বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কালো গোলাপের চাবি
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Queen (০ পয়েন্ট)
X
লেখিকা: Queen
*উপন্যাস: কালো গোলাপের চাবি*
*অধ্যায় ৪: ছুরির দুই ধার – তিথি, নিশি আর অন্ধকার*
*ভোর ৫:০৬, ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি*
পূব আকাশে রক্তের ছোপ। সানরাইজ হতে ৪ মিনিট ১১ সেকেন্ড। নিশির ফোনের স্ক্রিনে টাইমার চলছে। A এর দেওয়া ডেডলাইন।
নিচে পার্কিং লটে তিথি দাঁড়ানো। মাস্ক খুলে ফেলেছে। চোখ ফোলা, কাজল লেপ্টে গেছে। হাতে কালো গোলাপ না, এবার স্টিলের সার্জিক্যাল স্ক্যাল্পেল। ওটা ধরা হাত কাঁপছে।
"দোস্ত, আমাকে মাফ করিস।" তিথির গলা ফোনে ভেঙে আসে। "ওরা বলেছে আমি না মারলে মা-কে কেটে ভিডিও পাঠাবে। আমি... আমি তোকে মারতে পারব না নিশি। কিন্তু মা-কে..."
নিশি জানালার কাচে কপাল ঠেকায়। ঠান্ডা। "তিথি, ছুরি ফেলে দে। আমরা পুলিশ ডাকব। রায়হান আছে।"
"রায়হান?" তিথি হেসে ফেলে, ভাঙা গলায়। "রায়হানই তো আমাকে স্ক্যাল্পেলটা দিল, নিশি। ১০ মিনিট আগে। বলল, 'খেলা শেষ করতে হবে।'"
নিশির পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। রায়হান? A = রায়হান?
পেছনে বেডে আহান নড়ে ওঠে। "নিশি? কার সাথে কথা বলো?" ওর বুকের ব্যান্ডেজে হালকা রক্তের দাগ।
"আহান, চুপ।" নিশি ফোন কানে চেপে দৌড় দেয়। "তিথি, তুই এক পা-ও নড়বি না। আমি আসছি।"
*লিফট, ৫:০৮*
লিফট নামছে। ৮ তলা থেকে গ্রাউন্ড। নিশির বুক ধড়ফড়। মাথায় হাজারটা প্রশ্ন। A যদি রায়হান হয়, তাহলে কেন? ও তো নিশিকে বাঁচাচ্ছিল। নাকি নাটক?
লিফট খোলে। ইমার্জেন্সির সামনে কেউ নেই। তিথি গায়েব। শুধু মেঝেতে পড়ে আছে কালো গোলাপের পাপড়ি। আর একটা চিরকুট।
"ছাদে আয়। সানরাইজ একসাথে দেখব। শুধু তুই আর আমি। আহানকে আনলে ও মরবে। - A"
নিশির হাত মুঠো হয়। এটা টোপ। কিন্তু তিথি কোথায়?
হঠাৎ মাথার উপর থেকে রায়হানের গলা, "নিশি! উপরে তাকান!"
নিশি তাকায়। হাসপাতালের ১০ তলার ছাদের রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে তিথি। বাতাসে ওর চুল উড়ছে। গলায় স্ক্যাল্পেল ধরা। পাশে দাঁড়ানো রায়হান। কিন্তু রায়হানের হাতে হাতকড়া। আর হাতকড়া ধরেছে... আহান?
অসম্ভব। আহান তো ICU-তে। স্যালাইন লাগানো।
নিশি দৌড়ে আগুন-নির্বাপক সিঁড়ি বেয়ে ওঠে। প্রতি ধাপে হাঁপায়। ১০ তলা। ফুসফুস ফেটে যাচ্ছে।
*ছাদ, ৫:১২:৩৩ সেকেন্ড*
সানরাইজ। সূর্যটা রক্তলাল। ছাদে তিনজন। তিথি, রায়হান, আর আহান। আহান দাঁড়িয়ে আছে। ব্যান্ডেজের উপর হাসপাতালের গাউন। মুখ ফ্যাকাশে, ঠোঁট সাদা। কিন্তু চোখে আগুন।
"তুমি এখানে কীভাবে?" নিশি হাঁপায়।
"আমি হেঁটে এসেছি।" আহান কাশে। "কারণ আমার অন্ধকারটা ছাদে। তোমাকে একা ছাড়তে পারি না।"
তিথি কাঁদে। "নিশি, আমাকে মাফ কর। A বলেছে আমি যদি ছাদ থেকে লাফ দিই, তাহলে মা-কে ছেড়ে দেবে। আর তোকে বাঁচাবে। আমার কাছে অপশন নাই।"
রায়হান এবার কথা বলে। ওর গলায় রাগ নেই, ক্লান্তি। "A আমি না, নিশি। A হাসপাতালের সিসিটিভি হ্যাক করেছে। আমার ফোন ক্লোন করেছে। আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমি ২০ মিনিট আগে জ্ঞান ফিরে দেখি হাতকড়া পরা, আর আপনার বান্ধবী ছুরি হাতে।"
আহান রায়হানের কলার চেপে ধরে। "তাহলে A কে? ভূত?"
