বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার সাইন্টিস মামা (২২)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১১১০ পয়েন্ট)



X মুহম্মদ জাফর ইকবাল টনি যতক্ষণ মুখ ভোলা করেছিল ততক্ষণ ডোরিনের একটা কথাও সে মেনে নেয় নাই কিন্তু তার কাদের মামাকে পিছলে প্রশ্ন করে টাইট করার বুদ্ধি দেওয়ার পর থেকে সে একটু সহজ হয়েছে। এখন মাঝে মাঝেই সে আমাদের কথাবার্তায় যোগ দিচ্ছে। ডোরিনের সাথে সাথে সেও স্বীকার করে নিল যে এই চা’টা অসাধারণ। তাদের মনি কাঞ্চনের চা এর তুলনায় বাসন ধোয়া পানি ছাড়া আর কিছু না! চা খেয়ে আমরা রওনা দিলাম। মামা আমাকে তিনটা কাজ দিয়েছিল। একটা ছিল গাইগার কাউন্টার দিয়ে এই এলাকাটা ম্যাপিং করা, একুশ দাড়ি উৎপাত করার পরও সেটা অনেকখানি করেছি। আরেকটা ছিল ডেইলি সাপ্লাই কিনে আনা সেটাও কিনে ফেলেছি। এখন বাকী আছে মাটির সেম্পল নিয়ে আসা। যেহেতু আমরা চারজন আছি তাই চার জায়গায় সেম্পল নিতে পারব। আমি মামার জিপিএসটা বের করে মামা যেভাবে শিখিয়ে দিয়েছে সেভাবে লেটিচ্যুড লঙ্গিচ্যুড বের করে আমার নোট বইয়ে লিখে নিলাম। তারপর মাটি খুঁড়ে প্রায় দুই কেজি মাটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে নিলাম। দুই কেজি মাটি মোটেও বেশি না কিন্তু হাঁটা শুরু করার পর মাটির ওজন আস্তে আস্তে বাড়তে লাগল। আমাদের কাছে শুধু মাটি না; ডেইলি সাপ্লাই আছে, গাইগার কাউন্টারটাও আছে। কাজেই সব মিলিয়ে মোটামুটি পরিশ্রম হতে লাগল এবং আমরা মাঝে মাঝেই বসে বিশ্রাম নিতে লাগলাম। আমি বললাম, “একটা রিকশা থাকলে খারাপ হতো না।” মাহবুব বলল, “রিকশা চালানোর জন্য রাস্তা দরকার হয়। এখানে রাস্তা নাই, রিকশা চালাবে কোথায়?” আমরা নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটছিলাম, তখন ডোরিন বলল, “ঠিক আছে রিকশার বদলে নৌকা হলেও খারাপ হতো না।” ঠিক তখন দেখলাম দূর থেকে একটা নৌকা আসছে। মাহবুব বলল, “দেখি এই নৌকাটাকে রাজি করাতে পারি কিনা।” নৌকাটা কাছে আসতেই মাহবুব গলা উঁচিয়ে বলল, “মামা, যাত্রী নেবেন?” “কই যাবা?” “ঐ তো সামনে। হাওড়ের মুখে।”  “নাও ওঠো।” মানুষটা নৌকাটাকে তীরের কাছে নিয়ে এলো, তখন আমরা সাবধানে উঠে গেলাম। এই নৌকাটা মাহবুবের নৌকার মতো ছোট নৌকা না তাই উঠতে কোনো ঝামেলা হলো না। নৌকায় আরো দুইজন মানুষ বসেছিল তারা একটুখানি কৌতূহল নিয়ে আমাদের দিকে তাকালো। মাঝি জিজ্ঞেস করল, “তোমাদের বাড়ি কোনখানে?” মাহবুব আমাদের হয়ে কথা বলল, “আমার বাড়ি এইখানে কাজী বাড়ি। এরা বাইরের। দুইজন মনি কাঞ্চন থাকে। আরেকজন তার মামার সাথে গাড়িতে থাকে।” মনি কাঞ্চন নিয়ে মাঝির খুব কৌতূহল। সে নানা ধরনের প্রশ্ন করল। অনেকগুলো প্রশ্ন বিদেশি সাহেবদের নিয়ে। এইখানে এতো বিদেশি সাহেব কেন আসে, তারা কী করে। তারা কী খায়। মদ খায় নাকি ইত্যাদি ইত্যাদি নানা প্রশ্ন। ডোরিন আর টনি যেটুকু পারল সেটুকু উত্তর দিল। নৌকায় বসে থাকা দুজন মানুষের একজন আমাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি গাড়িতে থাকো?” আমি মাথা নাড়লাম। “কেন? গাড়িতে কেন থাকো?” আমি কিছু বলার আগে মাহবুব উত্তর দিল, “ওর মামা সায়েন্টিস্ট। গাড়িতে অনেক বড় ল্যাবরেটরি। গবেষণা করে সেইজন্য গাড়িতে থাকে।” মানুষটা ঠিক বুঝল কি না কে জানে। আমার হাতের গাইগার কাউন্টারটা দেখে জিজ্ঞেস করল, “তোমার হাতে ঐটা কী যন্ত্র?” আমি বললাম, “এইটার নাম গাইগার কাউন্টার।”  “এইটা দিয়ে কী করে?” আবার আমি উত্তর দেবার আগে মাহবুব উত্তর দিল। “বাতাসের দূষিত পদার্থ মাপে।” মানুষটার যথেষ্ট কৌতূহল, সে হাত বাড়িয়ে বলল, “দেখি যন্ত্রটা।” আমি কী আর করি, তার হাতে গাইগার কাউন্টারটা দিলাম। সে এটা হাতে নিয়ে দেখল, তার টুকরির উপর রেখে মাথা ঘুরিয়ে পরীক্ষা করল তখন হঠাৎ আমি লক্ষ করলাম গাইনার কাউন্টারটার কট কট শব্দটা একটু বেড়ে গেছে। একটু ঘন ঘন শব্দ করছে। আমি ছাড়া আর কেউ ব্যাপারটা লক্ষ করল না। মানুষটা একটু পরে আমার হাতে গাইগার কাউন্টারটা ফিরিয়ে দিল এবং আমি লক্ষ করলাম তখন কট কট শব্দটা আবার কমে গেল। কী আশ্চর্য! কিন্তু আসলেই সত্যি সত্যি হচ্ছে নাকি এটা আমার মনের ভুল কে জানে। ব্যাপারটা আমার একটু পরীক্ষা করা দরকার। তাই আমি মানুষটাকে বললাম, এই যন্ত্রটা টানতে টানতে আমার হাত ব্যথা হয়ে গেছে। আপনার টুকরির উপর যন্ত্রটা একটু রাখি?” মানুষটা বলল, “রাখ।” আমি আবার টুকরির উপর রাখলাম এবং স্পষ্ট শুনতে পেলাম কট কট শব্দটা বেড়ে গেছে। কী রহস্যময় ব্যাপার। আমি কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলাম, তারপর জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার টুকরির ভিতর কী?” মানুষটা হাসার ভঙ্গী করল, “কিছু না। হাওড়ের পাড় গিয়েছিলাম সেইখানে একটা যষ্ঠিমধু গাছের চারা পেয়েছি। নিয়া যাচ্ছি বাড়িতে লাগব।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “যষ্ঠি মধু গাছের চারা দেখতে কেমন?” মানুষটা তার টুকরির ঢাকনা খুলল, আমি দেখলাম ভিতরে লতানো একটা গাছের চারা। গাছের নিচে খানিকটা মাটি। মনে হয় এই মাটিটা রেডিও একটিভ। একটু পরীক্ষা করে দেখতে পারলে হতো। আমি আমার পিছলে বুদ্ধি ব্যবহার করার চেষ্টা করলাম, বললাম, “আমার গাছ খুব ভালো লাগে। এই গাছটা একটু দেখি?” মানুষটা মনে হয় একটু অবাক হলো, কিন্তু স্বাভাবিক গলায় বলল, “দেখো।” আমি এবারে হাত বাড়িয়ে তলায় লাগানো মাটিসহ গাছের চারাটাকে তুলে নিয়ে এসে চোখের সামনে ধরে দেখার ভান করলাম তারপর একেবারে গাইগার কাউন্টারের টিউবটার কাছে নিয়ে গেলাম। কটকট শব্দটা সত্যি সত্যি অনেক বেড়ে গেল। আমি আবার সরিয়ে নিলাম, শব্দটা সাথে সাথে কমে গেল। এবারে আর কোনো সন্দেহ নেই। আমি যষ্ঠি মধু গাছটা আবার সাবধানে টুকরির মাঝে রেখে বললাম, ‘আপনি আমাকে ঠিক করে বলবেন এই চারাটা কোথায় পেয়েছেন?” “কেন?” “আমি যষ্ঠি মধু গাছের চারা অনেক দিন থেকে খুঁজছি কিন্তু পাচ্ছি না। ঐ জায়গায় দেখতাম আরো আছে কিনা।” মানুষটা না সূচকভাবে মাথা নেড়ে বলল, “তোমারে যেতে দিবে না।”  “যেতে দিবে না?” “না।”  “কে যেতে দিবে না।” “কোম্পানির দারোয়ান।” “কিসের কোম্পানি?” ‘মনে হয় সিমেন্ট কোম্পানি। কাউকে যেতে দেয় না। দারোয়ানরা বন্দুক নিয়ে পাহাড়া দেয়।” আমি বেশ অবাক হলাম। যে সিমেন্ট কোম্পানি এখনো তৈরি হয়নি সেটা বন্দুক দিয়ে পাহাড়া দিতে হয়? তারপরও বললাম, “জায়গাটা একটু চিনিয়ে দেবেন? বলে দেখব যেতে দেয় কি না।” মানুষটা তখন জায়গাটা চিনিয়ে দিল, আমি ঠিক চিনতে পারলাম না, মাহবুব সহজেই চিনতে পারল। জায়গাটাতে গিয়ে আমার মাটি পরীক্ষা করতে হবে। হাওড়ের কাছাকাছি এসে আমরা নৌকা থেকে নেমে গেলাম। সবাই মিলে আমরা মামার মাইক্রোবাসের দিকে হাঁটতে থাকি। মাহবুব, ডোরিন আর টনি নিজেদের ভিতরে কথা বলছে। আমি একটু অন্যমনস্ক হয়ে থাকলাম। যষ্ঠি মধু গাছের গোড়ার মাটি থেকে গাইগার কাউন্টারে অনেক বেশি সিগন্যাল দেয়, তার মানে এই মাটিতে রেডিওএকটিভিটি আছে। কী আশ্চর্য। মামা যখন জানবে তখন কী অবাক হয়ে যাবে। আমি মাহবুব, ডোরিন আর টনিকে সত্যি কথাটা বলতে পারছি না তাই মনটা খুঁত খুঁত করতে লাগল। সবকিছু জানলে তারা কতো উত্তেজিত হতে পারতো। মামাকে জিজ্ঞেস করতে হবে এই তিনজনকে আসল কথাটা বলা যায় কি না। এরা যেহেতু কাজকর্মে সাহায্য করছে তাদের নিশ্চয়ই সত্যি কথাটা জানার অধিকার আছে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...