বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অফিস ট্যুর মানেই স্বপনের কাছে ছিলো একটু মুক্ত বাতাস। নিয়মিত ফাইলপত্র, বসের ধমক আর সহকর্মীদের গম্ভীর মুখ দেখে দেখে তার হাঁপ ধরা অবস্থা। তাই অফিস ট্যুরের ডাক পেলেই সে ভাবতো, “যাক, এবার অন্তত একটু হাওয়ায় নিঃশ্বাস নেয়া যাবে।”
এই ট্যুরেই পরিচয় হয়েছিলো স্বপ্নার সঙ্গে। নাম শুনেই স্বপনের ভেতর একধরনের অদ্ভুত টান কাজ করেছিলো—স্বপন আর স্বপ্না, নামের মিলটা যেন ইশারায় কিছু বলতে চাইছে। অফিসিয়াল কাজের ফাঁকে একসাথে চা-নাশতা, হালকা গল্প আর তারপর ধীরে ধীরে যেন একটা অদৃশ্য সখ্য গড়ে উঠলো।
ট্যুর শেষ হওয়ার পর স্বপ্নাই প্রথম ফোন করলো। স্বপন অবাক হয়েছিলো, তবে ভিতরে ভিতরে একটু আনন্দও হয়েছিলো। তারপর একে একে ফোনের আলাপ দীর্ঘ হতে লাগলো, রাতের আড্ডা জমে উঠলো, এমনকি স্বপ্না এমন সব কথা বলতো যা শুনে স্বপনের বুকের ভেতর কেমন যেন হুল ফোটার মতো সুখ ব্যথা হতো।
একদিন সাহস করে স্বপন চলে গেল স্বপ্নার অফিসে। ব্যাংকের বিল্ডিংটা চকচকে কাচে মোড়া, ভেতরে ঢুকতেই একধরনের ‘প্রফেশনাল’ ভাব। কিন্তু স্বপ্নাকে দেখে স্বপনের সেই ভাব গলে গেল। মাথায় হিজাব থাকলেও পরনের ফতুয়া আর প্লাজু এত আঁটসাঁট যে মনে হচ্ছিল ব্যাংকের চেয়ারগুলোও লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। আর মেকআপ এমন যে পাশ দিয়ে গেলে যে কোনো ক্লায়েন্ট মনে করবে, “এটাই হয়তো ব্যাংকের বিশেষ অফার।”
স্বপন ভেতরে ভেতরে গুটিয়ে গেল। আরও বড় ধাক্কা খেল যখন দেখলো একে একে সবাই বিভিন্ন অজুহাতে স্বপ্নার ডেস্কের পাশে আসছে। কেউ ফাইল খুঁজছে, কেউ সই চাইছে, কেউ আবার এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেন হঠাৎ করে দুনিয়ার সব সমস্যা স্বপ্নার কাছে জমা হয়ে গেছে। আর স্বপ্না সবাইকে সেই অদ্ভুত ন্যাকামি ভরা হাসি দিয়ে গ্রহণ করছে।
স্বপনের মুড একেবারে চিৎ হয়ে গেল। কিন্তু স্বপ্না ছিলো চালাক। খুব দ্রুত বুঝে ফেললো স্বপনের অস্বস্তি। সন্ধ্যায় কফিশপে বসে গম্ভীর গলায় বললো,
— “আমি জানি তুমি খারাপ ফিল করছো। কিন্তু শোনো, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শালীনভাবে চলবো। তোমাকে আমি অনেক লাইক করি।”
এই স্বীকারোক্তি শুনে স্বপনের মনে হলো যেন আইসক্রিমে একচামচ মধু ঢালা হয়েছে। মনের রাগ গলে গিয়ে একটা নরম হাসি ঝুললো ঠোঁটে।
এরপরের কয়েকদিন যেন মধুর সময়। কফিশপে ডেট, লং ড্রাইভে গান শোনা, আর মাঝে মাঝে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। এমন সময় হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত হলো—চল, কক্সবাজার যাই!
