বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নজর

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ঝরা পালক (০ পয়েন্ট)

X এজগতে নজর বলতে কী? খারাপ দৃষ্টিকে বোঝায় তাই না। আজ আমি মেয়েদের প্রতি পুরুষের নজরের কথা বলবো। বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি ছোট্ট গ্রাম, নাম তার গোবিন্দপুর। গোবিন্দপুর নাম হলেও সেখানে আসলেই কোনো গোবিন্দ থাকে কি! সেই গোবিন্দপুরের একটি ছোট্ট মেয়ে ছিল,নাম তার শালু।শালুর বয়স কত হবে আর ছয় বছর।দূরন্ত , দুষ্টু, হাসি -খুশি একটা মেয়ে। হেসে খেলে পুরো পাড়ায় খেলার সাথীদের সাথে ঘুরে বেড়াতো। শালুর পরিবারের তার বাবা -মা, ঠাকুমা, ঠাকুর দাদা,কাকা-কাকি, পিসি-পিসো সবাই ছিল। শালুরা তিন বোন। শালুর বড় পিসি স্বামীর অত্যাচারে ঘর না করতে পারায় এখন বাপের বাড়িতে থাকে। তার একটি মেয়ে, নাম তার জুই । মেয়ে বলে তাকেও ত্যাগ করেছে তার বাবা।জুঁইকে শালু নিজের বড় দিদি হিসেবেই দেখে। শালুর ঠাকুর দাদা একজন রাগচটা মানুষ, কোনো জিনিস বা কাজ এদিক থেকে ওদিক হলেই রাগারাগী করে। কিন্তু শালুর ঠাকুরমা খুব ভালো শান্তশিষ্ট মানুষ। তিনি শালুকে অনেক ভালোবাসেন।বলতে গেলে শালু তার হাতেই মানুষ। তাতে কি শালুরা তিন বোন হওয়ায় তার দাদু খুব একটা পছন্দ করে না শালুদের । তাই , ঠাকুমার কাছে ভালোবাসা পেলেও দাদুর কাছে খুব একটা ভালোবাসা পায়নি শালু। ওদিকে আবার পর পর তিন জন মেয়ে হওয়ায় শালুর বাবাও খুশি ছিল না। তা নিয়ে শালুর খুব একটা কষ্ট ছিল না। ছয় বছরের শিশু আর এসব নিয়ে কষ্ট পাওয়া বোঝে না। শালুর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা শালুর প্রতি খুব একটা খুশি না হলেও একেবারে অবহেলা করে না হয়তো! তাই তো শালু ও বোনেদের ছোট খাটো আব্দার পুরণ করে থাকে। অবশ্য শালুর পরিবারও খুব একটা স্বচ্ছল নয়। এই কৃষি কাজ আর দিনমজুরের কাজ করে চলে যায় ভালোভাবে। শালুর বড় পিসি বাপের বাড়ি থাকলেও শালুর মা-কাকিমার সাথে তেমন ভালো সম্পর্ক নেই। ঝগড়া তাদের মাঝে লেগেই থাকত। কিন্তু পরিবারের ঝামেলা বোঝার বয়স শালুর তখন কি হয়েছে! সে তার মতো আলাদা জগত তৈরি করে বন্ধুদের সাথে খেলায় ব্যস্ত। শালু কিন্তু শুধু খেলায় ব্যস্ত থাকতো না, নিয়মিত পাঠশালায় যেতো বন্ধুদের সাথে লেখাপড়া করতে। কখনো আবার পাঠশালা ফাকিও দিতো বাগান দিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। শালুর পরিবারের যতোই ঝামেলা থাক, অতিথি আপ্যায়নে কিন্তু তার পরিবার সেরা।শালুদের যতো আত্মীয় স্বজন আছে উৎসব,অনুষ্ঠানে বা এমনিতেই আসে বেড়াতে তাদের বাড়িতে।আর তাদের সব রকমভাবে আপ্যায়ন করে শালুর পরিবার। এমনভাবে শালুদের বাড়িতে একজন আত্মীয় আসে। সম্পর্কে শালুর বাবার মামাতো ভাই। এছাড়াও শালুর পিসিরাও এসেছে তাদের পরিবার নিয়ে বেড়াতে। চারিদিকে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে।শালুও অনেক খুশি। এই উৎসব মুখর পরিবেশে শালুর বাবার মামাতো ভাই, যে সম্পর্কে শালুর কাকা হয় সে শালুকে আলাদাভাবে ডাক দেয়। শালু সরল মনে তার কাছে গিয়ে বলে,আমায় কেন ডেকেছ কাকু? ওই কাকুটি বলল চল একটা জায়গায় যাই , তোকে কিছু দেখাবো। শালুও তখন কাকুটির সাথে সরল মনে চলে যায়।কেউ যেন না দেখতে পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে থাকে কাকুতি।তারপর কাকুটি শালুকে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে তার সাথে অপকর্ম করে । কিন্তু শালু বুঝলো না আসলে তার সাথে কি করছে শয়তানটা। বুঝবে বা কি করে,সে যে একটা শিশু মাত্র। কিন্তু তার মনে ঠিক দাগ কেটেছে, তার সাথে ভালো কিছু হয়নি।