বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মুডের ছায়ায়

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ। তিতাস নদীর ধারের ছোট্ট গ্রামে থাকে নাহিদা। বাইরে থেকে দেখলে তাকে একেবারেই সুস্থ, স্বাভাবিক মেয়ে মনে হয়। হাঁটে, কথা বলে, কাজকর্মও করে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে নাহিদা প্রতিদিন লড়ছে নিজের শরীরের সাথেই। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতেই শরীরটা যেন একেবারে ভাঙাচোরা। চোখ মেলে বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না। অথচ আগের রাতে ঘুম ঠিকমতোই হয়নি। মাথা ভারী, বুকের ভেতর এক অদ্ভুত চাপা কষ্ট। শাশুড়ি রোজ গজগজ করেন— “এত অলসতা কেন? তোর বয়সেই আমরা কত কাজ করতাম!” নাহিদা চুপচাপ শুনে যায়। কাউকে বোঝাতে চায় না যে তার শরীরের ভেতরে এক অদৃশ্য যুদ্ধ চলছে। রান্নাঘরে দাঁড়াতেই হঠাৎ মাথা ঘোরে, হাত কেঁপে ওঠে। কন্যাশিশু স্কুলে যাবার আগে বলে ওঠে— “মা, তুমি না সবসময় রেগে যাও কেন?” নাহিদা ভীষণ কষ্ট পায়। সে তো ইচ্ছে করে রেগে যায় না, হঠাৎ করেই মুড বদলে যায়। একটু পরেই আবার কান্না আসে। মনে হয় জীবনে আর কোনো আনন্দ বাকি নেই। কখনও তার ওজন হুড়মুড় করে বাড়ে, আবার কখনও কমে যায়। খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না, তবুও কখনও অকারণে বেশি খেয়ে ফেলে। আয়নায় তাকিয়ে নিজের চুলের ঝরঝরে অবস্থা দেখে মনটা আরও খারাপ হয়ে যায়। ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে, মুখ মলিন লাগে। চারপাশের মানুষ ভাবে—নাহিদা নিশ্চয়ই নিজের যত্ন নেয় না। স্বামী মাঝে মাঝে বলে— “তুমি একটু কম খাও, প্রতিদিন হাঁটো, সব ঠিক হয়ে যাবে।” শাশুড়ি যোগ করে— “এ সবই ঢং, মন চাইলে সব করা যায়।” কেউ বোঝে না যে এই অসুস্থতা নাহিদার ইচ্ছে বা অলসতার কারণে নয়, বরং শরীরের ভেতরের হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে। বিদেশের উন্নত দেশগুলোতে নাহিদার মতো রোগীদের পরিবারকে নিয়ে বিশেষ কাউন্সেলিং হয়। শেখানো হয় কেমন করে এমন রোগীর সাথে আচরণ করতে হয়, কোন খাবার দেওয়া যাবে, কিভাবে তার মানসিক ভরসা হতে হবে। অথচ এখানে, বাঙালি পরিবারগুলোতে ডিপ্রেশনকে ঢং, মুড সুইংকে চরিত্রের দোষ আর ক্লান্তিকে অলসতা ভেবে এড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিনের মতো নাহিদা আজও রান্নাঘরে বসে আলু কুটছে। ভিতরে ভিতরে মনে হয়— “আমি যদি কাউকে বলতে পারতাম, যদি তারা বুঝত যে আমি প্রতিদিন নিজের শরীরের সাথে যুদ্ধ করি…” চোখের কোণে পানি জমে ওঠে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে নাহিদার জীবন থাইরয়েড নামের এক অদৃশ্য দানবের কাছে প্রতিদিনই ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now