বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অবরুদ্ধ জীবনের গল্প -৩৩

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X লেখকের নাম- মাজহারুল মোর্শেদ অবরুদ্ধ জীবনের গল্প -৩৩ “ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি” বাতিল সংক্রান্ত জনৈক ভারতীয় নাগরিকের করা মামলাটি দিল্লি সুপ্রিমকোট খারিজ করার পর তিনবিঘা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের আইনি বাঁধা না থাকায় বিষয়টি মাথায় নিয়ে তিনবিঘা সফরে আসেন তৎকালে পñিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শ্রী জ্যোতি বসু। বাংলাদেশকে তিনবিঘা হস্তান্তর করা হচ্ছে এ রকম একটা গন্ধ ধাপড়া-মেখলীগঞ্জের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার জনগণ একেবারে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। ঘুরেফিরে যার প্রভাব পড়ে ঐ ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসীর ওপর। তারা দিন-দুপুরে, যে যেখানে পারে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার মানুষ হলেই হল-তার নিস্তার নাই, তাদের ওপর চলে অত্যাচারের স্ট্রিমরোলার। তারা উঠোনে বাঁধা মোরগের মতো যতোই পালাতে চেষ্টা করুক না কেন, পালানোর উপায় নেই। বর্ডারে গরু-ছাগল বাঁধা হলে তারা নিজের মনে করে টেনে নিয়ে যায়।“তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি” ধাপড়ারহাট এলাকায় যারা নেতৃত্বে ছিলেন তারা দলবল নিয়ে এসে ডাহাগ্রামের পূর্বপাশের এলাকায় রীতিমত শ্বাসিয়ে যায়। তারা এয়ো বলে যায় যে, ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাকে তিনবিঘা হস্তান্তরের প্রতিবাদে মিছিল হবে আর সেই মিছিলে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসী অংশগ্রহন করে বলবে-‘আমরা তিনবিঘা করিডোর চাই না, আমরা ভারতের সাথে থাকতে চাই’। আর যারা এ মিছিলে অংশ গ্রহণ করবে না, সে রাতটাই হবে তাদের জীবনের শেষ দিন। কারণ জীবন দিয়ে হলেও তারা ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাকে তিন বিঘার এক তিল পরিমাণ জায়গা দেবে না। “তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি” চারিদিক থেকে যতই ধুমকি-ধামকি দেক না কেন ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসী আর তাদের ভয় পায় না। কারণ তারা জানে, “তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি” ও “বজরঙ্গ” বাহিনী যতই শক্তিশালি হোক না কেন, বন্দুকের নলের সামনে নিশ্চিত মৃত্যু জেনে কেউ একপা আগাতে সাহস করবে না। এ রকম পরিস্থিতির সম্মুখিন তারা বংশ পরমপরায় হয়ে আসছে এ আর নতুন কি? বড়জোর ধাপড়া-মেখলীগঞ্জ যেতে দেবে না এর চেয়ে বেশি কি-ই বা করতে পারে তারা। কিন্তু তারা কিছু করতে পারুক আর নাই পারুক রাতের অন্ধকারে চুরিতো-করতে পারে? ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার জনজীবনের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের দেয়া ত্রিশ-চল্লিশটি বন্দুক আছে এটি সবার জানা। ‘তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটির’ এখন মূল টার্গেট হলো সেই বন্দুক গুলোর ওপর। যে-করে হোক বন্দুক গুলো হাতছাড়া করতে পারলেই ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসীর বাহুবল থাকবে না। তাই রাতের আঁধারে চুরি শুরু করে একটি বন্দুক নিয়েও যায়। ফলে গ্রামের মানুষের রাতের ঘুম আরও হারাম হয়ে যায়। তারা আবারও রাত জেগে দলবেঁধে পালাক্রমে প্রতি পাড়ায় পাড়ায় পাহারা দিতে শুরু করে। এক দল যুবক পাহারা দেয় তো অন্য দল একটু ঘুমায়। এভাবে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত কেটে যায়। এ সবকিছুর পরেও তিনবিঘা করিডোর যেন ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসীর দিবা রাত্রির স্বপ্ন হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত তারা স্বপ্ন দেখে-বন্দি জীবনের মুক্তির স্বপ্ন। পরাধিনতার শিকল থেকে বাঁচার স্বপ্ন। বাপ-দাদার মুখে শোনা বংশ পরমপরায় পূর্বপুরুষদের রূপকথার মতো গল্পগুলো বাস্তবে রুপান্তরিত হওয়ার স্বপ্ন। হতভাগ্য ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসী পূর্বাকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে আর কতোদিন সৌভাগ্য প্রসূত ভোরের অপেক্ষায় থাকবে? ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির পরথেকে তিনবিঘা করিডর যেন ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসীর দিবা রাত্রির স্বপ্ন হয়ে যায়। তারা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে- বন্দি জীবন থেকে চিরকাল মুক্তির স্বপ্ন, স্বাধীন ভাবে পথ চলার স্বপ্ন, মুক্ত বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবার স্বপ্ন। এভাবে স্বপ্নের ঘোরে-কতো দিন যায়, কতোনিশি ভোর হয়, পূর্বাকাশে জ্বল-জ্বল করে ওঠে সকালের সূর্য, আলোয় আলোয় ভরিয়ে দেয় পৃথিবীর বুক কিন্তু তাদের সৌভাগ্যের আলো ফোটে না। আসে না কোন নতুন সকাল। কালের গহব্বরে কোথায় যেন হারিয়ে যায়-সোনালি অতীতের ঝলমলে দিনগুলো, বাপ-দাদার মুখে শোনা বংশ পরমপরায় পূর্বপুরুষদের রূপকথার মতো গল্পগুলো। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি অনুযায়ী তিনবিঘার বিনিময়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওয়া দক্ষিণ বেরুবাড়ির উপর নিজ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতে ভারত একক মুহুর্ত দেরি করেনি। অথচ তিনবিঘা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যতো জঠিলতা, যতো আইনি বাঁধা প্রতিবন্ধ এসে ঘিরে ধরে। মালিকানা পেতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রæত তিন বিঘা জমি লিজ হিসেবে দেয়ার জন্য ভারতের কাছে দাবী জানায়। ভারত তাতেও রাজি হয় নি। বংলাশেকে তিনবিঘার ভেতর দিয়ে করিডোর দিলে নাকি তারে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। নিরাপত্তা রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে ভারত তিনবিঘার উপর বসায় দিনারাত্রি কড়া প্রহরা। ফলে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার প্রায় বিশ হাজার মানুষের জীবনে নেমে আসে জেলখানার বন্দি দশা। চারিদিকে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা ও অন্যায় অত্যাচারের মধ্যে থেকে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে চলে আলোচনা, কিন্তু সেই সহজ বিষয়টি ভারতকে বোঝানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে বহু দেন-দরবার চলে, এক সরকার যায় অন্য সরকার আসে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এভাবে নানা সমস্যায় জড়জড়িত হয়ে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার নিরিহ মানুষগুলো চারিদিকে সঙ্কটাপন্ন পথ চলতে চলতে বড় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিটি পদে পদে কষ্টের চিহ্ন মিশে আছে। অগাধ ধর্য্যশীল এ সকল মানুষ দিনের পর দিন কোন সৌভাগ্য প্রসূত সময়ের প্রতিক্ষায় সকল দুঃখ-কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণাকে হাসিমুখে বরণ করে নেয়। তাদের বিশ্বাস জীবনে যতো দুঃখ-কষ্টের ঘোর অমানিশা আসুক না কেন, একদিন তা কেটে যাবেই। ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো মসজিদে মসজিদে দোয়া-মুনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে তাদের ফরিয়াদ জানিয়ে নীরবে নিভৃতে কাঁদেন। মসজিদের ঈমামগণ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উপর বিশ্বাস রাখা ও ধর্য্য ধারণ করার আহব্বান জানান। আমরা আমাদের মা-বাবাকে হারিয়েছি, অনেকে প্রাণপ্রিয় সন্তানকে হারিয়েছি, এ আল্লাহ সবই দেখছেন, তার ফয়সালা আসবেই। সে দিন আর বেশি দুরে নয়। আজ না হোক কাল তার ফয়সালা আসতেই হবে। এজন্য আমাদের আমাদের ধৈর্য্যহারা হলে চলবে না। অসহায়, মজলুমদের রক্ত আর হাহাকারে আল্লাহর আরস কেঁপে ওঠে। পরম দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তখন স্থির থাকতে পারেন না। ধর্মীয় বিশ্বাসে তিনবিঘার উপর দিয়ে রাস্তার জন্য কতো মানুষ যে মহান আল্লাহর দরবারে কতো মিলাত-মাফিল, কতো গরু-ছাগল কুরবানি করেছেন, তার কোর হিসেব নেই। বিশেষ করে মা বোনেরা যখনই তিনবিঘা হস্তান্তরের কথা শোনে তখনি যার যা আছে তাই তারা আল্লাহর রাস্তায় দান করে ফেলে। সব কিছুর বিনিময়ে যদি এ বন্দি জীবন থেকে মুক্তি লাভ হয় সেটাই হবে শ্রেষ্ঠ পাওয়া। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার মানুষের জীবনে অযাচিতভাবে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা যেন প্রতিটি এক একটি দুর্ঘটনার সমান। আর সেই দুর্ঘটনার ক্ষতচিহ্নগুলো তারা মানষিকভাবে মেনে নিতে পারে না। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা, স্কুলে যেতে না পেড়ে তাদের মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্নের উদ্ভব হয়। মুখ ফুটে কাউকে বলেতে পারে না। খেলার সাথীদের নিয়ে হৈ হোল্লার করে দিন কাটায়, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যখন দেখে পড়ার টেবিল খাঁ-খাঁ করছে বই খাতার উপর ধুলো জমে আছে তখন তাদের মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। স্কুলের সহপাঠিদের সাথে দেখা সাক্ষাত নেই, খেলা ধুলা নেই, তারা কেমন আছে সেটাও জানা নেই। ভারত-বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে শীর্ষ বৈঠকে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাকে কেন্দ্র করে বারবার তিনবিঘার বিষয়টি জোরালোভাবেই আলোচনায় আসে এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচার করে। এসব কারণেই ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার মানুষেরা রাতের আঁধারে ভারতীয় বি,এস, এফ এর চোখকে ফাঁকি দিয়ে বাংলােেশর মূল ভুখণ্ড এসে তাদের মুক্তির দাবিতে মিছিল-মিটিং করে। নাগরিকত্বের দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতা সংগ্রাম কমিটি- সরকারের প্রতিনিধিদলের কাছে বর্ণনা করেন তাঁদের মানবেতর জীবন যাপনের কথা। তাঁদের ঘরে খাবার নেই, কাজ নেই, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নেই, ডাক্তার নেই, ওষুধ-পথ্য নেই, চিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর শত-শত নারী ও শিশু মারা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে তাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিনা চিকিৎসায় কতো জনের যে মৃত্যু হয়েছে তার কোন সঠিক হিসেব কেউ দিতে পারবে না। যা হোক, শত কষ্ট ও প্রতিবন্ধকতার মাঝেও এক বুক ভরা আশা নিয়ে এখানকার মানুষ আজও মাতৃভুমির মাটি কামড়ে ধরে বেঁচে আছেন, তাদের চাওয়া আজ না হোক কাল তিনবিঘার উপর দিয়ে আমাদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা হবেই। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মরা সেই রাস্তা দিয়ে হেটে স্কুল-কলেজে যাবে এসব স্বপ্ন দেখে এখানকার হাজারো মানুষ না ফেরার দেশে চলে গেছে। কিন্তু জীবদ্দশায় তাদের আশা পূর্ণ হয় নি। