বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কোথাও কেউ নেই (৪২)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)



X ৪২. সিদ্দিক সাহেবকে আজ একটু বিমর্ষ দেখাচ্ছে সিদ্দিক সাহেবকে আজ একটু বিমর্ষ দেখাচ্ছে। কোন কারণে তিনি চিন্তিত এবং বিরক্ত। বিরক্ত হলে তার মুখে ঘন ঘন থুথু ওঠে। এখন তাই উঠছে। তিনি চারদিকে থুথু ছিটাচ্ছেন। সরকারি দলের নমিনেশন তিনি পাবেন, এই নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। এক লাখ টাকার চাঁদা দেয়া ছাড়াও অন্য এক কায়দায় বিশেষ একজনকে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা নগদ দেয়া হয়েছে। তিনি হিসেবি লোক পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে এতগুলি টাকা বের করতেন না। সমস্যা এখানে নয় সমস্যা ভিন্ন জায়গায়। সরকারি দল মানেই বেশির ভাগ লোকের অপছন্দের দল। এই দেশের মানুষদের সাইকোলজি হচ্ছে ক্ষমতায় যে আছে তার বিপক্ষে কথা বলা। যতদিন পর্যন্ত তুমি ক্ষমতায় নেই। ততদিন পর্যন্ত তুমি ভাল। যে মুহূর্ত ক্ষমতায় চলে গেলে সেই মুহূর্তে থেকে তুমি খারাপ। তোমার বিরুদ্ধে জ্বলাও-পোড়াও আন্দোলন। বড় বড় বক্তৃতা। সরকারি দলে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে কিনা এটাই সিদ্দিক সাহেব বুঝতে পারছেন না। চালে ভুল হলে মুশকিল। রাজনীতিতে প্রতিটি চাল ভেবেচিন্তে নিতে হয় এবং ভবিষ্যতের কথা মনে রাখতে হয়। আওয়ামী লীগের এক সময় রমরমা ছিল. কোথায় গেল সেই রমরমা? তবে কিছুই বলা যায় না। রমরমা ফিরেও আসতে পারে। কোন রকম দলে না গিয়ে স্বতন্ত্র থেকে ইলেকশন করাই ভাল। তাহলে সব দলকেই বলা যায় আছি তোমাদের সাথে। তবে স্বতন্ত্র থেকে দাঁড়ালে ইলেকশনে জেতা কষ্টকর। প্রশাসনের সাহায্য দরকার। প্রশাসন শুধু শুধু সাহায্য করবে কেন? তাদের কী ঠেকা? এই ইলেকশন সিদ্দিক সাহেবের কাছে খুবই সামান্য ব্যাপার। কিন্তু বড় কিছুতে যাওয়ার এটা হচ্ছে প্রথম সিঁড়ি। নামটা প্রথম ভাসতে হবে। মুখে মুখে ফিরতে হবে। খুনখারাবি হবে। হাঙ্গামা হবে। খবরের কাগজে লেখালেখি হবে–তখন সবাই বুঝবে এই কনসটিটিয়েনসি একটা জটিল জায়গা। সিদ্দিক সাহেব সেই জটিল জায়গা পানি করে দিয়েছেন। তার চেহারা এবং কার্যকলাপে। বোঝা যাওয়া চাই যে তিনি মহা ধুরন্ধব এবং মহা কঠিন ব্যক্তি। আগেকার অবস্থা এখন নেই হেঁ হেঁ করে ভোটারের সামনে হোত কচলালে হবে না। হাত কচলান ক্যান্ডিডেটের দিন ফুরিয়েছে। এখনকার ভোটাররা শক্তের ভক্ত। শুধু ভোটাররা না–সবাই এখন শক্তের ভক্ত। সিদ্দিক সাহেব বসে আছেন তার বসার ঘরে। তার সামনে একগাদা পোস্টার। ছাপানো নয় আর্টিস্ট এনে লেখান হয়েছে। নগর