বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকের নাম- মাজহারুল মোর্শেদ
গল্পের নাম- প্তাই লেকের অপরূপ দৃশ্য
প্রকৃতি প্রেমী ভ্রমণপিপাসুরা একটু-আধটু সময় পেলেই তাদের মাথা কিলবিল করে কোথায় যাওয়া যায়, কোথা থেকে একটু ঘুরে আসা যায়। আমাদের ছুটিছাটা ভ্রমণ দলের সদস্যদের ক্যালেণ্ডারের পাতায় থাকে শকুনের দৃষ্টি, কবে একটা মোটা দাগের বন্ধ আছে। আসলে মানুষ যা চায় সৃষ্টি কর্তাও তার বান্দর চওয়াটুকু পূরণ করে। তাই ঠিকঠাক মিলে গেলো। শুক্র-শনি এমনিতেই দু’দিন বন্ধ তার উপর রোবিবার বোনাস এবার কে পায় আমাদের!
সব ঠিকঠাক বৃহস্পতিবার বিকাল চারটায় ছাড়বে আমাদের গাড়ি, সোজা-সুজি চট্টগ্রাম। সকাল ১০টার দিকে আমরা পৌছে গেলাম চট্টগ্রামে। সবার চোখে মুখে ভীষণ ক্লান্তির ছাপ। সারারাত বাসের ধাক্কা-ধাক্কিতে আর মোটেও ইচ্ছে করছে না দু’পা এগোতে। কিন্তু কথা হলো- ‘কিছু পেতে হলে, কিছু হারাতে হয়’। চট্টগামে কেন্দ্রীয় বাস টারমিনালের পাশে একটা রেস্টুরেন্টে হালকা চা-নাস্তা করে নিয়ে আবার রওয়ানা হলাম রঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে। চলছে আমাদের গাড়ি একরাশ ক্লান্তির মাঝেও কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের কথা মাথায় এলে বুকের ভেতর কেমন যেন একটা শিহরণ জেগে ওঠে। রাঙ্গামাটিতে পৌছে আমরা হোটেল প্যারাডাইসে উঠলাম। তারপর গোসল সেরে ফ্রেশ হয়ে বাইরে একটা রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিলাম। সারারাত জার্নি করে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছিলো তাই আর অন্য চিন্তা মাথায় না রেখে রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বেড়িয়ে পড়লাম কাপ্তাই লেকের উদ্দেশ্যে। রাঙ্গামাটি থেকে সিএনজি যোগে আমরা কাপ্তাই লেকে আসলাম। কাপ্তাই ঘাটে এসে দেখি অনেক নৌকা জমে আছে ঘাটে। ঘাটে নেমে অবাক হবার মতো কাণ্ড, চারিদিকের সব মানুষগুলো একই চেহারা, কিন্তু ভাষা ভিন্নরকম। বেশ মজা লাগছে তাদের কথাগুলো শুনতে, বিশেষ করে তারা যখর নিজেদেও মধ্যে কথা বার্তা বলছে। রংপুরের ভাষার সাথে তাদের ভাষার শতকরা একভাগও মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘাট থেকে কিছুদূর হেঁটে আমরা একটা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে নিলাম সারা দিনের জন্য। নৌকার মাঝি একটা কমবয়সী ছেলে। মাঝি বললো, কাপ্তাই লেকে সে আমাদের গাইড হিসেবে থাকবে। তার আশ্বাসে এবার আমাদের যাত্রা শুরু হলো। আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের নৌকা। পাহাড়ের মতো উঁচু দু’ধার আর আমরা ভেসে যাচ্ছি ঠিক তার মাঝবরাবরে। কি অপরূপ দৃশ্য! মোহনীয় ক্ষণ, চোখ ধাধালো চারিদিকের সৌন্দর্য। মায়াময় এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সবুজ-শ্যামল পাহাড়, জলের সমারোহে সুসজ্জিত কাপ্তাই লেকে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য যেন জড়িয়ে রয়েছে এর গোটা বুক জুড়ে। পাহাড়, জল এবং মেঘের খেলায় মেতে আছে কাপ্তাই লেক। আমি নৌকার সামনে গিয়ে কাপ্তাই লেকের দু’ধারের দৃশ্যকে ক্যামেরা বন্দি করছি এমন সময় চোখে পড়লো লেকের ধারে পানি থেকে একটু উঁচু জায়গায় বিশাল আকৃতির একটা কুমির তার দেহটাকে পানিতে রেখে মাথাটা উঁচু করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তার