বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি:তখন যে আমাকে ফেলে দিয়েছিলে তার প্রতিশোধ নেব এখন।
জান্নাত আর কিছু বলতে যাবে ঠিক তখন ই আমি ওর মুখটা চেপে ধরে আমার মুখটা ওর কাছে নিয়ে গেলাম।ওর গরম নিশ্বাস আমার মুখের উপর পড়ছে।
জান্নাতের চোখগুলো ভয়ে বড় বড় হয়ে গিয়েছে।
আমি:এই পিচ্চি মেয়ে,আমার পিছনে লাগছো কেন?তুমি জান আমি কে?এখনতো তুমি আমার হাতে বন্ধি এখন তোমার কি হবে?আমিতো এখন তোমার সব কিছু শেষ করে দেব।আমি আজ তোমাকে...
জান্নাত ভয়ে ঘামতে শুরু করেছে।
আমি ওর মুখ থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে জোরে জোরে হাসতে লাগলাম।
আমি:ভয় পাইলেন বুঝি?হা হা হা!জাস্ট মজা করলাম।কিন্তু আপনি আমার মান-সম্মানের ১২টা বাজায় দিয়েছেন।
জান্নাত অনেক রেগে গিয়ে বললো,''ঠিক করেছি।এবার এমন একটা না তখন বুঝবেন।
আমি:ওহ।তাই বুঝি।আচ্ছা দেখা যাবে কে কাকে টাইট দেয়।
জান্নাত:আচ্ছা বাজি হয়ে যাক?
আমি:ওকে বাজি।
জান্নাত:কত টাকা বাজি হবে?
আমি:২টাকা চার আনা।
জান্নাত:তুর মিয়া।
আমি:আচ্ছা ঠিক আছে।তাহলে আর এক আনা বাড়িয়ে দিচ্ছি।২টাকা আটআনা।
জান্নাত:আপনি এত কিপটে কেন?
আমি:আচ্ছা তাহলে আপনি বলেন কত টাকা বাজি হবে?
জান্নাত:১০০০ টাকা হবে।
আমি:আমি আঃরব।আর মিস পিচ্চি আপনার নাম কি?
জান্নাত:এই দেখেন আমি পিচ্চি না।আমার নাম জান্নাত।আর আপনার নাম কি মিস্টার আঃরব?
আমি:কদু পাগলা!
জান্নাত:ত্যাট।এটা কি কারো নাম হতে পারে?
আমি:অবশ্যয় পারে।যখন কেউ কারো নাম ধরে ডেকে তাকে জিগ্গাসা করে আপনার নাম কি?
জান্নাত:তার মানে আপনার নাম সত্যিই কদু পাগল হি হি হি!আচ্ছা আপনার আব্বুর নাম কি ছদু পাগলা,আর আপনার দাদার নাম কি জদু পাগলা,আর আপনার দাদার বাবার কি হলু পাগলা হি হি হি!আচ্ছা আপনাদের ভিতরে সব থেকে বড় পাগল কে?
আমি:এই পিচ্চি বুড়ি,আপনাকে কি সরকার থেকে দেশের পাগল গণনা করার কাজ দিয়েছে নাকি?
জান্নাত:আপনাদের মতো পাগল থাকলে নিশ্চয় গুনতে হবে।আচ্ছা আমি এখন যায় রিপাকে সাজাতে হবে।
আমি:ওকে।
তারপর জান্নাত চলে গেল।আমি সাদের এক পাশে গিয়ে বসলাম।পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে জ্বালালাম।
আগে এসব সিগারেট খেতাম না।কিন্তু পর্বতিতে ড্রিপরেশন দূর করার জন্য এইটা ধরেছিলাম।কিন্তু আমার বাসার কেউ সিগারেট বা বিড়ি খাইনা।আর এইসব সিগারেট বিড়ি যদি দাদু কাউকে খেতে দেখে তাহলে তাকেতো বাড়ি ছাড়া হতে হবে।
তাই আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এই কয়েকটা খাই।
সিগারেটে টান দিচ্ছি আর ভাবছি,জান্নাতকে কি করে জব্দ করা যায়।নাহ!মাথায় তেমন কোন প্লান আসছে না।
সিগারেটরা জোরে একটা টান দিলাম।টানটা একবারে বুদ্ধির গোড়ায় গিয়ে খোচা মারলো।
পাইছি একটা বুদ্ধি।
সিগারেটটা ফেলে দিয়ে মুখ থেকে পগের বতলটা বের করলাম।তারপর মুখে ফগ স্পে করলাম।তার আমি রিপা ভাবির রুম খোঁজা শুরু করলাম।
একটু খোঁজাখুঁজির পর পেয়েও গেলাম।
আমি দরজার পাশে গিয়ে একবার ওকি মেরে দেখলাম,ভিতরে রিপা ভাবি,জান্নাত ও তার ৩বান্ধবী আছে।আমি আড়ি পেতে শোনার চেষ্টা করলাম ওরা কি বলছে,
জান্নাত:জানিস তোরা ওই ছেলেটার সাথে আমি বাজি ধরেছি।
রিয়া:কোন ছেলটা?
