বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক ~ মজিবুর_রহমান
পর্বঃ৩
"আমাদের সমাজ এই প্রকার জঙ্গলের মতো।
এখানেও জঙ্গলের পশুদের মতোই বিভিন্ন শ্রেণীর প্রাণ বাস করে। এই প্রাণের মধ্যে কিছু মানুষ, আর কিছু অমানুষ। আর এই অমানুষদের মধ্যে কয়েকটার মস্তিষ্ক এতটাই বিকৃত হয় যে, এরা নিজের রক্তের সম্পর্কের মানুষদের নিয়েও অশ্লীল ফ্যান্টাসিতে ভুগতে থাকে! এই অশ্লীল ফ্যান্টাসি যখন অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়, তখন এটা আর স্বাভাবিক কোনো ফ্যান্টাসি হিসেবে থাকে না। সাইকোলজির ভাষায় এটা Hypersexual Disorder হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অবস্থায় ব্যক্তি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বারবার অশ্লীল চিন্তায় ডুবে যায় এবং এতে দোষবোধ ও মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এটি dopamine seeking habit-এর অংশ, যেখানে মস্তিষ্ক অস্থায়ী আনন্দ পাওয়ার জন্য এই চিন্তার দিকে বারবার ধাবিত হয়। আর এইসব কারণেই দেখা যায়, ছয় মাসের বাচ্চা পর্যন্ত অমানুষের পুরুষত্ব থেকে রক্ষা পায় না।
আমজাদ তালুকদারের ছেলে আয়মান তালুকদার - চারিত্রিক গুণাবলি কার মতো হয়েছে, এটা বলা মুশকিল। অসুস্থ মস্তিষ্কের এই অমানুষটার সর্বপ্রথম শিকার ছিল কাজের মেয়ে শেফালির আট বছরের বাচ্চা মেয়েটা। ক্ষমতার জোরে সব ধামাচাপা দিয়েছিলেন মোহসিন তালুকদার। এই ঘটনার যেন পাঁচকান না হয়, সেই জন্য শেফালির জীবনটাও হারাতে হয়েছে অকালে। জীবনে কোনোদিন খারাপ কাজ না করা মোহসিন তালুকদার নিজের অন্যায়ের জন্য একসময় সামান্য মুহূর্তের জন্য হয়তো অনুশোচনা বোধ করেছিলেন। এই কারণেই হঠাৎ সকল দায়িত্ব বড় ছেলে আশরাফ তালুকদারের কাঁধে দিয়ে নিজে চলে যান সিলেটের বাগানবাড়িতে।
আয়মান যে এখনো অসুস্থ, সেটা বুঝতে পারল আরিয়ানার প্রতি আয়মানের দৃষ্টি দেখে। এই জিনিসটা শুধু সে না, আরিয়ানাও বুঝতে পেরেছে - সেটা তিনি ভালো করেই বুঝেছেন আরিয়ানার খাবার খেতে না পারাটা দেখে।
-'আমি এখানে বসে খেতে পারব না, চাচি। রুমে যাচ্ছি।'
বলে, এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেনি আরিয়ানা। একা যায়নি, সাথে হেনাকেও নিয়ে গেছে। বিষয়টা কেউ অস্বাভাবিকভাবে না নিলেও, মোহসিন তালুকদার নিয়েছেন। সে খাবারের টেবিলে বসেই একটা সিদ্ধান্ত নিলেন, খুবই অদ্ভুত একটা সিদ্ধান্ত।
গণিতের সমীকরণ এবং জীবনের সমীকরণের একটা সুন্দর মিলনের স্থান হচ্ছে - উভয় সমীকরণে বিশ্লেষকের ঘুম চলে যায়।
আশরাফ তালুকদার, পাবেল, নোমান চৌধুরী, জামাল শেখ এবং খুনি শিকদারের সমীকরণ মিলাতে এসআই আকরামের এক সপ্তাহ নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে। বলাবাহুল্য, সে নির্ঘুম রাতগুলো একা কাটায়নি, সাথে কামরুলকে নিয়েছে। সম্পূর্ণ সমীকরণ সমাধান না করতে পারলেও, সে সমীকরণটা সমাধানের দরজাটা খুলতে পেরেছে।
জামাল শেখ - শুদ্ধ মানুষের আড়ালের এক কীটের নাম।
আশরাফ তালুকদারকে হত্যা করার জন্য খুনি শিকদারকে হায়ার করা হয়েছিল। আর পাবেল হচ্ছে সেই হাতিয়ার। আর প্রমাণ ধ্বংসের জন্য পাবেলকেও রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আশরাফ তালুকদারকে হত্যা করে জামাল শেখের কী লাভ হলো, সেই সরল অঙ্কটা সে এখনো সমাধান করতে পারেনি।
নোমান চৌধুরী প্রায় তিন বছর পর মোহসিন তালুকদারের সাথে দেখা করতে এলেন।
ছাত্র অবস্থায় সম্পর্কটা যেমন ছিল, অনেকদিন দেখা-সাক্ষাৎ না থাকা এবং ছেলের প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে সেই সম্পর্কে অনেকটা শীতলতা নেমে এসেছে।
'কেমন আছ, নোমান?'
