বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হৃদয়ের ধন

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রাম—বাহারকান্দি। আধুনিকতার ছোঁয়া এখনও খুব একটা লাগেনি এই গ্রামে। তবে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা গ্রামের মানুষগুলো সরল, অকৃত্রিম আর আতিথেয়তায় ভরপুর। এই গ্রামে বেড়াতে আসে শহরের এক কিশোর, নাম তার অনিক। ক্লাস এইটে পড়ে। গরমের ছুটিতে মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছে। শুরুর দিকে সবকিছুই তাকে নতুন আর অচেনা মনে হয়। গরু-ছাগল, মাটির রাস্তা, কাঁদা পুকুর, তালগাছের ছায়া—এসব তার শহুরে চোখে অদ্ভুত ঠেকে। একদিন বিকেলে অনিক মাঠের ধারে হাঁটতে বের হয়। হঠাৎ সে খেয়াল করে, কয়েকজন শিশু মাটিতে পিঁপড়েদের দৌড় নিয়ে খেলা করছে। ওদের পোশাক মলিন, কারো পায়ে জুতা নেই, তবুও মুখে হাসির ঝলক। একটি ছেলেকে দেখে অনিক অবাক হয়ে যায়। ছেলেটির নাম কাব্য। বয়স হয়তো অনিকের কাছাকাছি। গায়ে পুরোনো হাফ প্যান্ট, ছেঁড়া গেঞ্জি। কিন্তু মুখে এমন আত্মবিশ্বাস, যেন সে নিজেই নিজের রাজ্য নিয়ে গর্বিত। অনিক লজ্জা পায় প্রথমে, তবে কাব্য হাসিমুখে এগিয়ে এসে বলে, — “তুই শহর থেকে এসেছিস? নাম কী?” — “অনিক।” — “চল, আমরা তালগাছের নিচে খেলি।” পরদিন সকালে কাব্য নিজেই চলে আসে অনিকদের বাড়িতে। হাতে এক গোছা লাউশাক আর কিছু কাঁচা মরিচ। — “এইটা আমাদের বাড়ির বাগান থেকে এনেছি। খেতে দিয়ো।” অনিকের নানী অবাক হয়ে বলেন, — “তোমাদের তো কষ্টে চলতেছে, তবুও এইসব আনলে?” কাব্য মাথা নিচু করে বলে, — “মেহমানের জন্য যা পারি, তাই আনি। আমরা গরিব হতে পারি, কিন্তু মেহমানকে খালি হাতে পাঠানো শোভা পায় না।” অনিক চুপ করে থাকে। এই গ্রামীণ ছেলেটি তার চোখে হয়ে ওঠে অসাধারণ। সন্ধ্যায় অনিক কাব্যদের বাড়িতে যায়। ছোট্ট মাটির ঘর, তবে ভেতরে ভরপুর আন্তরিকতা। চাটাইয়ে বসিয়ে কাব্যের মা পানি দেন, সাথে একটা তালপাতার পাখা। তার বাবা বলেন, — “আমার ঘরে টাকা-পয়সা নাই, তবে আদর-আপ্যায়নে কৃপণতা করিনি কোনোদিন।” অনিকের চোখে জল চলে আসে। শহরে বড় বড় বাড়ি থাকলেও এমন ভালোবাসা তো কোথাও পায়নি!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছাদের ফ্যান থেকে হৃদয়ের স্পন্দন
→ শান্তিনিকেতনে হৃদয়ের প্রশান্তি- ৩য়পর্ব
→ শান্তিনিকেতনে হৃদয়ের প্রশান্তি- ২য়পর্ব
→ গল্পের নাম-শান্তিনিকেতনে হৃদয়ের প্রশান্তি- ১ম পর্ব
→ হৃদয়ের অঙ্গীকার
→ হৃদয়ের নীলপরী (শেষ পর্ব)
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৯
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৮
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৭
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৫
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৬
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৪
→ হৃদয়ের নীলপরী (পর্ব১৩)
→ হৃদয়ের নীলপরী পর্ব ১৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now