বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জয়নবের আম্মা

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fatema Jannat Amrin(guest) (০ পয়েন্ট)

X লেখক : ফাতেমা জান্নাত আগের দিনের গ্রাম অঞ্চল বলে কথা, মানুষের থেকে জিন ভূত বেশি বসবাস করতে তখন, এখনের জেনারেশন এর কাউকে জিজ্ঞেস করেন জিন দেখেছি কিনা, কয়জন হ্যাঁ বলবে তা জানি না কিন্তু তার পরিমাণ যে বেশি হবে সেইটা না, তবে আপনার নানি কিংবা দাদীকে জিজ্ঞেস করে দেখেন, সকলেই একই উত্তর দিবে, হুম দেখেছি হয়েছে, কেউ জবাব দিবে হে দেখেছি, কেউ জবাব দিবে অভিজ্ঞতা হইছে, আবার কি কোন কোন সময় শুনবা স্বয়ং ভুতের ঘাড়ে নিয়ে নিয়ে ঘুরতো,, কেউ কেউ তো দৌড়াইও দিছে নাকি ভূতকে ঠিক তেমনি আমার নানি একবার ভূতকে আচ্ছা দৌড়ানি দিয়েছিল, আমার নানীর অনেক আগে থেকেই পিঠা বানানো বড্ড শক, আমার আম্মা কখনো আমাদেরকে পিঠা বানিয়ে খাওয়ায় নাই, যখন আমাদের পিঠা খেতে মন হইত তখনই নানুর বাড়ি চলে যেতাম, তেমনি একদিন শীতের দিনে নানির বাড়িতে রাতের বেলা নানির পাশে বসে মেরাপিঠা বানাচ্ছিলাম আমরা সকল কাজিনরা, হঠাৎ নানিকে বললাম একটা গল্প বলো নানি, নানি অমত করলো না বলতে থাকলো,, সে কিন্তু আবার রাজা রানীর গল্প বলে নাই। আমার নানি শুরু করল তার সাথে ভূতের অভিজ্ঞতার গল্পগুলো, ওমা রাতের বেলা ঠান্ডা কুল কুলে বাতাসের মধ্য দিয়ে গম্ভীর আবহাওয়া ভূতের গল্প অদ্ভুত ফিলিংস হচ্ছিল, মনে হচ্ছে পিছন থেকে এখনই কেউ জড়িয়ে ধরবে, গলায় টিপে ঘাড় ভেঙ্গে দিবে,নানি বলতে লাগলো আগে থেকেই নাকি তার পিঠা বানানোর বড্ড শখ, দিন নাই রাত নাই যখন মন চাইতো পিঠা বানানো শুরু করতো, তেমনি একদিন সারারাত ধরে পিঠা বানানোর আয়োজন শুরু করে, এবং শেষ রাতের দিকে তেলের পিঠা বানানোর জন্য রান্না করে গিয়ে হাজির হয়, তখনকার রান্নাঘর নিশ্চয়ই কোন বেল গাছ কিন্তু আম গাছের তলে হবে হুম সেটাই ছিল, নানী মনোযোগ দিয়ে পিঠা বানানো শুরু করি অমনি নাকি পিছন থেকে মট মটিয়ে আওয়াজ শুরু হয়,, পাটকাঠির সলা কে যেন বসে বসে ভাঙছে, নানী ভারী গলায় প্রশ্ন করল -কে ওখানে? হালকা সৌর কন্ঠে উত্তর দিল -আমি, জয়নবের আম্মা। নানী উত্তর দিল -তো এত রাত্রে এখানে কি কর সংসারাদিন নাই নাকি,, -না গো ভাবি, পিঠা বানাইতাছো যেই সুবাস ছাড়ছে! আমি কি পুরা দুনিয়ার মানুষ আয়া পড়বো।