বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ প্রহরের গল্প

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X শেষ প্রহরের গল্প নাফিজ আহমেদ,, অঢেল ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে আপন মনে আগমন করলাম প্রকৃতির মাঝে। শেষ বিকালে নিরব নিস্তব্ধ পরিবেশে একাকী বসে অবলোকন করছি সৃষ্টিকর্তার সৃজনকে। আহ! আল্লাহ কতই না সুন্দর করে এই ভূমন্ডলকে আপন হস্তে সাজিয়েছেন। যেমন সুন্দর তিনি তেমনই সুন্দর তাঁর সৃষ্টি। মাঝে মাঝে দুর্বিনীত নীলাকাশ দিয়ে এক ঝাঁক পাখি স্বাধীন ডানা মেলে উড়ে যায় মুক্ত বাতাসের খোঁজে। দেখতে কতই না সুন্দর লাগে। কখনো কখনো আবার উত্তরের হৃদয় জুড়ানো বাতাস যেন আলতো করে ছোঁয়া দিয়ে হারিয়ে যায় অজানা অচেনা শহরে। হঠাৎ উপলব্ধি করি কে যেন আমার পাশে এসে আপন মনে বসে আছে। ঘাড় ফেরাতেই অবলোকন করি এক অচেনা বালক। আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলাম একি তুমি কে? সে ব্যস্ত কন্ঠে বলল দয়াকরে আপনি বিচলিত হবেন না। আমার নাম মুশফিক। দূর থেকে দেখলাম আপনি এই নিরিবিলি পরিবেশে একাকী বসে আছেন তাই ভাবলাম আপনার পাশে একটু উপবিষ্ট হই। আপনার যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে আমি চলে যাচ্ছি। আমি বললাম আরে না কোন সমস্যা নেই, হঠাৎ এসে বসলে তাই একটু বললাম। মনে কিছু করোনা। তোমার বাসা কোথায়? আর হঠাৎ এই দিকে কিভাবে আসলে? আমার বাসা পাশের গ্রামেই। আজ মনটা ভালো নেই তাই হাঁটতে হাঁটতে এই দিকে আসলাম (সে বলল)। মন খারাপ হওয়ার কারণ কি? সে অনেক ঘটনা। শুনবেন? আচ্ছা ঠিক আছে বল আমি বললাম। জানেন ভাইয়া আমারও আপনাদের মতো একটা সাধারণ জীবন ছিল। আমিও সবার মতো হাসিখুশিতে অতিবাহিত করতাম জীবনের প্রতিটা রঙিন মূহুর্ত। প্রতিদিন আলো রাঙা ভোরে আমার মা আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিত। কাক ডাকা ভোরে স্নিগ্ধ বাতাসকে আলিঙ্গন করে নিতাম বারংবার। নিরব প্রকৃতির মাঝে একটু সময় কাটিয়ে চলে আসতাম আপন নীড়ে। ততক্ষণে সকালের নাস্তা প্রস্তুত। মা আর আমি একই সাথে খাবার শেষ করতাম। এর পর প্রতিদিনের ন্যায় স্কুলে চলে যেতাম। আমি যখন স্কুলে যেতাম পিছন ফিরে দেখতাম মা আমার দিকে এক নাগারে তাকিয়ে আছে। হয়তো তার হৃদয়ের অতল গহব্বরে বিদ্যমান আছে আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। নিদিষ্ট সময়ে স্কুল থেকে প্রত্যাবর্তন করতাম আপন গৃহে। নিজ ঘরে একটু বিশ্রাম নিতাম এরই মাঝে নিরালা দুপুরে মা আমার ঘরে এসে আমাকে ডেকে দিতো নামাজের জন্য। আমিও যথাসময়ে নামাজ আদায় করে বাড়িতে ফিরতাম। একই সাথে দুপুরে খাবার খেয়ে দু'জনে একটু খোশগল্পে মসগুল হতাম। মা কত সুন্দর করে গল্পের লাইন গুলো আমার সম্মুখে উপস্থাপন করত। মাঝে মাঝে উদাস বিকালে