কমিটির পোস্টার। নগর কমিটি তিনি কিছুদিন হল করেছেন। সরাসরি এই কমিটিতে তিনি নেই। কাজ করছেন উপদেষ্টা হিসেবে। যদিও সমস্ত কিছুই তাঁর করা। পোস্টারগুলিতে নানান ধরনের বক্তব্য– “এই নগর আপনার একে সুন্দর রাখুন। যেখানে সেখানে মযলা ফেলবেন না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন।” –নগর কমিটি “আপনার আশপাশে কী অসামাজিক কার্যকলাপ হয়? অসামাজিক কার্য কলাপ প্রতিরোধ করা আপনার সামাজিক দায়িত্ব।” –নগর কমিটি “আপনার আশপাশে কী বখাটে ছেলেপুলের আড্ডা দেয়? নেশা করে? নগর কমিটিতে খবর দিন। –নগর কমিটি “হিরোয়িন, মদ, গাঁজা আপনার শত্ৰু। যারা এসবের ব্যবসা করছে তারাও আপনার শত্রু। শত্রু নিৰ্মল করুন।” –নগর কমিটি “ধূমপান মনে বিষপান। পয়সা খরচ করে কেন বিষপান করছেন? ধূম্রমুক্ত নগর সৃষ্টি করুন।” –নগর কমিটি প্রায় একশর মত পোস্টার। লাল কাগজে ঘন কালো রঙে লেখা। আর্টিস্ট ছোকরা লিখেছে। ভাল। জায়গায় জায়গায় পোস্টার পড়লে দেখতে ভালই লাগেব। সামনের সপ্তাহে তিনি শিশু নিকেতনের উদ্বোধন করতে মন ঠিক করেছিলেন সেখানে একটা ঝামেলা বেধেছে। শিশু নিকেতনের চেংড়াহেগুলি উদ্বোধনের দিন কোন কবিকে নাকি আনতে চায়। প্রস্তাবটা তার মন্দ লাগেনি। তিনি সভাপতি কবি প্রধান অতিথি। এখন আবার বাতাসে অন্য রকম কথা ভাসছে। শিশু নিকেতনের সেক্রেটারি নাকি সভাপতি, কবি শামসুর রাহমান প্রধান অতিথি, সওগাত পত্রিকার নাসিরুদিন সাহেব বিশেষ অতিথি। সিদ্দিক সাহেবের মেজাজ খারাপ হওয়ার মূল কারণ এটা। ওরা করতে চাইলে করুক তাঁর কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছেন। তার ধারণা এর পেছনে নুরুদিনের হাত আছে। নুরুদ্দিন তার সঙ্গে কনটেস্ট করছে। তার পেছনে আছে আওয়ামী লীগ। নরুদ্দিন খুবই ঘুঘু লোক। পুরনো আওয়ামী লীগার। শেখ সাহেবের মৃত্যুর পর পর অবশ্য সে আওয়ামী লীগের সম্পর্কে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কথাবার্তা বলতে থাকে যার একটা হচ্ছে দেশটা লিজ দেয়া হয়ে গিয়েছিল ইন্ডিয়ার কাছে। আল্লাহ পাকের দয়ায় রক্ষা পেয়েছে। জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় নুরুদিন কঠিন বিএনপি হয়ে যায়। তাতে তার আওয়ামী লীগে আবার ফিরে যাওয়াতে কোন অসুবিধা হয়নি। ঘুঘু লোক বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এ জাতীয় লোকদের সম্পর্কে সাবধান থাকা ভাল। সিদ্দিক সাহেব যথেষ্ট সাবধান। তবুও অস্বস্তি লেগেই থাকে। সিদ্দিক সাহেব শিশু নিকেতনের সেক্রেটারিকে আসতে বলেছেন ব্যাপারটা পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিতে চান। ব্যাটাকে আসতে বলা হয়েছে চারটার সময় এখন