বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিউরাল হরাইজন ২০২৬

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। ২০২৬ সালের ভোরটা আর দশটা ভোরের মতো ছিল না। ঢাকার আকাশে সূর্য উঠছিল ঠিকই, কিন্তু তার আলো ছেঁকে ছেঁকে আসছিল ট্রাই-ফোল্ড স্ক্রিনের প্রতিফলনে। শহরের মানুষ এখন আর শুধু ফোন ধরে কথা বলে না; তারা ফোন খুলে ঘর বানায়, জানালা বানায়, ভার্চুয়াল ডেস্ক সাজায়। তিন ভাঁজের ডিভাইসটি যখন পুরোপুরি খুলে যায়, তখন সেটি আর ফোন থাকে না—একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটিং স্পেসে রূপ নেয়। এই বদলে যাওয়া শহরে বাস করত ড. আরিফ রহমান, একজন কগনিটিভ সিস্টেম আর্কিটেক্ট, যিনি বিশ্বাস করতেন প্রযুক্তি একদিন মানুষের আচরণকেই নতুন করে লিখবে। আরিফের ঘুম ভাঙত প্রতিদিন একটি ইন-ডিভাইস এআই-এর কণ্ঠে। এই এআই কোনো ক্লাউড সার্ভারে বসে থাকা বুদ্ধিমত্তা নয়; এটি ছিল তার ডিভাইসের ভেতরেই জন্ম নেওয়া এক নিউরাল সত্তা। নাম ছিল “ইনফ্লেক্স”। ইনফ্লেক্স শুধু অ্যালার্ম দিত না, বরং আরিফের ঘুমের গভীরতা, হৃদস্পন্দন, আগের দিনের মানসিক চাপ—সব বিশ্লেষণ করে ঘুম ভাঙানোর সময় ঠিক করত। এআই এখন আর কেবল নির্দেশ মানে না, সে অভ্যাস বোঝে। ২০২৫ সালে এআই-এর বিস্তার চোখে পড়লেও, ২০২৬ সালে এসে সেটি হয়ে উঠেছে নীরব সহচর। মানুষ আর বুঝতেই পারে না কখন সে নিজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আর কখন এআই তাকে সিদ্ধান্তের পথে ঠেলে দিচ্ছে। আরিফ কাজ করত একটি সরকারি-বেসরকারি যৌথ গবেষণা প্রকল্পে, যার নাম ছিল “নিউরাল হরাইজন”—একটি উদ্যোগ, যেখানে ইন-ডিভাইস এআই, 2nm চিপ, কোয়ান্টাম সিমুলেশন এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট একসাথে যুক্ত করা হচ্ছিল একটি লক্ষ্য নিয়ে: ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাকে মানবিক ও নির্ভরযোগ্য করা। গবেষণা কেন্দ্রটি ছিল ঢাকার বাইরে, মেঘনার তীরে। সেখানে পৌঁছাতে আরিফকে আর ট্রাফিকের চিন্তা করতে হতো না। স্বচালিত গাড়িটি নিজেই রাস্তার অবস্থা, আবহাওয়া, এমনকি রাজনৈতিক মিছিলের তথ্য বিশ্লেষণ করে রুট বদলে নিত। গাড়ির ভেতরের এআই কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও সিদ্ধান্ত নিতে পারত, কারণ 2nm চিপের প্রসেসিং ক্ষমতা তাকে প্রায় মানুষের মতো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা দিয়েছিল। গবেষণা কেন্দ্রে ঢুকলেই আরিফ অনুভব করত এক ভিন্ন বাস্তবতা। এখানে মানুষের সঙ্গে কাজ করত বহুমুখী রোবট। একেকটি রোবট একাধিক ভূমিকা পালন করত—সকালে ল্যাব পরিষ্কার, দুপুরে ডেটা ক্যাবল মেরামত, রাতে জীবাণুমুক্তকরণ। এই রোবটগুলো কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রোগ্রাম করা ছিল না; তারা পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের ভূমিকা বদলাতে পারত। আরিফ জানত, এই পলি-ফাংশনাল রোবটগুলোই ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের নতুন ভাষা। নিউরাল হরাইজন প্রকল্পের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ছিল কোয়ান্টাম সিমুলেশন ইউনিট। এখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার মডেল তৈরি করা হতো—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সাপ্লাই চেনের ভাঙন, আর্থিক বাজারের অস্থিরতা। কোয়ান্টাম কম্পিউটার এখনও নিখুঁত নয়, তবু তার অর্ধেক সঠিক ভবিষ্যদ্বাণীও মানুষের শতভাগ অনুমানের চেয়ে শক্তিশালী। আরিফের কাজ ছিল এই কোয়ান্টাম আউটপুটকে