বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
দুপুরের সেই অলস সময়টা, যখন শহরের গরম রাস্তায় কুকুরটাও ছায়া খুঁজে ঘুমায়, তখন চায়ের দোকানে বসে আছে দুই বন্ধু—রাকিব আর মিশু। রাকিবের হাতে এক কাপ লালচা, আর মিশুর হাতে বিড়ি।
রাকিবের মুখে গভীর চিন্তার ছাপ। বিড়ির ধোঁয়ার মতোই সে নিজের দুশ্চিন্তা উড়িয়ে দিতে চাচ্ছে, কিন্তু পারছে না।
“দোস্ত,” রাকিব বলল গম্ভীর মুখে, “আমি ক্লান্ত। সত্যি বলছি, খুব ক্লান্ত। কাউকে এড়িয়ে চলার কোনো সহজ উপায় জানিস?”
মিশু চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে হেসে বলল, “তুই তো এমন জিজ্ঞেস করছিস যেন মানুষ এড়িয়ে চলা একটা ম্যাথের সূত্র!”
“মজাক করিস না,” রাকিব বলল। “আমার জীবনে এমন কিছু লোক ঢুকে গেছে, যাদের দেখলেই মেজাজ বিগড়ে যায়—বিশেষ করে রবিন। ফোন করে, আসে, চা খায়, কথা বলে, আর শেষে কোনো না কোনোভাবে আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। তারপর আর দেখা নেই!”
মিশু ধোঁয়া ছেড়ে বলল, “তাহলে তো সহজ! তুই তাকে আরেকটু ধার দে।”
রাকিব অবাক—“তুই কি পাগল? তাতে তো আরো বড় ক্ষতি হবে!”
মিশু হেসে বলল, “না রে ভাই, ক্ষতি নয়, মুক্তি। তুই টাকা দিলেই সে নিজে থেকেই তোর থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবে। তখন তোকে আর এড়িয়ে চলতে হবে না, সে নিজেই পালাবে!”
রাকিব কিছুক্ষণ চুপ থেকে হেসে ফেলল। “এই তো জীবনের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক কথা! তুই তো অর্থনীতির বুদ্ধ আর মনোবিজ্ঞানের মিলন!”
ওরা দুজনেই হাসতে লাগল, কিন্তু কথাটা মজার হলেও, রাকিবের মনে গেঁথে গেল।
________________________________________
পরদিন সকালে, রবিন এল রাকিবের দোকানে। হাতে এক প্যাকেট বিস্কুট, মুখে সেই চিরচেনা হাসি।
“দোস্ত রাকিব! কেমন আছিস? শুন, আমার একটু বিপদ…”
রাকিব মুচকি হেসে বলল, “কত টাকা দরকার?”
রবিন হতভম্ব। “এই যে! তুই বুঝে ফেললি?”
“বন্ধুরা একে অপরকে বোঝেই,” বলল রাকিব। “এই নে, পাঁচশো টাকা রাখ।”
রবিন অবাক হয়ে টাকা হাতে নিয়ে বলল, “আরে, আজ তো তুই একদম ফেরেশতা হয়ে গেছিস!”
রাকিব হেসে বলল, “না রে ভাই, ফেরেশতা না, বুদ্ধিমান হয়েছি।”
রবিন খুশি মনে চলে গেল, আর রাকিব মিশুকে ফোন করল।
“দোস্ত, তোকে সালাম জানাই। আমি কৌশলটা প্রয়োগ করেছি।”
মিশু হাসল, “অল্পদিনের মধ্যেই শান্তি পাবি। শুধু একটু ধৈর্য ধর।”
________________________________________
এক সপ্তাহ কেটে গেল। রবিনের কোনো খবর নেই। সে রাকিবের দোকানের পাশ দিয়ে গেলেও মাথা নিচু করে চলে যায়। একদিন রাকিব চা খেতে খেতে হাসতে হাসতে মিশুকে বলল,
“দোস্ত, তুই জিনিয়াস! রবিন এখন আমাকে দেখলেই রাস্তা পাল্টে ফেলে। আমার জীবনে এমন প্রশান্তি আগে কখনও পাইনি।”
মিশু গর্বভরে বলল, “বলেছিলাম না, টাকাই সব সমস্যার সমাধান—সঠিকভাবে ব্যবহার করলে।”
দুজনেই হেসে উঠল।
কিন্তু এই গল্পে মোড় আসতে দেরি হলো না।
একদিন রাতে বৃষ্টি। দোকান বন্ধ করার সময় দরজায় টুং করে আওয়াজ। বাইরে দাঁড়িয়ে রবিন, মাথায় ছাতা নেই, ভিজে একাকার।
“রাকিব, একটু কথা ছিল।”
রাকিব অবাক হয়ে বলল, “আরে! তুই! ভাবলাম তুই তো আমার ছায়াও দেখতে চাস না।”
রবিন মাথা নিচু করে বলল, “হ্যাঁ, দূরে থাকছিলাম। কিন্তু আজ মনে হলো, আমার ভুল হয়েছে।”
“কোন ভুল?”