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতারবাসীর চাওয়া তাদের পূর্ব-পুরুষদের হাহাকার নিয়ে চলে যাওয়ার মতো আর যেন কাউকে যেতে না হয়। বেঁচে থাকার ন্যূনতম ব্যবস্থা গ্রহণ করুক সরকার। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার মানুষ ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের ওপর আর বেঁচে থাকতে চায় না। এখন পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্ত রক্ষি বাহিনী- বি,এস,এফ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময় সীমার বাইরে ভারতে যেতে পারে না। বেসামরিক মানুষের জন্য এ রকম সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় নিয়ন্ত্রিত ভারত প্রবেশে অনুমতি যেন হাজতবাসীর মতো মনে হয়। জন্ম লগ্ন থেকে রাষ্ট্রের বাইরে থাকার ফলে ছিটমহলের মানুষের যাপিত জীবনের বাস্তবতা সত্যি নির্মম। বংশপরম্পরায় সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলো মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়াকে স্বর্গীয় অনুভুতি প্রাপ্তি বলে তারা মনে করে। মানুষের জীবনে কিছু ঘটনা তার মনের ভিতর ভীষণ প্রভাব ফেলে, তাকে কষ্ট দেয়। যখন সে কোন ভাবেই ভুলতে পারে না তখন সে এটাকে দুর্ঘটনা বলে। সেই র্দুঘটনা, ভোগান্তি, দুঃখবোধ জীবনকে অতিষ্ট করে তোলে। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসীর জীবনে অনেক রকম কষ্ট পেয়েছে, কষ্ট পেতে পেতে অনেকে পাথর হয়ে গেছে। “উনিশ শত একানব্বই” সালের মাঝা মাঝি সময় থেকে ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই ‘ইন্দ্রা-মুজিব’ চুক্তি অনুযায়ী ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাকে সরাসরি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত করার জন্য ‘তিনবিঘা’ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। “তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি”ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো এ চুক্তি বাঞ্চাল করার জন্য আদা জল খেয়ে লেগে পড়েছে। ধাপড়ারহাট, মেখলীগঞ্জ, চ্যাংরাবান্ধাসহ এর আশে-পাশের সব এলাকা যেখানে কম-বেশী লোক সমাগম হয়, সেখানেই ‘তিনবিঘা’ হস্তান্তরের বিরুদ্ধে মিছিলে মিছিলে তোলপার করে তোলে তারা। “তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি” ধাপড়ার হাট ও মেখলীগঞ্জের সর্ব-সাধারণকে নিয়ে তিনবিঘায় একত্রিত হয় যেখানে সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন যে- ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার লোকেরা খাবে ভারতের, আর বাংলাদেশে গিয়ে তিনবিঘার জন্য আন্দলন করবে ভারতের বিপক্ষে এ হতে দেয়া যায় না। বিচার বিবেচনা করে, দয়া মায়া দেখিয়ে তাদের সাথে মিলে-মিশে বসবাস করার দিন শেষ। এখন তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে, শিক্ষিত যারা তাদেরকে আর ছার দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে যেন তারা বাংলাদেশে যেতে না পারে। এখনি তাদের দমিয়ে রাখতে না পারলে ‘তিনবিঘা’কে কোন ভাবে রক্ষা করা যাবে না। চিরদিনের জন্য আমাদের তিনবিঘাকে হারাতে হবে। আর তিনবিঘায় তারা একবার যাতায়াতের রাস্তা পেয়ে গেলে আমাদের ধাপড়ার হাট ছিটমহল হয়ে যাবে। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতায় বসবাসকারি হিন্দুরা, মুসলমানদের অত্যচারে সেখানে থাকতে পারবে না। ‘মুসলমান কাল সাপদের’ কোন ভাবে বিশ্বাস করা যাবে না। তিনবিঘা বাংলাদেশের হাতে চলে গেলে ওরা আমাদের উপর চরম প্রতিশোধ নেবে তারা। কাজেই তিনবিঘাকে রক্ষা করতে হলে আমাদের তুমুল আন্দলন গড়ে তুলতে হবে। ডাহাগ্রাম অঙ্গারপোতাবাসী যেন কোন ভাবেই ধাপড়ার হাট ও মেখলীগঞ্জে পা দিতে না পারে সে দিকে কড়া নজর দিতে হবে। যেভাবেই হোক তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে নিতে হবে যে তারা তিনবিঘা চায় না, তারা ভারতের সাথে থাকতে চায়। “তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি” ইতোমধ্যে অবগত হয়ে যায় যে, ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার যুবকেরা নাকি বেসামরিক ট্রেনিং নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে অবসর প্রাপ্ত সৈনিকেরা সেখানে যেয়ে গ্রামের যুবকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে অনেক সাংবাদিক ও কলাকুশলী সেখানে যেয়ে তাদের সব-ধরণের সংবাদ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশ করছে। বিবিসির মতো শক্তিশালী গণমাধ্যমও অহরহ ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার সংবাদ পরিবেশন করছে। এতেকরে গোটা বিশ্ব জেনে যায় যে, ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার মানুষেরা অবরুদ্ধ অবস্থায়, মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ফলে সমগ্র বিশ্বের কাছে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতা একটি সহানুভুতির স্থান দখল করেছে। আমরা ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার বিপক্ষে যা করছি সবি আমাদেরই বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। যাহাই হোক, আর যাকিছুই ঘটুক না কেন, আমাদের হাল ছেড়ে দিলে চলবে না, তাদের উপর আরো কড়া নজর রাখতে হবে, কোন ভাবে যেন তারা ভারতের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে। একটি দুধের বাচ্চাও যেন ভারতে আসতে না পারে। অবরুদ্ধ অবস্থায়, অনাহারে তারা কতোদিন থাকতে পারে আর কতোদিন তাদের প্রচারণা চালাতে পারে। “তিনবিঘা সংগ্রাম কমিটি” চারিদিক থেকে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছে যেন, একটি দুধের বাচ্চাও ভারতে আসতে না পারে। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসীরা দিনের বেলায় ভালো থাকলেও সূর্যাস্তের সঙ্গে যেন তাদের জীবন ঘড়ির কাঁটাও পিটপিট করে কচ্চপ গতিতে চলে। কথায় বলে কষ্টের রাত ভীষণ দীর্ঘ হয়। হয়তো সেটাই হবে, রাতের আঁধারে নিজের প্রাণটাকে কোনরকমে গলা অবধি ধরে রেখে মৃত্যুর আশঙ্কায় হা-হুতোশ করে ভোরের আলো ফুটে ওঠার অপেক্ষায় থাকে। রাত পোহালে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে, স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়ে। কিন্তু সে আর কতোদিন? কতোনি এভাবে বাঁচা যায়? সারারাত জঙ্গলের গাছের নিচে সাপ, জোঁক আর মশাদের উৎপাত সহ্য করে, চাতকের মতো ওপারে যাওয়ার ব্যাকুল প্রতিক্ষায় বসে থেকে, কোন এক সময় সুযোগবুঝে ‘বি,এস,এফ’ এর চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকে পাটগ্রামে যেয়ে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য সামগ্রি নিয়ে আসত। কিন্তু গত কয়েকদিন থেকে সেটিও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার অবরোধের মাস খানেক পরে, তারিখটাছিল “উনিশ’ শত বিরানব্বই সালের ছাব্বিশ জুন”- হাতে ঘড়িও ছিল না তাই সূর্যের উপর আন্দাজ করে সময়কে যথাযথ ভাবে পরিমাপ করা দুষ্কর, তবে সকাল দশ-এগারটার মতো হবে। কয়েকজন মানুষ দৌড়াচ্ছে, জান-প্রাণ ছেড়ে দিয়ে দৌড়াচ্ছে। কোন রাস্তা নয়, খাল-বিল, ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু আল, কাঁদা-পানিতে ভরা জমির মধ্যদিয়ে। পরনের লুঙ্গি-প্রায় হাটুরও উপর পর্যন্ত গোছানো, গায়ে কোন কাপড় আছে কি না তা দেখার সময় এখন নেই। দু’একজনের মাথায় গামছা বাঁধা