বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হায়! আমি মুহাম্মদ শাহপরান। আজ আমি আপনাদের এক ক্ষুদার্ত আত্মার ভয়ংকর গল্প শুনাবো...
রাত প্রায় তিনটে থেকে চারটে নাগাত...
চোখে ঘুম আসছে না। বাহিরে বের হলাম। শনশন বাতাসের আওয়াজ...
মনে ভয়! কি জানি হয়! এদিক ওদিক তাকালাম, কেউ নেই।
আচমকা গাছের ডাল মরমর করে উঠলো...
শনশন বাতাসে কান্নার আওয়াজ...
অনুভব করলাম কে যেন ছায়ার মতো পিছুপিছু হাঁটছে..
আর ভয়ংকর স্বরে বলছে~ তারা আসছে...
আমাকে খাবার দে....
আমি খুব ক্ষুদার্ত... আমি বহুদিন যাবত খাইনি...
কানে ভেসে আসলো করুন স্বরে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ..
সামনে এগুলাম আর বললাম কে?
ওখানে কে?
আর এত রাতে কান্নার আওয়াজ আসছে কেন?
নিশুতি রাত... চারদিক নিস্তব্ধ, কেবল বাতাসের শব্দ আর সেই করুণ কান্না...
আমি সাহস করে আরও এক কদম এগিয়ে গেলাম।
হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস আমার গায়ের ভেতর দিয়ে যেন চলে গেলো। গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলো। কণ্ঠ শুকিয়ে এলো। মনে হচ্ছিল কেউ আমার গলা চেপে ধরেছে...
আবার সেই ভয়ংকর কণ্ঠ ভেসে এল —
"আমার ক্ষুধা মিটাও... না হলে তুমি আমার খাবার..."
একটা গাছের নিচে ছোট্ট একটা ছায়ামূর্তি বসে আছে... দেখতে যেন একটা বাচ্চা... কিন্তু তার চোখ জ্বলছে লাল আগুনের মতো! মুখে একরাশ হাহাকার...
আমি থমকে গেলাম।
হঠাৎ সে ছায়া মাটির ভেতর থেকে উঠে এল, যেন কোনো কুয়োর গহ্বর থেকে উঠছে ধোঁয়ার মতো... ধীরে ধীরে তার মুখ বদলে যেতে লাগলো—বাচ্চার মুখ থেকে সেটা এক ভয়ংকর, বিকৃত নারীর মুখ হয়ে উঠলো। চুলগুলো এলোমেলো, চোখে রক্তের জল, দাঁতে রক্ত জমাট বাঁধা।
সে চিৎকার করে উঠল —
"তুই কি আমার সন্তানকে খাইয়ে দিবি?"
আমি দৌড়াতে চাইলাম, কিন্তু পা যেন আটকে গেলো মাটির সাথে।
চারপাশে শয়ে শয়ে হাত, কঙ্কালের মতো, মাটি ফুঁড়ে উঠে আসছে... সবাই বলছে —
"আমরা ক্ষুধার্ত... আমরা মরে গেছি ক্ষুধায়... এবার তুই খাবার..."
তখন হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকালো... এবং আমি দেখতে পেলাম এক পুরোনো ভাঙা স্কুল ঘর... যেটা নাকি বহু বছর আগে আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছিল...
আমি যেদিকে তাকালাম, দেখি সেই ছায়াটি সেই স্কুলঘরের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে...
সে আস্তে করে বলল —
"আমরা এখনো সেই শেষ দিনের খাবার খুঁজি... যেদিন আমাদের আটকে রাখা হয়েছিল এই স্কুলে... না খেয়ে... আগুনে পুড়ে মরে গিয়েছিলাম... কেউ আমাদের খাবার দেয়নি..."
আমার মাথা ঘুরে গেল... আমি শুধু বললাম —
"আমি... আমি কি করতে পারি?"
সে বলল —
"যদি বাঁচতে চাস... আমাদের ক্ষুধা মেটাতে হবে... প্রতিদিন... রাত তিনটায়... খাবার দিয়ে যাস এই গাছটার নিচে..."
আমি দৌড়ে বাড়ি ফিরলাম... দরজা বন্ধ করলাম... আর ঘুমাতে পারলাম না।
পরদিন রাত তিনটা বাজতেই সেই গাছের নিচে রেখে এলাম কিছু খাবার...
পরের দিন আর কোনো কান্না শুনিনি...
কিন্তু...
সাতদিন পর...
আমি দেখলাম খাবার untouched... কেউ খায়নি...
আর তখন...
ঘরের দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেলো নিজে নিজেই...
সেই ভয়ংকর কণ্ঠ আবার বলল —
"তুই ভুলে গেছিস... আমরা একদিন খাই না... চিরকাল ক্ষুধার্তই থাকি..."
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now