ভাবি আমারে একটা পিঠা দিবা আমি খামু,, -তাই বলে তুমি রাত্রে পিঠা খেতে চলে আসবে ও আরেকবার বেটির রান্দাঘরে,,কিসের পিঠা দিব তোমারে? পিঠা হয় নাই যাও, এবার জয়নবের আম্মা পিছন থেকে উকি মেরে তার মুখ বের করল, উকি মেরে পিঠার পাতিলের দিকে তাকাইলো, চোখ মিটমিটিয়ে মুচকি হাসলো, আবারো সে পাটকুলির বেড়ার আড়ালে মুখ লুকালো,, -এতগুলা পিঠা বানাইলা একটাও দিতে পারবা না?? আনমনে বলতে বলতে পটাশ পটাশ করে আবারো শুরু করল পাঠখরি ভাঙ্গা, না রে বুঝতে পারল এভাবে জয়নবের আম্মাকে বেশিক্ষণ দাঁড়ায় থাকতে দিলে বেশি একটা সুবিধা হবে না, নানি হাশি মেরে বলল জয়নাবের আম্মা তুমি গাছ থেকে নাইমা আইসো আম গাছ না বেল গাছ,?? জয়নবের মা আরেকটু ওকি মেরে মুখটা বের করল আবার লুকালো, এবার নানি চুলা থেকে পিঠার করাই নামিয়ে নিল, পাশ থেকে তাওয়া টান দিয়ে এনে ঠাস করে ভেঙ্গে কতগুলো টুকরা হাতে নিল,আরেক হাতে কিছু পাটকাঠি ভেঙ্গে নিয়ে সেটাতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে জয়নবের মায়ের দিকে তেড়ে এগিয়ে যেতে থাকে আর বলতে থাকে নে তোর পিঠা, বলে দৌড়ানি দিতে থাকে, এবং পশ্চাতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে থাকে, অবস্থা ভয়াবহ দেখে জয়নবের মা পুকুরপাড়ের দিকে পালায়,, সারারাত সময় ধরে পিঠা বানিয়ে সকালবেলা নানী এক প্লেট পিঠা হাতে নিয়ে জয়নবের মায়ের কাছে গেল, এবারের জয়নবের মা আর বেড়া ভাঙ্গে নাই পুকুর পাড়েও পালায় নাই নিশ্চিন্তে তা উঠানে বসে গোবরের গয় দিচ্ছিল, নানি কিছুটা আন্দাজ করেছিল এরপর পুরোপুর নিশ্চিত হওয়ার জন্য বললো - নোলো তোর পিঠা, সারারাত আমারে পিঠার জন্য জ্বালাইয়া খাইলি, এখন মন ভইরা পিঠা খা, সংসার নাই নাকি তোর যে রাতের বেলা উইঠা পিঠা খুঁজতে আরেক পাড়ায় চইলা যাস, এবার জয়নবের মা মত চমকাইয়া গেল, বল কিব ভাবি??আমি কি এতই নারদ পিঠা খাইতে রাইতের বেলা চলে যাব,?মানুষের নামে আকতা তুলতেও তো দুইবার ভাববা না?? এও তোমার পিঠা তুমি খাও,, লজ্জায় জয়নবের আম্মা আমার নানির পিঠা আমার নানীকে দান করে দিল,, গল্প শোনা নানীকে জিজ্ঞেস করলাম বেল গাছ থেকে নাইমা আসা জয়নবে আমাকে ব্যাক্কল আছিল না তুমি কি দাজ্জাল আছিল নানি,, নানী বলে আরে নালো,,বেল গাছের আম্মা পরে আমার কাছ থেকে পিঠা নিছিল তো, হ্যাগো একবার যা মনে ধরে সহজে ছাড়ে, ওই হতিনের লাইগগা আমার তিন চার মাস টানার একটা গান গাইতে হইছে সই ল সই চুককা দই নাইলা খেতে পানি নাই ওযু করবা কই? পরে মার কাছ থেকে শুনলাম নানিকে নাকি এই ঘটনার পরে কয়েক মাস ভুতে ধইরা ছিল,,তখন নাকি নানু প্রত্যেকদিন পিঠা বানাইত, সব কিছু শুনে আমরা একজন ভয়ে তো তখন অজ্ঞানের মত হয়ে গেছি প্রায়,বলে কি বুড়ি তো এখনো পিঠায় বানাইতাছে,, জয়নবের আম্মা যদি নাইমা আমাদের পিছন থেকে খাবলা দিয়া ধরে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now