বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্ধকারে হাসির ঝিলিক

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। সন্ধ্যার আকাশ ধূসর হয়ে আসছে। পার্কের পথ ধরে হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। লম্বা লনমুখী গাছগুলো নিজেদের ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে, আর ল্যাম্পপোষ্টের নিচে একটি ছোট আলোময় বৃত্ত তৈরি করছে। ঠিক সেই আলোময় জায়গাতেই এক ব্যক্তি মাথা নিচু করে কিছু খুঁজছেন। চোখ ঝলমল করছে, কিন্তু হাত থেমে থেমে নিচের মাটিতে ছুটছে। পাশের পথচারী, যিনি ব্যস্ত দিনে হাঁটাহাঁটি শেষে এখন ধীরে ধীরে পার্ক ঘুরছিলেন, অবাক হয়ে বললেন— “কী ভাই, কিছু হারিয়েছেন বুঝি?” ভদ্রলোক একটুখানি হেসে উত্তর দিলেন— “হ্যাঁ ভাই, ওই গাছতলায় আমার আংটিটা পড়ে গিয়েছে। কিন্তু দেখুন তো, গাছতলা একেবারে অন্ধকার, তাই আমি ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় খুঁজছি।” পথচারী কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেন। মনে মনে ভাবলেন, “এ কী যুক্তি! অন্ধকারে পড়ে থাকা জিনিস খুঁজব না, আলোতে খুঁজছি—হাসি ছাড়া আর কী?” তবে ভদ্রলোকের মুখে এমন স্নিগ্ধতা, যেন পুরো বিষয়টা খুব সাধারণ কোনো ঘটনা। ভদ্রলোক ল্যাম্পপোষ্টের নিচে হাত গুটিয়ে খুঁজতে খুঁজতে বলতে লাগলেন— “আপনি জানেন, কখনও কখনও মানুষ অন্ধকার ভয় পায়, কিন্তু আলোতে ছোট ছোট খোঁজ চালানো খুব আনন্দদায়ক মনে হয়। যেমন এখন, আমি আংটিটা হারিয়েছি, তবে পার্কের এই আলো আমাকে শান্তি দিচ্ছে। হঠাৎ কারো সঙ্গে এই আলোর নিচে কথা বলাও আনন্দের বিষয়।” পথচারী হেসে উঠলেন। “হুম, একদম ঠিক বলছেন। তবে আপনার আংটিটা কি আসলেই এখানে থাকবে?” ভদ্রলোক কাত হয়ে তাকিয়ে বলেন— “নিশ্চয়, আংটিটা যেখানে পড়ে যায়, সেটাই তার আসল ঠিকানা। আর আমি যদি অন্য কোথাও খুঁজে থাকি, সেটা শুধু সময়ের অপচয়। তাই সঠিক জায়গায় সঠিক আলোর নিচে খুঁজতে হবে। মনে করেন, জীবনেও তাই—যেখানে কিছু হারিয়ে যায়, সেটাতেই আমাদের খোঁজ করতে হয়।” পথচারী আবার হাসলেন। “ওহ, সত্যিই জীবনকে আপনার মতো ভাবতে হয়। আমি সবসময় শুধু ফটকে লাইট আছে কিনা দেখতাম। আপনি মনে হলো, অন্ধকারেও আনন্দ খুঁজতে জানেন।” ভদ্রলোক হেসে বললেন— “দেখুন, অন্ধকার ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে, কিন্তু আলোর নিচে খোঁজ চালানো মানে সবসময় আশা থাকে। আর কখনও কখনও, আংটিটা নাও মিলে, তবে হাসি, আলোর উষ্ণতা আর মানুষের সান্নিধ্য পেয়ে যায়।” পাশের পথচারী তখন পুরোপুরি মুগ্ধ। ভাবলেন, সত্যিই, আংটির খোঁজটা ভাঙা চোখ দিয়ে খুঁজলেও মজা আসে। ভদ্রলোক হঠাৎ হাত মাটিতে ছুঁড়ে নিলেন—হঠাৎ ঝলমল আলোয় আংটিটা চকচক করে উঠল! “দেখলেন ভাই, এই আনন্দটাই তো সবচেয়ে বড় অর্জন। শুধু আংটি নয়, খোঁজের প্রক্রিয়াই জীবনকে সুন্দর করে তোলে।” পাশের পথচারী হেসে হেসে বললেন—“সত্যি, আপনার জীবন দর্শন আংটির চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।” ভদ্রলোক কাত হয়ে হালকা হেসে বললেন— “হ্যাঁ ভাই, আংটি হারানো মানেই জীবন হারানো নয়, খোঁজার আনন্দই আসল। আর কখনও কখনও, অন্ধকারও আলোর একটি অংশ।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now