বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার সাইন্টিস মামা (২৫)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (৩০ পয়েন্ট)



X মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমি একটা চাপা শব্দ করলাম, বললাম, “হায় খোদা!” ডোরিন জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?” “তোমরা চিন্তাও করতে পারবে না”  “কি চিন্তাও করতে পারব না?” “চল ফিরে যাই, বাইরে গিয়ে বলব।” আমরা চলে যাবার জন্য মাত্র ঘুরেছি ঠিক তখন করিডোরের অন্য মাথায় দরজা খুলে একজন মানুষ ঢুকল। পাহাড়ের মতন একজন মানুষ, একটু আগে সুইমিংপুলে এই মানুষটা নেংটির মতো একটা জাঙ্গিয়া পরে লাফ ঝাঁপ করছিল। মানুষটা আমাদের দেখে পাথরের মতো জমে গেল, তারপর একটা গগন বিদারী চিৎকার দিল। আমি ফিসফিস করে বললাম, “সবাই খুবই স্বাভাবিক থাক। ভাব দেখাবে আমরা মোটেও লুকিয়ে আসিনি। ঘুরতে এসেছি।” আমরা নিজেরা নিজেরা কথা বলতে বলতে এগিয়ে গেলাম। পাহাড়ের মতো মানুষটার কাছে গিয়ে ডোরিন তার দিকে হাসি হাসি মুখে বলল, “হ্যালো। গুড আফটারনুন।” পাহাড়ের মতো মানুষটা শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধারে কাছে গেল না, প্রায় হুংকার দিয়ে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল, “তোমরা এখানে কীভাবে ঢুকেছ?” “কেন? হেঁটে হেঁটে এসেছি।” ডোরিন একটু অবাক হওয়ার ভান করে বলল, “এখানে আসা কি নিষেধ?” মানুষটা কোনো উত্তর দিল না, বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইল। আমাদের কথাবার্তা শুনে আরো কয়েকজন মানুষ এসে হাজির হলো। তাদের মাঝে ব্যায়ামের ঘরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দৌড়ানো মানুষ দুইজনকেও দেখলাম। শোরগোল শুনে একজন বাঙালিকেও ছুটে আসতে দেখলাম। বাঙালি মানুষটা আমাদের দেখে চোখ কপালে তুলে বলল, “কে তোমাদের ঢুকতে দিয়েছে?” “কেউ দেয় নাই। আমরা নিজেরা নিজেরা চলে এসেছি।” বাঙালি মানুষটা একজনকে বলল, “নিশ্চয়ই শাহবাজ। নিশ্চয়ই লিফট খোলা রেখে দিয়েছে।” আমি হঠাৎ করে বুঝে গেলাম আমরা যে গোপন একটা সিঁড়ি দিয়ে ঢুকে গেছি এই মানুষগুলো সেটা জানে না। তারা মনে করছে আমরা লিফট দিয়ে নেমে এসেছি। আমরা সেরকম ভান করে যাই। আমি অবাক হওয়ার ভঙ্গী করে বললাম, “এখানে আসলে কী হয়? কতো সুন্দর যন্ত্রপাতি, একটু দেখে যাই।” মানুষগুলো একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকালো, মনে হলো কী বলবে বুঝতে পারল না। একজন সাদা চামড়ার মানুষ হড়বড় করে অনেক কিছু বলে গেল। আমাদের এভাবে আসা নিয়ে সে মোটেও খুশি হয় নাই সেটা আমি টের পেলাম কিন্তু ঠিক কী বলেছে সেটা বুঝতে পারলাম না। বাঙালি মানুষটা তার কথা অনুবাদ করে দেবার চেষ্টা করল। বলল, “স্যার খুব রাগ হয়েছেন যে তোমরা এখানে ঢুকে গেছ। এখানে বাইরের কারোর আসা নিষেধ।