বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ম্যাগনিফাইং গ্লাস ঘর ১

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Waiting for death (০ পয়েন্ট)

X ২০৭৪ সাল। বাংলাদেশে এখন চাকরি পাওয়া মানে ভাগ্যের ব্যাপার নয়—পরিবারের পরিচয়ই আসল। ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে তাহসান। আজ তার চতুর্থবার বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। রেজাল্ট দেখে হতাশ চোখে মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে কফিশপের দিকে হাঁটল। কফিশপে ঢুকে সে দেখল তার বন্ধু রাফি অপেক্ষা করছে। — কী খবর? হলো না? রাফি জিজ্ঞাসা করল। তাহসান শুকনো হেসে বলল, দেখ, ভাই। আমাদের জন্য চাকরি নাই। ওই সমন্বয়কদের নাতিরাই সব খেয়ে নিচ্ছে। রাফি কফিতে চুমুক দিয়ে বলল, আরে ভাই, তোর দাদার যদি একটা ব্যানারও ধরার ইতিহাস থাকতো, তাহলে আজ তুই উপ-সচিব হতে! তাহসান হেসে ফেলল। এই কথাটা সত্যি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক যারা ছিল, তাদের নাতি-পুতিরাই এখন সরকারি চাকরিতে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে। সাধারণ মানুষের জন্য তেমন কিছুই নেই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সমন্বয়ক সরকার নতুন আইন চালু করেছিল— জাতীয় পুনর্বাসন আইন, ২০৩০ এই আইনে বলা হয়: যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের চৌদ্দ প্রজন্ম পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোঠা থাকবে। সরকারি চাকরির ৪০% আসন শুধুমাত্র সমন্বয়ক পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। তাই এখন সাধারণ মানুষ হাজার চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি পায় না। তাহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পাস করেছে। কিন্তু তার মতো হাজারো মেধাবী তরুণ-তরুণী চাকরির পরীক্ষায় টিকেও শেষপর্যন্ত বাদ পড়ে। গতবার সে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগপত্র যায় রিফাতের কাছে—একজন সাবেক সমন্বয়কের নাতি। রিফাতের বাবার বিশেষ যোগ্যতা? ২০২৪সালে একদিন বিক্ষোভে স্লোগান দিয়েছিল। মার্চ টু ঢাকায় অংশ নিয়েছিলো। তাহসান হেসে বলে, এই দেশে মেধা দিয়ে কিছু হয় না। সরকারি চাকরি পেতে হলে সমন্বয়ক বংশের ছেলে হতে হয়! এদিকে সরকারের ভাষ্য খুব পরিষ্কার—আমাদের দেশে যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, তাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে। তাহসান আর তার বন্ধুরা আর চুপ থাকতে পারে না। তারা আন্দোলনে নামে। তাদের স্লোগান— "সমন্বয়ক কোঠা বন্ধ করো!" সামাজিক মাধ্যমে ঝড় উঠে। তরুণরা পোস্ট দেয়: — "আমি কে, তুমি কে, ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ।" — "চাকরি চাই, অন্যায় কোঠা নয়।" কিন্তু সরকার অটল। তাদের বক্তব্য যারা আমাদের ক্ষমতায় এনেছে, তাদের আমরা ছাড়বো না। তাহসান বুঝতে পারে, এই সমন্বয়ক কোঠা চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরেও সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সুযোগ থাকবে না। রাতের বেলা বন্ধুদের নিয়ে সে একটি নতুন আন্দোলন গড়ে তোলে— মেধার অধিকার, আমাদের দাবি। ৭ই ফেব্রুয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে হাজারো ছাত্র-ছাত্রী জড়ো হয়েছে। তাদের কণ্ঠে একটাই স্লোগান— "সমন্বয়ক কোঠা মানি না, মানবো না!" "মেধার মূল্য দাও, অন্যায় কোঠা নয়!" তাহসান দাঁড়িয়ে আছে মঞ্চের ঠিক সামনে। হাতে ধরা একটি প্ল্যাকার্ড— "সরকারি চাকরি আমার অধিকার!" কয়েক বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভ আজ আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররা ঢাকায় এসে জমা হয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে তরুণরা সরব। ‘#সমন্বয়ক_কোঠা_বাতিল_করো’ হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ে উঠে আসে। তাহসান মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে চিৎকার করে বলে— "আমরা কি চাকরি চাই?" — "চাই! চাই!" "আমরা কি অন্যায় কোঠা মানবো?" — "না! না!" এই আন্দোলনে একমাত্র পদ্মা টিভি সরাসরি সম্প্রচার করছে। আর কোনো গণমাধ্যম তেমন প্রচার করছে না। জনতার ঢল দেখে প্রশাসনের মাথায় হাত। সমন্বয়ক সার্জিস আলমের ছেলে হিরো আলম তখন প্রধাণমন্ত্রী। পিএম হিরো আলম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তার কণ্ঠে চিরচেনা কন্ঠ— সমন্বয়ক দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, কিছু তো তাদের প্রাপ্য!সরকারি চাকরি সমন্বয়কের নাতি পুতিরা পাবে নাকি ছাত্রলীগের নাতি পুতিরা পাবে! ৭১'রে রাজাকাররা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো। ২৪'শে ছাত্রলীগ স্বাধীনতা বিরোধী! তাই হাসিনা সরকার যেমন ব্যাঙ্গ করে বলেছিলো সরকারি চাকরি মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা পাবে নাকি রাজাকারের নাতি পুতিরা পাবে! তেমনি এখন সমন্বয়ক সরকার বলছে সরকারি চাকরি সমন্বয়কের নাতি পুতিরা পাবে নাকি ছাত্রলীগের নাতি পুতিরা পাবে! তার বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের আরও ক্ষিপ্ত করে তোলে। কেউ একজন চিৎকার করে বলে— "সরকারের মুখোশ খুলে দাও!" প্রথম সংঘর্ষ পুলিশ আসে টিয়ার গ্যাস নিয়ে। লাঠিচার্জ শুরু হয়। কিন্তু জনতা পিছু হটে না। তাহসান মাইকে ঘোষণা দেয়— "পুলিশের লাঠি আমাদের থামাতে পারবে না। আমাদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকবো!" আবির চিৎকার করে বলে— "স্বাধীনতার জন্য আমাদের দাদারা লড়েছে, আজ আমরা মেধার জন্য লড়বো!" রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর,রাজশাহী, খুলনা—সর্বত্র ছাত্ররা রাস্তায় নামে। সব জায়গায় একই স্লোগান— "কোটা না মেধা,মেধা মেধা।" সরকার টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সমন্বয়ক পরিবারের সন্তানরা আতঙ্কে। তারা জানে, যদি এই আন্দোলন সফল হয়, তাদের বিশেষ অধিকার শেষ হয়ে যাবে। সাবেক সমন্বয়ক জাকির হোসেন বললেন— "এই কোঠা আমাদের রক্তের মূল্য। এটাকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না!" রাত ১২টা। রাজু ভাস্কর্যের সামনে মশাল হাতে হাজারো ছাত্র শপথ নেয়— আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়বো। সমন্বয়ক কোঠা বাতিল করেই ছাড়বো! চলবে...... গল্পের শ্রেণি কি দেবো ভেবে পাই না। তাই রূপকথায় দিলাম ????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now