তাদেরকে দুর থেকে দেখে চেনার কোন উপায় নেই যে মানুষগুলো কারা। তারা শুধু দৌড়াচ্ছে আর দৌড়াচ্ছে -উদ্দেশ্য হলো তিনবিঘা যাওয়া। একটু পরে গোটা গ্রামের মানুষ হৈ-হৈ করে দৌড়াচ্ছে বাড়িতে শুধু মহিলারা আছে। গোটা গ্রামে আর কোন পুরুষ মানুষ বাড়িতে আছে বলে মনে হয় না। আজ তিনবিঘার করিডোর খুলে দেওয়া হচ্ছে। সবার মুখে শুধু এই কথাটি শোনা যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ প্রচণ্ড রোদে দাড়িঁয়ে আছে, মাথার ঘাম পায়ে পড়ছে, শরীরের ঘামে পরনের কাপড় ভিজে যাচ্ছে সেদিকে কারও ভ্রæক্ষেপ নেই। অধীর আগ্রহে সবাই চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে কখন লাল ফিতাটি কেটে দেওয়া হবে। ভারতের পক্ষে কুচবিহার জেলা মেজিষ্ট্রের্ট (ডি,এম), উর্ধতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, আরও উভয় দেশের অনেক মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। চারিদিকে উভয়দেশের নিছিদ্র নিরাপত্তা এক চুল পরিমাণ ফাঁকা জায়গা নেই। অবশেষে উভয় দেশের নেতৃত্বস্থানীয় প্রশাসকগণ ফিতা কেটে বহু প্রতিক্ষিত জঙধরা ইতিহাসের জবনিকা টেনে নতুন দিগন্তের র্পদা উন্মোচন করলেন। ফিতা কাটার সঙ্গে সঙ্গে তিনবিঘার উভয় পাশের লোকজন একত্রিত হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলেন। তবে আজকের যে অশ্রু সেটা কোন সাধারণ অশ্রু নয়, অর্ধশত বছর ধরে বংশ পরমপরায় পূর্ব-পুরুষদের হতাশাগ্রস্ত চোখের শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু। আবেগের তাড়ণায় নতুন জোয়ারে মহা প্লাবনের বারিধারা সবার চোখে ঝরছে। তিনবিঘার প্রতিটি গাছের ডালে কঁচি পল্লবের হাসি। কি অনাবিল সুখ-শান্তির পশরা নিয়ে সেজেছে আজ প্রকৃতি। কি অদ্ভুত এক মহামিলনের স্মৃতি জাগ্রত চোখের উৎফুল্লতায় যেন ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসছে সৌভাগ্য। সত্যি আজ পৃথিবীর কাছে আমাদের অনেক ঋণ। একটু দুরে জমির আইলে বসে চশমার ফাঁক দিয়ে চোখের অশ্রু মুছে ফেলছেন ভাগ্যহত তছমলের বৃদ্ধ মা, এই তিনবিঘা, রাতে পার হওয়ার সময় বি,এস এফ এর গুলিতে প্রাণ গেছে তার বুকের ধন তছমলের। একটু দূরে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে বাচ্চু বুড়া ও কলে বুড়ার ছেলে-মেয়েরা আজ তারা ঁেবচে থাকলে সবার মতো করে এখানে এসে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠত। অফুরন্ত আনন্দের মাঝে দুঃখিনী মায়ের বক্ষ জুড়ে কেবল শোকের আহাজারি নেমে আসে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল তারপর সন্ধ্যা নামে। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় উৎসুক আগন্তকের ঢল। আসতে আসতে সবাই যে যার বাড়ি ফিরে আসে। প্রতিবেসী দু’জন যুবক হাত ধরে তছমলের মাকে নিয়ে আসে তার বাড়িতে। কলে বুড়োর সন্তানেরা হাহাকার করছে তার মায়ের জন্য এই তিনবিঘার মাটিতে তাদের মা মারা গেছে। আজ তার আত্মা হয়তো এর আশেপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই তিনবিঘার রাস্তার জন্য ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার প্রতিটি মানুষ কতো ত্যাগ স্বীকার করেছে, কতো নির্যাতন সয়েছে, কতো রক্ত ঝরেছে তাদের। কতো দুঃখ-কষ্ট-হাহাকার নিয়ে এ গ্রামটিকে ভালোবেসে মাটি কামড়ে ধরে বংশ পরমপরায় বেঁচে আছে তারা। তাদের পূর্বপুরুষেরা এক বুকভরা আশা নিয়ে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। সকলের চাওয়া ছিল শুধু একটাই, একদিন এই তিনবিঘার উপর দিয়ে তাদের যাতায়াতের রাস্তা হবে, তারা প্রাণ খুলে সেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবে। এমন আনন্দের দিনে ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতার আকাশে বাতাশে যেন ঈদের আনন্দ ভেসে বেড়াচ্ছে। আবাল-বৃদ্ধ প্রতিটি মানুষের উৎফুল্ল মন, ঠোঁটের কোণে হাসি। গরিব দুখি যারা দিন আনে দিন খায় তাদের ঘরেও যেন আজ ভালো খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে মানুষের মুখে মুখে শুধু একটাই শব্দ “তিনবিঘার রাস্তা”। এখন তারা শৃঙ্খলহীন, মুক্ত স্বাধীন। প্রয় অর্ধশত বছরের শিকলে বাঁধা জীবন, বন্দি দশার শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে আজ তারা মুক্ত। প্রকৃতপক্ষে আজ তারা স্বাধীন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা তাদেরকে এমন ভাবে মুক্তি দিতে পারেনি তাদের, যা আজকে পেয়েছে তারা, এ যেন তাদের কাছে এক অন্যরকম স্বাধীনতা। আজ তাদের কারও চোখে ঘুম নেই, ছোট ছোট বাচ্চারাও অনেক রাত অবদি ঘুমাচ্ছে না। ক্লান্ত মা মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে সন্তানকে বকা-ঝকা দিচ্ছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? কেউ ঘরে আসছে না। সবাই বাহিরে আতসবাজি, পটকা ফুটিয়ে আনন্দ উল্লাস করছে। এখন অনেক রাত কিন্তু সেদিকে কারও খেয়াল নেই, নয়ার হাটে আজ এতোবেশী মানুষ এসেছে যে ছোট্ট বাজারটিতে একতিল পরিমাণ দাঁড়ারও জায়গা নেই। সেই হাটের এক কোণে একটা শিমুল গাছের তলে দোতারা বাজিয়ে ভাওয়াইয়া গানের মজমা জমিয়েছে বয়াতি। তার সাথে তালমিলিয়ে বাঁশি বাজায় মঞ্জু, খঞ্জনী, দোতারা, সারিন্দা আবার কেউ কেউ খাওয়ার থালা বাটি বের করে বাজাতে শুরু করে। এভাবে একাধারে একটার পর একটা গান গাইতে থাকে সে কিন্তু আজ তার কোন ক্লান্তি নেই, গলা যেন তার এই দিনটির জন্য একেবারে তৈরী হয়েছিল। মাঝে কারা যেন গরম চা এনে তাকে খাওয়াচ্ছেন। চা খাওয়ার ফাঁকে গ্রামে এতোদিন যারা ক্ষেতে-খামারে কাজ করার সময় গান গাইত তারাও আজ সুযোগ বুঝে গলা ছেড়ে দিয়ে গাইতে শুরু করে। এভাবে রাত যে ক্রমে গভীরের দিকে চলে যায় সেদিকে কারও খেয়াল নেই। রাতে খাওয়া হয়েছে কি না সেটিও তারা ভুলে গেছে, চারিদিকে হৈ-হুল্লোর আর আনন্দের মাঝে ছ্ােঠ ছোট ছেলেরা থালা বাটি বাজাতে বাজাতে এ পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় ছুটো ছুটি করতে থাকে। আজ যেন কোন কিছুতেই মানা নেই। ‘না’ শব্দটি যেন ডাহাগ্রাম-অঙ্গারপোতাবাসীর অভিধান থেকে ওঠে গেছে। আজ শুধু আনন্দ আর আনন্দ। ঘরে ঘরে আনন্দ, লোক জনের মুখে মুখে আনন্দ। আকাশে বাতাশে কেবলি আনন্দ। রাত যতো বাড়তে থাকে পটকা আর আতসবাজির শব্দ ততো বাড়তে থাকে। আতসবাজির লাল নীল আলোয় গোটা গ্রামের আকাশটা যেন আলোকিত হয়ে আছে। ভোরের দিকে সবাই শ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে অচেতন হয়ে মড়ার মতো ঘুমের ঘোরে তলিয়ে যাই। আজকের সকাল একটু অন্যরকমের সকাল। পূর্বদিকে সূর্যটা যেন মুচকি হেসে ওঠে সবাইকে অভিনন্দন জানায়। সাবার শরীর যেন পাখির পালকের মতো হালকা হয়ে ফুরফুরে ভাব আসে। আজ কারো কোন সংসার নেই, কোন কাজ নেই। ঘরে খাবার না থাকলেও কারো কোন খাওয়ার ভাবনা নেই। মাথার ভেতরটা বেশ ফাঁকা কোন চিন্তা জ্বালা নেই, তার ওপর সবাই এখনও ঘুমাচ্ছে তাই অনেকটা কোলাহলও নেই। চারিদিকে একেবারে শান্ত শিষ্ট পরিবেশ। আমি খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ দিকে দিগন্তের সীমানা বরাবর তাকিয়ে আছি। গোটা আকাশ যেন নীলে নীলে ভরে গেছে। সাঁকোয়া নদীর পারে সেই চিরচেনা হেলে পড়া হিজল গাছটি পত্র-পল্লবে ভরে গেছে। মাথার ওপর থেকে ফড় ফড় শব্দ করে মনের আনন্দে উড়ে গেল দুটি পাখি। আমার মনে হলো আজ পাখিরাও বুঝি মানুষের সাথে আনন্দ ভাগা ভাগি করে নিচ্ছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now