বাজে পাঁচটা। এখনো আসছে না। সিদ্দিক সাহেবেবী মেজাজ ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সেক্রেটারি ঢুকাল পাঁচটা পচিশে। মুখে তেলতোলে ধরনের হাসি। পরনে নকশাদার পাঞ্জাবি। পাতলা গোঁফের জন্যে চেহারাটাই কেমন ধূর্ত ধূর্ত হয়ে গেছে। লোকটির নাম মনোয়ার হোসেন তবে সবাই ডাকে মনু ভাই। স্নামালিকুম স্যার। ওয়ালাইকুম সালাম। কী ব্যাপার? মনোয়ার হোসেন অবাক হয়ে বলল, আপনি তো ডেকে পাঠালেন। ও আচ্ছা আচ্ছা, মনেই ছিল না। আরেকটু হলে চলে যেতাম! ভাগ্যিস এসেছে। হাজার ঝামেলা নিয়ে থাকি কিছু মনে থাকে না। বস বস। মনোয়ার হোসেন বসল। তার মুখের হাসি আরো বিস্তুত হল। তোমাদের শিশু নিকেতন সম্পর্কে জানার জন্যে ডাকলাম। কত দূর কি করলে? হাঁটি হাঁটি পা পা অবস্থা স্যার। তবে একটা ঘর পাওয়া গেছে এটা একটা বড় উপকার হয়েছে। ঘর কোথায় পেলে? নুরুদিন সাহেব দিয়েছেন। কিছু ফার্নিচার ও পাওয়া গেছে। আপনাদের দশজনের সাহায্য ছাড়া তো স্যার হবে না। দশের লাঠি একের বোঝা। সিদ্দিক সাহেব শুকনো গলায় বললেন, তা তো বটেই। আপাতত ছবি আঁকা, নাচ আর গান শিখানো হবে। একটা শিশু লাইব্রেরি থাকবে। শিশুদের জন্যে হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা বের হবে। পত্রিকার নাম স্যার অনির্বাণ। ভাল খুবই ভাল। অনিৰ্বাণ প্রথম সংখ্যায় স্যার আপনাকে একটা বাণী দিতে হবে। না বললে হবে না স্যার। উদ্বোধনের কী ব্যবস্থা করলে? এখনো ফাইন্যাল কিছু হয়নি। শামসুর রাহমান সাহেব প্রধান অতিথি। এটা শুধু ফাইন্যাল হয়েছে। ভাল ভাল খুবই ভাল। আপনাকে স্যার উদ্বোধনীর দিন থাকতে হবে। থাকব। নিশ্চয়ই থাকব। কেন থাকব না? মনোয়ার হোসেন চা-বিসকিট খেয়ে বিদায় হল। সিদ্দিক সাহেব দীর্ঘ সময় চুপচাপ বসে রইলেন। ঝামেলা বাড়ছে–এত সব ঝামেলা সহ্য করা কঠিন। ব্যবসার ঝামেলা, জমিজমার ঝামেলা; প্রতিষ্ঠার ঝামেলা। একটা পরিত্যক্ত সম্পত্তি তিনি কিনেছেন। কিন্তু দখল পাচ্ছেন না। চারতলা বিল্ডিং ভাল জায়গায় গ্রিন রোড়ে। দখল না পেলে লাভ কি? সম্পত্তি, আসল মালিকের কাছ থেকেই কেনা। বলাই বাহুল্য। জলের দামে কেনা। কত দামে কেনা সেটা বড় কথা নয়। কাগজপত্র ঠিক আছে এটাই বড় কথা। কাগজপত্র থেকেও লাভ হচ্ছে না। বাড়িতেও ছোটখাটো অশান্তি লেগে আছে। মন টেকে না। তার স্ত্রী দশ বছর আগে হঠাৎ করে মোটা হতে শুরু করেছিলেন–এখন মৈনাক পর্বত। দুই হাত দিয়ে বেড় পাওয়া যায় না। গাড়িতে উঠলে গাড়ি খানিকটা ডেবে যায়। এক মেয়েও মায়ের পথ ধরেছে। বয়স তেইশ। এর মধ্যেই হুঁলস্থূল কারবার। ছোট মেয়েটা এখনো ঠিক আছে। ভবিষ্যতে কী হবে কে জানে? সিদ্দিক সাহেব রাত আটটার দিকে বেরুলেন। তার