বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
রিয়া আর রিয়ান—এই নাম দুটি এখন লেকপাড়ের কফিশপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রেমের শুরুটা ছিল একেবারেই নিরীহ। ইনবক্সে শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে শুরু করে বইয়ের রিভিউ শেয়ার—সবই যেন খুব সাধারণ ছিল। কিন্তু সময় যত গড়ালো, ততই প্রেমের গভীরতা বাড়লো, আর রিয়ার দাবির তালিকাও লম্বা হতে থাকলো।
একদিন বিকেলে তারা দেখা করলো। আবহাওয়া বড় রোম্যান্টিক। বাতাসে ভেসে আসছে ভুট্টাভাজার গন্ধ। রিয়া ঠিক করলো, আজই সে তার প্রেমিককে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফেলবে।
রিয়া বলল,
—শোনো, আমাকে বিয়ে করতে হলে একটা শর্ত আছে।
রিয়ান গম্ভীর ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
—তুমি বলো, আমি সমুদ্রের গভীরে ডুব দিয়ে মুক্তা এনে দেবো, হিমালয়ের চূড়া ছুঁয়ে আসবো, মঙ্গলগ্রহে গিয়েও তোমার নাম লিখে আসবো।
রিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
—না না, এত কষ্টের কিছু না। শুধু সিগারেট খাওয়া ছাড়তে হবে।
রিয়ান একটু চমকালো। কারণ সিগারেট তার কাছে নিত্যসঙ্গী। রুটিন ছিল—ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ না করেই প্রথম সিগারেট, দুপুরে খাওয়ার পর একখানা, অফিস থেকে বের হয়েই আরেকটা। এমনকি বৃষ্টির দিনে ছাতার ভেতর দাঁড়িয়েও সিগারেট ফুঁকেছে সে। তবুও প্রেমের টানে চোখ পাকিয়ে বলল,
—ছেড়ে দিলাম।
রিয়া খুশি হয়ে হেসে ফেলল। মনে হলো, এই ছেলেটা যেন সবই তার জন্য করতে পারে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। রিয়া আবার বলল,
—আরেকটা কথা। বিয়ার খাওয়া ছেড়ে দাও।
রিয়ান এবার ভেতরে ভেতরে কেঁপে উঠলো। সিগারেটের পর এবার বিয়ার! বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচ মানেই ছিল বিয়ার। সেলিব্রেশন হোক, কষ্ট হোক, সবকিছুর সমাধান এক বোতল ঠাণ্ডা বিয়ার। তবুও প্রেমিক সাজার জন্য বুক ফুলিয়ে বলল,
—ছেড়ে দিলাম।
রিয়া এবার আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। মনে হচ্ছিল, সে যেন এখনই আশেপাশের সবার সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেবে—“এই ছেলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক!”
কিন্তু শর্ত শেষ হয়নি। রিয়া এবার আসল অস্ত্র বের করল।
—একটা কথা দাও। এখন থেকে আর কোনো মিথ্যা বলবে না।
রিয়ান এবার সত্যিই চুপ করে গেল। মিথ্যা ছাড়া তো তার জীবনই চলে না। অফিসে দেরি হলে মিথ্যা, মায়ের কাছে আড্ডার গল্প গোপন করতে মিথ্যা, আবার বন্ধুর কাছ থেকে ধার করা টাকা ফেরত না দিতে নানা অজুহাত—সবই মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে। তবুও প্রেমের অভিনয় বজায় রেখে গম্ভীর মুখে বলল,
—কথা দিলাম।
রিয়া হাততালি দিয়ে হাসলো। মনে হলো, এবার তার মিশন সফল। সে ভেবেই নিয়েছে, এখন যদি বিয়ের প্রস্তাব চায়, তবে রিয়ান আর না বলতে পারবে না।
তাই সে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
—এবার বলো, আমায় বিয়ে করবে?
রিয়ান মাটির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে হেসে বলল,
—না।
রিয়া যেন বজ্রপাত শুনলো। সে তো ভেবেছিল, সবকিছু ছেড়ে দেওয়া প্রেমিক এবার তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেবে। অথচ এ কেমন উত্তর!
রিয়া গলা কাঁপিয়ে বলল,
—কেন?
রিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
—দেখো, আমি তো এখন অনেক ভালো হয়ে গেছি। সিগারেট ছাড়লাম, বিয়ার ছাড়লাম, মিথ্যা বলা ছাড়লাম। এত ভালো মানুষ এখন নিশ্চয়ই তোমার থেকে অনেক ভালো মেয়ে পাবে! তাহলে তোমাকেই কেন বিয়ে করবো?
চারপাশে যারা ছিল, তারা হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগলো। একজন প্রেমিক নিজের প্রেমিকাকে বলল,
—দেখেছো? একেই বলে মাস্টারস্ট্রোক!
রিয়া দাঁত চেপে রাগে ফুঁসতে লাগলো। সে ভেবেছিল, শর্ত দিয়ে প্রেমিককে একেবারে বশ মানাবে, কিন্তু উল্টে সে নিজেই ফেঁসে গেল।
সেদিন থেকেই রিয়ান হয়ে গেল লেকপাড়ের হিরো। যে ছেলেরা আগে প্রেমিকাদের সামনে কুঁজো হয়ে থাকতো, তারাও এখন বুক ফুলিয়ে বলে—
—আমি রিয়ানের টিমে!
মেয়েরা অবশ্য রাগে গজগজ করতে লাগলো। তারা বললো,
—এই ছেলেদের বিশ্বাস করা যায় না। কালকে সিগারেট ছাড়বে, পরশু বিয়ার ছাড়বে, তার পরদিন প্রেমই ছাড়বে!
রিয়া অবশ্য হাল ছাড়েনি। সে এখনো রিয়ানের ফেসবুক নজরে রাখে। নতুন কোনো মেয়েকে অ্যাড করলে সঙ্গে সঙ্গে ইনবক্সে লিখে ফেলে—“বোন, সাবধান! এই ছেলেটা ভালো হয়ে গিয়েছে, মানে এখন আর কারো সঙ্গে টেকে না।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now