বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভেলোরের দিনগুলি পর্ব-১

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X লেখকের নাম- মাজহারুল মোর্শেদ গল্পের নাম- ভেলোরের দিনগুলি-পর্ব-১ ভ্রমণ করতে কার-না ভালো লাগে? আরও যদি সেটা হয় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভিন্ন দেশে, ভিন্ন জায়গায়। যেখানে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়াটা নিতান্তই ভাগ্যের, পরম প্রপ্তির। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের একটি প্রসিদ্ধ শহর ভেরোর, উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গমন হলেও সেখানকার পরিবেশ ভ্রমণের দিকেই ঠেলে দেয়। আমার সফর সঙ্গী বন্ধু লালমনিরহাট জেলা জর্জকোর্টের এডভোকেট হুমাউন কবির কাজল, তার সহধর্মিণী আয়শা আক্তারি এজবি, তাদে মেয়ে জাইমা ও আমার ছেলে ইয়াশ মোর্শেদ অমি। দিনটি ছিলো ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর। পরেরদিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বাগডোকড়া, শিলিগুড়ি এয়াপোর্টে আমাদের ফ্লাইট। বর্ডারের ইমিগ্রেসন ঝামেলা এড়াতে আমরা আগে ভাগে রওয়ানা হয়েছি। যেন কোনভাবেই ফ্লাইট মিস না হয়। যা হোক ১২ সেপ্টেম্বর আমার সকাল সকাল পৌছে গেলাম বুড়িমারী স্থল বন্দরে। তখনও বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ভীষণ দাপট চলছে। মানুষেই মানুষের প্রধান শত্রæ কারণ নিশ্বাসে-প্রশ্বাসে হাঁচিতে কাশিতে এক মানুষের ভেতর থেকে করোনা ভাইরাস অন্য মানুষের ভেতরে দৌড় দেয়। বুড়িমারী স্থল বন্দরের ইমিগ্রেসন ঝামেলা কাটিয়ে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে পৌছে গেলাম ভারতের চ্যাংড়া বান্ধা স্থল বন্দরে। এবার তাদের পালা বাংলাদেশী পর্যটকদের বেশ লম্বা লাইন। ঘন্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে পেলাম ক্লিয়ারেন্স রুমের দেখা। সেখানে ফিঙ্গার প্রিন্টসহ নানা পরীক্ষার-নীরিক্ষার মাধ্যমে ভারতে প্রবেশের অনুমতি মিললো। চ্যাংড়াবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টোটো যোগে বাইপাস যেয়ে আমরা ট্যাক্সি ভাড়া করে সন্ধ্যা নাগাত শিলিগুড়ি পৌছে গেলাম। ‘পাকিজা’ নামে একটা মুসলিম আবাসিক হোটেলে উঠে রাত্রি যাপন করে পরের দিন ঘন্টা দুপুর ২টা পনেরো মিনিটে আমাদেও ফ্লাইট। শতর্কতা সরূপ ঘন্টা দুয়েক আগেই আমরা বাগডোকড়া এয়াপোর্টে চলে যাই। কারণ এয়ারপোর্টে ল্যাগেজ চেকিং সহ নানা রকম ঝামেলা তো থেকেই যায়। আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় কোন রকম বিড়ম্বনার সম্মুখিন হতে হলোনা। এয়ারপোর্টে বেশিক্ষণ অপেক্ষাও করতে হলো না। তার আগেই এয়ার ইÐিগোর ফ্লাইট এসে হাজির হলো আমরাও ল্যাগেজ জমা দিয়ে ফ্লাইটে উঠে পড়লাম। আমাদের সবার সিটগুলো পাশাপাশি হওয়ায় বেশ আনন্দ করেই ঘন্টা তিনেক পরে চেন্নাই এয়ারপোর্টে পৌছে গেলাম। চেন্নাই এয়ারপোর্টে একটা মজার ঘটনা ঘটে গেলো ল্যাগেজ বেল্টে আমার একটা লাগেজ কোন ভাবেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। ল্যাগেজ বেল্ট স্বগতিতে দু’তিনবার ঘুরে গেলো অবশেষে চতুর্থবারে সেটাকে খুঁজে পেলাম। এবার শুরু হলো হলো ভেলোরে যাওয়ার পালা। বিড়ম্বনা হলো ট্যাক্সি ড্রাইভারগুলো ইংরেজিতো নয়ই ভালো করে হিন্দিও বোঝে না। তারা শুধু তামিল ভাষাটাই ব্যাহার করে। মাঝে মধ্যে দু’চারজন