বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পয়সার গরমে ব্যাঙের নাচন

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। রাজা কায়সারের ছিল অদ্ভুত এক শখ—শিকার। রাজপ্রাসাদের সোনালি গম্বুজ, রাজকীয় ভোজন, নৃত্য, বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ—এসব কিছুর মাঝেও রাজার সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত ছিল ভোরের শিকারের ডাক। তখন রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রান্ত পর্যন্ত ঢাক-ঢোল বাজতে থাকত, শিকারের শঙ্খে আকাশ ভরে উঠত। হাতির পিঠে চমৎকার আসন সাজানো, ঘোড়ার কেশর বেঁধে রাখা, পাইক-পেয়াদারা বর্ম পরে রাজার পাশে দাঁড়িয়ে—সব মিলিয়ে রাজ্য যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠত। কিন্তু সেই আনন্দময় অভিযানের মাঝেই ঘটতে লাগল এক অদ্ভুত কাণ্ড। রাজার হাতি যখন শোভাযাত্রা নিয়ে রওনা হয়, তখনই রাস্তার ধারে এক পুরনো বটগাছের কোঠর থেকে এক ব্যাঙ বেরিয়ে আসে। চোখ পাকিয়ে হাতির দিকে তাকায়, তারপর ঠিক কপালের মাঝখানে লাফ মেরে লাথি দিয়ে আবার ছুটে গিয়ে গাছের ফাঁকে ঢুকে পড়ে। হাতি রাজকীয় প্রাণী, তার মর্যাদা রাজারই প্রতীক। প্রতিদিন এভাবে ব্যাঙের লাথি খেয়ে হাতির ভেতরে যেন অস্থিরতা জন্ম নিল। একদিন সে এতটাই ক্ষিপ্ত হলো যে প্রায় রাজাকে পিঠ থেকে ফেলে দিচ্ছিল। পাইক-পেয়াদারা ভয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ল। ব্যাপারটা রাজার কানে যেতেই তিনি প্রথমে হো হো করে হেসে উঠলেন। —“আরে, ব্যাঙের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীর দুঃসাহসও আবার সমস্যা? হাতির কপালে তার লাথি কোনো গুরুত্ব রাখে নাকি?” কিন্তু সৈন্যরা সহজে হাল ছাড়ল না। তারা বিনীতভাবে বলল— —“জাহাপনা, এটা একদিনের ঘটনা নয়। প্রতিদিনই হচ্ছে। হাতির সম্মান নষ্ট হচ্ছে। কাল যদি সে পুরোপুরি ক্ষেপে যায়, আমরা কেউ রক্ষা পাব না।” রাজা এবার ভাবনায় পড়লেন। গম্ভীর কণ্ঠে বললেন— —“ঠিক আছে। কাল যখন বের হবো, তখন ব্যাঙ বের হলে ধরে নিয়ে এসো। দেখি আসল রহস্যটা কী।” পরদিন রাজকীয় মিছিল যথারীতি রওনা হলো। বটগাছের কাছে পৌঁছাতেই ব্যাঙটি ফুঁ দিয়ে বেরোল। কিন্তু এবার সৈন্যরা প্রস্তুত। তারা ছুটে গিয়ে ব্যাঙ ধরতে চাইল, অথচ ব্যাঙ মুহূর্তেই ফসকে গিয়ে গাছের কোঠরে ঢুকে গেল। সৈন্যরা গর্তে উঁকি দিল। অবাক হয়ে দেখল—ব্যাঙের পাশে একটি চকচকে পয়সা রাখা। পয়সার ঝলকানিতে ব্যাঙ যেন কোনো রাজকীয় অভিজাতের মতো স্থির হয়ে বসে আছে। খবর পেয়ে রাজা হেসে উঠলেন— —“হুঁ, বুঝতে পেরেছি। ব্যাঙের লাফালাফি পয়সার গরমেই। ওটাকে সরিয়ে ফেলো।” সৈন্যরা পয়সা তুলে নিতেই ব্যাঙ হতবাক হয়ে গেল। কিছুক্ষণ চারপাশে তাকিয়ে মুখ ভার করে চুপ হয়ে বসে রইল। আর কখনো হাতির দিকে তাকালও না। পরদিন রাজা শিকারে বের হলেন। ব্যাঙ আর বেরোল না। না লাফ, না খ্যাঁক খ্যাঁক আওয়াজ। যেন সে তার আসল অবস্থায় ফিরে এসেছে। রাজা হাসিমুখে প্রজাদের উদ্দেশে ঘোষণা দিলেন— —“দেখলে তো! টাকার গরম না থাকলে কেউ কারো ওপর লাথি মারতে পারে না। এমনকি ব্যাঙও নয়।” এই ঘটনা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল। বাজারে যখনই দাম বেড়ে যেত, মানুষ ঠাট্টা করে বলত— —“মনে হচ্ছে কারো কোঠরে পয়সা ঢুকে গেছে।” কোনো ধনবান লোক অহংকার করলে গ্রামবাসী বলত— —“আরে, সে তো ব্যাঙের মতো, পয়সার জোরে লাফাচ্ছে।” রাজা বিষয়টিকে শিক্ষার অংশ করলেন। একদিন রাজসভায় বললেন— —“পয়সার দম্ভ ক্ষণস্থায়ী। আসল শক্তি ন্যায়নীতি আর মিলেমিশে থাকার মধ্যে। যাদের টাকা নেই, তাদের অবহেলা করো না। আর যাদের টাকা আছে, তাদের ভয়ও করো না।” কিন্তু ঘটনাটা এখানেই শেষ হলো না। এক রাতে রাজা স্বপ্নে দেখলেন, সেই ব্যাঙ এসে বলছে— —“হে জাহাপনা, আমি তো কেবল একটি ব্যাঙ। কিন্তু পয়সা আমাকে শক্তি দিয়েছিল, আর আমি নিজেকেই চিনতে পারিনি। এখন আমি শান্ত। কিন্তু সাবধান! তোমাদের মানুষ যদি পয়সার লোভে পড়ে, তবে তারা আমার চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।” রাজা জেগে উঠে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করলেন। ব্যাঙকে সামলানো সহজ, কিন্তু মানুষকে সামলানো কঠিন। এরপর থেকে তিনি কঠোর আদেশ দিলেন—ধনী-গরিব কেউ কারো প্রতি অবিচার করবে না। টাকা কারো অহংকারের কারণ হবে না, বরং শান্তির উপায় হবে। বাজারে যখন ধনীরা দাম বাড়াতে চাইত, সাধারণ মানুষ মুচকি হেসে বলত— —“আরে ভাই, ব্যাঙের মতো লাফিও না। পয়সা গেলে মুখ ভার করে বসে থাকবে।” এভাবেই রাজার রাজ্যে এক নতুন প্রবাদ চালু হয়ে গেল— “যার কোঠরে পয়সা পড়ে, সে-ই ব্যাঙ হয়ে লাফায়।” মানুষ হাসত, মজা করত, আবার শিক্ষা নিতও। ধনীরা বুঝল, টাকা দিয়ে বড়াই করলে সম্মান মেলে না। গরিবরা বুঝল, টাকার সামনে মাথা নোয়ানো ঠিক নয়। আর রাজা কায়সারের রাজ্যে গড়ে উঠল এক মিলনাত্মক সমাজ, যেখানে পয়সা নয়, ন্যায় আর ভালোবাসাই হলো আসল শক্তি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now