বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কোথাও কেউ নেই (৪১)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)



X ৪১. বাকের নেত্রকোনা স্টেশনে নেমেছে বাকের নেত্রকোনা স্টেশনে নেমেছে ভোর আটটায়। তার সঙ্গে একটা হ্যান্ডব্যাগ। হাতে চিত্ৰালী পত্রিকা। ময়মনসিংহ রেলওয়ে বুক স্টলে মাসুদ রানা একুশ নম্বর কিনে ছিল। পাড়াও হয়েছে চল্লিশ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। নামার সময় বইটা ভুলে ফেলে আসায় তার মেজাজ খুবই খারাপ। একা দারুণ ইন্টারেস্টিং জায়গায় এসে বইটা হারিয়ে গেল। মাসুদ রানা একজন সুন্দরী স্প্যানিশ তরুণীর ঘরে ঢুকেছে। সেই তরুণীর কাপড়-চোপড় ঠিকঠাক নেই। মাখনের মত শরীরের প্রায় সবটাই দেখা যাচ্ছে। তরুণী মাসুদ রানাকে দেখে হেসে বলল তারপর রানা আবার দেখা হল? বলতে বলতে এক ঝটিকায় বের করেছে। লু্যাগার ফিফটি নাইন পিস্তল। মাসুদ রানা নির্বিকার। সিগারেট ধরাতে ধরাতে সে বলল–এমন সুন্দর হাতে অস্ত্র মানায় না। ওটা ফেলে দাও। তরুণী তীব্র স্বরে বলল, নিশ্চয়ই ফেলব। কিন্তু তার আগে তপ্ত দু’টি সিসের টুকরো তোমার মগজে ঢুকিয়ে দেব। এই রকম একটা জায়গায় এসে বই ফেলে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার কোন মানে হয়? বাকের বিরস মুখে সানগ্লাস চোখে দিল। সানগ্লাসটা সে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিনেছে। রাতের বেলা কেনা বলে দেখেশুনে কেনা যায়নি এখন দেখা যাচ্ছে দুই চোখে দুরকম রঙ একটা হালকা সবুজ আরেকটা গাঢ় নীল। ঢাকায় ফিরে টান দিয়ে ঐ হারামজাদার কান ছিঁড়ে ফেলতে হবে। বাকেরের মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। এই অবস্থায় বকুলের শ্বশুর বাড়ি উঠার কোন মানে হয় না। বাড়ি খুঁজে বের করতে কতক্ষণ লাগবে কে জানে। সারাদিন লেগে যাবে বলেই বাকেরের ধারণা। ঠিকানা ছাড়া হুঁট করে রওয়ানা হওয়াটা বোকামি হয়েছে। বিরাট বোকামি। বাকের শেভ করার জন্যে নাপিতের দোকানে ঢুকল। ক্ষিধেও লেগেছে। নাশতা শেষ করে। সারাদিনের চুক্তিতে একটা রিকশা ঠিক করতে হবে। এখানে উপস্থিত হবার অজুহাত হিসেবে সুন্দর একটা গল্পও বানাতে হবে। এলেবেলে কিছু বলে মুনার কাছ থেকে পার পাওয়া যাবে না। ধরে ফেলবে। দারুণ ইন্টেলিজেন্ট মেয়ে। ঠাণ্ডা মাথায় ভাবা দরকার। মাথা ঠাণ্ডা করা যাচ্ছে না–বইটা হারানোর পর থেকে মাথা গরম হয়ে আছে। আজ বুধবার। বুধবার দিনটাই বাকেরের জন্যে খারাপ। নাপিত শোভ করতে গিয়ে খুচ করে গাল কেটে ফেলল। রক্ত পড়ছে সেদিকে লক্ষ্য নেই। পাশের লোকের সঙ্গে খুচরা আলাপ জমিয়েছে। আলাপের বিষয় হচ্ছে পিয়াজের সের বিশ টাকা। এত দামে পিয়াজ এর আগে কখনো বিকায়নি। হুনছ কোনোদিন কুড়ি টেহা সের পেয়াইজ? বাকের গলার স্বর যথাসম্ভব