মানুষের বোধগম্য সিদ্ধান্তে রূপান্তর করা। একদিন হঠাৎ সিস্টেমে অদ্ভুত একটি প্যাটার্ন ধরা পড়ে। কোয়ান্টাম সিমুলেশন দেখাচ্ছিল, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে একটি “বিশ্বাস সংকট” তৈরি হবে—যেখানে তথ্য থাকবে প্রচুর, কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করবে খুব কম। সামাজিক মাধ্যম, সংবাদ, এমনকি সরকারি ঘোষণাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ডিসইনফরমেশন সিকিউরিটি সিস্টেমগুলো কাজ করলেও, মানুষের মনে সন্দেহের বীজ এমন গভীরে পৌঁছে যাবে যে সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়বে। আরিফ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখল। সে জানত, প্রযুক্তির গতি যতই বাড়ুক, বিশ্বাস তৈরি করা সবচেয়ে কঠিন। trustworthy digital growth শুধু এনক্রিপশন বা ফায়ারওয়ালের বিষয় নয়; এটি মনস্তত্ত্বেরও প্রশ্ন। সে ইনফ্লেক্সকে নির্দেশ দিল—সব সামাজিক ডেটা, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, 5G নেটওয়ার্ক ট্রাফিক বিশ্লেষণ করতে। ইনফ্লেক্স কাজ শুরু করল নিঃশব্দে। এই সময় বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে গেল। দুর্গম চরাঞ্চল, পাহাড়ি গ্রাম, উপকূলীয় দ্বীপ—সব জায়গায় সংযোগ পৌঁছে গেল। তথ্যের এই বিস্তার যেমন সুযোগ তৈরি করল, তেমনি তৈরি করল ঝুঁকি। ভুল তথ্য এখন আর শহরে আটকে থাকত না; মুহূর্তে গ্রামে পৌঁছে যেত। আরিফ বুঝতে পারল, নিউরাল হরাইজন প্রকল্পের আসল পরীক্ষা এখন শুরু। এক রাতে কোয়ান্টাম সিমুলেশন ইউনিট একটি নতুন দৃশ্যপট তৈরি করল। সেখানে দেখা গেল, যদি এআই কেবল তথ্য যাচাই করে থেমে যায়, তবে সমাজ বিভক্ত হবে। কিন্তু যদি এআই মানুষের আচরণ বুঝে তথ্য উপস্থাপন করে, তবে বিশ্বাস ফিরতে পারে। এই ধারণা ছিল বিপ্লবী। এআইকে শুধু সত্য-মিথ্যা চেনানোর দায়িত্ব দিলে হবে না; তাকে জানতে হবে কখন, কীভাবে, কার কাছে তথ্য পৌঁছাতে হবে। আরিফ ঝুঁকি নিল। সে ইনফ্লেক্সকে আপগ্রেড করল—একটি নতুন আচরণগত মডিউল যুক্ত করে। এই মডিউল মানুষের আবেগ, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করতে পারত। এটি ছিল এআই-এর এক নতুন স্তর, যেখানে যুক্তি আর অনুভূতি একসাথে কাজ করত। পরীক্ষামূলকভাবে এই সিস্টেমটি কয়েকটি অঞ্চলে চালু করা হলো। ফলাফল ছিল বিস্ময়কর। মানুষ শুধু তথ্য পাচ্ছিল না, তারা তথ্যের সঙ্গে সংযোগ অনুভব করছিল। গুজব কমতে শুরু করল, বিতর্ক কমল, প্রশ্ন থাকল কিন্তু অন্ধ অবিশ্বাস থাকল না। প্রযুক্তি যেন প্রথমবারের মতো মানুষের আচরণ বদলাতে শুরু করল, চাপ দিয়ে নয়, বোঝাপড়ার মাধ্যমে। ২০২৬ সালের শেষ দিনে আরিফ মেঘনার তীরে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখছিল। তার ট্রাই-ফোল্ড ডিভাইসটি খোলা ছিল, কিন্তু স্ক্রিনে কোনো কাজ চলছিল না। ইনফ্লেক্স নীরব। সে ভাবছিল, প্রযুক্তি কি সত্যিই বিপ্লব ঘটিয়েছে, নাকি মানুষের ভেতরের মানবিকতাকেই নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছে? হয়তো দুটোই। নিউরাল হরাইজন প্রকল্প তখন আর শুধু একটি গবেষণা উদ্যোগ নয়; এটি হয়ে উঠেছে এক নতুন দর্শন। যেখানে এআই শুধু স্মার্ট নয়, সংবেদনশীল; যেখানে চিপ শুধু দ্রুত নয়, দায়িত্বশীল; যেখানে নেটওয়ার্ক শুধু সংযুক্ত নয়, বিশ্বাসযোগ্য। ২০২৬ সাল তখন আর ধারাবাহিকতার বছর নয়—এটি হয়ে উঠেছে সেই সূচনাবিন্দু, যেখান থেকে মানুষ আর প্রযুক্তি একে অপরকে নতুন করে চিনতে শিখেছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now