বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
বাংলার এক গ্রামে একদিন পাত্রী দেখার আসর বসলো। সেটা আর পাঁচটা পাত্রী দেখা নয়, বরং পুরোটা যেন বিজ্ঞানের পরীক্ষাগার। সকাল থেকেই মেয়ের বাড়িতে টানটান উত্তেজনা। মেয়ের মা পঞ্চাশবার ফ্রিজ খুলে দেখে নিচ্ছেন ভেতরের পানীয় ঠান্ডা আছে কিনা। বোনেরা গুনে গুনে দেখছে ৩৩ রকম পদ ঠিকঠাক আছে কিনা। খালাতো ভাই আবার টিভির রিমোট হাতে নিয়ে পরীক্ষা করে নিচ্ছে—একটু চাপ দিলেই যেন খবর বা সিরিয়াল চালু হয়।
অবশেষে এলেন ছেলেপক্ষ। তাঁদের হাতে ঝোলা, কারও কাছে আবার ছোট্ট খাতা। মনে হচ্ছিল, তাঁরা পাত্রী দেখতে নয়, বরং বাড়ির ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটে এসেছেন। শুরু হলো ছাদ থেকে তালিকা—“ওই ফ্যানটা কয়টা নম্বর স্পিডে চলে?”, “এই ফ্রিজ কত ইঞ্চি? ব্র্যান্ড কী?”, “টিভিটা মাত্র ৩২ ইঞ্চি? আমাদের ওখানে তো ৫৫ ইঞ্চি!”।
একজন আবার ওয়াশরুমে ঢুকে ভ্যান্টিলেটর, টুথব্রাশের মেয়াদ, টাইলসের রং সব দেখে নিলেন। বোঝাই যাচ্ছিল, বিয়ে হলে সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই তিনি ওয়াশরুমের সিলিকন চেক করবেন।
কিন্তু পাত্রী ছিল ভিন্ন স্বভাবের। ভারী গহনা, চকচকে শাড়ি সব প্রত্যাখ্যান। সোজা ঘোষণা দিল—“আমি কোনো প্রজেক্ট না। সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন করার কিছু নেই। এখনো তো বিয়ে ফাইনাল হয়নি। যে মানুষ আমার সঙ্গী হবে, সে আমাকে এইভাবেই গ্রহণ করুক।”
ছেলেপক্ষের চোখ কপালে। তাঁদের ধারণা ছিল, মেয়েটি নিশ্চুপ বসে থাকবে, আর তাঁরা ধীরে ধীরে তার সিভি উন্মোচন করবেন। কিন্তু ঘটনা হলো উল্টো।
খাবারের টেবিলে ৩৩ পদ সাজানো হলো। কেউ মিষ্টি খেল না—ডায়াবেটিস। কেউ ঝাল খেল না—গ্যাস্ট্রিক। কেউ ঠান্ডা খাবার খেল না—টনসিল। কেউ গরম খাবার খেল না—পেট খারাপের ভয়। শেষে দেখা গেল, তাঁরা সবচেয়ে বেশি খাচ্ছেন সালাদ আর ডাল। মেয়ের খালাম্মা বিরক্ত হয়ে বললেন, “এতসব ঝামেলা থাকলে তো বিয়েতে ডাক্তার ডাকলেই হতো।”
তারপর এলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। পাত্রীর পালা।
—আপনারা বাসে এসেছেন না ট্রেনে?
—কেন?
—না, লোকজন তো অনেক। এতগুলো মানুষ এক গাড়িতে বসবে কীভাবে!
এরপর একে একে প্রশ্ন—গাইতে পারেন? গিটার বাজাতে পারেন? কবিতা লেখেন? পাহাড়ে উঠতে চান? গল্ফ খেলেছেন? নাচেন? ফুটবল বা ক্রিকেট খেলেন? রান্না জানেন?—প্রতিটি উত্তরে পাত্রের উত্তর একই: “না”।
যখন পাত্রী বলল, “রান্না পারেন?” পাত্র গর্বের সঙ্গেই বলল, “ওটা তো মেয়েদের কাজ।” সঙ্গে সঙ্গে পাত্রী বলল, “সঞ্জীব কাপুরের নাম শুনেননি? উনি তো মেয়েদের থেকেও ভালো রান্না করেন। টিভি দেখেন না নাকি?”
সবাই চুপ। পাত্র লাল হয়ে মাথা নিচু করে রইল।
তবে আশ্চর্য হলো, যখন পাত্রী জিজ্ঞাসা করল, “দেশের বাইরে ঘুরেছেন কোথাও?” পাত্র একটু লজ্জিত হাসি দিয়ে বলল, “না, তবে মন চাইলে যেকোনো পাহাড় বা সমুদ্র দেখতে যাবো।”
প্রথমবার পাত্রী একটু নরম হলো। সে বলল, “ভালো। অন্তত স্বপ্ন আছে।”
ঘরে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। পাত্রী আবার হেসে বলল, “আমি বুঝতে পারলাম, আপনি কোনো খেলোয়াড়, কবি বা গায়ক নন। আপনি একেবারে সাধারণ একজন মানুষ। কিন্তু সাধারণ মানুষ মানেই খারাপ না। হয়তো এই সাধারণ মানুষটিই সবচেয়ে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে, যদি মন ভালো হয়।”
ছেলেপক্ষের লোকেরা তখন নিজেদের মধ্যে কানাকানি করছিল। টিভির ইঞ্চি, ফ্রিজের উচ্চতা, ফ্যানের স্পিড সবকিছু মিলিয়ে যে আসল মাপ—মনের মাপ—সেটাই এখানে জিতে গেল।
শেষে পাত্রী বলল, “আমার মনে হচ্ছে, আমাদের মিলনটা খারাপ হবে না। কারণ আমি অতিরিক্ত নাটক চাই না, আর আপনি অতিরিক্ত প্রত্যাশা করেন না। মাঝারি মানেই হয়তো জীবনটা সবচেয়ে সুন্দর হবে।”
সবাই হাসিতে ফেটে পড়ল। খাবারের টেবিলে পরে আবার ঝাল-ঝোল বাদ দিয়ে শুরু হলো লাচ্ছি আর কাবাব খাওয়ার প্রতিযোগিতা। মেয়ের খালাতো ভাই আস্তে বলল, “বিয়েটা হলে তো একদিনও ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক বা টনসিল নিয়ে বাঁচা যাবে না—হাসির কারণে।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now