অপকর্ম করার পর কাকুটি শালুর মগজ ধোলাই করে বলল, শালু যেন এসব কথা না বলে কাউকে। শালুর অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে কিছু বলে না কাউকে। আসলে তো সে জানেই না , তার সাথে কতো বড় ঘৃণ্য কাজ করে ছিল লোকটি।শালু কথাটি কাউকে না বললেও তার মনে সেটা গভীরভাবে খারাপ ক্ষত তৈরি করে যায় ।সে কিছুতেই এই ঘটনা ভুলতে পারিনি । শয়তানটা তো তার চাহিদা মেটাতে শিশুটিকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু শালুর মনে ঘটনাটি স্থায়ীভাবে রয়ে যায়। সে যত বড় হতে থাকে, তার মনে ওই ঘটনা আরো গভীর ক্ষত তৈরি করতে থাকে। শালু যত বুঝতে শিখলো খারাপ স্পর্শ কী? ততই যেন তার মনের ক্ষত আরো বাড়িয়ে তোলে। সে ছোট বেলায় তো কারো‌ চাহিদার শিকার হয়েছিল কিন্তু বড়  হতে হতে তার আশেপাশের মানুষের থেকে খারাপভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা, খারাপ নজরে দেখা, খারাপ প্রস্তাব ইত্যাদি ব্যবহারের কারণে তার মনের ক্ষত যেন তীব্র যন্ত্রণায় পরিণত করে। এতে করে তার পুরো শৈশব থেকে কৈশোর কাল সবটা নষ্ট হয়ে যায়।সে এখন চুপ চাপ এক কোণে পড়ে থাকে।হাসি -খুশি যেন তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ।আর তার মনের ক্ষত থেকে সে কোনো পুরুষকেই এখন বিশ্বাস করতে পারে না। সে ওই ক্ষতের কষ্টের জন্য রাতে ঠিক করে ঘুমাতে পারে না এবং ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে! কাউকে বলতেও পারবে না। কারণ তার কথা এখন বিশ্বাস করবে কে ?শালুর বয়স এখন উনিশ হয়েছে কিন্তু শালুর মনে তৈরি ক্ষতের জন্য সে এখন কোন পুরুষকেই ভরসা করতে পারে না। কারণ বর্তমান যুগের প্রেম, ভালোবাসা হোক বা না হোক ছেলেদের কাছে ভালোবাসার প্রমাণ হলো বিছানা গরম করা। তাই সে আজ অবধি কোনো ছেলেকেই ভালোবাসার চোখে দেখতে পারেনা।শালুর সাথে যা হয়েছে তার জন্য দায়ী লোকটি ঠিক ভদ্র সেজে এই সমাজে রয়েছে,কিন্তু শালুর মনে তৈরি ক্ষতের আর চিকিৎসা সম্ভব হবে না। কারণ এই ক্ষত মেয়েদের প্রতি পুরুষের কুনজরের ফলে তৈরি হয়েছে,যা কখনো ঠিক হবার নয়! পুরুষেরা তাদের লালসার জন্য বড় থেকে ছোট যোকোনো মেয়ে হলেই হয়। কিন্তু এতে মেয়েদের জীবনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়,তা সেটা কোনো পুরুষ বোঝার চেষ্টা করে না । তারা শুধু তাদের হরমোনের উৎপাদিত লালসার কথা শুনে। একটা মেয়ে যে তাদের লালসা মেটানোর বস্তু নয় সেটা কেউভাবে না। মেয়েরা যে রক্ত মাংসের মানুষ। তাদেরও যে চিন্তা-ভাবনা, ইচ্ছা- অনিচ্ছা আছে,সেটা মনে হয় না তেমন কেউ ভাবে। শালুর মতো কতো মেয়ের মনে যে এরকম যন্ত্র লুকিয়ে আছে তা কেউ বলতে পারবে না ।যে ক্ষত কখনো ঠিক হবার নয়যেমন শালুর জীবনের ক্ষত ঠিক হবার নয়।আর এসব ক্ষত তৈরি হয়ে থাকে পুরুষের লালসা ভরা খারাপ নজরের কারণে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক নজরে নবীজির সিরাত
→ এক নজরে ইসলামের গৌরবময় শাসনআমলগুলো....
→ একনজরে দেওয়ানবাগি ও তার কিছু ভন্ডামিমুলক কথা
→ কাজী নজরুলের ইসলামি গজল লেখা
→ ❤♥নজরুল বৃত্তান্ত♥❤
→ রণ-ভেরী,,,,কাজী নজরুল ইসলাম
→ হযরত আনাছ বিন নজর (রাঃ)
→ ইঞ্জিনিয়ার নজরুল
→ ইঞ্জিনিয়ার নজরুল
→ অতৃপ্ত কামনা-কাজী নজরুল ইসলাম
→ অতৃপ্ত কামনা-কাজী নজরুল ইসলাম
→ কবি নজরুল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now