বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুঁজে পাওয়া
মোঃ তাওসীফ হোসেন।
আমি গ্রামে বসবাস করি। গ্রামের পাশে একটি চমকপ্রদ নদী আছে যার নাম মহানন্দা নদী। আমি এখানে নানা ধরনের পাখি দেখে থাকি - বাবুই, চড়ুই, টুনটুনি, মাছরাঙা, দোয়েল ইত্যাদি। আমি যখন ঘুম থেকে উঠি, শুনতে পাই নানা ধরনের পাখির কলরব। প্রথমে শুনতে পাই দোয়েল পাখির গান। তারপর শুনতে পাই টুনটুনি, চড়ুই, বাবুই পাখির গান। ছাদে গেলে দেখতে পাই ছোট বরই গাছের নিচে টুনটুনি পাখির কলরব ও আমার বন্ধুদের কথা বলা জানি। আমার বন্ধুরা হলো নিতু, রাফি ও অনু। আমরা সব বিষয়ে একটু বেশিই কৌতুহলী হয়ে যাই। চলো শুরু করি একটন রহস্য উদঘাটন করার গল্প দিয়ে। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনা করি। আমি ছাদে যাই প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে। তবে আজ আমার কেন যেন খারাপ মানে অদ্ভুত লাগছে। প্রতিদিন সকাল থেকে কত পাখির আওয়াজ কিন্তু আজ তা কোথায় গেল। আমি মন ভার করে মাঠে খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। মাঠে দেখি আমার বন্ধুরা সবাই কি নিয়ে আলোচনা করছে। দেখে মনে হচ্ছে সবাই আমার মতো কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু সেটা কী? আমি তা দেখার জন্য নিতু, রাফি ও অনুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকলাম। সবাইকে প্রশ্ন করলাম, 'কিরে কি নিয়ে এত চিন্তা'। সবাই বলল" বন্ধু বস, আমরা আজ এক অদ্ভুত বিষয় দেখেছি। আমি বলি-কি অদ্ভুত বিষয়। রাফি বলে-কি যে হয়েছে পাখিদের কলরব আর আগের মত নেই। আমিও এটি লক্ষ্য করেছি- আমি বললাম। নিতু বলল- চল আমরা সবাই মিলে এটি সমাধান করি। আমি বললাম-চল, ক্রুদের বাসার পেছনের দিকটা বেশ নির্জন সেখানে আলোচনা করা আমাদের জন্য সুবিধাজনক হবে। সবাই সেখানে গেলাম। কিন্তু আমরা সবাই অবাক। সেখানে পাখির কলরব অন্য জায়গার চেয়ে অনেক বেশি। সেদিন আমরা আলোচনা শেষ করে যে যার বাড়ি ফিরলাম। কিছুদিন কেটে গেল সমস্যা আরও জোরালো তে রূপ নিল। এখন সকালে শুধু মাত্র ১ টি পাখির কন্ঠ। পাখি গুলো কলরব করে এখনও শুনে মনে হচ্ছে যেন তারা দুঃখের গান গাইছে। আমরা সব বন্ধু আবার ঠিক ক্রু এর বাড়ির পিছনে দেখা করলাম। সব বন্ধু আমরা হতভম্ব। এখানে এত পাখির কলরব কীভাবে? -অন্য কোথাও এত কলরব নেই। অনু বলল- চল খোঁজ করি-খোঁজ করি? আমরা সবাই বাড়িটার পেছনে এত দূরে যাই নি। যত দূরে যাই তত কলরব বৃদ্ধি পায়। আমাদের কৌতুহলী মনে নতুন কৌতুহল নাড়া দিল। আমরা সেখানে দেখি কিছু মাতাল পড়া ব্যাক্তি যাঁরা সেখানের রাস্তা বন্ধ করে সে স্থান পাহারা দিচ্ছে। আমরা সেখানে থেকে যত দ্রুত সম্ভব পালিয়ে এলাম। আমরা এ বিষয়ে বাড়িতে কিছু কাউকে বললাম না। পরের দিন সেখানে