বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Dream Lock
Writeramir Hasan
Ep.01 The Walking Dead)
ঘুম ভাঙতেই সামির জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকায়। চারদিকে যেন নীরবতার এক অদৃশ্য চাদর নেমে এসেছে। পাখিরা পর্যন্ত ডালে বসে নেই, নেই কোনো কিচিরমিচির শব্দ। হাওয়ার ঝাপটাও যেনো থেমে গেছে।
এখনও ফোনে মেসেজ আসছে—
“Don’t go outside.”
“Where are you?”
“Please, pick up the call.”
সামির কিছুক্ষণ আগেই ঘুম থেকে উঠে ফোন অন করে। প্রতিদিনের মতো আজকেও ভোর সাড়ে চারটায় ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে। অন্যান্য দিন সামির ঘুমোয় না তবে আজ কেন জানি তার মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করছিল তাই সে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মাঝে টুংটাং মেসেজের শব্দে বিরক্ত হয়ে ফোন বন্ধ করে রেখেছিল।
ছয়টার দিকে উঠে চারপাশের এই অস্বাভাবিক পরিবেশ আর ফোনে আসা বার্তাগুলো দেখে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। মাথায় এখনো সামান্য ব্যাথা আছেই! সবকিছু কেমন যেনো অস্বাভাবিকভাবে শান্ত।
পরিস্থিতি বোঝার জন্য কিছু না ভেবে সে ছাদে উঠে যায়।
ছাদ থেকে চারদিকটা দেখে সামিরের গা শিউরে ওঠে। প্রথমে সে কিছুই বুঝতে পারে না। কিন্তু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর তার মনে হতে থাকে যেনো তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। সে চারপাশে তাকিয়ে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না। রাস্তায় খুব বেশি মানুষ নেই। তবে যারা আছে তাদের দেখে সরাসরি মানুষ বলা যায় না। যারা হাঁটছে তাদের চোখ ফাঁকা, মুখ বিবর্ণ— যেন জীবন্ত লাশ!
জোমবি!
সামির কাল বিকেলে তার নানুর বাসা থেকে শহরে এসেছিল। সামিরের এসএসসি পরীক্ষা শেষ তাই এই ছুটিতে সামির, তার আম্মু আর তার ছোটভাই সবাই তার নানুর বাসায় গেছিল। কিছুদিন সেখানে থাকে। তারপর সেখান থেকে তার খালাতোভাই ফাহিমের সাথে আবার শহরে ফিরে আসে পরেরদিন রাজশাহী ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু মাত্র এক রাতের ব্যবধানে এমন কী হয়ে গেলো?
আম্মু-আব্বু, ওয়ালিদ... সবাই ঠিক আছে তো?
ফাহিম সামিরের সাথে তার রুমেই ঘুমিয়েছিল। সামির ছাদ থেকে ভয়ে দৌড়ে রুমে গিয়ে ফাহিমকে ঘুম থেকে ডাকে। ঘুম ঘোরে থাকা ফাহিমকে টেনে ছাদে নিয়ে আসে।
ফাহিম প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না—
কিন্তু একটু পর চারপাশ দেখে সেও রীতিমতো ভয় পেয়ে যায়।
তারপর দুজন দ্রুত রুমে চলে আসে। সামির তাড়াতাড়ি করে মাকেসহ সবাইকে এক এক করে কল দিতে থাকে, কিন্তু কেউ কল রিসিভ করে না।
ফেসবুক, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ঢুকে দেখে— এই ঘটনা শুধু তাদের আশেপাশে নয়, বরং পুরো পৃথিবী জুড়ে সবাই জোমবি হয়ে গেছে।
হ্যাঁ, জোমবি! যেটা আমরা ছোটবেলায় গল্পে শুনেছি কিংবা সিনেমায় দেখেছি। কিন্তু বাস্তবে দেখতে হবে— সেটা তো কল্পনাতেও আনেনি সামির।
ভাবনার মাঝেই হঠাৎ ফোনে একটা কল আসে। নাম্বার দেখে একটু স্বস্তি পায়। কল ধরে—
সামির: “হ্যালো!”
তানিহা: “হ... হ্যালো ভাইয়া...”
ফোনের ওপাশে তানিহা কথা বলছে। তানিহার কণ্ঠে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ।
সামির: “তানি, কী হয়েছে? তুই ঠিক আছিস তো? আম্মু কোথায়?”
তানিহা: “সবাই কেমন যেনো হয়ে গেছে ভাইয়া…”
সামির: “শেফা, জীম আপু, জেবা, ওয়ালিদ? ওরা ঠিক আছে তো?”
