বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শান্তিনিকেতনে হৃদয়ের প্রশান্তি- ২য়পর্ব

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X লেখকের নাম --মাজহারুল মোর্শেদ। শান্তিনিকেতনে হৃদয়ের প্রশান্তি- ২য়পর্ব কোপাই-খোয়াই নদী শীতকালের বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে তাই প্রকৃতিতে রোদের বেশ জোর দেখা যায়। পড়ন্ত বিকেলের শেষ আভাটুকু মুছে যাওয়ার আগেই আমরা পৌছে গেলাম কোপাই নদীর পাড়ে। কোপাই-খোয়াই নদী প্রকৃতি ভবন থেকে খুব বেশি দূরে নয়। তবে বিশ্বভারতী বশ্বিবদ্যিালয় থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর হবে। শান্তিনিকেতনের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ময়ূরাক্ষীর এই উপনদী ‘কোপাই’ নামে। শুষ্ক মৌসুমে নদীটি শীর্ণকায় হলেও বর্ষাকালে এর স্রোত বৃদ্ধি পায়। বর্ষাকালে কোপাই নদী ফুলে ওঠে, তবে শুষ্ক মৌসুমে এর গতি মন্থর হয়ে পড়ে এবং নদীর তীরে ভূমিক্ষয়ের ফলে ছোট ছোট খাত বা 'খোয়াই' তৈরি হয়েছে, যা এই নদীকে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এনে দেয়। নদীর খোয়ে যাওয়া এ অবস্থার কারণে স্থানীয়ভাবে একে ‘খোয়াই’ নদী নামে ডাকা হয়। এ নদীকে ঘিরে আছে কবি গুরুর অসংখ্য স্মৃতি। নদী ডাকে, প্রিয় মানুষের মতো করে নাম ধরে ডাকে। উত্তাল ঢেউয়ের কল্লোলে ডাকে, যৌবনভরা মাদকতায় নদী পাড় ভাঙা হৃদয়ের শব্দে ডাকে, বাতাসের সাথে ঢেউয়ের আলিঙ্গনে ডাকে। চোখ বন্ধ করে মন বাড়িয়ে দিলে দূর থেকে শোনা যায় নদীর সেই ভালোবাসার শ্রুতি মধুর কল্লোলীত ডাক। নদীর পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, মুগ্ধতার সমারোহে কবি গুরু প্রাকৃতি খুব কাছাকাছি চলে আসে, হৃদয়ের আলিঙ্গনে ব্যাকুল করে তোলে কবির প্রাণ। সবুজ-শ্যামল নয়ন কাড়া দৃশ্যপট নাড়া দেয় মনের মাঝে। কতটা নিবিড়ভাবে সাজানো প্রকৃতির আয়োজন। একজন প্রকৃতি প্রেমিক খুঁজে পায় তাতে চিন্তার খোরাক। কবি গুরুর দিব্যকর্ণে এসে লাগে নদীর ডাক তাঁর ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়ে। এমনি এক অজানা মুহূর্তে তিনি বেরিয়ে পড়েন নদীর খোঁজে। গোধুলি-সন্ধ্যা কিংবা জোছনা জড়ানো রাতে নতুন করে জেগে ওঠে স্বপ্ন, দেখা দেয় শ্রাবণের অঝোর ধারায়। ঢেউয়ের বুকে টিপটিপ বৃষ্টির ছন্দময় সুর, বয়ে যেতে যেতে বলে কতো কথা। এই নদীর ঢেউয়ের ছন্দময় ভালোবাসার কথা শুনেছেন কবি তার কোলে বসে। নদীর সঙ্গে, ঢেউয়ের সঙ্গে উত্তাল ভালোবাসার বন্ধনে একাকার হয়ে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই নদীর তীরে বসেই "আমাদের ছোট নদী" কবিতাটি লিখেছেন- 'আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর "আমাদের ছোট নদী" কবিতায় কোপাই নদীর সৌন্দর্য ও প্রকৃতির বর্ণনা করেছেন। কবিতাটিতে বর্ষাকালে নদীর জল বৃদ্ধি এবং গ্রীষ্মকালে হাঁটু জল থাকার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শেষ বিকেলে অনেক মানুষ আসে কোপাইয়ের রূপ দেখতে। ক্লান্ত মানুষ সারাদিন খেটে বাড়ি