বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
ঢাকার রাস্তায় এক গরম দুপুর। ট্রাফিক জ্যামে গাড়ি হাঁটছে কচ্ছপের মতো। ভ্যাপসা গরমে যাত্রীদের মাথা গরম, কারো হাতে বাজারের ব্যাগ, কারো হাতে চাকরির ফাইল। ঠিক সেই সময়ে গাবতলী থেকে এক লোকাল বাস ছেড়ে আসছে।
বাস ভর্তি লোক, শ্বাস নেওয়ারও জায়গা নেই। কন্ডাক্টর হাহাকার করছে—
—“আগে আসেন, আগে যান! দাঁড়াইয়া থাকেন না, সামনে খালি আছে!”
যাত্রীরা চোখ পাকিয়ে উত্তর দেয়—
—“কোথায় খালি? হাওয়া দেখাইতেছিস নাকি?”
ঠিক সেই সময় এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। বাসের ভেতর হঠাৎ একটা সিট খালি হয়ে গেল। যেন আল্লাহর রহমতে স্বর্গ থেকে কেউ আসন নিক্ষেপ করেছেন। সবাই তাকিয়ে রইল সেই সিটের দিকে।
কিন্তু আহা রে ভাগ্য! একসঙ্গে দুই নারী সেই সিটের দিকে ঝাঁপ দিলেন।
একজন ছিলেন গায়ে শাড়ি, চোখে সোনালি চশমা, মুখে গাম্ভীর্যের ছাপ—দেখে মনে হলো সরকারি অফিস থেকে ফিরছেন। আরেকজন হাতে বাজারের ব্যাগ, মুখে ঘাম ঝরছে, তবে তার চোখে ছিল বিজয়ীর ঝিলিক।
দুজনই একসঙ্গে বললেন—
—“এই সিট আমার!”
মুহূর্তেই বাসের ভেতর শোরগোল পড়ে গেল।
প্রথম নারী বললেন—
—“আমি আগে দেখেছি। আমি বসব।”
দ্বিতীয় নারী পাল্টা বললেন—
—“দেখা দিয়াই কি বসা হয় নাকি? আমি আগে হাত বাড়াইছি।”
একজন বলল—
—“আপনি বাজারের ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মানে এই নয় যে আপনিই বসবেন।”
আরেকজন বলল—
—“আপনি অফিস করেন তো কী হইছে? আমিও তো সংসার করি। সংসার চালানো অফিসের চেয়ে কঠিন।”
এভাবে ঝগড়া শুরু হলো। দুজনের কণ্ঠে গরম মরিচ ঝাল। বাস ভর্তি লোকজন চুপচাপ দেখে যাচ্ছে। কেউ হেসে কুটিকুটি হচ্ছে, কেউ আবার বিরক্ত।
হেলপার মুখ গোমড়া করে বলল—
—“আরে মা, বসে পড়েন যার মন চাইছে।”
কিন্তু কেউ বসলো না, বরং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তর্ক চলল।
হঠাৎ কন্ডাক্টর, যে এতক্ষণ ভাড়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল, তার মাথায় বুদ্ধি এলো। সে হাততালি দিয়ে বলল—
—“শুনেন শোনেন! দুই আপারেই কইতাছি, যিনি বয়সে বড়, সেই সিটে বসবেন।”
এই কথা শোনার পর হঠাৎ যেন বজ্রপাত হলো। বাস ভর্তি লোকজন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।
দুই নারী আগে যেভাবে মুখ লাল করে চেঁচাচ্ছিলেন, এবার হঠাৎ মুখ সাদা হয়ে গেল। একজনের ঠোঁটে শুকনো হাসি, আরেকজন কপাল থেকে ঘাম মুছতে লাগলেন।
কেউ বলল না—“আমি বড়।”
কেউ বলল না—“আমি ছোট।”
দুজনেই গম্ভীর মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকলেন। সেই সিট খালি রয়ে গেল।
যাত্রীরা হেসে উঠল। কেউ বলল—
—“দেখেন, সিটের লড়াই এক সেকেন্ডে শেষ!”
কন্ডাক্টর ভেতরে ভেতরে খুশি। সে মনে মনে ভাবল, “এতদিন ধরে ভাড়া আদায় করতে করতে মানুষ সামলানো শিখেছি, আজ বুঝি মনোবিজ্ঞানীর সার্টিফিকেট পাওয়া উচিত।”
সারা রাস্তা দুই নারী দাঁড়িয়ে থাকলেন। সিট একেবারে ফাঁকা। আশেপাশের পুরুষ যাত্রীরা বসতে সাহস পেল না। সবাই ভাবল, “বসলে গলায় দড়ি বাঁধতে হবে।”
একজন বৃদ্ধ যাত্রী ফিসফিস করে বলল—
—“আমাদের দেশে আসলে সিট শুধু কাঠের নয়, সিটে বসে মর্যাদা নিয়েও যুদ্ধ হয়।”
কেউ আবার মজা করে বলল—
—“আসলে সত্য কথা বললে কষ্ট। তাই তো কেউ বলতে পারল না, ‘আমি বড়’। মহিলা মানুষ, বয়স লুকানো তাদের জন্মগত অধিকার।”
সবাই হাসতে লাগল।
এদিকে দুই নারী, যারা কিছুক্ষণ আগেও একে অপরকে খেয়ে ফেলতে চাইছিলেন, এবার চোখে চোখ পড়তেই হালকা হেসে ফেললেন। প্রথমে লজ্জা পেলেন, তারপর বুঝলেন, “আসলে ঝগড়া করে কোনো লাভ নেই।”
বাজারের ব্যাগওয়ালা নারী আস্তে করে বললেন—
—“আপা, থাক, আমরা দুইজনেই দাঁড়িয়ে থাকি। খালি সিটে যদি কেউ বসে, সেটাই বরং ভাল।”
অফিস ফেরা নারীও হাসলেন—
—“ঠিক বলেছেন। আসলে দাঁড়িয়ে থাকলেই ক্যালোরি বার্ন হয়, স্বাস্থ্য ভালো থাকে।”
এবার দুজনেই একসঙ্গে হেসে উঠলেন।
কন্ডাক্টর দূর থেকে দেখছিল। সে মুচকি হেসে মনে মনে বলল—
—“এই তো হলো, পজিটিভ মিলন।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now