বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জেল থেকে ভদ্রতার পাঠশালা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। একটি ছোট্ট পাড়া, যেখানে প্রতিটি ঘরের ভেতরে আলাদা আলাদা নাটক মঞ্চস্থ হয়। তবে নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার হলো রমিজ সাহেবদের পরিবার। রমিজ সাহেব এখন জেলখানায় সাজা ভোগ করছেন, কিন্তু তিনি এলাকার মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন এক প্রকার কিংবদন্তি। কারণ, জেল কর্তৃপক্ষ তাকে গত বছর ভদ্র ব্যবহার করার জন্য শাস্তি ছয় মাস কমিয়ে দিয়েছে। এ যেন আশ্চর্য ব্যাপার—যেখানে লোকজন ঘুষ, চিঠিপত্র বা বিশেষ সুপারিশ খোঁজে, সেখানে রমিজ সাহেব কেবল ভদ্র হয়ে শাস্তি কমালেন! এমনই এক বিকেলে বাড়ির উঠোনে মা তার ছেলেকে বকুনি দিচ্ছিলেন। ছেলে স্কুল থেকে ফিরেই জুতো ছুঁড়ে রেখেছে, ব্যাগ এক কোণে, জামা খুলে বিছানায় ছুড়ে দিয়েছে। মা চোখ রাঙিয়ে বললেন— —“তুই তোর বাবার মতো হতে পারিস না? তোর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত।” ছেলে এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল। কিন্তু হঠাৎই বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিল— —“বাবা এমন কী উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন যে আমি অনুসরণ করব?” মা তখন নাটকীয় ভঙ্গিতে হাত কোমরে দিয়ে বললেন— —“কেন, ভদ্র ব্যবহার করার জন্য জেল কর্তৃপক্ষ গত বছর তার শাস্তি ছয় মাস কমিয়ে দিয়েছিল।” ছেলে মুহূর্তেই হতবাক। মুখ হাঁ হয়ে গেল। তারপর হেসে ফেলল। —“মানে, বাবা ভদ্র হওয়ার পুরস্কার হিসেবে আগেভাগেই বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছেন? বাহ! এ তো নতুন শিক্ষা। স্কুলে যদি আমি হোমওয়ার্ক না করি কিন্তু ভদ্র হয়ে বলি ‘স্যার, আজ ভুল হয়ে গেছে’, তাহলে কি শাস্তি অর্ধেক হয়ে যাবে?” মা চোখ কটমট করে তাকালেন—“শুন, অত খুচরো যুক্তি দিস না। তোর বাবা ভদ্রতার এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেটা নিয়ে পুরো পাড়া এখনো গল্প করে।” এরপর থেকেই ছেলের মাথায় ঢুকে গেল এক অদ্ভুত ধারণা। সে বুঝল, বাবার আসল শক্তি হচ্ছে ভদ্রতা। তাই সে স্কুলে গিয়ে ভদ্রতার মহড়ায় নেমে পড়ল। গণিত শিক্ষক যখন হঠাৎ বোর্ডে জটিল সমীকরণ দিলেন, আর সে সমাধান করতে পারল না, তখন সে দাঁড়িয়ে গম্ভীরভাবে বলল—“স্যার, আজ আমি পারিনি, তবে আপনার গলার আওয়াজ খুব সুন্দর।” শিক্ষক হতভম্ব হলেও হাসি চেপে ফেলতে পারলেন না। শাস্তি কমে গেল। বাংলা শিক্ষক কবিতা আবৃত্তি করতে বললেন। ছেলে তো মুখস্থ করতে ভুলে গেছে। তাই দাঁড়িয়ে বলল—“স্যার, আমি আবৃত্তি পারিনি, কিন্তু আপনার মুখের দাড়ি রবীন্দ্রনাথের মতো লাগছে।” পুরো ক্লাস হো হো করে হেসে উঠল। শাস্তি হালকা হয়ে গেল। এভাবে স্কুলে সে হয়ে উঠল এক ধরনের “ভদ্রতার বাহুবলী”। যার কাজ গড়বড় হলেও, ভদ্রতায় শাস্তি অর্ধেক হয়ে যেত। বন্ধুরা তাকে নতুন নাম দিল—“ভদ্র কমান্ডার।” এদিকে পাড়ার অন্য বাচ্চারা বিষয়টা টের পেল। তারা ভাবল, ভদ্রতা দিয়ে যদি শাস্তি কমে যায়, তবে এটা অবশ্যই ভালো ট্রিক। তাই দেখা গেল, ফুটবল খেলায় গোল মিস করলে তারা বলে—“ভাই, আমি গোল দিতে পারিনি, কিন্তু তোমার জার্সিটা খুব মানিয়েছে।” আর তাতেই মারামারি বন্ধ হয়ে যায়। একসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডেকে পাঠালেন। —“শোনো, তোমাদের বাবার নাম আমাদের কাছেও পরিচিত হয়ে গেছে। কিন্তু মনে রেখো, শুধু ভদ্রতা নয়, কাজও করতে হয়। তোমার বাবা শাস্তি কমিয়েছিল, কিন্তু শাস্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। তুমি যেন শুধু ভদ্রতায় না থেমে পড়ালেখায়ও মন দাও।” ছেলে গম্ভীরভাবে উত্তর দিল—“স্যার, বুঝেছি। তবে বাবার ভদ্রতার ফর্মুলা আমি হারাতে চাই না। কাজ আর ভদ্রতা—দুটো মিলেই যদি জীবন চলে, তবে সেরা হবে।” ধীরে ধীরে এই ধারণা পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ল। সবাই বুঝল, ভদ্রতা হলো আসলে এক ধরনের মুদ্রা। দোকানদার যদি অতিরিক্ত টাকা ফেরত না দেয়, তখন রাগ না করে ভদ্রভাবে বললেই হাসিমুখে ঠিক করে দেয়। রিকশাওয়ালা যদি ভাড়া বেশি নেয়, তখন রাগারাগি না করে মিষ্টি ভাষায় বললে সেও নেমে আসে। এমনকি একদিন ছেলে নিজেই তার বাবাকে জেল থেকে ফেরার সময় বলল—“বাবা, তুমি শুধু ভদ্র ব্যবহার দিয়ে সাজার মেয়াদ কমিয়েছিলে। কিন্তু আমি ভদ্র ব্যবহার দিয়ে ক্লাসের শাস্তি অর্ধেক করেছি, বন্ধুত্বের ঝগড়া শেষ করেছি, এমনকি দোকানদারকে হাসিমুখে ছাড় দিয়েছি। তুমি তো ভদ্রতার প্রথম সংস্করণ, আমি দ্বিতীয় সংস্করণ।” বাবা হেসে বললেন—“তাহলে তুই আমাকে ছাড়িয়ে গেছিস, বাবা।” এভাবে ভদ্রতার ছোট্ট শিক্ষা হাসি-ঠাট্টার মাঝেই পুরো সমাজে ছড়িয়ে গেল। মানুষ বুঝল, শাস্তি এড়ানোর জন্য ভদ্রতা নয়, বরং সম্পর্ক গড়ার জন্য ভদ্রতা জরুরি। আর সেই ছেলেটি, যে বাবার গল্প শুনে প্রথমে হাসিতে গড়াগড়ি খেয়েছিল, সে-ই একদিন হয়ে উঠল নিজের বাবার গর্ব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now