ফেরার পথে কোপাইয়ের হাঁটুজলে শরীর ভিজিয়ে নেয়। সূর্যটাও ডুবে যেতে যেতে নানা কথা বলে যায় কোপাইয়ের জল ছুঁয়ে। শেষ বিকেলের আদুরে আলো অন্যরকম ঘোরলাগা ছড়িয়ে দেয় কোপাইয়ের শরীরে। কনে দেখা আলোয় ডাগর কোপাই দাঁড়িয়ে থাকে তার সব রূপ গায়ে মেখে। তবে আগে যারা কোপাইয়ের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এই নদীর পাড়ে বসে খুব ইচ্ছে হলো আমার তার শীতল জলে দেহটাকে ভিজিয়ে কবি গুরুর স্পর্শ পেতে। কবি গুরু যে জায়গাটিতে বসে কবিতা লিখতেন সেটা প্রকৃতিগত না থাকলেও অনুভবে তার চিহ্নটুকু দেখতে পেলাম। সেই পথ ধরে নিচে নামতে গিয়ে পিছলে পড়ে আমার পুরো দেহটি ভিজে গেলো পানিতে। তবে এতে সামান্যতম কষ্ট বা বিরক্তবোধ হলো না। কারণ এ পানিতে হয়তো বহুবার নেমেছেন কবি গুরু, স্নান করেছেন, ঢেউয়ের স্পর্শে সাঁতারও কেটেছেন। আমরা অনেক পরের প্রজন্ম কবি গুরুকে দেখতে না পেলেও চোখ বন্ধ করে তাঁর সান্নিধ্যের স্পর্শটুকু খোঁজা এটাই বা কম কিশে? সন্ধ্যা পেরিয়ে কখন যে রাত হয়ে গেছে সেটা কেউ ভ্রুক্ষেপও করেননি। মাথার উপর সোনার থালার মতো পূর্ণচাঁদ, চারিদিকে অবারিত জোছনা, ঝিঁঝি পোকারা অবিরাম ডেকেই চলেছে। নদীর দু’ধারে ছোট ছোট ঝোপ-ঝাড়, বেশকিছু বড় বড় গাছও আছে। হঠাৎ চোখে পড়লো মানুষের ভয়ে দিনের আলোয় বের হতে না পারা দু’টো খেকশিয়াল মনের আনন্দে দৌড়া-দৌড়ি করছে। অপেক্ষাকৃত ছোট খেকশিয়ালটি দৌড়ে গিয়ে কোথাও লুকিয়ে পড়ছে, তখন তার প্রিয়তম অপর খেকশিয়ালটি দিশেহারা হয়ে তাকে খুঁজছে। অতঃপর খুঁজে পেলে তার মান ভাঙানোর জন্য আদর করছে। আকাশটা আজ ভীষণ পরিষ্কার, এক ফোটা মেঘের বালাই নেই কোথাও। চাঁদটা আজ পৃথিবীর এতো কাছে এসছে যে মনে হয় হাত বাড়ালেই তাকে ছোঁয়া যাবে। নদীর ধারে একটা নাম নাজানা গাছের অসংখ্যা ফুল ফুটেছে আর্শ্চযের বিষয় হলো সে এরকম ফুল এর আগে কখনো দেখেনি। ফুলটা অনেকটা পলাশ ফুলের মতো কিন্তু রং একেবারে কাঁচা হলুদের মতো। এর গন্ধটা ভীষণ চড়া নাকের ভিতর কেমন যেন সুড়সুড়ি দেয়। কবি ড.সীমা গাছটির একটা চিকন ডাল ধরে ঠিক চাঁদের দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে। চারিদিকে নীরবতা কোথাও কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝে মাঝে ঝিঁঝি পোকাগুলো দলবেঁধে একই সাথে ডেকে উঠছে। দূরের কোনো উঁচু গাছের ডালে বসে নিঃসঙ্গ পাখিটা তার স্বজাতি গলায় বউ কথা কও, বউ কথা কও বলে-অবিরাম ডেকেই চলেছে। নদীর স্বচ্ছ পানির ভিতরে একটু একটু করে লাল হয়ে সরে যাচ্ছে চাঁদটা। আজকের এ অপূর্ব জোছনায়, এই মায়াবি ক্ষণে চাঁদো আকাশের নিচে যেন হারিয়ে যায় পৃথিবী, চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর সব উজার করা রূপমাধুরী। ঘরবিমুখ মন ফিরতে না চাইলেও সময়ের কাছে হার মেনে অবশেষে ফিরতেই হলো। চলমান........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শান্তিনিকেতনে হৃদয়ের প্রশান্তি- ৩য়পর্ব
→ গল্পের নাম-শান্তিনিকেতনে হৃদয়ের প্রশান্তি- ১ম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now