বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
রাজ্জাক আর রঞ্জুর বন্ধুত্ব অনেকটা সোনালি স্মৃতির মতো—একসাথে বড় হওয়া, মাঠে খেলা, পরীক্ষার হলে একে অপরের ভরসা হওয়া। তবু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কথোপকথনও যেন অন্য মাত্রা নিতে শুরু করেছে।
এক বিকেলে, চায়ের কাপে ভাঁজ ভেঙে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত আলোচনা। রাজ্জাক হেসে প্রশ্ন করল,
— "বন্ধু, তুই কী কাজে আনন্দ বা আরাম পাচিস?"
রঞ্জু মুহূর্তে থেমে গেল। একটু ভেবেই শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিল,
— "প্রসাব পায়খানার বেগ হবার পর নির্ভয়ে প্রসাব বা পায়খানা করা। এর পর খুব শান্তি লাগে।"
রাজ্জাকের চোখে বিস্ময়। এত সহজ আর সাধারণ কাজকে এইভাবে গভীরতার সঙ্গে ব্যাখ্যা কেউ করে? সে হেসে বলল,
— "দারুন তো! আমারও তো আরামদায়ক লাগে তবে এইভাবে ভাবি নাই।"
সেদিনের সেই আলাপচারিতাই তাদের জীবনে অন্য এক দর্শনের সূচনা করে দিল। রাজ্জাক দার্শনিকের মতো বলল,
— "জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজন, কিন্তু মানুষ এটা নিয়ে ভাবে না।"
রঞ্জু তৎক্ষণাৎ সায় দিল, তার চোখে তখন যেন এক অদ্ভুত জ্যোতি।
— "ঠিক তাই! পায়খানা আমাদের মৌলিক চাহিদার একটি, কিন্তু আমরা এটা নিয়ে ভাবি না। ভাবি শুধু টাকা-পয়সা। অথচ টাকা যদি জমেও থাকে, পেট যদি আটকে যায় তবে টাকার কোনও দামই থাকে না।"
রাজ্জাক মুচকি হেসে বলল,
— "তুই তো একেবারে দার্শনিকের মতো কথা বলছিস!"
সেদিনের পর থেকে দু’জনের আলাপ আর গ্রাম-শহরের আড্ডা একই বিষয়ে ঘুরপাক খেতে লাগল। তারা যেখানে যেত, সেখানেই এই নতুন দার্শনিক বাণীর প্রচার শুরু হতো। দোকানে বসা আড্ডাবাজরা শুনে প্রথমে হো হো করে হেসে উঠত। কিন্তু হাসির মাঝেই যখন সত্যিটা মাথায় ঢুকতে শুরু করত, তখন তাদের মুখে দেখা যেত অদ্ভুত এক চিন্তার রেখা।
রঞ্জু একদিন সাহস করে গ্রামের মসজিদের পাশেই মাইক বসিয়ে ঘোষণা দিল,
— "ভাইসব, টাকা না থাকলেও মানুষ বাঁচে। কিন্তু পায়খানা না হলে মানুষ অচল হয়ে যায়। তাই নিয়মিত পায়খানা করো, শরীর সুস্থ রাখো।"
গ্রামের মানুষজন প্রথমে মশকরা করল, কেউ কেউ তাকে ‘পাগল’ ডাকল। কিন্তু দিন যত গড়াল, লোকেরা বুঝতে পারল, সে যা বলছে তার ভিতরেই আছে গভীর সত্য। ছোটরা তাকে ডাকতে লাগল ‘পায়খানা গুরু’।
একদিন ঢাকার এক সাংবাদিক খবর পেলেন এই অদ্ভুত দর্শনের কথা। তিনি ক্যামেরা দল নিয়ে ছুটে এলেন। রঞ্জুকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
— "আপনার দর্শনের মূল কথা কী?"
রঞ্জু শান্তভাবে বলল,
— "মানুষ টাকা ছাড়া ক’দিন টিকে থাকতে পারে। কিন্তু পায়খানা ছাড়া একদিনও না। টাকার জন্য মানুষ রাত জাগে, ঘুম হারায়, সম্পর্ক ভাঙে। অথচ এই সহজ কাজটাই মানুষকে দেয় সবচেয়ে বড় শান্তি।"
এই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার হতেই হৈচৈ পড়ে গেল। কেউ বলল, ‘এ তো বেহুদা দর্শন’, কেউ আবার বলল, ‘অসাধারণ সত্য’। কিন্তু বিতর্ক যত বাড়ল, ততই জনপ্রিয় হতে লাগল রঞ্জু আর রাজ্জাকের নাম।
একদিন বিদেশি এক গবেষক এলেন গ্রামে। তিনি বললেন,
— "আমরা মানুষের মৌলিক চাহিদা নিয়ে গবেষণা করি বহু বছর। কিন্তু আপনারা একেবারে নতুন আলো ফেললেন। আপনাদের আমরা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে চাই।"
বিদেশে গিয়ে রঞ্জু মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে বলল—
— "লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যানস, দ্য রিয়েল পিস ইজ নট মানি, নট গোল্ড, নট প্রপার্টি। দ্য রিয়েল পিস কামস আফটার... ইয়েস, আফটার টয়লেট!"
শুরুতে উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠল। কিন্তু হেসেই যখন ভাবতে শুরু করল, তখন বুঝল—কথাটা অস্বীকার করা যায় না।
দেশে ফিরে রাজ্জাক আর রঞ্জু গ্রামের প্রবেশপথে সাইনবোর্ড লাগাল—
“যত ভাবনা টাকায়, তার চেয়েও বড় ভাবনা পায়খানায়।”
এখন গ্রামে ঝগড়া হলে মানুষ বলে,
— "যা আগে পায়খানা করে আয়, তারপর ঝগড়া করিস।"
রঞ্জু আর রাজ্জাক এক অদ্ভুত দর্শনের জনক হয়ে উঠল। তাদের নাম ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। মানুষ এখন বলে,
— "টাকা-পয়সার চিন্তা পরে করো। আগে নিশ্চিত হও, তোমার পেট ঠিক আছে।"
________________________________________
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now