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কেন?” মানুষটা একটু থতমত খেয়ে গেল। একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকাল। ডোরিন বলল, “আমরা এই রিসোর্টে থাকতে এসেছি। রুমের ভাড়া দিচ্ছি, এই রিসোর্ট থেকে বলেছে আমরা এখানে যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারব। আমরা আজকে জিমে গিয়েছি, বিলিয়ার্ড বল রুমে গেছি, সুইমিং পুলে গিয়েছি, টেনিস কোর্টে গিয়েছি, এখানেও এসেছি।” মাহবুব বলল, “এখানে আসা যদি নিষেধ হয় তাহলে আমাদের কেউ থামালো না কেন? আমাদের না করলেই তো আসতাম না।” আমি সাহস করে বললাম, “কোথাও লেখা পর্যন্ত ছিল না যে প্রবেশ নিষেধ।” মানুষগুলো চুপচাপ থাকলো, নিজেদের ভিতরে কথা বলল, তারপর বাঙালি মানুষটাকে বলল, আমাদের বের করে দিতে। সেই মানুষটা রাগ রাগ মুখে আমাদেরকে নিয়ে একটা লিফটের সামনে দাঁড়াল। লিফটার ভেতর ঢুকিয়ে আমাদের উপরে নিয়ে বলল, “খবরদার আর কখনো এখানে ঢোকার চেষ্টা করবে না।” আমি আমার পিছলে বুদ্ধি ব্যবহার করে জিজ্ঞেস করলাম, “আমার শুধু একটা প্রশ্ন। এখানে ঢোকা নিষেধ কেন? আপনারা কী কোনো বেআইনী কাজ করেন?” মানুষটা আমার প্রশ্নের উত্তর পর্যন্ত দিল না, থমথমে মুখে লিফটে ঢুকে গেল। মানুষটা চলে যাবার পর মাহবুব ডোরিন আর উনি আমার দিকে ঘুরে তাকালো। ডোরিন জিজ্ঞেস করল, “এখন বলবে এখানে কী হচ্ছে?” “বলব। কিন্তু বলার জন্য আমাদের এমন একটা জায়গায় যেতে হবে যেখানে কেউ আমাদের কথা শুনতে পারবে না। আমি তোমাদের যে ব্যাপারটা বলব সেটা টপ সিক্রেট।” টনি বলল, “চল তাহলে হাওড়ের পারে যাই।” আমি বললাম, “চল।” তখন সবাইকে নিয়ে আমরা হাওড়ের পারে রওনা দিলাম। সেখানে একটা গাছ বাঁকা হয়েছিল তার মোটা একটা ডালে আমি পা ঝুলিয়ে বসলাম। ডোরিন বলল, “বল, এখন।” আমি বললাম, “আমার মামা কী নিয়ে গবেষণা করে তোমাদেরকে বলেছিলাম মনে আছে?” মাহবুব বলল, “হ্যাঁ। পরিবেশ দূষণ। “সেটা আসলে সত্যি না।” সবাই একসাথে চমকে উঠল। বলল, “সত্যি না?” না। মামা যেটা নিয়ে গবেষণা করে সেটা আমরা সবাইকে বলতে চাই না সেজন্য বলি পরিবেশ দূষণ। মামা আসলে দেশের সব জায়গা ঘুরে ঘুরে ইউরেনিয়াম খুঁজে বেড়াচ্ছে।” মাহবুব রীতিমতো চমকে উঠল, বলল, “ইউরেনিয়াম! যেটা দিয়ে এটম বোমা বানায়?” ‘হ্যাঁ।” আমি সবার দিকে তাকিয়ে বললাম, “মনে আছে আমি একটা গাইগার কাউন্টার নিয়ে হাঁটছিলাম?” “হ্যাঁ।” “সেটা দিয়ে আসলে কার্বন ডাই অক্সাইড মাপে না। সেটা দিয়ে রেডিও একটিভিটি মাপে।” সবাই চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকাল। আমি বললাম, “মনে আছে নৌকায় যষ্ঠি মধু গাছের চারা নিয়ে একটা মানুষ উঠেছিল। মানুষটা কোথায় সেই গাছটা পেয়েছে আমি বারবার জিজ্ঞেস করেছিলাম।” ডোরিন বলল, “হ্যাঁ। মনে আছে। আমি ভাবছিলাম কী আজব!” “আসলে সেই গাছের গোড়াতে যে মাটি ছিল সেটা ছিল রেডিও একটিভ। এটার কাছে গাইগার কাউন্টার নিতেই সেটা কটকট করছিল। তোমরা কেউ লক্ষ করনি।” মাহবুব বলল, “করেছিলাম। আমি লক্ষ করেছিলাম। কিন্তু আমি পাত্তা দেই নাই।” “তার মানে বুঝেছ?” টনি জিজ্ঞেস করল, “মানে কী?”  “তার মানে ঐ জায়গাটাতে নিশ্চয়ই ইউরেনিয়ামের খনি আছে।” “সত্যি?” ‘হ্যাঁ এইজন্য এই বিদেশি মানুষগুলো এখানে একত্র হয়েছে। মনি কাঞ্চনের নিচে গোপনে একটা ল্যাবরেটরি বানিয়েছে। মামার ল্যাবরেটরিতে যে যন্ত্রপাতি ছিল তাদেরও সেগুলো আছে। আমি দেখেই চিনেছি। “কী আশ্চর্য!” “হ্যাঁ। তারা ইউরেনিয়ামের খনি যেখানে আছে সেই পুরো জায়গাটা নিশ্চয়ই দখল করে নিয়েছে। মুখে বলছে সেখানে সিমেন্টের ফ্যাক্টরি বানাবে, আসলে মাটি খুঁড়ে ইউরেনিয়াম বের করে নিয়ে যাবে।” “কী সর্বনাশ।”  ‘হ্যাঁ। অনেক বড় সর্বনাশ।”  “তোমার মামা শুনে কী বলেছে?” “আমার মামাকে এখনও বলার সময় পাই নাই। তাছাড়া মনি কাঞ্চনের গোপন ল্যাবরেটরিটার কথা তো আগে জানতাম না।” “তোমার মামাকে কখন বলবে?” আমি বললাম, “ভাবছিলাম, ইউরেনিয়ামের জায়গা থেকে মাটি তুলে নিয়ে এসে মামাকে দেই। তারপর মামাকে বলি।” ডোরিন বলল, গুড আইডিয়া।” মাহবুব বলল, “কখন যাবে?” “কাল সকালে।” ডোরিন বলল, “গুড আইডিয়া। আমরাও চলে আসব।” মাহবুব বলল, “হ্যাঁ। আমিও চলে আসব। একসাথে যাব।”  টনি বলল, “কিন্তু আমাদের তো ঢুকতে দেবে না।” আমি বললাম, “বুদ্ধি করে ঢুকতে হবে।” ডোরিন বলল, “টোপনের অনেক পিছলে বুদ্ধি! তাই না?” আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, “হ্যাঁ।” মাহবুব বলল, “আমি আমার নৌকাটা নিয়ে আসব, তাহলে নৌকা থেকে নেমে যেতে পারব, আমাদের ধরতে পারবে না।” ডোরিন আবার হাতে কিল দিয়ে বলল, “ভেরি গুড আইডিয়া।” আমরা আরো কিছুক্ষণ কথা বললাম, তারপর আগামীকাল কীভাবে কোথায় দেখা করব সেগুলো ঠিক করে ফেললাম। ফিরে যাবার সময় ডোরিন আর টনির আব্বু স্পিড বোটের ড্রাইভারের সাথে কথা বলল, তারা আমাদের দুজনকে হাওড়ের পাড়ে নামিয়ে দিল। মাহবুব তার বাসায় রওনা দিল আমি রওনা দিলাম মামার মাইক্রোবাসের দিকে। . অনেকদিন ডাইরি লেখা হয় না। রাত্রে ঘুমানোর আগে এখন পর্যন্ত কী হয়েছে সব কিছু লিখে ফেললাম। আমার ডাইরিটা এখন সারা পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং একটা ডাইরি। এই ডাইরিতে এখন মনি কাঞ্চনের নিচে গোপন ল্যাবরেটরির তথ্য আছে, ইউরেনিয়ামের খনির তথ্য আছে–মনে হয় এইটা এখন মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা যাবে। আমি যখন ডাইরি লিখছি তখন মামা জিজ্ঞেস করল, “কী ব্যাপার? ডাইরি লিখছিস নাকি উপন্যাস লিখছিস?” আমি বললাম, “অনেক কিছু লেখা জমা হয়ে গেছে।” “পড়ে শোনাবি, কী লিখছিস?” “উঁহু এটা টপ সিক্রেট।” মামা চোখ বড় বড় করে নিজের কাজে ফিরে গেল। শুধু যে মনি কাঞ্চনের বিষয়টা টপ সিক্রেট তা নয়। ডোরিনকে নিয়ে কয়েক লাইন লিখেছি। সেটা আরো বেশি টপ সিক্রেট। রাতের ঘুমটা খুব ভালো হলো না। মনে হলো মামা এক সময় তার মাইক্রোবাস থেকে নিচে নেমে গেল। কিছুক্ষণ বাইরে থেকে আবার ফিরে এসে অনেকক্ষণ জেগে রইল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী হয়েছে মামা?” “কিছু না ঘুমা।” আমি আবার ঘুমিয়ে গেলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...