জান্নাত:আরে ওই যে তোদের হিরো।যাকে আমি সবার সামনে ফেলে দিয়েছিলাম।
আরশি:কি বাজি ধরলি শুনি?
জান্নাত:ও বলেছে,আমি যদি ওকে টাইট দিতে পারি তাহলে ও আমাকে ১০০০ টাকা দেবে আর ও যদি আমাকে টাইট দিতে পারে তাহলে আমাকে ওকে ১০০০ টাকা দিতে হবে।ও জানেনা আমি কে,আমি হলাম জান্নাতুল ফেরদৌস। আমি সেমাই রান্না করি ঝাল দিয়ে!ওকে বোঝাবো আমি কি জিনিস?
নাদিয়া:তা কি করবি শুনি?
জান্নাত:একটা মিষ্টির প্যাকেটে একটা ব্যাঙ ঢুকাবো।তারপর যখন ওনাদের খাওয়া শেষ হয়ে যাবে তখন আমি ওই প্যাকেটটা ওই ছেলেটাকে দেব।বলবো এতে মিষ্টি আছে আপনি খুলে খান।তবে একটা শর্ত আছে এটা খেতে হবে চোখ বন্ধ করে যদি আপনি সাহসি হন।
হি হি হি তারপর দেখবি ওর মজা।
রিয়া:কিন্তু ওই ব্যাঙটা মিষ্টির প্যাকেটে ঢুকাবে কে?
জান্নাত:আরে রিপাদের বাড়ীর যে কাজের ছেলেটা আছে ওকে আমি বলে রেখেছি।দেখ এই নিয়ে আসলো বলে।
মনে হচ্ছে ওদিক থেকে কেউ আসছে।
আমি তাড়াতাড়ি করে পাশের রুমে গিয়ে লুকিয়ে পড়লাম।
ওদিক থেকে কাজের ছেলেটা আসলো।হাতে একটা মিষ্টির প্যাকেট।দরজার সামনে এসে বললো,''আমি কি ভিতরে আসতে পারি ম্যাডাম?
জান্নাত:হুম এসো।উপহারটা কোথায়?
কাজের ছেলে:এই যে ম্যাডাম (প্যাকেটটা এগিয়ে দিয়ে)।
জান্নাত:এবার তুমি আসতে পারো।
কাজের ছেলেটা চলে গেল।
আমি আবার আস্তে আস্তে বের হয়ে আসলাম।দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম।
জান্নাত:এবার আমার খেল দেখ।এই ব্যাঙ দিয়ে আমি কদু পাগলকে(আমাকে) ধরিয়ে দেব হি হি হি!ও জানেনা আমি ঝাল(মরিচ) দিয়ে সেমাই রান্না করি!
রিপা:এই তোর কি হয়েছে?আমার সাজা হয়ে গিয়েছে।এখন আমি অন্য রুমে যাব।
জান্নাত:এই আমাকেও একটু সাজতে হবে।
রিপা:তাড়াতাড়ি কর।
আমি যেই রুমটায় একটু আগে ঢুকেছিলাম ওটা হয়তো আংকেল আন্টির রুম।কারন,ওখানে যেসব জিনিস রাখা আছে ওগুলো দেখে একটু বয়স্ক টাইপের মনে হচ্ছে।ওখানে আমি বুরখাও দেখেছিলাম।
আমি তাড়াতাড়ি করে আবার ওই রুমে ঢুকলাম।তারপর একটা বুরখা পরে নিলাম।
রুম থেকে বেরিয়ে আমি রিপা ভাবির রুমে গেলাম।
আমি কন্ঠটা মেয়েদের করে বললাম,''এই রিপা আপু আপনাকে আন্টি ঢাকছে।আর আপনাদেরও ডাকছে।তাড়াতাড়ি যান তাড়াতাড়ি।
জান্নাত:এই তোরা যা আমি একটু সেজে গুজে যাচ্ছি।
রিয়া:শোন,তুই রিপার রুমে না গিয়ে একবারে বিয়ের প্যান্ডেলে যাবি।আমরা রিপাকে আন্টির কাছে রেখে ওখানেই যাব।
জান্নাত:আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর ওরা চলে গেল।আর আমি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকলাম।আয়নাটা টুকুস করে বুরখার ভিতরে ঢুকিয়ে নিলাম।
জান্নাত:এই আয়নাটা আবার রিপা কোথায় রেখেগেল?এই তুমি কি আমাকে একটু সাজিয়ে দিতে পারবে?