একাকী বিচরণ করতাম সমাজের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কখনো হয়তো বাজার থেকে মায়ের জন্য বাদাম নিতাম। সন্ধ্যের ঝিরিঝিরি বাতাস যখন আপন শরীরে আলতো করে ছোঁয়া দিতো আর দেরি না করে বাড়িতে চলে আসতাম কেননা মা তো বাড়িতে একাকী আছে। বাবা আমাদেরকে রেখে অনেক আগেই চলে গেছে তার রবের নিকটে। কখনো কখনো নিশুতি রাতে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, সৎ উপদেশ দিতেন। তারা ভরা রজনীতে আমরা একই সাথে অবলোকন করতাম সুন্দর আকাশকে। কত সুন্দর করে সাজিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। মা আমাকে ব্যক্ত করতেন যে তোর আব্বা ঐ সুন্দর আকাশের বাসিন্দা হয়ে গেছে। আমি তখন অত বুঝতাম না তবে এখন বুঝি। এভাবেই অতিবাহিত হতো আমাদের প্রতিটা দিনগুলো। কিন্তু দুঃখের কথা হলো কয়েকদিন আগে এই পৃথিবীতে আমাকে একা করে রেখে আমার মাও পারি জমিয়েছেন তার মালিকের কাছে। আমি মুশফিকের দিকে এক পলকে চেয়ে আছি এতটুকু বয়সে ও পিতা মাতা সবাইকে হারিয়েছে। আহারে কত প্রভৃতির মানুষ বসবাস করে এই ছোট্ট সমাজে। মুশফিক আরো বলল আমি এখন এই সুন্দর ধরায় সম্পূর্ণ একা। আগে আমাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো আমার মা-ই ছিল কিন্তু এখন সেও নেই। এখন আর কেউ কাক ডাকা ভোরে আমাকে ডেকে দেয়না। স্কুলে যাওয়ার জন্য কেউ আর গুছিয়ে দেয় না। আমার দিকে কেউ এক নাগারে তাকিয়ে থাকে না। নিরালা দুপুরে কেউ আর নামাজের জন্য তাগিদ দেয় না। নিকষ কালো আধারে ঘেরা রজনীতে কেউ আর গল্প শোনায় না। আমার পাশে এখন আর কেউ থাকেনা। তার কথাগুলো শুনতে শুনতে আমি অবলোকন করলাম সে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। তার চোখের কোনায় জমে আছে এক ফোঁটা ভালোবাসার জল। যেটা শুধু মাত্র মা-বাবার জন্য জমা হয়। আমি তাকে একটু নিতান্তই শান্তনা দিলাম,কিন্তু আমার বোধগম্য হচ্ছে যে তার বুকের পরম তলে কতটুকু কষ্ট জমা হয়েছে। যে ছেলের কেউ ছিলনা শুধু মাত্র মা-টুকু ছিল কিন্তু দিনশেষে সেই ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে আপন রবের সান্নিধ্যে। তাহলে ছেলেটার কি অবস্থাটা হবে। তার কথাগুলো এক নাগারে শ্রবণ করছিলাম। উপলব্ধি করলাম পড়ন্ত বিকালে ডুবন্ত সূর্য যেন আপন মনে মিলিয়ে যাচ্ছে মেঘের রাজ্যে। সন্ধ্যামালতি ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশের প্রতিটা আঙিনায়। এরই মাঝে দক্ষিণা বাতাসের সাথে ভেসে আসছে মুয়াজ্জিনের সুললিত কন্ঠে আজানের আওয়াজ। মুশফিককে বললাম চলো মাগরিবের আজান দিচ্ছে নামাজে যাই। ঠিক আছে চলেন (সে বলল)। অবশেষে আমরা চলে আসলাম। তবে অনন্তকাল হৃদয়ের গহিনে অঙ্কিত হয়ে জমা থাকবে শেষ প্রহরের গল্পটা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now