বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ জীবনের গল্প - (পর্ব-০৭)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X শেষ জীবনের গল্প - (পর্ব-০৭) ✍️✍️নাফিজ আহমেদ ভোরের আভা তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। ইমা উঠোনে ঝাড়ু দিতে দিতে চারপাশের নিস্তব্ধতা অনুভব করছিল। সংসারের সব কাজ একা সামলাতে গিয়ে সে প্রতিদিন হিমশিম খায়। শাশুড়ি এখন বৃদ্ধা—সময় আর বয়স তার হাত-পা কেটে দিয়েছে; সকালে এক কাপ গরম চা বা দুই হাঁড়ি রান্নার কাজেও আর সহযোগিতা করার ক্ষমতা নেই। ঝাড়ু শেষ করে ইমা রান্নাঘরে ঢুকল। হাঁড়িতে ডাল চাপানো, পাশে আলু সেদ্ধ—সবকিছু দুপুরের আগে সেরে রাখতে হবে। ছেলে তানভীর আর মেয়ে নেহা তখনো ঘুমে বিভোর। ঘুম থেকে উঠলেই খাবারের জন্য বায়না শুরু হবে। সকাল আটটার মধ্যে ওদের মাদ্রাসায় পৌঁছাতে হয়, তাই হাতে সময় কম। রান্না প্রায় শেষ হতেই দুজনেই ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে এসে দাঁড়াল। — “মা, আজকে কি রান্না করেছো?” — “এই তো, আলু ভর্তা আর ডাল।” নেহা মুখ বাঁকিয়ে বলল, “প্রতিদিন এই এক খাবার! খেতে ভালো লাগছে না। আমি খাবো না।” ইমা ধীরে ধীরে বোঝাল, “আপাতত এটা খেয়ে নে, দুপুরে ভালো কিছু রান্না করব। আজ বাড়িতে আত্মীয় আসছে।” — “কে আসছে মা?” — “কে আসছে সেটা আমিও ঠিক জানি না। শুধু জানি, নাফিজ কাকা আর কয়েকজন আসবেন।” নেহা রাগী ভঙ্গিতে প্লেট সরিয়ে রেখে চলে গেল। তানভীর বরাবরের মতো শান্ত—যা পায় তাই খেয়ে নেয়, অভ্যাসও হয়ে গেছে ছোটবেলা থেকে। ইমার সংসার ছোট—স্বামী নুরু মিয়া, দুই সন্তান, আর বৃদ্ধ শাশুড়ি। নুরু মিয়া তেমন কাজকর্ম করেন না, সংসার টিকিয়ে রাখার মতো যতটুকু দরকার ততটুকুই করেন। তবুও তারা সুখেই আছে। শ্বশুর বেঁচে থাকতে সংসারের অনেক অভাব পূরণ করতেন। বাবাকে ছোটবেলায় হারানো ইমা শ্বশুরের স্নেহকে বাবার স্নেহের মতোই অনুভব করত। গত বছর শ্বশুর মারা গেলে শূন্যতা যেন দ্বিগুণ হয়ে গেল। অনেক দিন লাগল সেই শোক কাটিয়ে ওঠতে। শাশুড়ির ডাকে ইমার মনে পড়ল, উনি এখনো কিছু খাননি। দ্রুত প্লেটে খাবার দিয়ে তার ঘরে গিয়ে দিল, তারপর আবার অন্য কাজে মন দিল। নুরু মিয়াও তখন উঠে গেছে; সামান্য কিছু খেয়ে কাজে বেরিয়ে যাবে—সকালবেলার খাওয়া তার জন্য কখনো নিয়মিত, কখনো অনিয়মিত। দুপুরের রান্না হবে একটু জমিয়ে—আজ অতিথি আসবে। ইমা গোসল সেরে, সব গুছিয়ে রান্নাঘরে ফিরে এল। কাকারা কারা কারা আসবেন সে এখনো জানে না। গতরাতে হঠাৎ নাফিজ কাকার ফোন— — “ইমা, মা কেমন আছো?” — “আলহামদুলিল্লাহ কাকা, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? কাকি কেমন আছেন? সিয়াম ভাইয়ার ব্যবসা কেমন চলছে?” — “সব মিলিয়ে ভালোই আছি মা। তোমাদের বাড়িতে কালকে আসছি।” — “আলহামদুলিল্লাহ! কে কে আসবেন?” — “দেখে নিও, চমক থাকবে।” — “আচ্ছা, তাহলে আমি চার-পাঁচজনের জন্য রান্না করে রাখব।” এভাবেই ঠিক হয় আজকের আপ্যায়ন। রান্না শেষ হতেই উঠোনের দিকে তাকিয়ে ইমা দেখল, কাকারা এসে গেছে। নাফিজ কাকা, বড় ভাইয়া, সিয়াম ভাইয়া—আরও একজন বয়স্ক লোক, যাকে সে আগে কখনো দেখেনি। চেহারায় এক ধরনের গাম্ভীর্য, অথচ অচেনা। ইমা মনে মনে ভাবল—“উনি কে? এর আগে তো কখনো এই এলাকায় দেখিনি…” চলবে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now