“তোর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে আর ফেরত না দিয়ে আমি আসলে নিজেকে ছোট করেছি। আজ বেতন পেয়েছি, এই নে, তোর টাকা।”
রাকিব চুপচাপ টাকাটা হাতে নিল। কিছু বলল না।
রবিন হেসে বলল, “দোস্ত, জানিস? আমি ভেবেছিলাম তুই রাগ করবি। কিন্তু তুই করিসনি। তুই চুপ করে থেকেছিস। তাই আজ মনে হলো, আমি তোকে হারিয়ে ফেলব যদি এভাবে চলি।”
রাকিবের মুখে তখন হাসি। “তুই হারবি কেমন করে, আমি তোকে হারাতে চাইনি। আমি শুধু চেয়েছিলাম শান্তি। কিন্তু আজ বুঝলাম, শান্তি আসে দূরে সরিয়ে নয়, পাশে এনে।”
দুজনের মধ্যে যেন নীরব এক আলো ঝলমল করল।
রবিন বলল, “তুই জানিস, আমি আসলে টাকা ফেরত দিতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম, কেউ আমাকে বিশ্বাস করুক, যদিও আমি ধার নিতাম বারবার। তুই সেই বিশ্বাস দিয়েছিলি।”
রাকিব হেসে বলল, “তুই আসলে আমার মতোই মানুষ। আমরা সবাই কখনও কখনও সাহায্য চাই, কিন্তু বলি না। শুধু কেউ যেন না ভাবে, আমরা ঠকাই। আমি জানতাম, তুই একদিন ফিরবি।”
বৃষ্টি ততক্ষণে কমে এসেছে। দুই বন্ধু দোকানের সামনে বসে চা খেল।
মিশু পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। দৃশ্যটা দেখে থমকে গেল।
“এই দোস্ত, কী ব্যাপার? চোর আবার ফিরে এসেছে?”
রাকিব হেসে বলল, “না রে ভাই, চোর নয়—চোরে মন ফেরত দিয়েছে।”
মিশু অবাক—“মানে?”
রাকিব মৃদু গলায় বলল, “তুই বলেছিলি টাকা ধার দিলেই মানুষ দূরে যায়। কিন্তু আজ প্রমাণ হলো, বিশ্বাস দিলে মানুষ ফিরে আসে।”
মিশু মাথা চুলকিয়ে হেসে ফেলল, “আচ্ছা, তুই তো এখন দর্শন শেখাচ্ছিস!”
রবিন মজা করে বলল, “আর তুই অর্থনীতির শিক্ষক! তোর সূত্র কাজ করে, কিন্তু সাময়িক। শেষ পর্যন্ত মানুষই মানুষকে টানে, টাকা না।”
সবাই হেসে উঠল। দোকানের সামনে বৃষ্টির জলে প্রতিফলিত হলো তিনটি মুখ—বন্ধুত্ব, ক্ষমা আর হাসির প্রতিচ্ছবি।
________________________________________
তারপর থেকে রাকিব একটা নতুন নিয়ম চালু করল। কেউ যদি তার কাছে টাকা ধার চায়, সে আগে জিজ্ঞেস করে,
“তুই টাকা চাইছিস, না আমার বিশ্বাস?”