ছেলের মৃত্যুর পর মাথাটা অনেকটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই যখন এসআই আকরাম জানতে চাইল, কাউকে সন্দেহ করি কিনা, তখন নোমান চৌধুরীর নামটা একপ্রকার মনের অজান্তেই বলে ফেলেছিলেন তিনি। যে ছেলেটা আশরাফের সাথে সারা শৈশব কাটিয়েছে, সে আর যাই হোক, তার ছেলেকে মেরে ফেলার চিন্তা নিশ্চয়ই করবে না।
'ভালো আছি, চাচা।'
পুলিশের কাছে তার নাম বলায় মোহসিন তালুকদার নিজেই অনেকটা লজ্জিত - এটা নোমান চৌধুরী খুব সহজেই বুঝতে পারলেন। তাই সে বিষয়ে কোনো কথা আর তুললেন না।
পাল্টা জিজ্ঞাসা করলেন, 'আপনি কেমন আছেন?'
'এই আছি, যেমন থাকার কথা!'
'নির্বাচনের কাজ কতদূর? নমিনেশন কি পাবে মনে হয়?'
'সব ঠিকঠাক থাকলে পেয়ে যাব মনে হয়, আর বাকিটা আপনার দোয়া।'
'দোয়া তো অবশ্যই করব।'
আশরাফ তালুকদারের মৃত্যুর চল্লিশ দিন পার হয়েছে।
এই চল্লিশ দিনে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যতীত বাকি সবার আচরণে আমূল পরিবর্তন এসেছে।
আব্বাস, যে ব্যক্তি সোহেলের ধারে কাছেও যেত না, সে এখন যাবতীয় কাজে সোহেলের পরামর্শ নেয়। সোহেল অবশ্য তাকে একটা কাজ ইতোমধ্যেই দিয়ে ফেলেছে - সেটা হচ্ছে সারাক্ষণ আয়মানের দিকে নজর রাখা।
আর সোহেল?
তার আচরণে বলা মুশকিল, সে এখন কী করছে। তবে সে আরিয়ানার আশেপাশে যেন কোনো কালো ছায়া না আসে, সেদিকে নজরদারি করছে। এখন পর্যন্ত এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি অবশ্য, তবে যদি ঘটেও, তার ব্যবস্থা আশরাফ তালুকদার আগেই করে রেখেছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে নোমান চৌধুরীর আচরণে।
যে ব্যক্তি গত কয়েক বছরে তালুকদার পরিবারের দিকে তাকিয়েও দেখেনি, সেই ব্যক্তি এই চল্লিশ দিনে চারবার এসে পড়েছে মোহসিন তালুকদারের সাথে দেখা করতে! নির্বাচনের যাবতীয় পরামর্শ এখন সে মোহসিন তালুকদারের সাথেই করে।
'স্যার, আশরাফ তালুকদার, জামাল শেখ এবং নোমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী।'
এসআই আকরাম কনস্টেবল কামরুলকে দায়িত্ব দিয়েছিল এই তিনজনের ইতিহাস ঘেঁটে দেখার জন্য। কিন্তু সে যে এত বড় একটা ফলাফল নিয়ে আসবে, সেটা সে কখনো ভাবতে পারেনি।
'বুঝলে কামরুল, কেসটা যতটা সরল আমরা ভাবছি, এতটাও সরল না! এই কেসটা ইতিহাস টেনে আনবে, এবং সেই ইতিহাস একটা নতুন ইতিহাসের জন্ম দেবে। আর কিছু আছে?'
'ঐ একই ব্যাচে পড়ত জোবায়দা খান।'
'উনি কে, কামরুল?'