"ভূত না।" ছাদের দরজা থেকে নতুন গলা ভেসে আসে। সবাই ঘুরে তাকায়।
হুইলচেয়ারে বসা এক মহিলা। বয়স ৫০+, মাথায় সাদা চুল। পরনে নার্সের ড্রেস। কিন্তু চোখ... চোখ দুটো আরাভ-আহানের মতো। ধূসর।
"আমি A।" মহিলা হাসে। "আনোয়ারা। আরাভ-আহানের মা।"
নিশির মাথা ঘোরে। "আন্টি?"
"আন্টি?" আনোয়ারা খিলখিল করে হাসে। "আমি তিন বছর ধরে তোমাদের খেলা দেখছি, নিশি। আমার দুই ছেলে একটা মেয়ের জন্য কুকুরের মতো লড়ছে। একজন ঘৃণা করে, একজন পূজা করে। আমি ঠিক করলাম, টেস্ট করব। তুমি কি আমার ছেলেদের যোগ্য?"
আহান দু’পা পিছিয়ে যায়। "মা... তুমি? তুমি তিথির মা-কে কিডন্যাপ করেছো?"
"কিডন্যাপ?" আনোয়ারা ভুরু নাচায়। "না বাবা। নাটক। তিথির মা আমার বাসায়, চা খাচ্ছে। আমি শুধু তিথিকে বলেছি, 'অভিনয় কর। দেখি নিশি তোর জন্য কী করে। আমার ছেলের জন্য কী করে।'"
তিথি স্ক্যাল্পেল ফেলে দেয়। "আন্টি, প্লিজ থামেন। আমি আর পারছি না।"
আনোয়ারা হুইলচেয়ার ঠেলে সামনে আসে। নিশির থুতনি ধরে। "এখন বলো, মেয়ে। তুমি কাকে বাঁচাবে? আমার ছেলেকে, যে তোমার জন্য গুলি খেয়েছে? নাকি তোমার বান্ধবীকে, যে তোমার জন্য মরতে চেয়েছে? দুইজনকে বাঁচাতে পারবে না। সানরাইজ শেষ হলেই ছাদের বোম্ব ব্লাস্ট হবে। হ্যাঁ, আমি C4 লাগিয়েছি। মা হিসেবে আমারও শখ আছে।"
নিশি নিচে তাকায়। ছাদের চার কোণায় লাল লাইট জ্বলছে। টাইমার: ০০:৫৯... ০০:৫৮...
রায়হান চিৎকার করে, "সবাই নিচে চলেন! আমি বোম্ব স্কোয়াড ডাকছি!"
"লাভ নাই।" আনোয়ারা রিমোট তোলে। "রিমোট আমার হাতে। আমি চাপলে... বুম। এখন বেছে নাও, নিশি। আহানকে নিয়ে লাফ দাও পাশের বিল্ডিংয়ে। তিথি মরবে। অথবা তিথিকে নিয়ে নামো, আমি আহানকে উড়িয়ে দেব।"
আহান নিশির হাত চেপে ধরে। ফিসফিস করে, "আমাকে ছেড়ে দাও। তুমি তিথিকে নিয়ে যাও। আমি মরে গেলে তুমি ফ্রি।"
নিশি আহানের চোখে দেখে। ভয় নেই। শুধু একটা রিকোয়েস্ট। "আমাকে বাঁচিও না, নিশি। আমাকে ভালোবাসো।"
নিশির ভেতরের সব ভাঙা কাচ জোড়া লাগে। ও বুঝে যায়। অন্ধকারকে আলো দিয়ে হারানো যায় না। অন্ধকারকে অন্ধকার দিয়েই আপন করতে হয়।
নিশি আনোয়ারার দিকে তাকিয়ে হাসে। প্রথমবার, শিকারীর হাসি। "আপনি ভুল করেছেন, আন্টি। আপনি ধাঁধা দিয়েছেন। কিন্তু ভুলে গেছেন আমি আর আহান এখন এক টিম।"
০০:১০... ০০:০৯...