সংযত করে বলল, এই যে দাড়িওয়ালা ভাই। গাল কেটে তো রক্তারক্তি করেছেন তার ওপর খেজ্বরে আলাপ জুড়েছেন। আর একটা কথা যদি বলেন, যে ক্ষুর দিয়ে গাল কেটেছেন সেই ক্ষুর দিয়ে পেট ফাঁসায়ে দিব। হতভম্ব নাপিত বলল, কি কন আপনে? এক্কেবারে খাঁটি কথা বলি–মুখ দিয়ে যেন আর একটা শব্দ বের না হয়। যদি হয়। জিব টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলব। মনের রাগ খানিকটা বের হয়ে যাওয়ায় বাকের একটু আরাম পেল। গাল কাটার দুঃখটাও বেশ কমে গেল। প্রচণ্ড একটা চড় বসিয়ে দিতে পারলে আরো কমত। তবে নতুন জায়গা, হাবভাব না বুঝে কিছু করা ঠিক না। বাকের চা-নাশতা খেয়ে বাড়ি খোজার কাজে নামল। বুড়ো কিন্তু গায়ে শক্তি আছে এমন একজন রিকশাওয়ালা বের করল। ঠিকানা জানা নাই এমন একটা বাসা খুঁজে বের করবে। পঞ্চাশ টাকা চুক্তি সারাদিন লাগলে সারাদিন ঘুরবে। খাওয়ার খরচ আমার। এই নাও টাকা নগদানগদি কারবার ভাল। বিরাট বড় বাড়ি। সেই বাড়ির ছেলে ডাক্তার। বিয়ে করেছে ঢাকায়। স্ত্রীর নাম বকুল। ডাক্তার ছেলের নাম জহির। আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু কর। বুড়ো রিকশাওয়ালা হ্যাঁ-না কিছুই বলল না–উদ্ধার বেগে খানিকক্ষণ রিকশা চালিয়ে বলল নামেন এই বাড়ি। বল কি তুমি এই বাড়ি? হুঁ। উকিল সাহেবের বাড়ি ছেলে ডাক্তার। নাম জহির। বল কি জেনেশুনে পঞ্চাশ টাকা নিলে। জোর কইরা নেই নাই মিয়াভাই। আপনে দিছেন। বলার কিছু নেই। কিন্তু বাকেরের গা জ্বালা করছে। আজ বুধবার। এই জাতীয় কাণ্ড যে ঘটবে তা সে জানত। নেত্রকোনা শহরের সমস্ত রিকশাওয়ালার ওপর তার মেজার খারাপ হয়ে গেল। আবার দাঁত বের করে হাসছে। খবরদার। নো লাফিং। বিদেয় হয়ে যাও। বিদায়। বাকের কল্পনাও করেনি। কি প্রচণ্ড সমাদর তার জন্যে অপেক্ষা করছে। সে কে? কেউ না। বলতে গেলে একজন রাস্তার ছেলে। জেল হাজত খাটা লোক। এই বাড়ির সাথে তার সম্পর্ক কি? কোনই সম্পর্ক নাই। আপদে-বিপদে ছুটে এসেছে সে তো সবখানেই যায়। তাতে কি। তবু সে সংকুচিত ভঙ্গিতে বাড়ির উঠোনে এসে দাঁড়াল এবং বিশাল বাড়ি দেখে খানিকটা ঘাবড়েও গোল ঠিক তখন দোতলা থেকে বকুল তীক্ষ্ণ স্বরে চেঁচাল. কে বাকের ভাই না? পর মুহুর্তেই ছুটতে ছুটিতে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে এল–বিস্মিত গলায় বলল, ওমা কি আশ্চর্য সত্যি তো বাকের ভাই। আপনি কোথেকে? কাজে যাচ্ছিলাম পথে পড়ল নেত্রকোনা ভাবলাম… ইস আর দু’দিন আগে এলে মুনা আপার সঙ্গে দেখা হয়ে যেত। মুনা আপা পরশু সকালেও ছিল। বাকেরের মনটা খারাপ হয়ে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, মুনা এখানে ছিল? বলিস কি? জানতাম না তো! তোর এই অবস্থা কেন? স্কেলিটন হয়ে গেছিস। কংকাল বুঝলি কংকাল? আমার ঘুম হয় না বাকের ভাই। ঘুম হবে