মন-মেজাজ খুব যখন খারাপ থাকে তখন এগার নম্বর বাড়িতে কিছু সময় কাটান। মেয়ে তিনটার সঙ্গে হালকা গল্পগুজব করেন। এর বেশি। কিছু না। সেই সাহস তার নেই। মেয়ে তিনটার বয়স তার বড় মেয়ের বয়সের চেয়েও কম। এদের নিয়ে অন্য কোন চিন্তা কেমন যেন দানা বঁধতে পারে না। তাছাড়া ভয়ও আছে। জানাজানি হয়ে যেতে পারে। কে জানে কিছুটা জানাজানি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে কি না। বাকের বড় যন্ত্রণা করছিল। হাজতে যতদিন ছিল ভাল ছিল এখন আবার ছাড়া পেয়েছে। এগার নম্বর বাড়ি প্রসঙ্গ তুলে তাকে বেইজিত করবে। কী না কে জানে? সম্ভাবনা আছে। নুরুদিন এই সুযোগ ছাড়বে না। তার আগেই একটা কিছু ব্যবস্থা করতে হবে। জোবেদ আলি তাকে দেখে ছুটে এসে তালা দেয়া গেট খুলল। এই ব্যবস্থাটা সিদ্দিক সাহেবের খুব পছন্দ। গেট সব সময় তালাবন্ধ থাকে। লোকজন আসছে যাচ্ছে। এ রকম কোনো ব্যাপার নেই। বাড়ির চেহারাও এরা পাল্টে ফেলেছে। চারদিকে ফুলের টব। রঙ-বেরঙের পাতা বাহার, অৰ্কিড মুগ্ধ হয়ে দেখতে হয়। পাড়ার মধ্যে এমন একটা সুন্দর বাড়ি দেখতে ভাল লাগে। আরো ভাল লাগে যখন মনে হয়। এই বাড়িটা তার। বেনামীতে কেনা। জোবেদ আলি হাত কচলাতে কচলাতে বলল, বাড়িতে তো কেউ নাই। তাই নাকি? জি কক্সবাজার গেছে। বৈশাখ মাসে কক্সবাজার? ভিড় কম থাকে। নিরিবিলি। আসেন বসেন চা খান। না চা খাব না। আসবে কবে? তা তো জানি না। ইতালির দুই সাহেব আছে সাথে বাংলাদেশ ঘুরতে আসছে। ও আচ্ছা আচ্ছা। সিদ্দিক সাহেবের বেশ মন খারা হয়ে গেল। সুন্দর সুন্দর মেয়েগুলিকে নিয়ে কোথাকার কোন বিদেশী ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ তিনি নিজে গায়ে হাত রাখার মত সাহস সঞ্চয় করতে পারেননি। কোনো মানে হয় না। সব দিকেই তার সাহস আছে এই একটা দিকে শুধু সাহস হচ্ছে না। তার ধারণা মেয়েগুলি অতিরিক্ত সুন্দরী বলেই সাহস হয় না। তেমন সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ তার হয়নি। আর এই তিনটি মেয়ে দেখতে পরীর মতো। হারামজাদি বুড়ি এদের কোথেকে জোগাড় করেছে কে জানে? স্যার বসবেন না? না না বসব না। কোন রকম ঝামেলা-টামেলা আছে? জি না শুধু বাকের মাঝে-মধ্যে… কি করে সে? কিছু না গেটের সামনে দাঁড়ায়ে থাকে সিগারেট খায়। আফারা ভয় পায়। অন্য কিছু করে না? জি না। বাকেরের সাথে আর কেউ আসে? জি না। উনি একা। আচ্ছা আমি দেখব। ব্যাপারটা। আম্মা বলছিল বাকেরকে মাসে মাসে হাতখরচের টাকা কিছু দিবে। কিনা আপনার সঙ্গে আলাপ করতে বলছিল। হাতখরচ দিতে হবে না। ঐটা আমি দেখব। এই পাড়ার কেউ আসে এই বাড়িতে? জি না। