বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আসক্তি

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান JIBESH NANDI (০ পয়েন্ট)

X Name-JIBESH NANDI #নিজের সাথে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা তখন আমি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সদ্য ছুটি কাটাচ্ছি। হাতে অফুরন্ত সময় আর মাথায় কেবল একটাই নেশা — ভূতের গল্প শোনা। তখনও আমার নিজের স্মার্টফোন ছিল না নরমাল ফোন ছিল । কম্পিউটারের দোকান থেকে নানা রকম ভূতের গল্প মেমোরি কার্ডে লোড করে আনতামআর তা নিয়েই দিনরাত ডুবে থাকতাম। বিশেষ করে শুক্রবার রাত বারোটায় "ভূত এফএম" শুনতে ছিল আমার আলাদা উত্তেজনা। হেডফোন কানে লাগিয়ে, নিঃশব্দ ঘরে কাঁপতে কাঁপতে সেই অদ্ভুত সব গল্পে ডুবে যেতাম। কিছুদিনের মধ্যেই বুঝলামএই নেশা আমাকে গ্রাস করে ফেলেছে। ভাত খাওয়ার সময়, ঘুমাতে যাওয়ার সময়, বন্ধুদের আড্ডার মাঝেও আমার কানে ভূতের গল্পের শব্দ বাজত। মা, বাবা, ভাইবোন — সবাই সতর্ক করত বলত, "অতিরিক্ত আসক্তি ভালো না সাবধান হয়ে শোন।কিন্তু কে কার কথা শোনে? এর মধ্যে সিদ্ধান্ত নিলাম পড়াশোনার জন্য শহরে চলে যাব। ভাবলাম পড়ার চাপেই হয়তো এই নেশা একটু কমবে। শহরে গিয়ে শুরুতে একটা মেসে উঠলাম। দিনগুলো বেশ ভালোই যাচ্ছিল। পুরনো নেশা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন মেসের মালিক জানিয়ে দিলেন তিনি বাড়ি ভেঙে নতুন কিছু করবেন তাই আমাদের মেস ছাড়তে হবে। আমি তখন দিশেহারা। তখনই মামাতো ভাই বলল, তার এক বন্ধু নাকি শহরের মধ্যেই থাকে আর তার বাসায় একটা রুম খালি আছে। যোগাযোগ করলে থাকতে পারি। খুব আন্তরিকভাবে সেই বন্ধু আমায় আমন্ত্রণ জানালো। তার বাসাটা ছিল শহরের একটু ভেতরের দিকে — তুলনামূলক শান্ত, নিরিবিলি। এলাকার মুসলিম জনসংখ্যা বেশি ছিল মসজিদও অনেক। শুনেছিলাম যেখানে মসজিদ বেশি সেখানেই নাকি জিনের আনাগোনা বেশি। এখানে চারপাশের পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন মসজিদের আজানের সুর বাতাসকে পূর্ণ করে আর সন্ধ্যায় লোকজন জিন-ভয়ের নানা গল্প করে সময় কাটায়। প্রতিবেশীরা বলে, "এই এলাকায় নানা গা-ছমছমে ঘটনা ঘটে," শুনতে শুনতে আমার মনে অদ্ভুত এক আতঙ্ক জাগতে লাগল। বাসাটা তিনতলা আমরা থাকতাম সবার উপরের তলায়। তিনটা রুমের মধ্যে একটায় ছোট একটা পরিবার, একটায় আমার মামাতো ভাইয়ের বন্ধু, আর বাকি একটায় আমি আর আমার ছোট ভাই থাকতাম। নতুন বাসা নতুন পরিবেশ — শুরুটা দারুণ লাগছিল। পড়াশোনার চাপও কিছুটা বেড়েছিল। মনে মনে ভাবলাম এবার বুঝি ভূতের গল্পের নেশাটা ছেড়ে ফেলতে পারবো। কিন্তু... অভ্যাস তো সহজে ছাড়ে না। রাতের বেলা সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ত তখন আমার পুরনো নেশা আবার মাথাচাড়া দিত। আমি চুপিচুপি পুরনো ড্রাইভ খুলে ভূতের গল্প শুনতাম। এইভাবে চলছিল হঠাৎ দুর্গাপূজার সময় এসে গেল। স্কুল-কলেজ-অফিস বন্ধ সবাই ঠিক করল নিজেদের গ্রামের বাড়িতে যাবে। আমার ছোট ভাইও বাড়ি চলে গেল। কিন্তু আমি যেতে পারলাম না কারণ শহরে একজন মুসলিম শিক্ষকের