তানিহা (কাঁদতে কাঁদতে): “কেউই ঠিক নেই ভাইয়া। প্লিজ তুমি তাড়াতাড়ি আসো।”
সামির বুঝতে পারে বড় কিছু ঘটেছে।
তানিহা (কাঁপা গলায়):
“আমি পানি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে রান্নাঘরের দিকে যেতে থাকি। হঠাৎ মেজো ফুপির রুম থেকে কিছু একটা পরে যাওয়ার আওয়াজ শুনে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি মেজো ফুপি আর ওয়ালিদের চেহারা কেমন যেনো হয়ে গেছে। ওরা আমার দিকে আসতে দেখে আমি দ্রুত দরজা বন্ধ করে দেই। পাশের রুমে হঠাৎ শেফা আপুর চিৎকার শুনে আমি সেখানে যাই। তারপর গিয়ে দেখি ওদেরও একই অবস্থা। এসব দেখে আমি ভয়ে রুমে ফিরে আম্মুকে ডাকতে যাই, দেখি আম্মুও ওদের মতো চেহারা নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।
আমি বাবার ফোন নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে রেখেছি।
ভাইয়া, আমার খুব ভয় করছে। প্লিজ তুমি আসো...!”
সামির: “তুই চিন্তা করিস না। ওখানেই থাক, ওরা কিছু করতে পারবে না। আমি আসছি।”
সামির কল কেটে ফাহিমকে রেডি হতে বলে।
দুজন ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নেয়। নামার সময় সব দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়।
ওরা যে বাসায় থাকে সেটা চারতলা বাসা। ওরা তিন তলায় থাকে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সামির ফাহিমকে তানিহার বিষয়ে সব ঘটনা বলে।
ফাহিম: “এক রাতেই এতো কিছু কীভাবে হলো?”
সামির: “শুধু আমাদের না... পুরো দুনিয়াতেই একই অবস্থা।”
হঠাৎ সামির থেমে যায়।
কিছু একটা ভাবছে। সে সোস্যাল মিডিয়াতে যাদের পোস্ট দেখেছে সেখানে সবাই ছোটরা, মানে টিনেজাররা। ওরা তো জোমবি হয় নি! তবে কী শুধু টিনেজের উপরে যারা আছে শুধু তারাই… এমন হলে তো সিয়াম...
তারপর সে সিয়ামকে কল দেয়,,
সিয়াম: “হ্যালো, সামির? তুই বেঁচে আছিস তো? নাকি তুইও জোমবি হয়ে গেছিস? এসব কী হচ্ছে?”
সামির: “ইয়ার্কি করিস না! আমিও বুঝতে পারছি না এসব কী হচ্ছে। শুন, শুধু আমি না, আমার মনে হয় পৃথিবীর সব টিনএজাররা মানে বিশ বছরের নিচের সবাই এখনো ঠিক আছে।”
সিয়াম: “মানে? তার মানে বিশ বছরের ওপরে যারা, শুধু তারাই জোমবি হয়ে গেছে? আমার তো সতেরো।”
সামির: “হ্যাঁ, তবে এখনো সিওর না! যদি আমার অনুমান ঠিক হয় তবে আমাদের হাতে সময় কম, যারা জোমবি হয়ে গেছে তারা বাকিদেরকেও জোমবি বানিয়ে ফেলছে। আমাদের সবাই একত্রিত হতে হবে।”
সিয়াম: “তোর অনুমান কখনো ভুল হয়েছে? আমি জানি, আমি একবার একটা মুভিতে দেখছিলাম, জোমবিরা সাধারণ মানুষদের কামড় দিলে তারাও জোমবি হয়ে যায়। আচ্ছা তুই এখন কোথায়?”
সামির: “আমার বাসার নিচে, ফাহিমের সাথে দাঁড়িয়ে আছি। আচ্ছা আন্টি কোথায়?”
সিয়াম (হঠাৎ রেগে): “কারো অবস্থা জানার সময় আছে তোর? আমি তোকে সকাল থেকে কতবার কল দিলাম! ফোন বন্ধ!”
সামির: “আমি আসলে…”
সিয়াম: “বাদ দে! আম্মু গ্রামের বাসায়। আম্মুর খবর জানি না।”
সামির: ”তুই চিন্তা করিস না। আমি তোর কাছে আসছি।”
সিয়াম: “তোর আসতে হবেনা, আমি-ই আসছি। আমার কাছে সাইকেল আছে।”
সামির: “ঠিক আছে, সাবধানে আসিস। রাস্তায় কিন্তু জোমবিরা থাকতে পারে!”
সামির কল কেটে ফাহিমকে বলে—
“ফাহিম, এসব কী হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদেরকে সবকিছু জানতে হবে। আর সবাইকে ঠিক করার কোনো না কোনো উপায় বের করতেই হবে।”
ফাহিম: “আমি তোমার সাথে আছি ভাই।”
দুজনেই এরপর দৃঢ় মনোবলে এক অজানা লক্ষে রওনা হয়...
To be continued...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now