না কেন? কি কথাবার্তা বলছিস? ক্লিপ না হবার কি আছে? বিছানায় শুলেই স্লিপ অটোমেটিক চলে আসে। জহির বাসায় ছিল না। বকুল বাবুকে পাঠাল খোঁজ নিয়ে আসতে। জহির বিরাট এক কাতল মাছ কিনে আনল। দুপুরে তার পাতে প্রকাণ্ড মাছের মাথা দেয়া হল। গরম ভাত ঠাণ্ডা করার জন্যে পাখা নিয়ে বসল। বকুল। এত আগ্রহে এত যত্নে কেউ কোনোদিন তাকে খাওয়ায়নি। কেন তাকে এত যত্ন করবে? সে কেউ না–রাস্তার ছেলে… … হাজত খাটা লোক। বাকেরের চোখে পানি এসে গেল। সে ধরা গলায় বলল–তোরা নেত্রকোনার লোক এত ঝাল খাস? আশ্চর্য ঝালের চোটে চোখে পানি এসে গেছে। এর মধ্যে আবার মরিচে কামড় পড়ে গেছে। বকুল লজ্জিত গলায় বলল, বাকের ভাই, একটু দেখে খান। এর সঙ্গে একটু ডাল নিন। ঝাল কম লাগবে। রান্না কেমন হয়েছে বাকের ভাই? উত্তম হয়েছে। অতি উত্তম। আমি রেঁধেছি। ভাল হয়েছে খুবই ভাল। নাম্বার ওয়ান হয়েছে। বাকেরের চোখ থেকে টপ টপ করে এক ফোঁটা পানি তার প্লেটে পড়ে গেল! ভাগিাস কেউ দেখতে পেল না। রাতে কি খাবেন বাকের ভাই? যা! খেতে চান বলুন–রাঁধব। পাগল হয়ে গেলে নাকি? বিকেলের ট্রেন ধরব, মেলা কাজ ঢাকায়। আপনার কি কাজ আমার জানা আছে। যখন যেতে দেব তখন যাবেন। তার আগে না। বকুল বড় একটা মাছের পেটি পাতে তুলে দিল। বাকেরের চোখ আবার ভিজে উঠছে। মমতা পেয়ে তার অভ্যাস নেই অল্পতেই সে কাতর হয়ে পড়ে। মন হু-হু করে। বাকের বাড়িঘর দেখে মুগ্ধ। জহিরের ব্যবহারে মুগ্ধ। বকুলের ভালবাসায় মুগ্ধ। বাড়ির পেছনের বাধানো পুকুরের সাইজ দেখে মুগ্ধ। দুপুরে তার ঘুমিয়ে অভ্যেস নেই। ছিপ ফেলে সারা দুপুর পুকুর ঘাটে বসে রইল। সঙ্গে বাবু। কেমন ঘাই দিচ্ছে দেখেছিস? মাছে পুকুর ভরতি। চার বানিয়ে ফেলতে হবে। চার কি করে বানায় জানেন? হুঁ। মেথি-ফেতি কি সব দিতে হয়। দেখি আগামীকাল জোগাড়-যন্ত্র করে ছিপ ফেলব। মাছ মারা সহজ ব্যাপার না বুঝলি–খুবই শক্ত। খুবই হার্ড কাজ। ভেরি হার্ড। আজ বুধবার। মাছ ধরা পড়ার কথা নয়। কিন্তু কি আশ্চর্য সন্ধ্যার আগে আগে দেড় সের ওজনের একটা মৃগেল মাছ ধরা পড়ল। বাকের আবেগজড়িত গলায় বলল, নেত্রকোনা জায়গাটা খুবই ভাল বুঝলি বারু। অসাধারণ একটা জায়গা। বাংলাদেশের মধ্যে এক নম্বর। এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। নো ডাউট। খুব ভাল জায়গায় বকুলের বিয়ে হয়েছে। খুবই ভাল জায়গা। গুড প্লেইস। বাকেরের প্রতি বকুলের উৎসাহেব বাড়াবাড়ি জহিরের ভাল লাগছে না। সে যা হৈচৈ করছে তাতে যে কেউ বিরক্ত হবে। রাতে পোলাওয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, মুরগী জবাই করা হয়েছে। অথচ দুপুরের মাছের প্রায় সবটাই আছে। এ সমস্ত হচ্ছে অসুস্থতার লক্ষণ। অথচ অসুস্থতার কোন ভিত্তি নেই। এবং অসুখটা এমন যে কারো সঙ্গে আলোপও করা যায় না। গত