আর যদি উত্তর আসে “বিশ্বাস”, তাহলে সে টাকা দেয় না, কিন্তু চা খাওয়ায়।
লোকেরা প্রথমে অবাক হলেও, পরে অভ্যস্ত হয়ে গেল। কারণ রাকিবের দোকানে এখন একটা লেখা ঝুলে আছে—
“ধার নয়, দোস্তি নাও। কারণ টাকা ফেরত না দিলেও হাসি ফেরে।”
রবিন, মিশু আর রাকিব এখন নিয়মিত একসঙ্গে বসে। পুরনো কৌতুক, পুরনো গল্প, নতুন হাসি। মিশু এখনো মাঝে মাঝে দার্শনিক ভঙ্গিতে বলে—
“দেখ, তুই যদি কাউকে টাকা ধার দিস, সে পালাবে। কিন্তু যদি বিশ্বাস ধার দিস, সে ফিরবেই।”
রাকিব হেসে বলে, “তোর কথায় আজকালও হেসে উঠি, কিন্তু মনটা আজ শান্ত। কারণ এখন জানি, এড়িয়ে চলা নয়, ক্ষমা করাই আসল মুক্তি।”
রবিন বলে, “আর টাকার চেয়ে দামি সম্পর্ক।”
সবাই হেসে চা শেষ করে। দোকানের চৌকিতে ঝুলছে একটা ছোট্ট বোর্ড—
“চা ১০ টাকা, হাসি ফ্রি।”
আর সেই হাসির মধ্যেই প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব,
যেখানে টাকার মানে হারিয়ে গেছে,
আর মানুষ জিতে গেছে মানুষকে।
বিকেল বেলা। সূর্যের আলো জানালার কাচে পড়ে ঘরের ভেতর একটা রঙিন আবহ তৈরি করেছে। চা হাতে বসে আছে স্বামী জহির, আর পাশে বসে স্ত্রী মীনা— মুখে হালকা অভিমান, চোখে কৌতূহল। দুজনের সংসার জীবন বেশ কয়েক বছরের, কিন্তু আজকের এই মুহূর্তটা যেন নতুন করে কোনো নাটকের প্রথম দৃশ্য।
মীনা চা চুমুক দিতে দিতে প্রশ্ন করল,
— আচ্ছা, তুমি প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় ব্যাগে আমার একটা ছবি রাখো কেন? আমি তো লক্ষ্য করেছি, অফিসের ফাইলের চেয়েও সেটার যত্ন বেশি করো।
জহির ঠোঁটে এক চিলতে হাসি টেনে বলল,
— আহা, এই ছবিটাই আমার তাবিজ, আমার অফিস জীবনের মূলমন্ত্র!
মীনা একটু লজ্জা মিশিয়ে হেসে বলল,
— তাই নাকি! তাহলে তো আমি তোমার সৌভাগ্যের প্রতীক! তাই না?
জহির হালকা গম্ভীর সুরে বলল,
— ঠিক তাই, কিন্তু ব্যাপারটা একটু অন্যরকমও আছে।
মীনা ভুরু কুঁচকে বলল,
— অন্যরকম মানে?
জহির বলল,
— অফিসে যখন কোনো জটিল ফাইল আসে, বস রাগে গরগর করেন, বা কোনো হিসাব মেলাতে পারি না— তখন ব্যাগ থেকে তোমার ছবিটা বের করি, ভালো করে দেখি। তারপর মনে মনে বলি, “দেখ জহির, তুই তো এই ছবির সঙ্গে সংসার চালাতে পারছিস! এর চেয়ে বড় সমস্যা পৃথিবীতে আর কিছু হতে পারে?”
তখনই সব সমস্যা ক্ষুদ্র মনে হয়, ভয় চলে যায়, মন শান্ত হয়ে যায়।
মীনা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। তারপর মুখ গম্ভীর করে বলল,
— মানে, আমি নাকি তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা?
জহির চায়ের কাপ নামিয়ে বলল,
— না না, সমস্যা না, বরং অভিজ্ঞতা! তোমার সঙ্গে সংসার করার মানে হচ্ছে প্রতিদিন এক একটা নতুন চ্যালেঞ্জ জয় করা। তাই অফিসের কাজগুলো আমার কাছে শিশুর খেলা মনে হয়।
মীনা রেগে গিয়ে বলল,
— বাহ, কি সুন্দর ব্যাখ্যা! আমি বুঝি তোমার মানসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র!
জহির শান্তভাবে বলল,
— দেখো মীনা, আমি তো মিথ্যা বলিনি। তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে কার্যকর অনুপ্রেরণা। তোমাকে দেখলেই মনে হয়, যে মানুষ তোমার মত অসাধারণ (মানে একটু ভয়ংকরও) মানুষকে সামলাতে পারে, সে পৃথিবীর যেকোনো বস, যেকোনো রিপোর্ট, এমনকি ট্রাফিক জ্যামও সামলাতে পারবে।
মীনা চুপচাপ বসে রইল। মুখে রাগের ছায়া থাকলেও চোখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে।
এরপর থেকে প্রতিদিন সকালে জহির যখন অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়, মীনা হাসিমুখে বলে,
— আজ ছবিটা ঠিকমতো রেখেছ তো?
জহির মাথা নেড়ে বলে,
— হ্যাঁ, এই তো, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের পাশে রেখেছি।
অফিসে পৌঁছানোর পর প্রতিদিনই নতুন নাটক। বস চেঁচায়, ফাইল হারিয়ে যায়, কম্পিউটার হ্যাং করে— কিন্তু জহির একটুও বিচলিত হয় না। ব্যাগ খুলে ছবিটা বের করে দেখে, তারপর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
— আহা, এই হাসিটা দেখেই বুঝি আমি আজও বেঁচে আছি!
একদিন সহকর্মী রফিক দেখল, জহির ডেস্কে ছবিটা বের করে তাকিয়ে আছে। সে অবাক হয়ে বলল,
— ভাই, অফিসে এত চাপ, তবু আপনি এত শান্ত কেন?