টুকটাক হিন্দি বুঝলে সেটা বলতে অনিহা প্রকাশ করে, কারণ তামিলরা হিন্দি ভাষার মানুষদের অপছন্দ করে। ভারত আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ তাছাড়াও আমার ছোট বেলাটা ভারতে কেটেছে বলে আমি হিন্দি ভাষাটা বেশ ভালোই বলতে পারি। কিন্তু তামিল ভাষারতো কিছুই বুঝি না। যাহোক পাশের একটা চায়ের স্টলে বেশ ভদ্রগোছের একজন লোককে দেখতে অনেকটা বাঙালির মতো মনে হলো, তার কাছে যেয়ে হিন্দিতে বললাম দাদা আমরা ভেলোরে যাবো, আমাদেরকে যদি একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে দিতেন তাহলে খুব উপকৃত হতাম। আমার ব্যাকরণের সমীকরণহীন ভাঙা ভাঙা হিন্দি শোনে ভদ্রলোক বুঝে ফেলেছেন যে, আমরা বাংলাদেশি। তাই তিনি ১৮০০ রুপিতে আমাদেরকে একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে দিলেন। এদিকে ক্ষুধায় পেট চোঁচোঁ করছে, কিন্তু আশেপাশে কোন হোটেল-রেস্টুরেন্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘন্টাখানেক চলার পরে আমি বাধ্য হয়েই হিন্দিতে ট্যাক্সি ড্রাইভারকে বললাম যে, দাদা সামনে কোন রেস্টুরেন্ট পেলে একটু গাড়িটা থামিয়ে দেবেন, বেশ ক্ষুধা পেয়েছে। খুব বেশি না হলেও তামিল এ ড্রাইভারটি কিছুটা হিন্দি বোঝে। তাই রাস্তার পাশে একটা বেশ বড়সড় রেস্টুরেন্ট দেখে ট্যাক্সিটা থামিয়ে আমাদেরকে রেস্টুরেন্টের ভেতওে নিয়ে গেলো। আমি তাকেও আমাদের সাথে বসতে অুনরোধ করলাম কিন্তু সে আমাদের টেবিলে না বসে পাশের টেবিলে বসে পড়লো। রেস্টুরেন্টের ভেতরের আসবার পত্র বেশ গোছালো অনেকটা বাঙালিয়ানা ভাব আছে। কিন্তু খেতে বসে শুরু হলো আর এক বিড়ম্বনা। যেহেতু আমাদের বেশ ক্ষুধা লেগেছে তাই পরোটা আর সব্জি তার সাথে একটা করে ডিম অমলেট অর্ডার করলাম। প্রথমে ওয়েটার একটা মস্তবড় ঝকঝকে স্টিলের থালায় কলা পাতার ওপরে দু’টো করে পরোটা নিয়ে এলো। তারপর স্টিলের বাটিতে সব্জি। তবে সব্জির ক্ষেত্রে একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ওরা কি যেন মসলা ব্যবহার করেছে যার গন্ধে আমরা কেউ মুখে দিতে পারলাম না, শুধু ডিম দিয়েই পরোটা শেষ করতে হলো। তারপর চায়ের পালা এবারো ঠিক একই ভাবে চা নিয়ে আসলো কাঁসার বাটিতে আমাদের পরিবারের ক্ষুদে দু’সদস্য অমি এবং জাইমা তাদের হাসিটাকে আর পেটে চেঁপে রাখতে পারলো না। হো হো করে হেসে ফেললো। তাদের হাসি দেখে ওয়েটার অবাক হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আমাদের ভাষাতো সে বুঝতে পাচ্ছে না, তাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে বললাম-তোমাদের হাসিতে ওরা ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। কারণ ওরাতো আমাদের মতো বাঙালি না এটাই ওদের কালচার, ওরা এটাতেই অভ্যস্ত। যাহোক নাস্তা করা শেষে আমরা আবার উঠে বসলাম ট্যাক্সিতে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ট্যাক্সি আমাদের ভেলোর শহরে পৌছে দিলো। আমাদের দলের সদস্য যারা পূর্ব থেকেই ভেলোরে ছিলেন, তারা হলেন রবিউল ইসলাম সুমন, জাকির হোসেন রিপন ও তার সহধর্মিণী রুমা। তারা পূর্ব থেকেই ২০/৩৩ আঞ্জুমান স্ট্রিটে “তাজলাক্স গেস্ট হাউস” এ ছিলেন। প্রধানত তাদের সহযোগিতায় “তাজলাক্স গেস্ট হাউস” এ আমাদেরও জায়গা হয়েছে। “তাজলাক্স গেস্ট হাউস” নাম করণ হলেও মূলত এটা একটা রাজকীয় দ্বিতল বিশিষ্ট বাড়ি। সামনে রাজকীয় বারান্দা ও বিশাল একটা