বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রশিক্ষণ কক্ষের সুখের রেসিপি

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। শহরের এক কমিউনিটি সেন্টারে আজ ভীষণ ভিড়। তবে এটা কোনো চাকরির প্রশিক্ষণ না, কোনো বাণিজ্য মেলার ওরিয়েন্টেশনও না। বরং, একেবারে ভিন্ন স্বাদের আয়োজন—“স্ত্রীকে খুশি রাখার কৌশল: সংসার সুখের ট্রেনিং।” সকালবেলা রোদ গরম হতে না হতেই ভদ্রলোকেরা চুপচাপ এসে সারিবদ্ধ চেয়ারে বসলেন। কারও গলায় টাই, কারও হাতে ফাইল, আবার কারও চোখেমুখে এমন উদ্বেগ যেন তারা কোনো বিশ্বযুদ্ধের ব্রিফিং শুনতে এসেছেন। আসলে যুদ্ধ তো কম নয়—এ যুদ্ধ হলো বাসার ভেতরের “সুখের যুদ্ধ।” প্রশিক্ষক ভদ্রলোক, বেশ গম্ভীর চেহারায় মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন। মুখে হালকা হাসি রেখে বললেন— “ভাইয়েরা, যদি আপনার স্ত্রী আপনার কথা না শোনেন, তবে…” সামনের সারির এক স্বামী তৎক্ষণাৎ লাফিয়ে উঠে বললেন—“তবে কী?” প্রশিক্ষক কপালে হাত ঠেকালেন, “এত আগ্রহ ভরে জানতে চেয়ে লাভ নেই।” ভদ্রলোক হতবাক—“কেন?” প্রশিক্ষক গম্ভীর গলায় উত্তর দিলেন—“কারণ, স্বামীর কথা আসলে কোনো স্ত্রীই ঠিকমতো শোনেন না।” কক্ষ জুড়ে হালকা হাসির শব্দ উঠলো। কয়েকজন স্বামী কাশতে কাশতে হেসে ফেললেন, কেউবা মাথা নাড়লেন—“হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন।” একজন সাহসী স্বামী হাত তুলে বললেন—“তাহলে কী করার আছে?” প্রশিক্ষক এবার হাসি মুখে বললেন—“সব সময় স্ত্রীর কথাই মেনে নেবেন। সে হ্যাঁ বললে হ্যাঁ, না বললেও হ্যাঁ। এটাই সুখী সংসারের প্রথম পাঠ।” কক্ষে তখন এক ধরনের চাপা গুঞ্জন। একজন কানে কানে বললেন—“মানে কি, আমরা ট্রেনিংয়ে এসে শিখব কীভাবে ‘হ্যাঁ-মানুষ’ হওয়া যায়?” প্রশিক্ষক গলা খাঁকারি দিলেন। “আপনারা ভুল বুঝবেন না। হ্যাঁ বলা মানেই আত্মসমর্পণ নয়। বরং, হ্যাঁ বলার ভেতরে আছে কৌশল। যেমন ধরুন—আপনার স্ত্রী যদি বলে, ‘আজকে বাজার থেকে মাছ আনতে হবে,’ আপনি হ্যাঁ বললেন। তারপর মাছ আনতে গিয়ে যদি মাছ না পান, তখন বলবেন—‘হ্যাঁ, তোমার কথাই ঠিক ছিল, বাজারে আজ মাছই নেই।’ এভাবে হ্যাঁ বলার ভেতরেও যুক্তি খুঁজে নিতে হবে।” এক কোণে বসে থাকা এক ভদ্রলোক হাত তুললেন। মুখে বেশ ক্লান্ত ভাব—“স্যার, আমার স্ত্রী প্রতিদিনই বলে আমি নাকি তাকে যথেষ্ট সময় দিই না। আমি তো সারাদিন চাকরি করে ক্লান্ত, তবু রাতে বাড়ি ফেরার পর তার গল্প শুনতে বসি। কিন্তু মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে আবার গল্প চালিয়ে যায়! তখন কি করবো?” প্রশিক্ষক দারুণ শান্তভাবে বললেন—“তখনো হ্যাঁ। মানে, আপনি