জহির রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল,
— কারণ আমি জীবনের আসল চাপ সামলাতে পারি। এই ছবিটা আমার মানসিক জিম— প্রতিদিন এখানে অনুশীলন করি।
রফিক ভেবে পেল না, এটা ভালোবাসার গল্প না ট্র্যাজেডির।
অফিসে এই গল্প ছড়িয়ে পড়ল। সবাই মজা করে বলত,
— জহির ভাই, আজ বস ডেকেছে, ছবিটা আগে দেখে নিন!
একদিন অফিসের বার্ষিক মূল্যায়ন সভায় বস বলল,
— জহির, তোমাকে আমরা “সর্বাধিক ঠাণ্ডা মেজাজের কর্মী” পুরস্কার দিতে চাই। যাই হোক না কেন, তুমি কখনো রাগ করো না, ভয় পাও না। রহস্যটা কী?
জহির দাঁড়িয়ে বলল,
— স্যার, আমার প্রেরণার উৎস আমার স্ত্রী।
সবাই তালি দিল, বস মুগ্ধ হয়ে বলল,
— বাহ! এই তো উদাহরণস্বরূপ স্বামী!
জহির ব্যাগ থেকে ছবিটা বের করে দেখাল। ছবিতে মীনার মুখে প্রশান্তি, কিন্তু চোখে সেই কর্তৃত্বের ঝলক।
বস মুগ্ধ হয়ে বলল,
— সত্যিই ভাগ্যবান মানুষ আপনি!
জহির নিচু স্বরে বলল,
— ভাগ্যবান তো বটেই, তবে কখনো কখনো মনে হয় আমি বেঁচে থাকা বীর।
এদিকে বাড়িতে মীনা গল্পটা শুনে গর্বে গদগদ। সে এখন নতুন নিয়ম চালু করল— অফিসে যাওয়ার আগে জহিরকে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে বলে,
— দেখো, আজকের দিনটা আমার হাসি দিয়ে শুরু হবে।
জহির বলত,
— মানে আজ আমার বিপদটা একটু বড় হবে!
দুজনেই হাসত, আর হাসির ভেতরেই লুকিয়ে থাকত তাদের সংসারের মিষ্টি টানাপোড়েন।
একদিন মীনা ঠিক করল, জহিরকে সারপ্রাইজ দিতে অফিসে যাবে। দুপুরে গিয়ে দেখে, জহির ডেস্কে বসে ছবিটা দেখে মুচকি হাসছে। মীনা চুপচাপ পিছন থেকে এসে বলল,
— হুম, আমি বুঝলাম, আমার ছবিটাই তোমার অফিস পারফরম্যান্সের গোপন সূত্র।
জহির ঘুরে তাকিয়ে বলল,
— তুমি তো বাস্তবে এসেছো! আজ তো সব সমস্যারও ওপরে একটা “লাইভ প্রুফ” হাজির হলো!
সব সহকর্মী হো হো করে হাসল। বস পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাকিয়ে বললেন,
— ওহ, এই সেই ছবি-ওয়ালা ম্যাডাম? আমাদের অনুপ্রেরণার রানি!
মীনা হাসি চেপে বলল,
— জি, আমি-ই সেই সমস্যা— মানে প্রেরণা!
অফিস হাসিতে ভরে গেল।
সন্ধ্যায় দুজনে ফিরছে বাসায়। জহির বলল,
— জানো, আজ বস তোমার জন্য “ইনস্পিরেশন অ্যাওয়ার্ড” দিতে চেয়েছিল।
মীনা বলল,
— কেন?
— কারণ তুমি এমন এক সমস্যা, যাকে দেখে মানুষ সমস্যার ভয় পায় না।
মীনা এবার সত্যিই রেগে বলল,
— তোমার আজ রাতে খাবার নেই!
জহির হেসে বলল,
— দেখো, তোমার রাগই আমার সবচেয়ে বড় প্রশান্তি।
এইভাবে তাদের ঝগড়া, হাসি, ঠাট্টা চলতেই থাকে। কিন্তু এর মাঝেই জহির প্রতিদিন অফিসে ছবিটা নিতে ভোলে না। সে জানে— জীবনে যত সমস্যা আসুক, যার মুখ দেখে একসময় সব ছোট মনে হয়, সেই মানুষটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শান্তি, ভালোবাসা আর প্রেরণা।
আর তাই জহিরের ডেস্কের এক কোণে সেই ছবিটা এখন অফিসের কিংবদন্তি— যে ছবির নিচে লেখা আছে,
“যখন সব সমস্যা বড় মনে হয়, এই মানুষটাকে মনে করো।”
অবশ্য অফিসের সবাই জানে, সেটা সমস্যার সমাধানের ছবি নয়, সমস্যারই পূর্ণাঙ্গ প্রতিরূপ। ????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now