কোনো হোটেল বুকিং ছাড়াই তারা ট্রেনে চেপে বসল। ভোরবেলা সমুদ্রের হাওয়া গায়ে লাগতেই স্বপনের বুক ভরে গেল। কিন্তু এই আনন্দ বেশিক্ষণ টিকলো না।
প্রথম হোটেলে ঢুকতেই রিসেপশনের ছেলেটা চওড়া হাসি দিয়ে বললো,
— “আরে, আপা! অনেকদিন পর দেখলাম!”
স্বপনের মনে হলো, “হোটেলটা কি তবে তার মামার বাড়ি?”
দ্বিতীয় হোটেলে গিয়েও একই কাণ্ড। রিসেপশনিস্ট স্বপ্নার দিকে তাকিয়ে বললো,
— “স্যুট খালি নাই আপা, তবে আপনাদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করবো।”
স্বপনের চোখ কপালে। “ব্যবস্থা? এরা এত যত্ন করে কেনো?”
তৃতীয় হোটেলে ঢুকতেই তো মনে হলো স্বপ্নার ছবি হয়তো লবি রুমে টাঙানো আছে। ম্যানেজার হাসিমুখে বললো,
— “আপা, এবার তো স্যুট ফ্যামিলিরা নিয়ে নিয়েছে। তবে পরের বার আগে ফোন দিবেন।”
স্বপনের মনে হলো পুরো কক্সবাজারই স্বপ্নাকে চেনে। যেন এ শহরের ‘অফিশিয়াল অ্যাম্বাসাডর’।
আর দাঁড়ানো গেলো না। একরকম দৌড় দিয়ে বাসে উঠে পড়লো। আর কোনো কথা না বলেই ঢাকার পথে রওনা দিলো।
ঢাকায় ফিরে মোবাইল বন্ধ করে ফেললো কয়েকদিন। কিন্তু স্বপ্না তো আর চুপ করে থাকার মানুষ না। মেসেজের পর মেসেজ, ফোনের পর ফোন।
— “তুমি কেন এমন করলে?”
— “তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না?”
— “আমি তোমাকে ভাইরাল করে দেব!”
স্বপন মাথায় হাত দিয়ে বসে গেল। এইবার বুঝলো, প্রেমিকাকে সামলানো যতটা কঠিন, প্রেমিকার ‘ভাইরাল হুমকি’ সামলানো তার চেয়েও দশগুণ ভয়ংকর।
কিন্তু স্বপন সহজে হার মানার ছেলে না। একদিন খোলা গলায় উত্তর দিলো,
— “ভাইরাল করলে করো। কিন্তু মনে রেখো, আমার নাম স্বপন। মানুষ স্বপ্ন ছাড়া বাঁচে না। স্বপ্নকে ভাইরাল করলে শুধু নামটাই বিখ্যাত হবে।”
এই উত্তর যেন একধরনের কৌতুক হয়ে ছড়িয়ে পড়লো। বন্ধুদের আড্ডায় গল্প শুনে সবাই হেসে লুটোপুটি খেল। কেউ বললো,
— “বস, তুমি তো হিরো!”
কেউ আবার বললো,
— “ভাই, যদি সত্যিই ভাইরাল হয়ো, আমরা তোমার ফ্যানপেজ চালু করবো।”
অফিসেও শুরু হলো খ্যাপানি। সহকর্মীরা বলতো,
— “স্বপন ভাই, কক্সবাজার কবে আবার যাচ্ছেন? ট্যুর প্যাকেজ লাগলে বলেন।”
স্বপ্নার হুমকি আস্তে আস্তে কমে গেল। হয়তো বুঝলো, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।
স্বপনও শিখলো এক বড় শিক্ষা—সব সম্পর্ক আসলে সিরিয়াসলি নেয়ার মতো না। কিছু সম্পর্ক কেবল গল্প হয়ে থাকে। আর সেই গল্পই পরে বন্ধুদের আড্ডায় হাসির খোরাক হয়।
এখন যখনই কেউ তাকে কক্সবাজার নিয়ে খোঁচায়, স্বপন মুচকি হেসে বলে,
— “ভাই, আমি শুধু সমুদ্র না, পুরো ফেসবুক কাঁপাই।”
এভাবেই স্বপন হয়ে উঠলো বন্ধুদের কাছে—“ভাইরাল স্বপন”।
________________________________________
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now