বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
একটি ছোট শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকালটা ছিল তেমনই স্বাভাবিক—ছাত্ররা ঘুমন্ত চোখে স্কুলের মাঠে ঢুকে পড়ছে, গলিতে গলিতে চিৎকার আর হট্টগোল, আর শিক্ষকরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে সব কিছু নজর দিচ্ছেন। তবে এই particular দিনটা ছিল কিছুটা অন্যরকম। কারণ আজকে বিজ্ঞান বিষয়ক ক্লাসে ভাইরাস নিয়ে ছবি আঁকার অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে।
শ্রেণীকক্ষটা ছোট হলেও প্রাণের ভেতর উদ্দীপনা ছিল সীমাহীন। দেয়ালে পোস্টার, কার্টুন চরিত্রের ছবি, রঙিন চার্ট—সবই ছোটদের মনকে আকর্ষণ করছে। শিক্ষক, মিস্টার চক্রবর্তী, একটা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক পরিকল্পনা নিয়ে খাতা হাতে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের দিকে তাকালেন। তিনি ছিলেন সেই ধরণের শিক্ষক, যিনি শিক্ষকতা করেন শুধু পড়ানোর জন্য নয়, বরং হাসি আর কৌতুকের মাধ্যমে জ্ঞানও পৌঁছে দেন।
“আজকে ভাইরাসের ছবি আঁকবে সবাই,” তিনি বললেন, চোখের নিচে ছোট ছোট ভাঁজ, যেনো হাসতে বসেছে। “মনে রেখো, ভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু তোমাদের কাজ হলো কল্পনা দিয়ে, নিজের চোখে ভেসে ওঠা ভাইরাস আঁকা। বুঝলে?”
ছাত্ররা কাগজ আর রঙের সঙ্গে বসে পড়ল। কেউ সাদা খাতা হাতে, কেউ রঙিন পেন্সিল বের করে, কেউ অঙ্কন খাতা খুলে। আর মিস্টার চক্রবর্তী হালকা পেছনে বসে গিয়ে সবাইকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
ক্লাসের মাঝে ছোট্ট রাহুল তার খাতা মেলে, কিন্তু খাতা ছিল সম্পূর্ণ সাদা। শিক্ষক চোখ কুঁচকে বললেন,
“রাহুল! তোকে তো ভাইরাসের ছবি আঁকতে দিয়েছি, তুই সাদা খাতা জমা দিলি কেন?”
রাহুল চুপচাপ, একটু লজ্জা আর হাসির মিশ্রণ নিয়ে উত্তর দিল,
“স্যার, আপনিই তো বলেছেন ভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না।”
শ্রেণীকক্ষে হট্টগোলের মতো হাসি ছড়িয়ে পড়ল। একেকজন হেসে ছিঁড়ে ফেলল—কেউ আবার নিজের খাতা নাচিয়ে দেখাল। মিস্টার চক্রবর্তীর চোখে মৃদু হাসি। তিনি বুঝলেন, রাহুল সত্যিই খুব সোজা-সাপ্টা, এবং তার এই নির্দোষ যুক্তি ছোট্ট শ্রেণীকক্ষে এক নতুন প্রাণবন্ততা ঢুকিয়েছে।
“বাহ! রাহুল, তুমি তো একেবারে সত্যনিষ্ঠ!” তিনি বললেন। “ঠিক আছে, তোর খাতা সাদা থাকুক। কিন্তু বলো, তুই যদি চেয়েও ছবি আঁকতে চাস, কীভাবে আঁকবি?”
রাহুল কিছুক্ষণ ভেবেছিল। তারপর বলল,
“আমি ভাববো, ভাইরাসগুলো ছোট ছোট প্রাণী হিসেবে। তারা ঘোরাফেরা করছে, কিছু প্যাঁচানো, কিছু বেল্টের মতো। আর আমি তাদের কাল্পনিক চোখে দেখব। তাই খাতা সাদা, কারণ আমি তো শুধু কল্পনা করব।”
মিস্টার চক্রবর্তী হাত তুলে বললেন,
“দেখলে! আসল শিক্ষা তো এটাতেই—চোখে না দেখলেও কল্পনার মাধ্যমে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি। তুমি শুধু ভাইরাসের ছবি আঁকছ না, তুমি তো নতুন দৃষ্টিকোণও দেখাচ্ছ!”
শ্রেণীকক্ষে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা রাহুলের সঙ্গে মিশে খাতা আঁকার জন্য অনুপ্রাণিত হল। কেউ কাল্পনিক ভাইরাসকে চোখ, চুল, নাক দিয়ে অঙ্কিত করল, কেউ সরু লাইন আর রঙ দিয়ে ভাইরাসকে নাচতে দেখালো। কিছু ছাত্র এমনকি ভাইরাসের মুখে হাসি অঙ্কন করল, যেনো সে ক্ষুদে হিরো হয়ে গেছে।
রাহুলও হালকা রঙ বের করে, নিজের কল্পিত ভাইরাস আঁকতে শুরু করল। সে অঙ্কন করল এক ধরনের ছোট্ট প্রাণী, যেটা সাদা খাতায় জীবন্ত হয়ে উঠল। এটি ছিল তার সৃষ্টিশীল চিন্তার প্রকাশ, যা তাকে শিখিয়েছে—শুধু বাস্তবতা নয়, কল্পনার মাধ্যমে ভাবনাকে দৃশ্যমান করা যায়।
মিস্টার চক্রবর্তী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবাইকে দেখলেন। তিনি মনে মনে ভাবলেন, আসল শিক্ষা তো হাসি, কৌতুক আর কল্পনার সঙ্গে আসে। শিক্ষার্থীরা ভেবেছে ভাইরাস অদৃশ্য, কিন্তু তাদের মন তৈরি করেছে এক অদ্ভুত, রঙিন, রম্য মহাবিশ্ব।
অবশেষে ক্লাস শেষে সবাই খাতা জমা দিল। রাহুলের সাদা খাতা, যা শুরুতে শিক্ষককে চিন্তায় ফেলেছিল, শেষ পর্যন্ত মিস্টার চক্রবর্তীর ফেভারিট হয়ে গেল। কারণ তা ছিল সেই নির্ভেজাল কল্পনার সাক্ষ্য, যা তাকে মনে করিয়ে দিল—শিক্ষা মানে শুধু চিত্র অঙ্কন নয়, বরং কল্পনা আর হাসির মধ্যে জীবন দেখার ক্ষমতা।
শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় রাহুল বলল—
“স্যার, আমি আজকেই বুঝেছি, ভাইরাস অদৃশ্য হলেও, আমাদের হাসি আর কল্পনা সবসময় দৃশ্যমান।”
মিস্টার চক্রবর্তী হেসে বললেন—
“ঠিক তাই, রাহুল। এবং আজ থেকে এই ক্লাসের নাম হবে—‘ভাইরাস আর হাসির খাতা’। কারণ সত্যিকারের শিক্ষা সবসময় আনন্দের সঙ্গে আসে।”
শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হয়ে ছাত্ররা মৃদু হাসি আর খুশি মন নিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে চলে গেল। আর রাহুল জানল, সাদা খাতা শুধু খালি খাতা নয়—এটি তার কল্পনার মহাবিশ্ব, যা সে চিরকাল স্মরণ করবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now