'আশরাফ তালুকদারের স্ত্রী।'
এই পর্যায়ে এসআই আকরাম আর চেয়ারে বসে থাকলেন না।
'চলো কামরুল, আমরা ঢাকায় যাচ্ছি।'
ঘুমের সময় মানুষের মস্তিষ্ক দিনভর যা দেখে, শোনে ও যে বিষয়গুলো অনুভব করে, সে বিষয়গুলো সাজায় এবং স্মৃতিতে রাখে - এজন্য মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখার সময় মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে এবং আমাদের ইচ্ছা, ভয়, আনন্দ বা দুশ্চিন্তার মতো অনুভূতিগুলোও প্রকাশ পায়। কখনো কখনো মস্তিষ্ক এলোমেলোভাবে পুরনো ও নতুন তথ্য একসাথে মিশিয়ে ফেলে, এজন্য স্বপ্নে অপ্রত্যাশিত বা অদ্ভুত ঘটনা, মানুষ বা স্থান চলে আসে। এগুলো আমাদের অবচেতন মনে থাকা চিন্তার প্রকাশ।
পড়ো আরিয়ানা,
'আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যায়।
ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যায়।'
এর পরে আর পড়েনি আরিয়ানা।
'চলো না মা, মামার বাড়ি যাই।'
'যাবো তো, আগে তুমি কবিতাটা সম্পূর্ণ শিখ। তারপর আমি, তুমি আর তোমার বাবা একসাথে মামার বাড়ি যাব।'
'এই কি মজা! কি মজা!'
ছোট্ট আরিয়ানার আনন্দ করার মুহূর্তেই জোবায়দা খান শূন্যে মিলিয়ে গেল। আর এই দৃশ্যটা দেখল এক জোড়া অশ্রুভেজা চোখ।
'এই আরিয়ানা, উঠ। কান্না করছিস কেন? উঠ!'
ফুপুর ডাকে আরিয়ানার ঘুমটা ভেঙে গেল। এই স্বপ্নটা কয়েক দিন ধরেই দেখছে সে। কিন্তু অনুভূতিটা এতই প্রখর যে, স্বপ্ন ভাঙার পরও এর রেশ রয়ে যায়!
'কি হলো বল, খারাপ স্বপ্ন দেখেছিস?'
বাংলাদেশে সাধারণত কেউ মারা যাওয়ার চল্লিশ দিন পার হওয়ার পর চল্লিশা নামে এক ধরনের অনুষ্ঠান করা হয়। এই দিন সাধারণত বাঙালি মুসলিমরা মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত, গরিব-মিসকিনদের খাবার খাওয়ানোর আয়োজন করে থাকে। যদিও ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য এরকম দিবস ভিত্তিক কোনো অনুষ্ঠান করার আদেশ-নিষেধ নেই, তারপরও মানুষ মৃত ব্যক্তির জন্য এই কাজগুলো করা এক প্রকার সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলেছে।
সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই আফসানা তালুকদার এসেছেন তালুকদার মঞ্জিলে। তবে এর পাশাপাশি আরেকটা পরিকল্পনাও আছে তার। রাতেই এসেছেন তিনি। পরিষ্কার হয়ে এসেছিলেন আরিয়ানার ঘুমটা পর্যবেক্ষণ করতে। দশ বছর বয়সে মা হারানো মেয়েটা এখন একেবারে এতিম হয়ে গেল। বয়সও হয়ে গেছে বিশ বছর। অবিবাহিত বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে বাংলাদেশে কোনো কালেই নিরাপদ না! সেটা বাইরের পরিবেশ হোক আর ঘরের ভিতরেই হোক।
তাই এখনই উপযুক্ত সময় মেয়েটার জন্য প্রকৃত গার্জিয়ান খুঁজে বের করা।
'মাকে দেখলাম, ফুপু। কখন এসেছ তুমি?'
'কিছুক্ষণ আগে।'
'বাড়ির সব ঠিকঠাক আছে? আয়মান ছেলেটা কোনো ঝামেলা করেনি তো?'
'এখনো করেনি, ফুপু।'
'তবে আমার মনে হচ্ছে, দাদা আমাকে আর তাকে নিয়ে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানাবেন।'
'তুই রাজি হবি?'
'তোমার কি মনে হয়, ফুপু?'