পরিকল্পনা করলাম। নিতু: কিন্তু ক্রু এর বাড়ির পিছনের রাস্তা। কেউই তেমন যাতায়াত করে না তো ২ জন প্রহরীর কী দরকার? আমি বললাম: "তাছাড়া তোমার যুক্তি আমি ফেলে দিতে পারছি না। কারণ লক্ষ্য কর অন্য স্থানের তুলনায় এখানে অনেক বেশি পাখির কলরব। এটি সাধারণ বা natural বিষয় নয়। তাছাড়া ওদের কাছে অস্ত্র আছে, আমরা কী একা এদের সাথে পেরে উঠব। আমি বললাম ঠিক বলেছ, আমাদের উচিত এ বিষয়ে কারও সাহায্য নেওয়া। আমরা পরের দিন আমাদের সহযোগিতা করার জন্য থমাস ভাইয়ার সাথে কথা বললাম।' বললাম। তিনি আমাদের সাহায্য করতে রাজি হলেন। আসলে তিনি একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। তিনি ঢাকা থেকে তাঁর গ্রামে এসেছেন পাখির সমস্যা সমাধানের জন্য। তিনি বললেন- "আমি পাখির কেসটা নিয়ে বেশ চিন্তিত। কারণ পাখি যদি এভাবে নিখোঁজ হয়ে যেতে থাকে, তবে খাদ্য শৃঙ্খলে বিরাট পরিবর্তন দেখা যাবে। ফলে ও গ্রামের আবহাওয়া খারাপ হতে থাকবে। তাই আমি তোমাদের আংশিক সাহায্য করতে পারব। পরের দিন থমাস ভাইয়া ও আমরা ৪ জন সেখানে গেলাম। থমাস ভাইয়া আমাদের নিয়ে গেলেন। আমরা এবার তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এ রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। রাস্তার যত মাথায় যেতে থাকি রাস্তা ততই তত উঁচু নিচু ও আঁকা বাঁকা হতে থাকে। আমরা অনেক ভেতরে প্রবেশ করেছি। এজন্য থমাস ভাইয়া বলল- চল ফিরে যাই। আমার মনে হয় তারা জনসাধারণের নিষেধ করছে। কথা বলতে বলতে অনেক দূরে চলে এসেছি আমরা। আমি হঠাৎ লক্ষ্য করি এখানে ঝোপ-ঝাড়ের পেছনে পাখির অনেক লোম। থমাস ভাইয়া তা দেখে এ পথ ছেড়ে ঐ পথে যেতে থাকে সবাই আমরা ভাইয়াকে অনুসরণ করে যেতে থাকলাম। সামনে দেখি একটা ছেরা বা camp সেখানে আমরা লুকিয়ে থাকলাম। থমাস ভাইয়া কাকে দেখে চমকে গেল। সবাই চাপা কণ্ঠে বললাম কী হলো ভাইয়া। থমাস ভাইয়া বলে: "বার্ড অ্যাটাক" এ সর্দারকে চিনি মানে জানি তার নাম উ-জামা ২০১১ সালে সে একটি ফর্মুলা চুরি করেছিল তাই তাকে গ্রেফতারের হুকুম করা হয়। আমরা সকলে জানি গোয়েন্দার মতো করছি। আমরা থমাস ভাইয়ার কথা শুনে রীতিমতো ভয় পেয়েছিলাম। আমরা দেখলাম থমাস ভাইয়া তার পকেট থেকে একটা গেজেট বের করে এবং তা দিয়ে 3d ছবি তৈরি করে। থমাস ভাইয়া বলে: আমি দেখতে পাচ্ছি অনেক পাখি একটি খাঁচার মধ্যে আছে। সেখান একটি বিশেষ সুগন্ধি দেওয়া হচ্ছে। আর এই পাখি ধরে তারা বিক্রি ও পাচার করছে। ভাইয়া মোবাইলে ভিডিও করে নিল এবং তা নিয়ে বেরিয়ে এল। ভাইয়া পুলিশকে সব তথ্য দিল। সে ডাকাত দল ধরা পরল। তাদের শাস্তি হলো। আমাদের কৌতূহলী মন ও থমাস ভাইয়ার কারণে আজ আমরা এ রকম অসাধু ব্যক্তি থেকে মুক্তি পেয়েছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now