ও মাই গোড মেঘ না চাইতেই জল।
আমি:হুম পারবো।
জান্নাত:তাহলে একটু সাজিয়ে দাও।
আমি:আচ্ছা আপনি আগে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসেন,তারপর সাজিয়ে দিচ্ছি।
জান্নাত:ওকে।
জান্নাত ওয়াশরুমে চলে গেল।আমি পকেট থেকে একটা লিপিস্টিক বের করলাম।আসলে এটা হলো সিগারেটের ছায় আর লাল কালারের ক্রিম দিয়ে মিশিল করা।আর একটা জিনিস বের করলাম পকেট থেকে।ছোট একটা কৌটায় পচা কাদার সাথে হালকা মেকাপ মিশানো।
একটু পর জান্নাত ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলো।
আমি:এখানে বসেন আমি সুন্দর করে সাজিয়ে দিচ্ছি।
তারপর জান্নাত চুপটি করে বসলো।আমিও সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম।
আমি:ওপপস আমানাকে একবারে ভারতের পাখি মনে হচ্ছে!
জান্নাত:ওহ তাই বুঝি?খুব সুন্দর দেখাচ্ছে?
আমি:আরে সুন্দর বললে আপনাকে অপমান করা হবে।আপনাকে যে কেমন লাগছে এটা বলার মতো আমার মুখে ভাষা নেই।বিশ্বাস না হলে আপনি বাইরে গিয়ে দেখেন।সবাই আপনার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে।
তারপর জান্নাত আমাকে একটা মিষ্টি ধন্যবাদ দিয়ে চলে গেল।
আমি বুরখাটা খুলে একটা শয়তানি হাসি দিলাম।
তারপর আমিও জান্নাতের পিছন পিছন বাইরে চলে গেলাম।নাটক দেখার জন্য।
জান্নাত বাইরে যেতেই নাটক শুরু হয়ে গেল।জান্নাতকে দেখে সবাই খিলখিল করে হাসছে।
আমিও হাসছি।
জান্নাত কিছু বুঝতে পারছে না সবাই ওকে দেখে হাসছে কেন?
তারপর ওর ৩বান্ধবী দৌঁড়িয়ে এসে বললো,''
রিয়া:এই জানু এটা তুই কি মেকাপ করেছিস?
জান্নাত :কেন?আমাকে সুন্দর লাগছে না?
আরশি:তুর!সারা মুখে পচা কাদা আর ঠৌঁটে সিগারেটের ছায় মেখে এসে বলছিস তোকে সুন্দর লাগছে!
নাদিয়া:তোকে চিড়িয়াখানার ভাল্লুক মনে হচ্ছে হি হি হি!
জান্নাতের বুঝতে আর বাকি রইলো না এটা কার কাজ।জান্নাত আমার দিকে রাগি রাগি চোখ নিয়ে তাকালো,আর আমি শয়তানি হাসি দিলাম।
জান্নাত দৌঁড়িয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ভালো করে ফ্রেশ হয়ে নিল।
আর এদিকে,
আমাদের খাওয়া শেষ।জান্নাত ও তার ৩বান্ধবী আমাদের দিকে আসলো।জান্নাতের হাতে একটা মিষ্টির প্যাকেট।
জান্নাত আমাদের কাছে এসে বললো,''দুলাভাই এই মিষ্টির প্যাকেটে ১কেজি মিষ্টি আছে।আপনাকে সব খেতে হবে।
ভাইয়া:আরে এটা কি বলছেন ১কেজি মিষ্টি কি করে খাব?
জান্নাত:সেটা বললেতো হবে না।হয় পুরো মিষ্টি খেতে হবে আর নাহয় ৫০০০ টাকা দিতে হবে।
আমি:আচ্ছা ভাইয়ার বদলে আমি খাইলে কি চলবে?
জান্নাত:হুম হবে।তবে একটা শর্ত আছে।
আমি:কি শর্ত?
জান্নাত:এই মিষ্টিগুলো আপনাকে চোখ বন্ধ করে খেতে হবে।
আমি:ওকে।নো প্রবলেম।
তারপর জান্নাত আমার হাতে মিষ্টির প্যাকেটটা দিল।আমি চোখ বন্ধ করলাম তারপর আস্তে আস্তে মিষ্টির প্যাকেটটা খুলছি।
এদিকে জান্নাত শয়তানি হাসি হাসছে।
চলবে,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now