বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
কারখানায় আগুন লেগেছে—শহরের অর্ধেক মানুষ তখন চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠছে, চারপাশে মানুষ দৌড়াদৌড়ি করছে, কেউ চিৎকার করছে, কেউ মোবাইলে ভিডিও করছে। মালিকের চোখে পানি, ঠোঁটে ফিসফিসানি—“হায় হায়, এত বছরের শ্রম, মুহূর্তেই ছাই হয়ে যাবে!” ঠিক তখনই ভেসে এলো দমকল বাহিনীর হর্নের আওয়াজ। সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। কিন্তু কে জানত, দমকল বাহিনীর গোপন অস্ত্র হচ্ছে… তাদের গাড়ির ব্রেক নষ্ট হওয়া!
গাড়িটা এমন গতি নিয়ে ছোট গলিতে ঢুকল, যেন বাঘ পালের মধ্যে ছুটে পড়েছে। দোকানপাটগুলো দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে, যেন নিজেরাই মাথা নিচু করে দিল। এক দোকানদার চিৎকার করে উঠল—“আমার ফার্নিচারের দোকানটা গেল রে!” পাশের লোক উত্তর দিল—“চুপ থাক, আগুন নেভানোই এখন জরুরি, ফার্নিচার পরে বানিয়ে নেবি!” সদর দরজা ভেঙে গাড়ি যখন সোজা ভেতরে ঢুকে গেল, মালিক নিজেই হতবাক। মনে মনে ভাবলেন—“এই বাহিনী বুঝি সন্ত্রাসীদের ট্রেনিং দিয়ে এসেছে, না হলে এমন দৌড়ায় কিভাবে?”
গাড়ি হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে থামল। সবাই ভেবেছে, এবার হয়তো আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়বে দমকলকর্মীরা। কিন্তু না, নাটকের আসল দৃশ্য তখনো বাকি। গাড়ির পেছনের বিশাল পানির ট্যাংকটা ধপ করে ছিটকে গিয়ে সোজা আগুনের উপর পড়ল। আগুনের শিখা ‘হিশশশশ’ শব্দ করে মুহূর্তেই নিভে গেল। মানুষ দম আটকে তাকিয়ে রইল। কেউ clap দিল, কেউ হাততালি দিল, কেউ আবার মোবাইলে স্ট্যাটাস দিল—“আজকের দমকল বাহিনী—ব্রেকফেল হিরো!”
কারখানার মালিক দৌড়ে এসে দমকল প্রধানের হাতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিলেন। মুখে আনন্দের হাসি, চোখে জল—“আপনারা না থাকলে আমার কারখানা শেষ হয়ে যেত! এই টাকা দিয়ে কী করবেন?”
দমকল প্রধান গম্ভীর মুখে বললেন—“প্রথমেই গাড়ির ব্রেকটা ঠিক করাব!” চারপাশে হাসির রোল পড়ে গেল। একজন ফিসফিস করে বলল—“ব্রেক যদি ঠিক করে ফেলে, তাহলে তো পরেরবার আগুন নেভাতে এত কাণ্ড ঘটবে না!” আরেকজন যোগ করল—“আসলে ব্রেকফেল না হলে এতো নিখুঁতভাবে ট্যাংক গিয়ে আগুনে পড়ত কিভাবে?”
এই ঘটনায় দমকল বাহিনীর সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে গেল। মানুষ তাদের ডাকতে শুরু করল ভিন্ন ভিন্ন কাজে। কারও বাসার দরজা খুলছে না—ডাকো দমকল বাহিনী। ব্রেকফেল করেই দরজা গুঁড়িয়ে দিবে। কোথাও বিয়ের বাড়িতে নাচে তাল কেটে যাচ্ছে—ডাকো দমকল বাহিনী, তারা ঢুকে পড়ে এমন হুল্লোড় করবে যে সবাই একসাথে তাল মিলাবে।
শহরের ছেলেপেলেরা তখন নতুন খেলা শুরু করল—‘ব্রেকফেল ফায়ার ব্রিগেড’। খেলাটার নিয়ম ছিল, সাইকেলের ব্রেক খুলে দৌড়ে গিয়ে মাঠে রাখা বালতিতে পানি ফেলে দিতে হবে। যার পানির বালতি গিয়ে পড়ে মাঠের মাঝখানে, সেই হবে ‘ফায়ার হিরো’।
এমনকি কারখানার মালিকও পরে বুঝলেন, আগুন নেভানোই শুধু নয়, দমকল বাহিনী তার জীবন থেকেও আগুন নিভিয়েছে। আগুন তো একদিনের, কিন্তু এই হাসির গল্প সারাজীবন চলবে। তিনি আবার দমকল প্রধানকে ফোন করে বললেন—“ভাই, টাকার চিন্তা করবেন না, ব্রেক যেমন আছে তেমনই থাকুক। আগামী মাসে আমার শ্বশুরবাড়িতে একটা বিয়ে, দরজার ফ্রেমটা একটু ভাঙার দরকার। আপনারা ছাড়া এমন কাজ আর কারা পারবে?”
দমকল প্রধান হেসে উত্তর দিলেন—“আমাদের ব্রেকফেল বাহিনী সব জায়গায় হাজির, শুধু ডাক দিলেই হলো!”
এভাবেই এক দুর্ঘটনা শহরকে হাসির খোরাক বানাল। আগুন নেভানো গেল, কারখানা বাঁচল, মালিক পেলেন জীবনের সবচেয়ে মজার স্মৃতি, আর মানুষ পেল নতুন শিক্ষা—জীবনের অনেক বড় সংকটও অনেক সময় অদ্ভুত হাস্যরসের ভেতর দিয়েই মিটে যায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now