হ্যাঁ বলে আবার চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়বেন। স্ত্রীর মনে হবে আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন, আর আপনি শান্তিতে ঘুমোবেন। এতে সংসারে শান্তিও থাকবে, ঘুমও থাকবে।” কক্ষ জুড়ে হাসির রোল উঠলো। আরেকজন স্বামী উঠে দাঁড়িয়ে বললেন—“স্যার, আমার স্ত্রী যখন রাগ করে তখন আমার দিকে তাকায়ও না। আমি বলি, ‘তুমি সুন্দর লাগছো,’ তখনো বলে—‘তোমার চোখে দোষ।’ আমি যদি বলি, ‘খাবার দারুণ হয়েছে,’ তখনো বলে—‘তুমি আসলেই মিথ্যেবাদী।’ তখনও কি হ্যাঁ বলতে হবে?” প্রশিক্ষক হেসে ফেললেন। “অবশ্যই। আপনি বলবেন—‘হ্যাঁ, আমি মিথ্যেবাদী। কিন্তু তোমার কাছে মিথ্যা বলাই আমার সবচেয়ে বড়ো সত্য।’ দেখবেন, তখনই আপনার স্ত্রী হাসি দিয়ে রাগ ভুলে যাবে।” পেছন থেকে এক তরুণ স্বামী ফিসফিস করে বললেন—“স্যার, এই কৌশলগুলো কি আসলেই কাজ করে?” প্রশিক্ষক আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বললেন—“অবশ্যই। আমি নিজে বিশ বছর ধরে ট্রেনিংয়ে আছি। প্রতিদিনই আমার স্ত্রী আমাকে নতুন নতুন পরীক্ষায় ফেলে। আমি হ্যাঁ-হ্যাঁ বলতে বলতে এত অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে এখন আমার বউ আমাকে বলে—‘তুমি আমাকে কখনো না বলো না।’ তখন আমি বলি—‘হ্যাঁ।’” সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। প্রশিক্ষণ শেষে এক স্বামী বাড়ি ফিরেই শিখে আসা কৌশল ব্যবহার করলেন। স্ত্রী রাগী গলায় বললেন—“আজকে আবার কেন দেরি হলো?” তিনি মিষ্টি হেসে উত্তর দিলেন—“হ্যাঁ, দেরি হয়েছে।” স্ত্রী চমকে গেলেন। “মানে! আমি তো ঝগড়া করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, তুমি হ্যাঁ বলছো কেন?” তিনি শান্তভাবে বললেন—“কারণ, তুমি যাই বলো, আমি তোমার কথাই মেনে নেব।” স্ত্রী অবাক হয়ে কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তারপর হেসে ফেললেন। “আচ্ছা, তুমি আজকে কেমন যেন আলাদা লাগছো।” স্বামী মনে মনে খুশি হয়ে বললেন—“আহা! প্রশিক্ষকের বাণী কাজে লেগেছে।” কিন্তু পরক্ষণেই স্ত্রী বললেন—“তাহলে এখন থেকে প্রতিদিনই বাসন ধোয়ার কাজটা তুমি করবে, ঠিক আছে?” স্বামী ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস করে বললেন—“হ্যাঁ।” হ্যাঁ-মানুষ হবার কষ্ট তখনই টের পেলেন। তবে সংসারে শান্তি বজায় থাকলো। এভাবেই প্রশিক্ষণ কক্ষের সেই হালকা হাস্যরস মাখা নির্দেশনা ছড়িয়ে পড়লো প্রতিটি ঘরে। স্বামীরা বুঝলেন—সংসার সুখী করার রহস্য কোনো বড়ো জাদুবিদ্যা নয়, বরং একটি ছোট্ট শব্দ—“হ্যাঁ।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now