উঠোন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হলে ভেলোরের মতো জায়গায় এমন রাজকীয় বাড়ি ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। এর পুরো কৃতিত্বটা কেবলি সুমনের। বাড়িটা দেখেই বুকের ভেতর যেন সারাদিনের জার্নির যে ক্লান্তি সেটা নিমিশেই উধাও হয়ে গেলো। অমি রুমে লাগেজ রেখে বিছানায় ধপাস করে শুয়ে পড়ে বলতে শুরু করলো আহ! কি শান্তি। দক্ষিন ভারতের রাজ্য তামিলনাডু। বাংলাদেশ হতে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িষা, অন্ধপ্রদেশ, তেলুগু রাজ্য পার হয়ে তারপর তামিলনাডু রাজ্য। তামিলনাডু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাই সেখান থেকে ১৪৫ কি.মি দূরে ভ্যালরে রয়েছে ভারতের বিখ্যাত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সি.এম.সি) হাসপাতাল। হাসপাতালের মান ও সেবা একেবারেই বিশ্বমানের কিন্তু চিকিৎসা খরচ তুলনামূলক অনেক কম। এটি খ্রিস্টান মিশনারী পরিচালিত একটি অলাভজনক হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসা পাবেন বিশ্ব মানের। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটে আসে এই হাসপাতালে। হাসপাতালের প্রায় ২৫ ভাগ বাংলাদেশী রোগী। অনেক রোগীকে দেখেছি সি.এম.সিতে গিয়ে প্রমান হয়েছে দেশে তারা ভুল চিকিৎসা বা ভুল ডায়াগনসিসের শিকার হয়েছিলেন। ভারতের তামিলনাডুর রাজ্যের ভেলোরে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সি.এম.সি) হাসপাতাল, ১৯০০ সালে ডা. আউডা স্ক্যাডার প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্বখ্যাত অলাভজনক বেসরকারী ও গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি নিউরোসায়েন্স, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, হেমাটোলজি ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত। ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে (সি.এম.সি) এম.বি.বি.এস, ৫৭টি স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা এবং ডিগ্রি মেডিকেল কোর্স (এম.এস), এমডি, ডিএম, এমসিএইচ, বিজ্ঞান ব্যাচেলর, এম.বি.বি.এস কোর্সে রয়েছে সাড়ে চার বছরের শিক্ষাবিদ এবং এক বছরের বাধ্যতামূলক ঘূর্ণায়মান মেডিকেল ইন্টার্নশিপ চালু রয়েছে। সি, এম, সি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. আইডা স্কাডারকে তার বাবা জন স্কাডার (রানীপেট "স্কাডার মেমোরিয়াল হাসপালের " প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক) মাত্র আট বছর বয়সে তার নিজদেশ আমেরিকায় পাঠিয়ে দেন পড়াশোনা জন্য। শৈশবের বেশিরভাগ সময় তার সেখানেই কেটেছিল। পূর্ণযৌবনা, চঞ্চল, হাসিখুশি, প্রাণবন্ত আইডা তার মা বাবার মতো সুদূর ভারতবর্ষে এসে মিশনারী হিসেবে কাজ করতেকখনোই ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু সময় মানুষকে অনেক বদলে দেয়, বদলে দেয় তার চলার গতিপথ। আইডার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। অসুস্থ মা বাবাকে দেখতে এসে ভারত বর্ষেই তাঁর জীবনতরী কূলে ভিড়ে যায়। “ভ্যালোরে তিনডিভা” নামের বাড়ির বারান্দায় বসে আইডা স্কাডার ভাবতে লাগলেন যে, আমেরিকার মতো একটা উন্নত দেশ, উন্নত জীবনযাপন ছেড়ে তার মা বাবা কেন চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা অনুন্নত অজো পাড়া গায়ে পড়ে আছেন? এমন সময় বাড়ির সদর দরজায় এক ব্রাক্ষ্মন ভদ্রলোক