বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

“মোল্লা করিমের চরিত্র পরীক্ষা”

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। তিতাসের ছোট্ট গ্রাম শাহাবৃদ্ধি। নাম শুনলেই বোঝা যায়—এখানকার মানুষ বৃদ্ধের মতো শান্ত, কিন্তু মাঝে মাঝে ঝড় ওঠে “মোল্লা করিম” নামক এক রহস্যময় ব্যক্তিকে ঘিরে। মোল্লা করিম নাম শুনে ভাবার কারণ নেই যে তিনি সারাক্ষণ মসজিদে বসে তাসবিহ ঘোরান—না, তিনি রীতিমতো “চরিত্র পরীক্ষক”! নিজের কথায় বলেন— “মানুষ নামায পড়ে কি না, সেটা আল্লাহ জানেন; কিন্তু মানুষ চরিত্রবান কি না, সেটা মোল্লা করিম জানে!” একদিন সকালে গ্রামের মসজিদ থেকে বের হয়ে তিনি ঘোষণা দিলেন— “আজ থেকে যে ভালো চরিত্রের অধিকারী, তার পুরস্কার আমি নিজ হাতে দেব!” গ্রামের সবাই অবাক। লাল মিয়া বলল, — “মোল্লা, চরিত্র মাপার যন্ত্র তো হাটে বিক্রি হয় না!” করিম হেসে বলল, — “যন্ত্র না, নজর আছে আমার! দুনিয়ার নয়, আখিরাতের লেন্সে দেখি।” প্রথম পরীক্ষার্থী হলেন নাপিত রহিম। রহিম নিজের চুলের ছাঁট এমন রেখেছেন যেন হাওয়া তাকে চুলের বিজ্ঞাপনে ডাকে। করিম জিজ্ঞেস করল, — “রহিম, গত শুক্রবার আমি তোমার দোকানে চুল কাটাতে গিয়েছিলাম, তুমি বলেছিলে ব্লেড শেষ।” রহিম হেসে বলল, — “আচ্ছা মোল্লা, আপনি কি মনে করেন ব্লেড আমি জমা রাখি আখের বাগানে?” মোল্লা চুপ। জানেন, সে মিথ্যা বলছে—ব্লেড ছিল, কিন্তু তিনি বিনা টিপসের ক্লায়েন্ট! তিনি নিজের খাতা খুলে লিখলেন— “সত্যবাদিতা—শূন্য!” এরপর এলেন মুদি সুলতান। দোকানে গিয়ে করিম বলল, — “এক কেজি চাল দাও।” চাল তোলার সময় সুলতান আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিল—যেন বালতিতে চাল ঢুকে সংকুচিত হয়। করিম চুপচাপ তাকিয়ে রইল। পরে বলল, — “চাচা, তোমার চালের মতোই তোমার ন্যায়পরায়ণতা সঙ্কুচিত হয়েছে।” সুলতান লজ্জা পেয়ে হাসল, — “মোল্লা, আপনি তো একদম ‘ওজনের ওস্তাদ’ হয়ে গেলেন!” এরপর করিম গেলেন কেরামত আলীর বাড়ি—গ্রামের সবচেয়ে বড় হুজুর, কিন্তু খবর আছে, তিনি স্ত্রীকে ‘ম্যাডাম’ ডেকে ভয় পান। করিম বলল, — “হুজুর, ইসলামী চরিত্রে মাতা-পিতার অধিকার কী জানেন?” কেরামত উত্তর দিলেন, — “জানি, কিন্তু এখন মা-বাবাকে সময় দেয়ার আগে ফেসবুকের মেহমানদের খোঁজ নিতে হয়।” করিম মাথা নেড়ে বলল, — “ফেসবুকে লাইক দিলে জান্নাত মেলে না, হুজুর।” এরপর করিম গেলেন এক বিধবা বৃদ্ধার বাড়ি। বৃদ্ধা এক বাটি ভাত ও শুকনো মাছ এগিয়ে দিলেন। — “বাবা, খাবা?” করিম বলল, — “মা, তোমার খাবার আমি খাব না—তুমি নিজেই খাও।” বৃদ্ধা চোখে পানি এনে বলল, — “আমি তো প্রতিদিন এতটুকুই খাই, আজ তুমি আসছো বলে একটু বেশি রান্না করেছি।” মোল্লা করিম এক নিঃশ্বাসে বলল— “এই হলো আসল চরিত্র! যে দেয়, সে-ই ধনী।” বিকেলে গ্রামের স্কুলে গেলেন করিম। ছাত্ররা হৈচৈ করছে। এক ছাত্র খাতায় লিখেছে—“আজকের প্রার্থনা: পরীক্ষার হলে পাশের বন্ধুর উত্তর যেন আল্লাহ খুলে দেন।” করিম হেসে বলল, — “দোয়া ঠিক আছে, কিন্তু উত্তর নয়, মন খুলুক!” তারপর করিম সবার সামনে এক ছোট বক্তৃতা দিলেন: “দেখো ভাই, নামায, রোযা, হজ্জ—সবই মানুষকে সুন্দর চরিত্র শেখানোর জন্য। নামায পড়েও যদি গালাগালি দাও, রোযা রেখেও যদি প্রতিবেশীর ক্ষুধা না বুঝো—তাহলে ওই ইবাদত রসগোল্লার মতো, বাইরে মিষ্টি, ভেতরে ফাঁকা।” গ্রামের মানুষ তখন চারদিকে করিমকে ঘিরে ফেলে। ছোট্ট বাচ্চারা জিজ্ঞেস করে, — “মোল্লা, চরিত্র মানে কী?” করিম হাসল, বলল, — “চরিত্র মানে—তুমি একা থাকলেও আল্লাহ যেন হাসে, লজ্জা না পায়।” বিকেলের শেষে সবাইকে নিয়ে চা খেতে বসে গেল মোল্লা করিম। চা-দোকানের মালিক জালাল এক কাপ চা বাড়িয়ে দিল— “মোল্লা ভাই, আজ তো পরীক্ষা নিলেন, এবার পুরস্কার কই?” করিম এক চুমুক চা খেলেন, তারপর বললেন, — “পুরস্কার পেয়েছি—এই চায়ের ভেতরে মমতা আছে, মিথ্যা নেই, ধোঁয়া আছে, কিন্তু দোষ নেই।” সবাই হাসল। কেউ বলল, — “মোল্লা, তুমি সত্যিই চরিত্রবান!” তিনি উত্তর দিলেন, — “না ভাই, আমি এখনো পরীক্ষায় আছি। চরিত্রের প্রশ্নপত্র জীবনের শেষ নিশ্বাসে জমা দিতে হয়।” রাত নেমে এলো। গ্রামের আকাশে তারারা জ্বলজ্বল করছে। মোল্লা করিম মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে তাকালেন ওপরে— “হে আল্লাহ, যদি তুই আমার চরিত্রের কপি এখনই দেখে ফেলিস, তাতে যেন বেশি কাটাকাটি না হয়।” আকাশে এক তারা একটু বেশি উজ্জ্বল হলো। হয়তো সেটাই ছিল এক হাসিমুখে দেওয়া ‘গ্রেস মার্ক’।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now