বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। মেহেরাব।।
মানুষের জীবনে তার পরিকল্পনা অনুসারে কখনোই অগ্রসর হয় না। আর বড় হওয়ার সাথে সাথে তা আর পরিকল্পনা থাকে না স্বপ্ন হয়ে যায়। সেই স্বপ্নই তাকে আবার নতুন পরিকল্পনা করতে বাধ্য করে। এভাবেই জীবন চলে আর মানুষ সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে থাকে। আর জীবনে কিছু মুহূর্ত তাকে সেভাবেই আঘাত করে যা তার কল্পনার বাহিরে থাকে। এরকম মুহূর্তে তার নিজস্ব বাসস্থান ত্যাগের ইচ্ছা অদ্ভুত কিছুই না।
আমার মস্তিষ্কে এই চিন্তাগুলো এমনে এমনে আসে নাই। এরকম পরিস্থিতি আমাকেও নিজ জীবনে মোকাবেলা করতে হয়েছে এবং নতুন বাসস্থান খোজায় উদ্ভূত করেছে। তো সেই দিনের বা মুহূর্তের বর্ণনা দেওয়াটা আমার জন্য তেমন সুখকর হবে না তা আমি জানতাম কিন্তু প্রকাশের ফলে প্রাপ্ত স্বস্তির খোঁজে লিখে নিলাম।
দিনটি অন্য দিনের মতোই শুরু করার প্রত্যাশায় সকালে ঘুম থেকে উঠি। কিন্তু উঠে কার মুখখানা দেখেছিলাম জানিনা। মধ্যাহ্নের দিকে বাবার সাথে চরম বাজাবাজির পর বাসা থেকে বের হয়ে যাই। তখন প্রায় বিকেল তিনটা । শীতের দিন সুতরাং দিনটিও ছোট বাসায় কখন ফিরব আদোও ফিরব কিনা জানিনা। কিন্তু একটি প্রশ্ন আমার মাথায় হঠাৎ হানা দেয়। বাসায় না ফিরলে যাবটা কই? থাকবো কই?
যেহেতু আমি ঘুরন্ত পিপাসু ছেলে তাই বরিশালের বেশিরভাগ জায়গা আমার মোটামুটি ঘোরা। কিছুদিন আগে এক জায়গায় লক্ষ করেছিলাম কিছু মানুষ কিছু পুরনো বাড়িতে বসবাস করছে দেখেই বুঝলাম তারা সেখানে আসল মালিক নয় উদ্বাস্তু(যারা অন্যের জায়গায় বসবাস করে) ।
আমিও চিন্তা করলাম আমিও এরকম কোন জায়গা আবিষ্কার করবো যেখানে আমি ভবিষ্যতে থাকতে পারি। আর আমার থাকার জন্য কোন সরিষার রাজমহলের প্রয়োজন নেই একটি ছোট রুম হলেই হবে।
আমার মাথায় একটা জিনিস রীতিমতো গেঁথে গিয়েছিল এই বিশাল শহরে এরকম কোন না কোন জায়গা থাকবেই আর আমি তা আবিষ্কার করবই।
এতক্ষণে রাগ তো আমার মাথার তুঙ্গে উঠেছে। বাসায় তো আমি আর ফিরছিই না এটি শপথ নিয়েছি।
এতক্ষণে শহরে পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলে এসেছি। এখানে লোক জনগম তুলনামূলক কম। আর এ কারণেই ওরকম জায়গা পাওয়া আরো সহজলভ্য হবে ভেবে আমি আরো ভালোভাবে খুঁজতে শুরু করি। এদিকে ওদিকে সবদিকেই ছোট বড় দালান কিন্তু ওরকম কিছুই পেলাম না।
তো ঘুরতে ঘুরতে আমি আমার শক্তি চূড়ান্ত পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। অবশেষে ক্লান্তির পথে হাঁটতে হাঁটতে বিশ্রামের উদ্দেশে একটু বসলাম। কাছেই এক দোকান থেকে একটু জল খেয়ে আবার লক্ষ্যে পা বাড়ালাম। এদিকে দিন প্রায় শেষের দিকে। সূর্য তার শেষ আভা দিখিয়ে যেন আজকের জন্য বিদায় জানাচ্ছে। এমন মুহূর্তে এক পরিত্যক্ত দালানের সামনে এসে দাঁড়ালাম। চারপাশে তাকালাম লোকজনও আছে কিন্তু এই দালানের ভিতরে হয়তো কোনো কারণে কেউ থাকছে না।
প্রশ্নটা মাথায় খোঁটা দিলেও কষ্টের ফল পাওয়ার আনন্দে ভিতরে প্রবেশ করি। দেখে মনে হচ্ছে কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। হয়তো আগুন না হলে ভূমিকম্প, কিন্তু একটা রুম মোটামুটি ভালোই ছিল। বসবাসের যোগ্য কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য আমি দোতালায় যাই। না দালানের ভিত্তি তখন মোটামুটি মজবুতই ছিল। আর দালানো ছিল দোতলা।
আমার আনন্দ আমাকে হাসতে বাধ্য করে। নিচ তলার রুমটার সাথের দরজাটাও ভালোই ছিল। সাথে থাকা সাইকেলের ছোট্ট তালাটা সেইটার সাথে মেরে যাই পরে এসে পুরোপুরি দেখবো আর নিজের যেমন ইচ্ছা তেমন করে গুছিয়ে নিব।
ওদিকে আজানের প্রতিধ্বনি যেন কানে হানা দিচ্ছিল, বাইরে বেরিয়ে দেখি সন্ধ্যার অন্ধকার যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ততক্ষণে রাগও আমার তলার তলানিতে মিশে গেছে।
দ্রুত গতিতে সাইকেল চালিয়ে হাসতে হাসতে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরলাম। শহর থেকে একটু দূরে থাকায় বাসায় ফিরতে তুলনামূলক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাই বাসার সবাই খুবই চিন্তিত ছিল হয়তো।
বাসার ভিতরে উঁকি দিতে বাবা প্রায় খেপে উঠেছিল। দেখলাম কাঁদতে কাঁদতে আমায় বকছে। ওদিকে আমি ভুলেই গেছিলাম দুপুরে আমার ঝগড়ার কথা।
সবকিছু ভুলে গিয়ে পড়তে বসলাম কিন্তু একটা পরিকল্পনা করছিলাম, কিছুদিন পর ওই জায়গায় যাব আর দেখেও আসবো কি করা যায়। পরের দিন আবার দৈনন্দিন কাজের চাপে জায়গাটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।
অনেকদিন হয়ে গেছে সেখানে আর যাই নাই। প্রয়োজনও হয় নাই।
হঠাৎ আজকে সেই দিনটার কথা মনে পড়ে। অনেক কষ্টে একটু সময় বের করে সেখানে যেতে সফল হলাম। কিন্তু আমি যেই স্থানে তালাশে গিয়েছিলাম তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। সেখানে জাঁকজমক পূর্ণ দশতলা দালান হয়েছে আর মানুষ বসবাসরত। কিছুই বুঝতে না পেরে বাসায় ফিরে এলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম নিজস্ব বাসস্থান একটাই হয় উদ্বাস্তু হওয়ার প্রতিজ্ঞায় মানুষ তার নিজস্ব বাসস্থান হারিয়ে ফেলে।
সেদিন আমার পরিস্থিতি আর আমার সেই দিনের ঘটনা ,আমাকে এই বিষয়টা লিখতে বাধ্য করে। আর কিছুদিন পর আমার পরীক্ষা থাকায় বিষয়টা অতি সহজে ভুলেও গেলাম।।।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now