বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হত্যাকারি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান PRINCE FAHAD (১১১৪ পয়েন্ট)



X ভালোবাসার অনুভূতি কখনো বলে কয়ে আসেনা। কে কখন কার ভালোবাসার রংে নিজেকে রাংাবে সেটা সে নিজেও জানেনা। তখন ক্লাস নাইনে পড়তাম। একদিন স্কুলে গিয়ে শুনলাম সোহা নামে আমাদের সাথে যে মেয়েটি পড়তো সে নাকি উৎপল রায় নামের এক হিন্দু ছেলের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। কথাটা শুনে অবাক হয়েছিলাম। কারণ, এতোদিন দেখেছি হিন্দু মেয়েরা মুসলমান ছেলেদের সংে বাড়ি ছাড়ে কিন্তু সেবারই প্রথম দেখলামমুসলমান মেয়েরাও হিন্দু ছেলেদের ভালোবাসা পেতে পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিশাপ কুড়ায়। তাছাড়া রক্ষণশীল মুসলমান পরিবারের মেয়ে ছিল সোহা। পরিবারের কড়া শাসন আর নিয়মনীতি মেনে চলতে হতো তাকে। ক্লাস সিক্স থেকেই দেখেছিলাম বোরখা পড়ে আসতে। কোনোদিন ওর মুখ দেখতে পাইনি আমরা। ওর মুখ দেখার ব্যাপারে ছেলেদের মধ্যে চাপা কৌতূহল ছিল। তারপরেও রক্ষণশীল পরিবারের পরদাকে ভেদ করে ভালোবাসা চুপিচুপি প্রবেশ করেছিল সোহার হৃদয়ে। আর হিন্দু ছেলের সাথে মেয়ের সম্পর্ক সোহার বাবা-মা মেনে নেয়নি। তাই পুরনো সব বন্ধন ছিন্ন করে সোহা জুড়ে নেয় নতুন সংযোগ। স্কুল থেকে বন্ধুরা যাচ্ছিল সোহা-উৎপলের সংসার দেখতে। তাদের সাথে আমিও গেলাম। প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে পৌছালাম উৎপল রায়ের বাড়িতে। বেশ বড় পাকা বাড়ি। আসবাবপত্রেরও অভাব ছিল না। বাড়িতে সোহা আর উৎপল ছাড়া কেউ ছিল না। উৎপলের বাবা-মা গত হয়েছেন কয়েক বছর আগেই। বোরখা পরে স্কুলে যেত বলে কোনোদিন সোহার মুখ দেখতে পেতাম না। সেইদিন দেখলাম।দেখে চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। দেখতে একদম সাক্ষাৎ পরীদের রাণী। এমন একটা মুখ পেলে বাবা-মার শাসন উপেক্ষা করে, রাজপ্রাসাদ ছেড়ে যেকোনো রাজপুত্রও অনায়াসে তাকে বিয়ে করতো। আমরা কিছুক্ষণ সেখানে থেকে সোহা-উৎপলের সুন্দর জীবন কামনা করে যার যার বাড়ি ফিরে গেলাম।ক্লাস নাইন পেরিয়ে কখন যে অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে উঠলাম কিছুই বুঝতেপারলাম না। ডিসেম্বরের শেষের দিক। শীতকালীন ছুটি কাটাতে বাড়ি গেলাম। একদিন সন্ধ্যে বেলা এক বন্ধুকে নিয়ে হাটছিলাম। বন্ধুই আমাকে জানালো পাশের গ্রামের একটি লোকের কথা। যে নাকি জুয়া খেলে সবকিছু হারিয়ে সর্বশেষ বাজি ধরেছে নিজের বৌকে। সন্ধ্যার পর লোকটারবাড়িতে বসবে জুয়ার আসর। ব্যাপারটা খুব গোপনীয়, আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হলো। তাই বন্ধুকে নিয়ে কৌতূহল মেটাতে ছুটলাম সেইজুয়াড়ির বাড়িতে। আমাদের যেতে দেরী হয়েছিল। খেলা প্রায় শেষের দিকে।দর্শক আমাদের সহ পাঁচজন। অর্থাৎ, খেলাটা গোপনেই হচ্ছিল। বৌ বাজি ধরা লোকটা আর ঐ বাড়িটাকে আমার খুব চেনা চেনা লাগছিল। যথাসময়ে খেলাশেষ হলো। বাজিধরা লোকটা হেরে গেল। বিজয়ীরা পুরষ্কার চাইলো। লোকটা তার বৌকে আনতে বাড়ির ভেতরে গেল। বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেল। লোকটা আসছিল না দেখে আমি আর আমার বন্ধু বাদে সবাই বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। হঠাৎ তারা চিৎকার দিয়ে যে যার মতো ছুটে পালালো। কৌতূহলী হয়ে ভেতরেঢুকলাম এবং যা দেখলাম তাতে দুজনই বিস্মিত হলাম। বৌ বাজিধরা লোকটারশরীর ও মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিল। আর পাশেই দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে পা ছড়িয়ে বসে একটি মেয়ে কাঁদছিল। ডান হাতের কাছে একটি রক্তমাখা ধারালো দা ফেলা। মেয়েটিকে চিনতে অসুবিধা হলোনা। মেয়েটা ছিল উৎপল রায়ের হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে পালানো আমার সেই বান্ধবী সোহা। উৎপলকে আগে চিনতে পারিনি। কারণ, ওর মুখ দাড়ি, গোফে ভরা ছিল। তাছাড়া, নেশা করে ওর চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো বিষয়টা আমার কাছেপরিস্কার হলো। তবে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। একটু পরেই পুলিশ এলো। বুঝতে পারলাম পালিয়ে যাওয়া লোকগুলো পুলিশে খবর দিয়েছে।একটা পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, কে খুন করেছে? সংে সংে সোহা ক্ষিপ্রগতিতে বললো, "ওকে কি জিজ্ঞেস করছেন? আমি খুনি, খুন আমি করেছি, আমাকে ধরে নিয়ে যান। অনেক ভালোবেসেছিলাম ওকে। যার কোনো মূল্য দেয়া তো দূরে থাক, পায়ের নিচে পিষে খুন করেছে।আজ তার শোধ নিলাম।" সোহাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গেল পুলিশ। কেবল তাকিয়ে দেখলাম।কারণ, এটাতো স্বাভাবিক বিষয়। খুন করলে তো জেলে যেতেই হবে। তাছাড়া,জানতাম এদেশে ভালোবাসা হত্যা করলে কোনো দোষ হয়না কিন্তু ভালোবাসারহত্যাকারীকে হত্যা করলে হাতকড়া পরানোর লোকের অভাব হয় না।"Someone, Somewhere is waiting for you" But, you have to find out the right person and stay a long away from cheater. সংগ্রহীত,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...