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করে? জি না। ঠিক আছে। তারা কবে কক্সবাজার থেকে আসবে কিছু জান না? জি না। আসলেই খবর দিবে। আমি আম্মারে টেলিফোন করতে বলব। টেলিফোন এসেছে নাকি? টেলিফোন তো কবেই আসছে। সিদ্দিক সাহেবের ভ্রূ কুঞ্চিত হল। টেলিফোন এসেছে অথচ টেলিফোনের খবর তাকে জানানো হয়নি। নম্বর পর্যন্ত দেয়নি। এর মানে হচ্ছে এরা তাকে খুব মুরুকিব ধরছে না। তার চেয়েও অনেক বড় মুরুব্বি এদের আছে। কে সেই বড় মুরুব্বি? তিনি জলিল মিয়াকে ডেকে পাঠালেন। কাস্টমারের যন্ত্রণায় জলিল মিয়ার দম ফেলার ফুরসূত হয় না–এর মধ্যে কেউ ডেকে পাঠালে মেজাজ খিচড়ে যায়। মুখের ওপর বলতে ইচ্ছে করে যা শালা ভাগ। চায়ের দোকানের মালিকের পক্ষে যা কখনো বলা সম্ভব নয়। জলিল মিয়া ক্যাশা অনা একজনকে বুঝিয়ে দোকান থেকে বেরুল। তাকে দেখলে মনে হবে সিদ্দিক সাহেব ডেকে পাঠানোয় সে আনন্দে আত্মহারা। স্যার ডাকছেন? কি খবর জলিল? জি। আপনাদের দশজনের দোয়া। দোকান তো দেখি ভালই চলছে। সব সময় দেখি কাস্টমার। আড্ডা দেওউন্যা কাস্টমার স্যার। চায়ের দোকানে আড্ডাটাই প্রধান। যেখানে যত বেশি আড়ড়া হবে সে দোকান তত তাড়াতাড়ি জমবে। জলিল মিয়া উসখুস করতে থাকে মূল বিষয়টা জেনে চলে যেতে পারলে বাঁচা যায় ক্যাশে যাকে বসিয়ে এসেছে সে বিরাট চোর। ইতিমধ্যেই টাকা-পয়সা নিশ্চয়ই কিছু সরিয়েছে। জলিল মিয়া। জি স্যার। ঐ যে তোমার দোকানের সামনের বাড়ি, এগার নম্বর বাড়ি। কিছু জানো তুমি? কী জানব স্যার? না মানে এই পাড়ার লোকজন কারোর সঙ্গে এ বাড়ির যোগাযোগ আছে? কিছুই তো স্যার জানি না। আমার স্যার মাথার ঘায়ে কুত্তা পাগল অবস্থা। কাশে বসে নজর রাখতে হয় চাইর দিকে। গতকাল স্যার রান্নাঘর থেকে ডালডার টিন চুরি গেল। চার কেজি ডালডা। সিদ্দিক সাহেব অপ্রসন্ন মুখে বললেন ঠিক আছে, তুমি যাও। জলিল মিয়া ইতস্তত করতে লাগল। কাউকে অপ্রসন্ন করে চলে যাবার মত মনের জোর তার নেই। কিছু বলবে? জি না। তবে স্যার বাকের ভাই কিছু জানলে জানতে পারে। বাকের জানবে কেন? বাকেরের কি যোগাযোগ আছে? মনে হয় আছে। বাকের এখন থাকে কোথায় জান? জি না। শুনেছি তার ভাইয়ের বাসায় থাকে না। আমি বলতে পারি না। স্যার নিজের দোকানের যন্ত্রণায় অস্থির। চোখের সামনে থেকে ডালডার টিন নিয়ে গেল–পাঁচ কেজি ডালডা ছিল। একটু আগে তো বললে চার কেজি। জলিল মিয়া হকচাকিয়ে গেল। ঠিক আছে তুমি যাও। বাকের ভাইকে কিছু বলতে হবে স্যার? না কিছু বলতে হবে না। জলিল মিয়া চিন্তিতমুখে বের হয়ে এল। সবাইকে খুশি রাখা এই দুনিয়ার বিরাট কঠিন কাজ। তবে খুশি রাখতেই হবে। কেউ বোজার হলে দোকানদারি করা যাবে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...