বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উদ্ধার

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৪১৫ পয়েন্ট)



X লেখা:শ্রেয়া চৌধুরী এই সাদিব, ওঠ!’ মায়ের ডাক শুনে তড়াক করে উঠে বসল সাদিব। আজ তার গণিত পরীক্ষা। বইপত্র সব বিছানায় নিয়ে এসেছিল শুয়ে শুয়ে সূত্রগুলোর ওপর চোখ বোলাবে বলে। কিন্তু বেশিক্ষণ আর তা হলো না। বিছানায় শুয়ে বই হাতে নিতেই দুচোখ জড়িয়ে এল ঘুমে। হায়! আমি তো পরীক্ষার ফাইলপত্রও গোছাইনি। তাড়াতাড়ি সব গুছিয়ে তৈরি হয়ে নিল ও। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে, তাই খাওয়া নিয়ে আর সময় নষ্ট করল না। বেরিয়ে গেল না খেয়েই। বাসার গলি থেকে বের হয়েই সাদিব দেখল, ছোট একটা কুকুরের বাচ্চা মায়া মায়া চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। খুব কষ্ট হলো ওর। কারণ, বাচ্চাটার গায়ে ক্ষত। দেখে মনে হচ্ছে ক্ষুধার্ত। কী করব এখন আমি? কোনো টিফিনও তো আনিনি পরীক্ষা চলছে বলে। এত সকালে পাড়ার কোনো দোকানও খোলেনি। এদিকে দেরিও হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাটার মাকেও তো দেখতে পাচ্ছি না। আহা! ওর না জানি কত কষ্ট হচ্ছে। ওকে বরং বাড়িতেই দিয়ে আসি। মা খাইয়ে দেবে। ক্ষতস্থানও পরিষ্কার করে দেবে ভাবল সাদিব। যেই ভাবা সেই কাজ। দৌড়ে বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে বাড়ির দিকে ছুটে গেল সে। ‘মা তাড়াতাড়ি আসো।’ ‘কী হয়েছে? আবার ফেরত এলি কেন? হাতে ওটা কী?’ ‘ওকে একটু কিছু খাইয়ে দিয়ো। আর হ্যাঁ, ক্ষতস্থানে একটু ব্যান্ডেজ করে দিয়ো। আমি যাই।’ এই বলে বাচ্চাটা মাকে দিয়ে চলে গেল সে। পরীক্ষার হলে কিছুতেই মন বসছিল না ওর। কোনোমতে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি গিয়ে দেখল বাচ্চাটা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। ‘থ্যাংক ইউ মা! গোসলও করিয়েছ বুঝি?’ ‘হ্যাঁ। যা বোটকা গন্ধ আসছিল গা থেকে।’সেই থেকে বাচ্চাটা সাদিবের বন্ধু হয়ে গেল। তার একটা নামও রাখা হয়েছে। ‘বাঘা’ ১০ বছর পর... সেই ক্লাস সিক্স থেকে আজ পর্যন্ত সাদিবের বন্ধু হয়ে আছে। সাদিবের বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে। বাসায় মা, সে আর বাঘা। টিউশনির টাকা দিয়েই নিজের পড়াশোনার খরচ চালায় সাদিব। টিউশনি শেষে দ্রুত বাড়ি ফিরছিল সে। পাড়ার গলিতে ঢোকার মুখে মুখঢাকা দুজন লোক এল তার সামনে। ‘এই! সঙ্গে যা আছে সব দিয়ে দে। যত তাড়াতাড়ি দিবি তত তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেব। না দিলে...’ কথাটা আর শেষ করল না মুখঢাকা একটা লোক। ছুরি ঠেকাল সাদিবে গলার কাছে। ভয়ে এই গরমেও ঠকঠক করে কাঁপতে শুরু করল সাদিব। তার পকেটে এ মাসের মাইনে। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে কেনা মোবাইল। বাবা চলে যাওয়ার পর এই টিউশনির টাকাই তার সম্বল। ততক্ষণে অন্য লোকটাও তার আরও কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। ‘কী, দিবি না? তাহলে আমি নিজেই নিচ্ছি।’ বলে পকেটে হাত দিলে লোকটা। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করতে করতে কোথা থেকে ছুটে এসে লোকটার গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাঘা। আচমকা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ল লোক দুটো। বাঘার কাছ থেকে বাঁচতে ছুরি চালিয়ে দৌড়ে পালাল লোক দুটো। বাঘাকে থামাল সাদিব। ছুরির আঁচড় লেগেছে বাঘার গায়ে। বাঘার ক্ষতস্থান মুছে দিতে দিতে সাদিব বলল, ‘তুই সারা জীবন আমার বন্ধু হয়ে থাকবি। ঠিক এই জায়গা থেকেই আমি তোকে উদ্ধার করেছিলাম, অনেক বছর আগে। আজকে তুই আমাকে উদ্ধার করলি।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উদ্ধার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...