বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
প্রাচীন কালে, এক পাহাড়ি বনের নির্জন গুহায় সাতজন সাধু তপস্যা করতেন। প্রত্যেকেই নিজেদের পাটি বিছিয়ে বসে, চোখ বুজে ধ্যান করতেন। সেই ধ্যানের ভেতরে কেউ কখনো স্বর্গের ফুল দেখতেন, কেউ আবার বাতাসের শব্দে মহাবিশ্বের গোপন সুর শুনতেন। গ্রামের লোকেরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে তাদের কাছে নানা সমস্যা নিয়ে হাজির হতো— কেউ জমির মামলা, কেউ আবার শ্বশুর-শাশুড়ির ঝামেলা। সাধুরা সবসময় কোনো না কোনো অদ্ভুত কিন্তু আনন্দময় সমাধান দিয়ে দিতেন, যাতে লোকেরা হাসতেও পারত, আবার ভরসাও পেত।
একদিন দুপুরবেলা এক তরুণ লোক পাহাড়ি পথ বেয়ে ক্লান্ত শরীরে সেই আশ্রমে হাজির হলো। তার মুখে অদ্ভুত এক চিন্তার ছাপ। এসে সে বড় সাধুর সামনে প্রণাম করলো আর কাতর গলায় বললো—
— বাবা, আমার বড় কষ্ট। মেয়েরা আমার দিকে তাকায় না। কতবার চেষ্টা করেছি, কেউ একবারও মুখ ফিরিয়ে তাকায় না। আমি কি এতটাই ফ্যাকাশে?
বড় সাধু ধ্যান ভেঙে চোখ খুললেন। আশেপাশে অন্য ছয়জন সাধুও কৌতূহলী হয়ে কান খাড়া করলেন। বড় সাধু কিছুক্ষণ গভীরভাবে লোকটির দিকে তাকিয়ে রইলেন, যেন তার অন্তরটা ভেদ করে দেখতে চাইছেন। তারপর ধীরে ধীরে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন—
— ওরে ছোট, আরেকটা পাটি এখানে বিছিয়ে দে।
ছোট সাধু অবাক হয়ে বলল—
— গুরুদেব, সাতজন সাধুর তপস্যায় এতদিনে পাহাড়ি বাতাস শান্ত হয়ে এসেছে। এখন অষ্টম পাটি কেন?
বড় সাধু হেসে বললেন—
— এই লোকটির সমস্যার সমাধান সাধনার মধ্যেই লুকানো আছে। মেয়েরা যখন তাকায় না, তখন তাকে ‘অষ্টম সাধু’ বানিয়ে দিলেই তাকানো শুরু হবে। মেয়েরা সাধুদের দিকে তাকাতে না পারলেও তাদের গল্প শোনার লোভ সামলাতে পারে না।
সব সাধুরা হো হো করে হেসে উঠলেন। লোকটিও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। সে তো চেয়েছিল কোনো মন্ত্র, কোনো টোটকা, হয়তো তাবিজ-কবচ। অথচ গুরু তাকে সাধু বানাতে চাইছেন!
কিন্তু হাল ছাড়বার মতো অবস্থা নেই। পাটি বিছিয়ে সে অনিচ্ছুক ভঙ্গিতে বসল। ছোট সাধু মজা করে বলল—
— দেখ ভাই, তপস্যার প্রথম শর্ত হলো দাড়ি। কাল থেকে আর শেভ করা চলবে না।
লোকটি হা করে বলল—
— কী! মেয়েরা দাড়িওয়ালা লোককে দেখেই পালাবে না তো?
বড় সাধু হাসলেন—
— পালাবে কেন? দেখিস, এক মাস পর যখন তুই পুরো সাধুর মতো হয়ে যাবি, তখন মেয়েরা তোর দিকে তাকাবেই। তবে তারা তাকাবে ‘ভক্তি’র চোখে, প্রেমের চোখে নয়।
সবাই আবার হো হো করে হাসল।
দিন যেতে লাগল। লোকটি সাধুদের মতো ধ্যান করার ভান করতে লাগল। সকালে উঠে নদীতে গোসল, তারপর ধূপ জ্বালিয়ে বসা। আশেপাশের গ্রাম থেকে মানুষ যখন সমস্যার কথা বলতে আসত, সে চুপচাপ বসে থাকত। মাঝে মাঝে ছোট সাধুর ফিসফাস শুনে হাসি পেত, কিন্তু গুরুদের ভয়ে চুপ করে যেত।
ধীরে ধীরে এক আশ্চর্য ব্যাপার ঘটল। গ্রামের কিশোরীরা কৌতূহলী হয়ে দূর থেকে দেখতে আসতে লাগল। তারা হাসাহাসি করত—
— দেখো দেখো, নতুন সাধুর মুখটা কেমন সরল!
— দাড়িটা কেমন ট্যাঁড়া ট্যাঁড়া হয়ে গেছে।
— আহা, মনে হচ্ছে আমরাও সাধ্বী হয়ে যাবো!
লোকটির বুকটা গর্বে ফুলে উঠল। সে মনে মনে বলল— “বাবা সাধুর কথাই সত্যি। অষ্টম পাটির কৃপায় মেয়েরা অবশেষে তাকাতে শুরু করেছে।”
একদিন এক গ্রাম্য মহিলা এসে বলল—
— বাবা, আমার স্বামী নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করবে বলে হাঁকডাক করছে। কী করি?
লোকটি একটু ভেবে বলল—
— তাকে বলুন, প্রথম বিয়ের গুণাগুণ না শিখে দ্বিতীয় বিয়ে করলে সেটা হবে দ্বিতীয় ভুল।
মহিলা হো হো করে হাসতে হাসতে বলল—
— আহা, এতো ভালো কথা বললেন!
গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে গেল— অষ্টম সাধু কথায়ও বুদ্ধি রাখে!
কিছুদিন পর লোকটির কাণ্ডকারখানা আশেপাশে ছড়িয়ে গেল। যেখানে যেত, মানুষ তাকে সম্মান করে ডাকত— “অষ্টম সাধু বাবা।” আর মেয়েরা তো হরহামেশাই তাকাত। কেউ কৌতূহল নিয়ে, কেউ হাসি-ঠাট্টা করে।
একদিন লোকটি বড় সাধুর পায়ে হাত রেখে কৃতজ্ঞ গলায় বলল—
— বাবা, আপনার কৃপায় আমার সমস্যা মিটে গেছে। এখন মেয়েরা তাকায়, হাসে, গল্প করে। আমি তো সত্যিই অন্য মানুষ হয়ে গেছি।
বড় সাধু গম্ভীর মুখে বললেন—
— বুঝলি বাপ, তাকানো জিনিসটা বাইরের সৌন্দর্যে হয় না। মানুষের ভেতরের ভাব, আচরণ, আর কথার মাধুর্যে মেয়েরা আকৃষ্ট হয়। তুই সাধনার অজুহাতে যখন নিজেকে পরিবর্তন করলি, তখনই তারা তোকে দেখতে শুরু করেছে।
লোকটি বুঝল— আসল রহস্য ছিল নিজের ভেতরের পরিবর্তনে। সে সেদিন থেকে প্রতিজ্ঞা করল, সাধু না হোক, অন্তত মানুষের উপকারে লাগবে এমন কাজই করবে।
এভাবে অষ্টম পাটির জন্ম হলো, আর মানুষের হাসি-ঠাট্টার মাঝেই লোকটি পেল জীবনের আসল সমাধান।
________________________________________
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now