গায়ে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে আরও অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট দু’তিনটা কুমির। ছোট কুমিরগুলো তার বাচ্চা কিনা সেটা এতো দূও থেকে অনুভব করাটা বেশ কঠিন। আমি সবাইকে দেখার জন্য ডাকলে, চালক আমাদেরকে সাবধান করে দিলেন যেন আমরা নৌকা থেকে পড়ে না যাই। নৌকা থেকে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনায় প্রাণ নাসের আশংকা থেকে যায়। বেশকিছুদূর যেয়ে আমরা দেখলাম চালক নৌকাটি কিনারে ভিড়াচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, আমরা সুবলং ঝরনায় এসে গিয়েছি। সে তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে সংক্ষিপ্ত আকারে সুবলং ঝরনার একটা বর্ণনা দিতে শুরু করলো-সুবলং ঝরনাটি বৃহত্তর রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলাধীন সুবলং ইউনিয়নের চিলারডাক নামক স্থানে কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁষে কর্ণফুলী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত স্বচ্ছ জলরাশির ঝরনা। অনেক উপর থেকে এর স্বচ্ছ জলধারা নিচের দিকে পতিত হয় বলে পর্যটকদের কাছে এর সৌন্দর্য ও আকর্ষণ অনেক বেশি।
ঝরনা দেখার আনন্দে আমরা লাফ দিয়ে নৌকা থেকে নিচে নামলাম। বর্ষার মৌসুম না হওয়ায় ঝরনার পানি কিছুটা কম কিন্তু আমাদেরকে আনন্দ দেওয়ার জন্য তাতেও যথেষ্ট ছিলো। এই ঝরনার নির্মল জলধারা হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে। ঝরনার জলধারা পাহাড়ের বুক চিরে আঁকা-বাঁকা পথে অনেক উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ছে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় প্রাণকে মুগ্ধ করে এ পৃথিবী নয় যেন অন্য কোথাও, অন্য কোন জগতে ভেসে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে। এ অপরূপ দৃশ্য স্বচক্ষে না দেখলে কল্পনায় ছবি আঁকা সম্ভব নয়।
মনের আনন্দে বন্ধুদের কেউ কেউ পরনে যা ছিলো তাই নিয়ে গা ভাসিয়ে দেয় ঝরনার জলে, প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি যে পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাবে, সে কথাও ভাবনার মধ্যে নেই। ঝরনার পানিতে গা ভাসিয়ে সাঁতার কাটা কি যে আনন্দ সেটা প্রকাশ করার মতো নয়। নৌকার মাঝি আমাদের বারবার সময়ের দিকে তাকানোর ইুঙ্গত দিচ্ছে কিন্তু কে শোনে কার কথা। যদিও সেখান থেকে ফিরে আসতে মন সায় দিচ্ছিলো না কিন্তু স্বল্প সময়ে যে আরও অনেক যায়গায় যেতে হবে। তাই মনবাসনাকে অপূর্ণ রেখেই আমাদের আবারও নৌকায় উঠে আসতে হলো।
দু’ধারে উঁচু পাহাড় তার মাঝখান দিয়ে চলছে আমাদের নৌকা। লেকের ভেতর শুধু আমরাই নই, আমাদের মতো শত শত পর্যটক নৌকা নিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। বন্ধু সোহাগ নৌকার মাস্তুলে যেয়ে পাখির ডানার মতো দু’হাত মেলে আনন্দ প্রকাশ করছে। নৌকার মাঝি সাথে সাথে তাকে শতর্ক করে দিলো যেন নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে আমরা কোন দুর্ঘটনার শিকার না হই। এভাবে প্রায় ঘন্টাখানেক চলার পর নৌকার মাঝি আমাদেরকে বললেন, আমরা আদিবাসী গ্রামের কাছাকাছি চলে এসেছি, আপনারা নিচে নামার জন্য প্রস্তুত হন। পাহাড়ি আদিবাসী গ্রামে আমাদেরকে নামিয়ে দিয়ে সে বললো-বেশিক্ষণ দেরি করবেন না তা নাহলে ফিরতে রাত হয়ে যাবে। মাঝি নৌকার মধ্যে অপেক্ষা করছিলেন।
