বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পথশিশু

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Samiya Shehab Jenin Uddin (০ পয়েন্ট)



X নীল আকাশের প্রান্তে থাকা সূর্যের আলো বেলকনিতে পড়েছে। সকালের নাস্তা শেষে সবে মাত্র বেলকনিতে চেয়ারে বসে আছি। দূরে দেখতে পেলুম সাইবার বান্ধবীদের বাসার ছাদে দুইটি পায়রা মারামারি করছে ।তার বিপরীত পাশে রাস্তার ফুটপাতে, সাইবার বয়সি একটি ছেলে গালি গায়ে রোদ্রে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে পায়রা দুইটি দেখছে।আমিও অবাক হয়ে দেখছি ছেলেটিকে।কি আজব!এই শীতে গালি গায়ে রয়েছে। একটা জামা তার জুটেনি। রাতে কিভাবে কাটিয়েছে ছেলেটি। আমার আর বুঝতে বাকি রইল না,এরা কারা??এরা পথশিশু। আমার ভাবনা না কে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে আমার ছোট পরি মেয়ে সাইবা ইসলাম মেঘা কখন থেকে হাত ধরে টানাটানি করছে!!আমি বললাম ,কি হয়েছে মেঘা? তুমি মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে গিয়েছো!! মেঘা:হ্যা, মা আমি তো রেডি।মা ও মা আমাকে বিশ টাকা দেও না? আমি বুঝলাম না,রোজ মেঘা আমার থেকে প্রতিদিন বিশ টাকা নিচ্ছে।কেন নিচ্ছে? আমাকে বলছে না।ওর যা যা লাগে ওর বাবা তো ওকে কিনে দেয়।ওর তো কোনো কিছু অপূর্ণ নেই।আর ফার্স্ট ফুট খাবার বাসায় সবসময় থাকে।মেঘার এ কি বদ অভ্যাস হলো?? ওর মত কত শিশুরা না খেয়ে দিন কাটছে।একটু আগে দেখা ছেলেটি একটা জামা জুটেনি।আর আমার মেয়ে এ কি দশা। আমি ওর মা হিসেবে এখনো সঠিক শিক্ষা দিতে পারেনি।রাগ কন্ট্রোল করে মেঘাকে নরম সুরে বললাম,মামণি তুমি বিশ টাকা দিয়ে কি করবা?? মেঘা:মা, আমার লাগবে।প্লিজ বিশ টাকা আমাকে দেও।আমার ভালো মা। আমি মেঘাকে বকা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন মেঘা আমাকে চমকে কপালে চুমু দিল। আজকের জন্য আর কিছু বললাম না।মেঘাকে বিশ টাকা দিয়ে দিলাম।মেঘা ওর বাবার সাথে মাদ্রাসায় চলে গেল। প্রায় আধ ঘন্টা হয়ে গিয়েছে মেগা মাদ্রাসায় গিয়েছে। আমার কোনো কাজেই মন বসছে না। মাথায় একটা প্রশ্ন ই ঘুরাঘুরি করছে,মেঘা কেন রোজ বিশ টাকা নিচ্ছে আমাকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে। রোজ বলতে পাঁচ ছয় দিন না,আজ হলে এক মাস হচ্ছে ।আর কেন নিচ্ছে সেটাও বলছে না। মাথায় একটা বুদ্ধি চলে এল , এখন ই মেঘার মাদ্রাসায় যাব।আর লুকিয়ে মেঘা কি করে সেটা ফলো করবো। আমি মাদ্রাসায় রিকশায় যাচ্ছিলাম, দেখলাম রাস্তার ফুটপাতে অনেক গুলো ছেলে মেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের কারোর জামা কাপড় ছেড়া ,আর কেউ কেউ গালি গায়ে। হঠাৎ করে সকালের দেখা ছেলেটি কে ও দেখলাম। এখানে সবাই পথ শিশু।আরো একটা জিনিস খেয়াল করলাম লাইনের প্রথমে মেঘার মাদ্রাসার পোশাক পড়া কতগুলো ছাত্রী। তাদের একজন একটা করে লাইনে থাকা শিশুদের শীতের পোশাক দিচ্ছে।আর আরেকজন এক প্যাকেট খাবার দিচ্ছে।আমি তাকে ভালো করে তাকিয়ে দেখি ,মেয়েটি আর কেউ না আমার লাল পরি মেয়ে সাইবা ইসলাম মেঘা।রিকশা চালক কে তাড়াতাড়ি এখানে নামিয়ে দিতে বললাম।টাকা পরিশোধ করে , আমি ওখানে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখলাম পথশিশু গুলো জামা আর খাবার পেয়ে কি সুন্দর মিষ্টি দিচ্ছে। এই দৃশ্য আমাকে সুখে চোখ দিয়ে পানি পড়তে বাধ্য করল। আমার লালপরী মেয়েটি আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে বলল,আম্মু I Love You.মা মা, আমাকে তুমি বকা দিও না।আমি আমার মিষ্টি লাল পরীটাকে কপালে চুমু দিয়ে বললাম ,হ্যা তোমাকে বকা দিবো, খুব বকা। তোমাকে আমি এজন্য বকা দিব, তুমি আমার থেকে কেন একশো টাকা নেওনি!! ছোট গল্পটী শেষ। কেমন লাগলো কমেন্টে সবাই জানাবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...