ বন্ধ করে। "করো, আহান। যদি এটাই লাগে তোমাকে বাঁচাতে।"
আহান নিশির গলা ধরে। আঙুল কাঁপছে। চোখে পানি। তারপর ফিসফিস করে, "আব্বা, তুমি ভুল। অন্ধকার মানে খুন না। অন্ধকার মানে ওকে প্রোটেক্ট করা, নিজে মরে গেলেও।"
আহান নিশিকে ছেড়ে নিজের ব্যান্ডেজ খুলে ফেলে। সেলাইয়ের জায়গা দিয়ে রক্ত ফিনকি দিয়ে বের হয়। "আমাকে নাও। ওকে না।"
আরাভ-আব্বা হা করে তাকিয়ে থাকে। তারপর শরীর ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। আরাভের গলা ফিরে আসে। "না... না... আমি হারতে পারব না..."
ইনজেকশনের এফেক্ট শেষ। আরাভ অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
১০ সেকেন্ড পর পাওয়ার চলে আসে। পুলিশ, নার্স, গার্ড সবাই দৌড়ে আসে।
রায়হান আরাভকে হাতকড়া পরায়। "খেলা শেষ।"
কিন্তু নিশি জানে, শেষ না। কারণ মেঝেতে পড়ে আছে একটা চিরকুট। আরাভের পকেট থেকে পড়েছে।
"পঞ্চম ধাঁধা শেষ। ষষ্ঠ ধাঁধা: চাবিটা কার কাছে?
হিন্ট: যার হাতে চাবি, তার হাতে গোলাপ ফুটবে না, রক্ত ফুটবে।
- R"
R = Revenge না। R = Ritual।
নিশি আহানকে জড়িয়ে ধরে। আহানের রক্তে নিশির জামা ভিজে যায়। "আমরা পালাব, আহান। এই শহর, এই হাসপাতাল, এই ফ্যামিলি থেকে।"
আহান নিশির কানে ফিসফিস করে, "পালিয়ে কোথায় যাব, নিশি? অন্ধকার তো আমাদের ভেতরে।"
বাইরে ভোর হচ্ছে। কিন্তু ওদের জন্য ভোর আর আসে না। কালো গোলাপের চাবি এখনো ঘুরছে।
চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now