আমরা প্রথমে পাহাড়ি আদিবাসী গ্রামের দিকে ছুটে যাই। গ্রামটি অনেকটা সমতল জায়গায় মনে হলেও আমাদেও পা বলে দিচ্ছে যে আমরা কতোটা উপরে উঠে গিয়েছি। পাহাড়ে ওঠার জন্য পর্যটন কতৃপক্ষ মাঝে মাঝে পাহাড় কেটে সিঁড়ি বানিয়ে রেখেছে যেন উপরে উঠতে পর্যটকদেও বেশি কষ্ট না হয়। সেই সিঁড়ি বেয়ে
উপরে উঠে দেখলাম আদিবাসীরা এখানে পাহাড় কেটে বেশ কিছু ঘরবাড়িও তৈরি করেছে। ঘরগুলো বাস কাঠ ও উপরে টিনের ছাওনি দেয়া। আমরা বাড়িগুলোর আনাচে কানাচে ঘুড়েছি। তবে তেমন মানুষ দেখতে পায়নি। এখানে যারা বসবাস করে তারা খুবই পরিশ্রমী। দিনের বেলায় বাড়িতে খুব কম মানুষের দেখা পাওয়া যায়। নারী-পুরুষ উভয়ই সমানভাবে কাজ করে।
আমরা আরো উপরের দিকে উঠতে লাগলাম। উপরের দিকে যতই যাওয়া যায়, ঘন জঙ্গল আর বড় বড় গাছ পালা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের সাথে আরো অন্যান্য গ্রুপের মানুষও ছিলো। সবাই নিজের ইচ্ছা মত বিভিন্ন জাগায় ঘুরতে লাগলো। আমি সাহস করে পাহাড়ের উপর পর্যন্ত গিয়েছি। তবে যতই যায় রাস্তা শেষ হয় না। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। চিন্তা করলাম বেশি গভীরে গেলে রাস্তা হারিয়ে ফেলতে পারি। তাছাড়া এখানে মোবাইলের কোন নেট পাওয়া যায় না, পরে কেউ খুঁজেও পাবে না। তাছাড়া সাপ, বিচ্ছু, পাহাড়ি বন্যপ্রাণীর ভয় আছে। তাই আর বেশি গভীরে গেলাম না। পাহাড়ের একেবারে উপরে বিশাল বড় একটি বট গাছ দেখলাম। এটার নিচে অন্য গ্রুপের কিছু ছেলে পেলে বসে ধুমপান করেছে। আমি আবার এসব পছন্দ করি না। তাই ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে যেতে লাগলাম।
সৃষ্টিকর্তা এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষকে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যে এলাকার মানুষ সেই এলাকার সাথে পরিচিত এবং সেই পরিবেশের সাথে বসবাস করতে অভ্যস্ত। হয়তো সেই আদিবাসী লোকজনদেরকে আমাদের শহরে এনে শান্তি দিতে পারবেন না। কারণ তারা জন্মগত ভাবেই সেখানে বড় হয়েছে তারা সেই পরিবেশের সাথে মিলে মিশে অভ্যস্ত।
আদিবাসী মানুষগুলোকে লক্ষ্য করলে বুঝা যায় যে এক এক মানুষের জীবনযাত্রার মান একেক রকমের। নারী পুরুষ সবাই কঠোর পরিশ্রমী কারও জীবন কোন দিক থেকে থেমে নেই। এই পাহাড়টি কাপ্তাই লেক থেকে একশত ফুট উপরে হবে। আদিবাসী গ্রামের নারী-পুরুষ একই সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করে তাদের হাতে বানানো নানা রকম পণ্য দ্রব্য খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দোকান দিয়েছে। তাদের তৈরি করা তাঁতের কাপড়গুলো তাদের হচ্ছে ইনকামের প্রধান উৎস। তারা তাদের তৈরি করা সেই তাঁতের কাপড় গুলো বান্দরবান-রাঙ্গামাটির মেইন শহরে এসে বিক্রি করে চলে যায়। তাছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে থাকে।
পাহাড়ি আদিবাসী গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু তারা সেই পরিবেশে অভ্যস্ত। তারা সেগুলো করতেও অভ্যস্ত। তারা রাত দিন পরিশ্রম করে তাঁতে কাপড় তৈরি করেন। তাছাড়া ও পাহাড়ের ঢালু জমিতে জুম চাষসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ করেন।