আফসানা তালুকদার এরকম ঠান্ডা কণ্ঠ কোনো দিনই শোনেননি আরিয়ানার গলায়। এত বড় একটা পরিকল্পনায় এরকম ঠান্ডা আচরণ কখনোই আরিয়ানার থেকে আশা করেননি তিনি। যেই মেয়েটা পুরো বাড়িটা একসময় মাতিয়ে রাখতো, সেই মেয়েটা একদম পাথরের মতো হয়ে গেছে! অথচ এই ঘটনায় মেয়েটার আচরণ অন্যরকম আশা করেছিলেন তিনি।
'রাজি হবিনা তুই, তাই না?'
আরিয়ানা ভয় পাচ্ছে না, এমন নয়। বরং আশরাফ তালুকদার বেঁচে থাকতে যদি এই বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, তাহলে যেরকম ভয় পেত, তার চেয়েও বেশি ভয় সে এখন পাচ্ছে। কিন্তু সবসময় নিজের দুর্বলতা মানুষের সামনে দেখানো উচিত নয়। কারণ একবার যদি তার দুর্বলতা সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে তার সেই দুর্বলতাকে ব্যবহার করার লোকের অভাব হবে না। তাই তার ফুপুর সামনে এরকম ঠান্ডা আচরণ করেছে সে। আফসানা তালুকদার তার রুম থেকে যাওয়ার পর সারারাত আর ঘুম হয়নি তার।
আশরাফ তালুকদারের মৃত্যুর পর আজ নোমান চৌধুরীর জন্য দ্বিতীয় খুশির দিন। কারণ দল থেকে তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। এই খুশিতে সে পুরো সদরে মিষ্টি বিতরণ করছে। সেই মিষ্টির কিছুটা এসেছে তালুকদার মঞ্জিলে। স্বয়ং নোমান চৌধুরিই নিয়ে এসেছে। দোতলা থেকে আরিয়ানা বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করল। হিজাব পরা মুখটায় একপ্রকার বিরক্তি এসে গেল তার। তার মাথায় ঢুকছে না, আজ যেখানে বাবার থাকার কথা ছিল, সেখানে এই নোমান চৌধুরীর, তারপরও তার পরিবারে এতো খুশি কেন? সে আর দাঁড়িয়ে থাকল না, রুমে চলে গেল।
যখন একজন মানুষ বুঝতে পারে কেউ তাকে ফলো করছে, তখন তার "Fight or Flight" রেসপন্স (লড়াই বা পালানোর স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়া) চালু হয়ে যায়। এটি আমাদের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (Amygdala) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা বিপদের সংকেত পেলে শরীরকে সতর্ক অবস্থায় নিয়ে আসে। তখন শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বৃদ্ধি পায়, ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয়, পেশি টানটান হয় এবং চোখ ও কান চারপাশের দিকে বেশি সতর্ক হয়। মনে একটি অস্পষ্ট ভয় ও শঙ্কার অনুভূতি তৈরি হয়। এটি হাইপারভিজিল্যান্স (Hypervigilance) তৈরি করে, যার কারণে ব্যক্তি চারপাশের প্রতিটি আওয়াজ ও নড়াচড়া খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতে থাকে। কেউ ফলো করছে জানার পর মস্তিষ্ক "এটি বিপদ কি না" তা বারবার বিচার করতে গিয়ে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। এ সময় মস্তিষ্কের মধ্যে নিরাপত্তা, পালানোর রাস্তা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির অনুমান চলতে থাকে।
গত এক সপ্তাহ ধরে আরমানের মস্তিষ্ক তাকে জানান দিচ্ছে, কেউ তাকে অনুসরণ করছে। কিন্তু পিছনে তাকানোর পর সে সন্দেহভাজন কাউকে দেখতে পায় না। আশরাফের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর সে এমন কোনো কাজ করেনি, যার জন্য তাকে অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি আশরাফ তালুকদারও আর জীবিত না। সুতরাং, আশরাফ তালুকদারের লোকদের জন্য তাকে অনুসরণ করার মতো কোনো কারণ নেই। তার মানে, তাকে যারা অনুসরণ করছে, তারা আশরাফ তালুকদারের লোক না।
আবার পিছনে তাকালো আরমান।
না, এবার সত্যি সত্যি দুইজন লোক - কালো হুডি পরা। অতি দ্রুত তার নিকট এলো এবং তার নাকে রুমাল ধরল।”
চলবে......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now