কাছে নিয়মিত টিউশন চলছিল। তাই বাসায় একা রয়ে গেলাম। একদম ফাঁকা তিনতলা বাড়িতে আমি একা। দিনের বেলায় তেমন ভয় লাগত না। বিকেলে টিউশনি পড়তে যেতাম টিউশন শেষে একটু হাঁটাহাঁটি করে বাসায় ফিরতাম। কাজের বুয়া এসে রান্নাবান্না করে বাসা পরিষ্কার করে চলে যেতেন। রাতে থাকতাম একেবারে নিঃসঙ্গ। শুরুর দিকে বই পড়ে সময় কাটানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে আবার সেই পুরনো নেশা ফিরে এল। আবার ভূতের গল্প শুনতে শুরু করলাম।ভূতের গল্প শুনে শুনে আমার কল্পনায় অন্ধকার এক অদ্ভুত রূপ নিয়ে এল। এই সময় প্রায়ই বৃষ্টি হতো আর প্রায়ই সন্ধ্যায় লোডশেডিং হত। সারা বাড়িতে নেমে আসত ঘন অন্ধকার। নির্জন বাড়ির ভেতর একা একা বসে আমি মনে মনে কাঁপতাম। মনে পড়ত সেইসব ভূতের গল্প যেখানে রাতের বেলা কেউ বাথরুমে যায় আর দেখে দরজা আধখোলা — ভেতরে সাদা কাপড় পরা এক মহিলা বসে আছে... গল্পের টুকরো যেন জীবন্ত হয়ে উঠল আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। এক এক করে সবকটিকে গল্প বাস্তব মনে করতে থাকলাম। প্রতিবার বাথরুমে যাওয়ার সময় আমি আতঙ্কে দম বন্ধ করে রাখতাম। মনে হতো দরজা খুললেই হয়তো ভেতরে কেউ বসে আছে! রাত বাড়ার সাথে সাথে ভয় আরও বাড়ত। অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেতাম — কখনো মনে হতো কেউ হেঁটে যাচ্ছে কখনো জানালায় চাপড় পড়ছে। আমি চোখের পাতা ফেলতে সাহস পেতাম না।কোনো শব্দ হলেই ভয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপতে থাকতাম; দিনদিন সেই ভয় বুকের মধ্যে জমতে লাগল। আগে অন্ধকারে ঘুমাতাম। এখন পুরো ঘরভর্তি বাতি জ্বালিয়ে ঘুমাই। তবুও ঘুম আসত না। মনে হতো কোথা থেকে যেন কেউ তাকিয়ে আছে। কেউ আমাকে অনুসরণ করছে। ভয় এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে একদিন ভয়ে ভয়ে পুরো রাত জেগে কাটালাম। রাত জাগার কারণে কয়েকদিন পর শরীরও খারাপ হয়ে গেল। জ্বর ,দুর্বলতা আর মাথা ঘোরা শুরু হলো। বাড়িতে সব বললাম। শুনে মা-বাবা খুব রেগে গেলেন। বললেন আর না। এখুনি বাড়ি চলে আয়। একা আসতে না পারলে ভাইকে পাঠাবো নিতে। আমি তখন জেদ করে বললাম না, কাউকে পাঠাতে হবে না। আমি একাই আসবো। সেদিনই তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে বাসা ছেড়ে রওনা দিলাম বাড়ির পথে। বাড়ি পৌঁছানোর পর প্রথমেই আমার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হলো। মা -বাবা বললেন, "বড়দের কথা শুনতে হয়। বড়দের কথা অবহেলা করলে এরকমই হয়। এবার বুঝেছিস?" আমি এই কথার কোন উত্তর দিতে পারিনি। সেদিনের পর আমি বুঝলাম — নেশা যত মধুরই হোক অতিরিক্ত আসক্তি কখনোই ভালো নয়। বিশেষ করে যখন সেটা ভয় আর বাস্তবের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। সমাপ্ত........ আপনাদের সাথেও কি এমন কোন সময় ঘটেছিল নাকি.........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পর্ণোগ্রাফি আসক্তি: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
→ ফেসবুকের আসক্তি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now