দুরাত ধরে বকুল আলাদা শুচ্ছে। আলাদা মানে আলাদা ঘর। সন্ধ্যা হতেই সে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ঘুমায় না জেগে থাকে। যতবার জহির নিজের ঘর থেকে বের হয় ততবারই বকুল তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলে–কে কে? আমি ভয় নেই। ও আচ্ছা। বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড় বকুল। আচ্ছা। বাতি নিভে যায়। কিন্তু বকুল ঘুমায় না। জেগে বসে থাকে। এ যন্ত্রণার কোন মানে হয়? যতই সময় যাচ্ছে অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে। কিছুদিন পরে হয়ত কাউকে চিনতে পারবে না। মুনা আপার সঙ্গে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়াই উচিত ছিল। জহির নিজে যেতে পারছে না। মামলামোকদ্দমায় অস্থির হয়ে যাওয়ার জোগাড়। জহির কি করবে ভেবে পেল না। বাকের পাঁচদিন কাটিয়ে দিল। এই পাঁচ দিন সে যে সমস্ত কাজকর্ম করল তার মধ্যে আছে–পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার। বাড়ির পেছনে জঙ্গল পরিষ্কার। দু’টি সাপ মারা (এই সাপ দু’টি জঙ্গল পরিষ্কারের সময় বের হয়ে এসেছিল)। সন্ধ্যাগুলিও বাকেরের খুব ভাল কাটছিল; বাড়ির কাছেই যুব নাট্যদলের অফিস। সেখানে পথের সন্তান নাটকের রিহার্সেল হয়। বাকের গত চার রাত ধরে রিহার্সেলে উপস্থিত। যুব নাট্য দলের লোকজন ঢাকার এই মানুষটির গভীর আগ্রহে খুবই খুশি। নাট্যকারের বয়স অল্প। সে নিজেও বাকেরকে খুব খাতির করে। যাওয়া মাত্র চেঁচিয়ে বলে বাকের ভাইকে চা দাও-বিনা দুধে। নাটকে হাস্যরসাত্মক অংশগুলি বাকেরের খুবই পছন্দ। যতবারই হাসির অংশগুলি হয়, বাকের ঘর ফাটিয়ে হাসে। নাট্যকার এবং নাটকের লোকজন তাতে বড়ই উৎসাহিত হয়। বাকেরের ধারণা এটা একটা অসাধারণ নাটক। এবং ঢাকার কোন নাটকের দল এদের ধারে কাছেও যেতে পারবে না। বাকেরের ইচ্ছা হচ্ছে এক মাস পর যখন নাটক হবে তখন সে উপস্থিত থাকে। সে তার ইচ্ছা! ব্যক্তি ও করেছে। নাট্যকার অত্যন্ত অবাক হয়ে বলেছে কি বলেন বাকের ভাই, আপনাকে ছাড়া নাটক হবে নাকি? আপনাকে ঢাকা থেকে ধরে নিয়ে আসব না? ভেবেছেন কি আমাদের? তাদের আন্তরিকতায় বাকেরের মনটা অন্যরকম হয়ে যায়। বড় উদাস লাগে। বাকেরের আরো কিছু দিন থাকার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু থাকতে পারল না, ঢাকায় চলে আসতে হল। কারণ বকুলের অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া দরকার। জহির যেতে পারছে। না। তার মামলার তারিখ পড়েছে। বকুলের যে বিরাট একটা অসুখ বুঝতেই পারেনি। তার ধারণা ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া না করায় এই হাল হয়েছে। ট্রেনে উঠার পর বকুল যখন ফিসফিস করে বলল, আপনি আসায় আমার জীবনটা রক্ষা হয়েছে। বাকের অবাক হয়ে