বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
বল্টু বরাবরই একটু অদ্ভুত ছেলে। তার মাথার ভেতরে যে কী সব অঙ্ক চলে, তা বোঝা বড় কঠিন। ক্লাসে যখন সবাই স্যারের লেকচার লিখে যাচ্ছে, তখন বল্টু তাকিয়ে আছে জানলার বাইরে, মনে হচ্ছে পৃথিবীর গভীর কোনো রহস্য সে উন্মোচন করতে যাচ্ছে। একদিন বিকেলে সুদীপ তাকে দেখে ফেললো। হাঁটার পথে হঠাৎ থেমে দাঁড়িয়ে বল্টু এমনভাবে ভ্রু কুঁচকে ভাবনায় ডুবে আছে যেন বিজ্ঞান মেলায় নতুন কোনো রকেট বানিয়ে ফেলবে। সুদীপ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “এই বল্টু, কি ভাবছিস?”
বল্টু গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিলো, “আমি এতক্ষণ ধরে ভেবে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এসেছি।”
সুদীপ মুচকি হেসে বললো, “আবার কী নতুন দার্শনিক থিসিস পেলি?”
বল্টু দম নিয়ে ঘোষণা করলো, “পৃথিবীতে চার ধরনের প্রেমিকা কখনো খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।”
সুদীপ চমকে উঠলো। “হায় আল্লা! আবার চার!”
বল্টু আঙুল গুনে গুনে শোনাতে শুরু করলো। প্রথমত, যে মেয়ে তার বয়ফ্রেন্ডকে কোনোদিনও মিসডকল দেবে না। দ্বিতীয়ত, যে মেয়ে শপিং করতে পছন্দ করে না। তৃতীয়ত, যে মেয়ে কখনো কারো ওপর হিংসা পোষণ করে না। আর চতুর্থত, যে মেয়ে আগের তিনটা কথা শুনেও মাথা ঠান্ডা রাখতে পারে।
সুদীপ হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলো। “তুই আবার কেমন পাগলামি শুরু করলি?” কিন্তু মনের ভেতরে কোথাও যেন সে বুঝলো, কথাটা একেবারে ফালতু নয়।
এরপর শুরু হলো বল্টুর মহাগবেষণা। সে ঠিক করলো, আশেপাশের সব মেয়ে পরীক্ষা করে দেখবে সত্যিই এই চার শর্তের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় কি না। প্রথমে গেলো তার কাজিন রত্নার কাছে। সরাসরি প্রশ্ন করলো, “রত্না, তুমি কি কোনোদিন তোমার বয়ফ্রেন্ডকে মিসডকল দাওনি?” রত্না চোখ বড় করে উত্তর দিলো, “কি বলছিস! মিসডকল না দিলে তো মনে হয় ও আমাকে ভুলেই যাবে। ফোন ধরার আগেই অন্তত তিনটে কল দিয়ে রাখি।”
বল্টু মাথা নেড়ে খাতায় লিখলো—প্রথম শর্ত ব্যর্থ।
তারপর গেলো কলেজের বান্ধবী ঝুমুরের কাছে। বললো, “তোর কি শপিং করতে ভালো লাগে না?” ঝুমুর এমনভাবে তাকালো যেন এই প্রশ্ন করার সাহসই অপরাধ। “শপিং ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচবো? মাসে অন্তত তিনবার নতুন শাড়ি না কিনলে মনে হয় আমি দম বন্ধ হয়ে মরে যাব।”
বল্টু আবারও গম্ভীর হয়ে লিখলো—দ্বিতীয় শর্তও ব্যর্থ।
দিন যত গড়াতে লাগলো, পরীক্ষার ফলাফল তত স্পষ্ট হয়ে উঠলো। যে মেয়ে হিংসা করে না, তেমন কাউকে পাওয়া গেল না। কেউ বয়ফ্রেন্ডের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্ট খুঁটিয়ে দেখে, কেউ ইনবক্স চেক করে, কেউ আবার বয়ফ্রেন্ডের মোবাইলের পাসওয়ার্ড জানার জন্য আন্দোলন করে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যখনই বল্টু এই চার শর্ত মেয়েদের সামনে বলতো, তখন তাদের মুখ গরম হয়ে যেতো। একদিন সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শিলা আপুকে শোনালো। শিলা আপু হাসিমুখে বললো, “বাহ, বল্টু, তোর গবেষণা তো চমৎকার।” বল্টু মনে মনে খুশি হয়ে গেল। ভাবলো হয়তো অবশেষে সে অসম্ভব প্রেমিকার খোঁজ পেল। কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যেই শিলা আপু তার মায়ের কাছে নালিশ করে বসলো, “খালা, বল্টু আমাকে অপমান করেছে, বলেছে আমি মিসডকল দিই, শপিং করি, হিংসা করি।” এরপর তিনদিন বল্টুর ভাত বন্ধ হলো।
বল্টুর এই অবস্থা দেখে সুদীপ তাকে বুঝালো, “দোস্ত, প্রেমিকা মানুষ, ফেরেশতা না। মানুষ মানেই অসম্পূর্ণ। তুই যদি সব শর্ত একসাথে চাইতে থাকিস, তবে আজীবন একা থাকতে হবে। প্রেম তো আসলে এই ছোট ছোট মিসডকল, শপিংয়ের নেশা, একটু হিংসা আর মাঝে মাঝে মাথা গরম করাই।”
বল্টু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, “মানে, আমি কি তাহলে সাধারণ প্রেমিকের মতো মেনে নেবো?”
সুদীপ হেসে উত্তর দিলো, “অবশ্যই। প্রেম তো মশলার মতো। সব মশলা মিলে খাবার যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনি প্রেমেরও স্বাদ আসে মিসডকল, শপিং, হিংসা আর মাথা গরমে। এগুলো ছাড়া প্রেম বড়ই নিরস।”
বল্টু শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দিলো, “প্রেমিকার চার শর্ত আসলে অসম্ভব নয়, এগুলোই প্রেমকে মজাদার করে তোলে।” তার চোখে তখন অদ্ভুত এক দীপ্তি। মনে হলো সে যেন নতুন এক দর্শনের জনক হয়ে উঠলো—“প্রেম দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা বল্টু দার্শনিক।”
সুদীপ হো হো করে হেসে উঠলো, আর আশেপাশের লোকেরা বল্টুর দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলো, ছেলেটা হয়তো প্রেমে পড়েছে, কিন্তু আসলে সে পড়েছে প্রেমের দর্শনে।
________________________________________
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now