নিশি এক ঝটকায় আহানের গাউন ছিঁড়ে ব্যান্ডেজ খোলে। রক্তমাখা বুকে মাথা রাখে। তারপর আহানের কানে ফিসফিস করে, "ডার্কলি। এখনই।"
আহান বোঝে। তিন বছর ধরে ও নিশির ছায়া। এখন নিশি ওর ছায়া হবে।
০০:০৩... ০০:০২...
আহান আর নিশি একসাথে লাফ দেয়। রেলিং থেকে না, ছাদের মাঝখানে। আনোয়ারার গায়ের উপর। হুইলচেয়ার উল্টে যায়। রিমোট ছিটকে পড়ে।
০০:০১...
রায়হান ডাইভ দিয়ে রিমোট ধরে। বোতামে চাপ দেয় না। সুইচ অফ করে।
টাইমার থামে। ০০:০০।
সানরাইজ কমপ্লিট। বোম্ব ফাটে না।
আনোয়ারা মেঝেতে পড়ে হাঁপায়। "তুই... তুই আমাকে মারতে পারতি..."
"আপনি আহানের মা।" নিশি আনোয়ারার গলা চেপে ধরে। "আপনাকে মারলে ও কষ্ট পাবে। আমি ওকে আর কষ্ট দেব না। কিন্তু আপনি যদি আবার আমার অন্ধকারে হাত দেন, আমি আপনার ছেলেকে নিয়ে এমন অন্ধকারে যাব যেখান থেকে আপনি আর ফিরে পাবেন না।"
আহান উঠে দাঁড়ায়। টলছে, কিন্তু দাঁড়ায়। নিশির কোমর জড়িয়ে ধরে। "চলো, নিশি। হাসপাতালে ফিরি। আমার স্যালাইন বাকি।"
তিথি দৌড়ে এসে নিশিকে জড়িয়ে ধরে। "সরি, দোস্ত। আমি ভীতু।"
"তুই ভীতু না।" নিশি তিথির কপালে চুমু খায়। "তুই আমার আলো। আর আহান আমার অন্ধকার। দুইটাই লাগবে আমার বাঁচতে।"
রায়হান হাতকড়া পরায় আনোয়ারাকে। "আপনার খেলা শেষ, ম্যাডাম। এখন আমার খেলা শুরু। জেলখানায়।"
*হাসপাতাল, রাত ১১টা, প্রাইভেট কেবিন*
আহান বেডে। নিশি চেয়ারে না, আহানের বুকে। নার্স ঘুম। দরজা লক।
"ব্যথা করছে?" নিশি ব্যান্ডেজে আঙুল বোলায়।
"করছে।" আহান নিশির চুলে নাক ঘষে। "তুমি ফুঁ দাও।"
নিশি ফুঁ দেয়। তারপর ঠোঁট নামায়। প্রথমে ব্যান্ডেজে। তারপর গলায়। তারপর ঠোঁটে।
এই চুমুতে ভয় নেই। গিল্ট নেই। পুলিশ নেই। মা নেই। শুধু দুইটা ভাঙা মানুষ। অন্ধকারে একে অপরকে জোড়া লাগাচ্ছে।
"আমরা কি খারাপ, আহান?" নিশি ফিসফিস করে।
"সবচেয়ে খারাপ।" আহান নিশির কামিজের বোতাম খোলে। "তাই আমরা পারফেক্ট। আলোরা আমাদের বুঝবে না, নিশি। আমরা অন্ধকারে জ্বলব। ডার্কলি।"
বাইরে হাসপাতালের নিয়ন আলো। ভেতরে দুটো ছায়া এক হয়ে যায়।
*কিন্তু ডার্ক রোমান্স শেষ হয় না।*
রাত ৩টায় নিশির ফোন আবার বাজে। আননোন নম্বর। মেসেজ:
"মা হারলে, বাবা আসে।
চতুর্থ ধাঁধা শেষ। পঞ্চম ধাঁধা: আরাভ জেল থেকে পালিয়েছে।
ওর টার্গেট তুমি না, নিশি। ওর টার্গেট আহান।
কারণ ও জানে, আহানকে মারলে তুমি নিজেই মরবে।
খেলা এখন পার্সোনাল।
- R"
R কে? রায়হান? রনি’র ভাই? নাকি নতুন কেউ?
নিশি আহানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আহান ঘুমের মধ্যে বলে, "নিশি... ছায়া..."
নিশি জানালা দিয়ে দেখে। হাসপাতালের গেটে দাঁড়ানো এক লোক। পরনে ডাক্তারের অ্যাপ্রন। মুখে মাস্ক। হাতে কালো গোলাপ। আর গোলাপের কাঁটায় লাল ফোঁটা। রক্ত।
চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now