তবে তাদের জীবন যাত্রার মান গুলো খুবই অদ্ভুত ধরনের। বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই তবে বিকল্প হিসেবে তারা সোলার প্যানেল ব্যবহার করে। খাবার পানি খুবই দুর্লভ। অনেক দূরে দূরে পাহাড়ের ঢালুতে কোথাও দু’একটি টিউবওয়েল বসানো আছে। মেয়েরা কাঁখে কলস নিয়ে সেখান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে। তাছাড়া পাহাড়ের ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করে সে পানি ব্যবহার করে।
আদিবাসী মারমা, চাকমা, মুরং, গারো, খাসিয়া, তনচংগ্যা ইত্যাদি সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ সম্মিলিতভাবে সাধারণত সাপ্তাহিক নির্ধারিত হাট বাজারে কেনা-বেচা করতে আসে। তারা ঐদিন তাদের উৎপাদিত পণ্যাদি বিক্রি করে এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী ক্রয় করে থাকে। বাজারে সাধারণত নারী-পুরুষ সকলেই সমবেত হয়।
আদিবাসি বাজার ঘুরে আবার নৌকায় ফিরে আসার জন্য পাহাড়ি রাস্তা ধরে নিচে নামছি। এমন সময় চোখে পড়লো একজন বৃদ্ধ গোছের প্রবীণ ব্যক্তি যিনি একাকীত্ব ভাবে নির্জনে নিরালায় বসে বিড়ি টানছেন। আমার খুব কৌতুহল জাগলো যে, এই বয়সে এসে কেন সে মানূষটা একাকীত্বকে বেঁচে নিলেন। আমি তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার উপস্থিতি তাকে বিচলিত করলোনা। আমি অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, দাদু কেমন আছেন আপনি?
কোন প্রকার ভংগিমা না করে খুব সহজ-সরলভাবে ভাঙা ভাঙা বাংলায় উত্তর দিলেন, ভালো আছি।
দাদু আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
হ্যাঁ বলেন-
আচ্ছা দাদু, আপনি কতোদিন ধরে এই পাহাড়ে বসবাস করছেন?
আমার প্রশ্ন করাটাকে নেহাত বোকার মতো প্রশ্ন মনে করে এবার মাথা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে ফোকলা দাঁতে একটা ফিঁক করে হেসে বললেন- আমার বাপ-দাদাদের আমল থেকেই আমরা এখানে থাকছি।
আপনার পরিবারে কে কে আছেন দাদু?
আমি আর আমার ছেলের বোউ। আর ছেলের একটা ‘মেয়া’ও আছে।
আমি বুছে নিলাম ‘মেয়া’ বলতে হয়তো তার নাতনিকে বুঝিয়েছেন।
আচ্ছা দাদু ঐযে গাছের তলায় কতোগুলো পাথর উঁচু করে সাজানো আছে দেখছি , তার চারপাশে কাদা-মাটি দিয়ে খুব যত্ন করে লেপে দেওয়া হয়েছে, আমাকে কি একটু বলবেন দাদু? এটি কি?
ওটা আমাদের দেবতার আসন। ওখানে বসেই দেবতা সার্বক্ষণিক আমাদেরকে দেখেন, আমরা কি করছি। আমার ‘আচা’(ছেলে) তো এ নদীতে পড়ে মরেই গিয়েছিলো। আমি তাকে কোলে করে নিয়ে এসে দেবতার কাছে দেবতার পায়ে রেখে তার জীবন ভিক্ষা চাই। দেবতা এ অভাগার কথা শোনে আমার ছেলের প্রাণ ভিক্ষা দেয়।
ও আচ্ছা দাদু, আপনার নামটা কি জানতে পারি?
আমার নাম মংশৈপ্রু।
আচ্ছা দাদু , আমি তাহলে আসি। আপনি ভালো থাকবেন।
তুমিও ভালো থাকো।
মংশৈপ্রু দাদুর কাছে বিদায় নিয়ে আমরা আবার নৌকায় ফিরে আসলাম। বন্ধুরা পাহাড়ী আদিবাসি গ্রাম পরির্দশন করতে করতে তখন প্রায় চারটা বেজে যায়। পেটের মধ্যে দারুন ক্ষুধা আগুনের মতো জ্বলছে। তাই তাড়াতাড়ি নিচে নামার চেষ্টা করছি হঠাৎ চোখে পড়ে গেলো পাহাড়িদের একটি রেস্টুরেন্ট। তবে বাঙালি কোন খাবার নেই। তার মধ্যে বেশ বড় বড় পাহাড়ি কলা আর পাউরুটি পাওয়া গেলো ক্ষুধার জ্বালায় আপাতত তা দিয়েই বেঁচে থাকার চিন্তা করা হলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now