বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাঙা সুরের হাসি

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। শহরের বিখ্যাত একটি অডিটোরিয়ামে বসেছে সঙ্গীতানুষ্ঠান। আলো ঝলমলে মঞ্চ, ভদ্রলোক-ভদ্রমহিলা, সবাই ঝকঝকে পোশাকে। সামনে বসে থাকা শ্রোতারা গম্ভীর মুখে মাইক্রোফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন। গায়িকা মঞ্চে উঠে দাঁড়াতেই হল ভরে উঠল হাততালিতে। তবে হাততালি থামতে না থামতেই প্রথম সুর বের হতেই এক কোণে বসা ভদ্রলোক হঠাৎ কেঁপে উঠলেন। মনে হলো, যেন পাশেই কোনো কাঠের করাত চলছে। তিনি মুখ বিকৃত করে পাশের জনকে বললেন— “ওফ! অবস্থাটা দেখেছেন? গায়িকার কী ভয়ংকর গলা! যেন করাত দিয়ে কাঠ কাটছে।” দ্বিতীয় ব্যক্তি শান্ত মুখে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন। হালকা হেসে বললেন— “উনি আমার স্ত্রী।” প্রথম ভদ্রলোকের মাথায় যেন বজ্রপাত হলো। গলা শুকিয়ে গেল। দম আটকে গিললেন। তারপর দ্রুত ব্যাক গিয়ার মারলেন— “আরে না না, মানে… আসলে গলার তেমন দোষ নেই। তবে এই যে জঘন্য কথাগুলো গাইতে হচ্ছে, সেটার জন্যই সমস্যা হচ্ছে। এসব গর্দভ গীতিকারদের গান আপনার স্ত্রীকে গাইতে দেন কেন?” দ্বিতীয় ব্যক্তি চশমাটা নামিয়ে ধীর গলায় বললেন— “এই গানের গীতিকার আমিই।” চারপাশের কয়েকজন ইতিমধ্যে খ্যাঁ খ্যাঁ করে হেসে উঠল। প্রথম ভদ্রলোকের মুখে রঙ পাল্টাতে শুরু করল—হলুদ থেকে নীল, তারপর আবার সাদা। তিনি গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, “আসলে মানে… আমি অন্য দিকেই ইঙ্গিত করছিলাম। জানেন তো, আজকাল ভালো গান লিখলেও অনেক সময় সুরকাররা ঠিক মতো সুর বসাতে পারে না। উল্টাপাল্টা তান গেয়ে গানটা নষ্ট করে দেয়।” দ্বিতীয় ব্যক্তি ধীরে ধীরে হেসে উঠলেন। বললেন— “সুরকারও আমি।” প্রথম ভদ্রলোক এবার মনে মনে ভাবলেন, ‘যদি এখন বলে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারও উনি, তবে আমি সোজা চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে পালাব।’ তবে পালানোর মতো সুযোগ পেলেন না। কারণ তখনই পাশের চেয়ার থেকে এক মহিলা মুখ বাড়িয়ে বললেন— “আমার স্বামী একটু সরল মানুষ। সবসময় গান নিয়ে কটু মন্তব্য করে বেড়ান। তবে আসল কথা হচ্ছে, উনি নিজেও গাইতে পারেন না। সেদিন বাসার বাথরুমে গেয়ে পুরো মহল্লার কুকুর ডেকে এনেছিলেন।” হল জুড়ে হাসির রোল। প্রথম ভদ্রলোক লজ্জায় মাথা নামিয়ে ফেললেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি তখন মজা করে বললেন— “ভাই, গান খারাপ হতেই পারে, গলা করাতের মতো শোনাতেও পারে। কিন্তু অন্তত আপনার মন্তব্যের করাতটা একটু মসৃণ হতে পারত!” এরপর থেকে অডিটোরিয়ামের সেই সন্ধ্যা বদলে গেল। সবাই সুর-তাল গুনতে গুনতে হেসে গড়াগড়ি খেল। গায়িকা নিজের গলা নিয়েও মজা করলেন—“করাত দিয়েও যদি কাঠ না কাটে, তবে বুঝবেন সুরে সমস্যা।” আর গীতিকার সাহেব গর্ব করে বললেন—“আমার কবিতায় যদি মানুষ হেসে ওঠে, সেটাও তো এক ধরনের সাফল্য।” অবশেষে অনুষ্ঠান শেষে সবাই একমত হলো, সঙ্গীত আসলে শুধু কান ভরানোর বিষয় নয়, হাসির খোরাকও জোগাতে পারে। করাতের মতো গলা আর গর্দভের মতো গান—সবই যদি মিলেমিশে মানুষকে আনন্দ দেয়, তবে সেখানেই তো জীবনের আসল সুর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now