বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
বিকেলের সময়টা সাধারণত সংসারে একটু চায়ের কাপে ঝড় ওঠার সময়। কাজকর্ম শেষে স্বামী-স্ত্রী যখন মুখোমুখি হয়, তখন জমে থাকা সব হিসাব—হোক তা বিদ্যুতের বিল কিংবা কে কার চশমা কোথায় রেখেছে—সব একসাথে বেরিয়ে আসে। আজও তেমনই হলো।
চায়ের পেয়ালা হাতে নিতে না নিতেই স্ত্রী হঠাৎই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন—
—“তুমি আমার সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলছো কেন?”
স্বামী প্রথমে ভেবেছিলেন, চুপ থাকবেন। কিন্তু তার ভেতরের দুষ্টু বালকটা যেন কান টেনে ফিসফিস করে বলল— চুপ করে গেলে বউ ভেবে নেবে, তুমি ভয়ে গেছো!
তাই বুক চিতিয়ে উত্তর দিলেন—
—“তোমার মতো বউয়ের সঙ্গে চিৎকার করে কথা না বলে মিষ্টি সুরে কথা বলব নাকি!”
স্ত্রী থমকে গেলেন, তারপর গলায় নাটকীয় আবেগ ঢেলে বললেন—
—“সারা দুনিয়া তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখো, আমার মতো বউ আরেকটা পাও কি না!”
এবার স্বামী মুচকি হাসলেন। এ হাসি দেখে স্ত্রী বুঝলেন, উত্তর আসছে। স্বামী উত্তর দিলেন—
—“তুমি কী ভাবছো, দ্বিতীয়বারও আমি তোমার মতোই বউ খুঁজব?”
এই এক বাক্যে যেন যুদ্ধবিগ্রহের ঢাক ঢোল বেজে উঠল।
স্ত্রী চোখ লাল করে বললেন—
—“মানে? তুমি কি ভাবছো, আমি এত খারাপ যে একবারের অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট?”
স্বামী শান্তভাবে চা টানলেন, তারপর বললেন—
—“না, আসলে তোমার মতো অভিজ্ঞতা একবার হলে সারাজীবনের জন্য যথেষ্ট। কেউ যদি অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দেয়, সে দ্বিতীয়বার ঝাঁপ দিতে চায় না।”
স্ত্রী এবার হাঁফ ছাড়লেন—
—“তাহলে আমি বুঝলাম, আমি নাকি তোমার কাছে আগুন!”
স্বামী হেসে বললেন—
—“না রে, আগুন না, তুমি সেই ফ্রাইপ্যানের মতো, যেখানে প্রতিদিন ভাজা পোড়া হয়, কিন্তু তবুও প্রতিদিন দরকার হয়।”
স্ত্রী চমকে উঠলেন, তারপর হাসতে হাসতে বললেন—
—“তাহলে আমি তোমার রান্নাঘরের প্রধান আসবাব?”
স্বামী মিষ্টি করে চোখ টিপে বললেন—
—“আসবাব না, আসল আসর। তুমি না থাকলে সংসারের স্বাদ হয় না।”
স্ত্রী কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ধীর গলায় বললেন—
—“শোনো, তোমার মতো স্বামীও সারা পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
স্বামী বুক ফুলিয়ে বললেন—
—“তুমি একদম ঠিক বলেছো। তোমার মতো ধৈর্যশীল বউ ছাড়া এত ঝগড়াটে স্বামী কোনো মেয়ের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব না।”
দুজনেই হেসে উঠলেন। হঠাৎ ঘর ভরে গেল কোলাহলমুক্ত হাসির সুরে।
ঝগড়ার আগুন থেকে যে ধোঁয়া উঠেছিল, তা মিলিয়ে গেল মিষ্টি রসিকতায়। শেষমেশ তারা দু’জনেই বুঝলেন—
ঝগড়া আসলে ভালোবাসারই আরেকটা রূপ। যে ভালোবাসে, সে-ই তো চিৎকার করে নিজের অভিমান প্রকাশ করে। আর যে ভালোবাসে, সেও আবার সেই চিৎকারকে হাস্যরসে রূপান্তর করে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now