অবিরত কড়া নাড়তে থাকেন। আইডা দরজা খুলে তার মুখোমুখি হলে, তিনি জানান যে, তার স্ত্রী জটিল গর্ভ বেদনায় মৃত্যুশয্যায় পড়ে আছেন। এমতাবস্থায় তার সাহায্যের প্রয়োজন। অন্যথায় তাকে বাঁচানো যাবে না। আইডা ভদ্রলোককে বিনয়ের সাথে জানান যে, তিনি কোনো ডাক্তার নন, ডাক্তার হলেন তার বাবা। আইডা ভদ্রলোককে তার বাবার সাহায্য নেয়ার অনুরোধ করলেন। ভদ্রলোক রেগে গিয়ে বলেন যে, "আমার স্ত্রীকে সাহায্য করার জন্য কোনো পুরুষ মানুষ গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো পুরুষ মানুষের সাহায্যের চেয়ে আমার স্ত্রীর মৃত্যু অনেক ভালো’। একজন অন্য পুরুষ তার মুখ দেখবে, তাকে নাড়াচাড়া করবে, এটি সেই রক্ষণশীল ব্রাক্ষ্মন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলেন না। হাস্পাতালে কোনো মহিলা ডাক্তার না থাকার কারণে ভাগ্যহতা সেই যুবতি ব্রাক্ষ্মন স্ত্রী প্রসব বেদনায় ছটফট করে মারা গেলেন। চোখের সামনে এমন একটা সম্ভাবনাময় জীবনের অকালে ঝড়ে যাওয়াটা তীব্র বেগে আঘাত হানল আইডার বুকে। আইডা কোন ভাবেই তার নিজেকে ক্ষমা করতে পারলেন না। আইডা স্ক্যাডার তার পরের দিনেই আমেরিকায় ফিরে গেলেন এবং চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করে ১৯০০ সালের জানুয়ারিতে একজন পুরোদস্তুর চিকিৎসক হিসেবে ফিরে এলেন ভেলোরে। এখন মানবসেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাজ করার জন্য তার দেহমন সম্পুর্ণরূপে প্রস্তুত। ডা. আউডা স্ক্যাডার ভেলোরে তার শোয়ার ঘরে একটা খাটিয়া পেতে চিকিৎসার পরিসেবা দিতে শুরু করেন। নিজের শোয়ার ঘরেই তার প্রথম হাসপাতাল। সেদিনের সেই এক বেডের হাস্পাতালটি ধিরে ধিরে আজ ২৫০০ বেডের হাস্পাতালে পরিণত হয়ে একটা সম্পূর্ণ আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার রূপ লাভ করে। আর এটি হলো আজকের দিনের সি.এম.সি হাস্পাতাল। ডা. আইডা স্ক্যাডার অনুভব করলেন যে এখানকার হত দরিদ্র ও অশিক্ষিত মানুষদেরকে বের করে আনার জন্য এবং স্বাস্থ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানের প্রসারের জন্যে এখানে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা দরকার। এলাকার ছাত্র-ছাত্রিরা চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শি হয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা ছিড়িয়ে দেবে এটাই তাঁর প্রত্যাশা ছিলো। পরবর্তিকালে বিভিন্ন মিশন হাস্পাতাল থেকে অনেক নামি দামি ডাক্তার এসে ডা. আইডা স্ক্যাডারের সাথে যোগ দিলেন। ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে হাস্পাতালে নতুন নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হল। সারা ভারতের মধ্যে সর্বপ্রথম সি.এম.সি হাস্পাতালে কার্ডিও ও থোরাসিস ও নিউরো সার্জিকাল বিভাগ খোলা হয়েছিল। এভাবে কয়েক বছরের মধ্যে সি.এম.সি হাস্পাতালের নাম গোটা ভারতবর্ষে তথা পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। সুচিকিৎসার জন্যে শুধু ভারত নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও লোকেরা আসতে লাগলো। অবসর নেয়ার পরেও ডা. আইডা স্ক্যাডার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত রোগিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে গেছেন। দক্ষিন ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের ছোট এক জেলা শহর ভেলোর। ছোট হলেও শহরটিতে রয়েছে বিখ্যাত একটি হসপিটাল- খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (সিএমসি)। কম খরচে হাসপাতাল দুটিতে যে মানের চিকিৎসা পাওয়া যায় তা এক কথায় অনন্য। বিশেষত সি.