বলল, কি বলছিস তুই? সত্যি বলছি আমাকে মেরে ফেলত। কে মেরে ফেলত? জহির। তুই পাগল হয়ে গেলি নাকি? পাগল হব কেন? সত্যি কথা বলছি … ও আমাকে গলা টিপে মেরে ফেলতে চায়। চুপ করে থাক। নয়ত চড় দিয়ে চাপার দাঁত ফেলে দেব। বকুল চুপ করে গেল এবং কিছুক্ষণের মধ্যে জানালায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল। বাকেরের দুশ্চিন্তার সীমা রইল না ভালয় ভালয় ঢাকা পৌঁছতে পারলে হয়। ঢাকায় পৌঁছে দেরি করা যাবে না … ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি শুরু করতে হবে। মুনা একা কদিক সামলাবে? ভাগ্যিস সে সময়মত ছাড়া পেয়েছিল। এখনো হাজতে থাকলে তো বিরাট প্রবলেম হয়ে যেত। বাকেরের জন্যে ট্রেনে কেউ কোন সাড়া শব্দ করতে পারল না। কেউ সামান্য কথা বললেও বাকের চেঁচিয়ে ওঠে–মরণাপন্ন রুগী নিয়ে যাচ্ছি–দেখতে পাচ্ছেন না? মা-বোন তো আপনাদের আছে? রোগ-শোক তো আপনাদেরও হয়, নাকি হয় না? এই প্রচণ্ড ভিড়েও সে বেঞ্চ খালি করে বকুলকে শুইয়ে দিল এবং সারা পথ একটা খবরের কাগজ দিয়ে বকুলকে হাওয়া করল। একজন বুড়োমত যাত্রী একবার জিজ্ঞেস করল, উনার কি হয়েছে? বাকের বিরক্ত মুখে বলল, তা দিয়ে আপনার কোন দরকার আছে? বুড়ো চুপ করে গেল। ঢাকায় পৌঁছে বকুল পুরোপুরি সুস্থ। যেন তার কিছুই হয়নি। মুনার ক্ষীণ সন্দেহ হল অসুখের ব্যাপারটা পুরোপুরি বানানো–বকুলের একটা চমৎকার অজুহাত। বাকেরের অবশ্যি খুব সুবিধা হয়েছে। দিনের মধ্যে তিনবার চারবার আসছে রুগীর খোঁজ নিতে এলাম মুনা। অবস্থা কেমন? মুনা বিরক্ত হয়ে একবার ঝাঝিয়ে ওঠে… আপনি বড় ঝামেলা করেন বাকের ভাই। সকালবেলা তো একবার দেখে গেলেন বকুল সুস্থ। এই তিন ঘণ্টার মধ্যে আবার কী হবে? তবু একটু খোঁজ নেয়া–মনের মধ্যে টেনশন থাকে। টেনশনের কিছু নেই বাকের ভাই, যদি কিছু হয় আপনাকে খবর দেব। দয়া করে বিরক্ত করে মারবেন না। আমি বিরক্ত করি? কেন–আপনি নিজে বোঝেন না? আচ্ছা আর করব না। মুখ কালো করে বাকের চলে যায়। মনটা অসম্ভব খারাপ হয়। জলিল মিয়ার স্টলে তিনি কাপ চা খেয়ে ফেলে। মনস্থির করে ফেলে আর না। কী দরকার? যাদের ব্যাপার তারা বুঝবে। তবু সন্ধ্যার পর মনে হয়–খোজ নেয়া বিশেষ প্রয়োজন। দু’টা মেয়ে মানুষ একা একা থাকে। কত রকম সমস্যা হতে পারে। সন্ধ্যার পর দরজায় টোকা দেয়। মুনা গম্ভীর মুখে দরজা খোলে। বাকেরকে দেখেও কিছু বলে না। দরজা-টরিজা ভাল করে বন্ধ করে ঘুমুবে। চুরি হচ্ছে। দেশে বাস করা মুশকিল। রাগ করতে গিয়েও মুনা রাগ করতে পারে না। হেসে ফেলে। বাকের বিস্মিত হয়ে বলেহাস কেন? কেন হাসি তা বোঝার ক্ষমতা আপনার নেই বাকের ভাই। বসুন। চা খাবেন? খাব। মুনা চা বানাতে যায়। বাকের বসে থাকে। তার বড় ভাল লাগে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...