এম.সি.তো ভারতের একেবারে প্রথম শ্রেনীর হাসপাতাল। কম খরচে ভালো মানের চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত ভেলোর। সুমনের পরামর্শ অনুযায়ী পরের দিন সকাল আটটার আগেই আমরা উপস্থিত হলাম হাসপাতালে। এখানে বাংলাদেশী রোগীদেও জন্য ১০ নম্বও শাখায় রুম নম্বর ৯০০ এ রোগী ও তার এটেনডেন্টকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আমাকে একটি প্রিন্টেড কপি বা টোকেন দেওয়া হলো। এই টোকেন নিয়ে পাসপর্টের মুল ও ফটোকপি আই আর অফিসে (মূলত একটি রুম) জমা দিলাম। তারপর অপেক্ষা করতে থাকলাম যতোক্ষণ না আমার ডাক পড়ে। প্রায় ঘন্টাখানেক পর আমার ডাক পড়লো ছোট খাট একটা বিবরণী বলে আমি সাত দিন পর আমার ডাক্তারের এপয়েন্টম্যান্ট পেলাম। আমাকে একটি হাসপাতাল নম্বর দেয়া হলো, এটি আমার আইডি নম্বর। বাংলাদেশে চিকিৎসায় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, ডায়াগনোস্টিক রিপোর্ট দেখতে চাইতে পারে তাই সব কিছু সাথে নিলাম। এবার ডাক্তারের সিরিয়ালের জন্য কাউটারে গেলাম। কিন্ত বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে যে ডাক্তারের এ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলাম তিনি নাকি বিদেশে গেছেন ট্রেনিং করতে। পরের সপ্তাহে সেই নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের অন্য একজন ডাক্তারের এ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলাম। কি আর করার আছে তাই নিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো। টাকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটা নিরাপদ নয় বিধায় আমার বেশিভাগ টাকা হাসপাতালের নির্ধারিত কাউন্টারে জমা দিয়ে ক্রিশ কার্ডে টাকা ভরে নিলাম। টাকা ভরার সময় আমাকে একটা রিসিট দিয়ে দিলো। ০.০৫% সার্ভিস চার্জ কেটে নিয়ে ডাক্তার ভিজিট, ঔষধ ক্রয়, হাসপাতাল ভর্তি হতে শুরু করে সিএমসিতে যে কোন বিল ক্রিশ কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়। ফেরার সময় সামান্য ব্যালেন্স রেখে বাকি টাকা তুলে নেয়া যায়। পরের দিন পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট করার জন্য একটা ‘সি’ ফরম পূরন করে হোটেলের ম্যানেজারকে জমা দিলাম। আমরা সবাই একটা পরিবার হয়ে ঠিক দেশের বাড়ির মতো পরিবেশে থাকছি। বাজারের ভারটা আমার ও কাজল ভাইয়ের উপর। কাজল ভাই আবার বেশ দেখে শুনে বাজার করতে পারে। কাজেই আমরা নিজের মতো বাজার করে আনছি, ভাবি (এডভোকেট কাজল ভাইয়ের মিসেস) রান্না করছে আর আমরা মজা করে খাচ্ছি। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো ডাক্তারের এপয়েন্টম্যান্ট পেলাম সাত দিন পর। এই সাত দিন এখানে বসে বসে কি করবো। মাথায় একটা ভূত চেঁপে বসলো কোথায় ঘুরে বেড়ানো যায়। ভেলোর শহরটা চারপাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা। উঁচু কোন জায়গা থেকে দেখলে এটাকে একটা স্টেডিয়ামের মতো দেখা যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্পের নাম- ভেলোরের দিনগুলি পর্ব-৩
→ গল্পের নাম -ভেলোরের দিনগুলি পর্ব-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now